চাঁদপুর, শনিবার ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২৩ ভাদ্র ১৪২৬, ৭ মহররম ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৫-সূরা রাহ্মান


৭৮ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৪০। সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করিব?


৪১। অপরাধীদের পরিচয় পাওয়া যাইবে উহাদের লক্ষণ হইতে, উহাদিগকে পাকড়াও করা হইবে মাথার ঝুঁটি ও পা ধরিয়া।


 


 


 


 


assets/data_files/web

বাণিজ্যই হলো বিভিন্ন জাতির সাম্য সংস্থাপক। -গ্লাডস্টোন।


 


 


মানুষ যে সমস্ত পাপ করে আল্লাহতায়ালা তার কতকগুলো মাপ করে থাকেন, কিন্তু যে ব্যক্তি মাতা-পিতার অবাধ্যতাপূর্ণ আচরণ করে, তার পাপ কখনো ক্ষমা করেন না।


 


 


ফটো গ্যালারি
ভদ্রতার বিড়ম্বনা
ফারহানা আহমেদ
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


চুপচাপ এক জায়গায় গুম হয়ে বসে থাকা আমার স্বভাববিরুদ্ধ। যেখানেই যাই বন্ধু বানিয়ে বসে থাকি। কাজে, রোগী দেখার ফাঁকে ফাঁকে অনেকের সঙ্গে জানের দোস্তি। এটা একে অন্যের সাপোর্ট সিস্টেমও। দেশি-বিদেশি যার সঙ্গেই মিশি, ভদ্রতার দ- তাদের দিতে হয়েছে কোনো না কোনো সময়ে।



 



ধরা যাক ময়ূরীর স্বামীর কথা। বাসায় তেমন একটা সাহায্য করে না সে। ৮-৫টা অফিস করে। সপ্তাহে দুই দিন ছুটি। অন্য স্টেট থেকে চার বছর ধরে তার দূর সম্পর্কের মামাতো ভাইয়ের বউ তাকে ফোন করে যখন-তখন। ময়ূরীর সঙ্গে কখনোই তার কথা হয় না। ময়ূরীর স্বামী তার মামাতো ভাইয়ের বউয়ের অনুযোগগুলো মন দিয়ে শোনে।



 



যেমন তার স্বামী ঠিকমতো ওষুধ খেতে চায় না। শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে। বাচ্চা নিয়ে একা থাকে। তার খুব কষ্ট ইত্যাদি।



গত রোজার ঈদে টেঙ্াস সময় রাত ১২টায় ময়ূরীর স্বামীকে মামাতো ভাইয়ের বউ ফোন করে বলেছে ঈদ মোবারক ভাইয়া। তারপর যথারীতি কত কষ্ট করে একা একা ঈদ পালন করতে হয়েছে, শুনিয়েছে সেই কাসুন্দি। ওই ভদ্রমহিলা ফোন রাখা মাত্র ময়ূরী তার স্বামীকে ভয় দেখিয়েছে বাইরে বের করে দরজা বন্ধ করে দেওয়ার।



ময়ূরীর স্বামীকে বললাম, ভাই ওই মেয়েকে বুঝিয়ে বললে কী হয়, অন্যের সংসারে ঝামেলা না করে কিছু স্থানীয় মেয়ে বান্ধবী বানিয়ে নিতে। তিনি কীভাবে বলেছেন জানি না। তিনি বহুবার আমাকে বলতে চেয়েছেন, তার অন্য নারীর প্রতি কোনো আগ্রহ নেই। তারপরও ময়ূরী কেন এত সন্দেহবাতিকগ্রস্ত।



 



ময়ূরীর স্বামী আরও কিছু কাজ করতেন। যেমন কোনো ক্লাসমেট মেয়ে একা বেড়াতে এলে ময়ূরীকে বাদ দিয়ে তাকে পুরো শহর ঘুরিয়ে দেখানো বা অন্য নারীর অতিরিক্ত বেশি ছবি তোলা ইত্যাদি।



তাকে বললাম, ভালোবাসা না থাকলে আর ব্যাপারটা ডিসেন্সির বাইরে না হলে ময়ূরী তো বলত না, তাই না? তবে ময়ূরী জানিয়েছে আপাতত আপদ বন্ধ হয়েছে। বাইরের নারীর প্রতি অতি ভদ্রতা কমিয়ে ঘরে মন দিয়েছে তার স্বামী।



 



দুই. এক বান্ধবীর নতুন বয়ফ্রেন্ড হয়েছে। মোটামুটি সুখের ভেলায় ভেসে চলেছে তারা। এর মাঝে মুখ অন্ধকার করে একদিন সু বলল, ওর বয়ফ্রেন্ডের ডিভোর্সড বউয়ের পরিবার তাকে (বয়ফ্রেন্ড)) দাওয়াত করে আর ও যায়। সুর বয়ফ্রেন্ডের রিক। তাকে জিজ্ঞেস করলাম, কেন যাও? রিক বলল, খারাপ লাগে বয়স্ক মানুষকে না করতে।



রিকও নাকি ব্রোকেন ফ্যামিলির ছেলে। কিন্তু ওর মা-বাবার মাঝে সম্পর্ক খুব ভালো ছিল।



রিককে বললাম তাদের কষ্ট না দিতে চেয়ে তোমার ভবিষ্যৎ সন্তানের মাকে কষ্ট দিচ্ছ?



রিক চলে গেল সেদিন। কয়েক দিন পর সু বলেছে, রিক আর যাবে না বলেছে ওর আগের ইন 'লদের কাছে। হঠাৎ এ পরিবর্তনে সু কী যে খুশি।



 



তিন. কিছুদিন আগের কথা। নুরের স্বামী নীলকে দেখি খুব মন খারাপ করে থাকে। একদিন নীল আমাকে জিজ্ঞেস করল এ দেশে তার মায়ের চিকিৎসার সুযোগ কেমন। তাকে বললাম যেহেতু সে সিটিজেন, তার মার গ্রিন কার্ড অল্প সময়ে হবে। তারপর সরকারি ইনস্যুরেন্সে চিকিৎসা হবে।



 



নীল বলল, নুর কিছুতেই তার মাকে আসতে দেবে না। একমাত্র ছেলে হওয়া সত্ত্বেও নীলের পুরো পড়াশোনার খরচ ওর মা-বাবা দেওয়া সত্ত্বেও নুর চায় না নীলের মা-বাবা এ দেশে আসুক।



নুর নিজে কাজ করে না। নুরের মা-বাবা এ দেশে কয়েকবার এসেছেন। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতেও গেছেন। নীল নিয়ে গেছে।



 



নুরকে বললাম, তাকে ফেয়ার হতে হবে। নীলের মা-বাবা এলে বাচ্চাদের দেখে নুরকে কিছু সাহায্যও তো তারা করতে পারবেন। এ ছাড়া তাঁদের নাতি-নাতনি তাঁরা দেখতেও তো আসতে পারেন। নুর একতরফাভাবে নীলের ভদ্রতার সুযোগ কেন নেবে?



 



নুরকে বোঝালাম ডাক্তার হিসেবে। ওদের কত টাকা বেঁচে যাবে এ দেশে ইনস্যুরেন্সসহ নীলের মা-বাবার চিকিৎসা হলে। অবশেষে তাঁরা এসেছেন। চিকিৎসা চলছে। শুনেছি নুর যখন-তখন শাশুড়ির কাছে বাচ্চা রেখে ঘুরতে চলে যায়। তারা তারপরও খুব খুশি। রক্তের টান অনেক কঠিন জিনিস।



 



সূত্র : দূর পরবাস।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১৩০১২৭
পুরোন সংখ্যা