চাঁদপুর, শনিবার ৫ অক্টোবর ২০১৯, ২০ আশ্বিন ১৪২৬, ৫ সফর ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৯-সূরা হাশ্‌র


২৪ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


 


৮। এই সম্পদ অভাবগ্রস্ত মুহাজিরগণের জন্য যাহারা নিজেদের ঘরবাড়ি ও সম্পত্তি হইতে উৎখাত হইয়াছে। তাহারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনা করে এবং আল্লাহর ও তাঁহার রাসূলের সাহায্য করে। উহারাই তো সত্যাশ্রয়ী।


 


 


assets/data_files/web

যে খেলায় কেউ জিততে পারে না সেটাই সবচেয়ে খারাপ খেলা।


-টমাস ফুলার।


 


 


কৃপন ব্যক্তি খোদা হতে দূরে লোকসমাজে ঘৃণিত, দোজখের নিকটবর্তী।


 


 


ফটো গ্যালারি
ভূতের সঙ্গে সেলফি
ফরিদুল ইসলাম নির্জন
০৫ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

আম্মু আমি ভূতের সঙ্গে সেলফি তোলবো। বলেই আরিয়া কান্না করতে লাগলো। সে কি কান্না। চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে গড়িয়ে পড়তে লাগলো। ব্যাপারটা ভয়নক হতে লাগলো। আরিয়ার আম্মু কি করবে কিছুতেই বুঝতে পারছে না।

আরে বাবা আবদারের তো একটা সীমা আছে। ভূতের সঙ্গে কি আর সেলফি তোলা যায়। কুকুরের সঙ্গে সেলফি তুলতে চাইলে প্রয়োজনে কাটা বন থেকে কুকুর কিনে আনা যাবে। বানরের সাথে সেলফি তুলতে চাইলে ব্যবস্থা করানো যাবে। সেলফি। ভূতের সঙ্গে! এটা কোনো কথা হলো। এই আবদার কি মেনে নেবার মতো।

আরিয়ার মা একজন ডাক্তার। এমবিবিএস কমপ্লিট করার পর বিদেশ থেকেও ডিগ্রি নিয়ে এসেছে। পিএইচডি করেছে। তার বেশির ভাগ সময় কাটে ব্যস্ততার মাঝে। আর ভূত বলতে পৃথিবীতে কিছু নেই। এ কথা কত জনকে সে নিজে বলেছে। অনেক রোগীকে এর ব্যাখাও দিয়েছে। আর আজ নিজের মেয়েকে কোনো ব্যাখা দিতে পারছে না। ভাবতেই আরিয়ার মায়ের মন ভীষণ খারাপ হয়ে যাচ্ছে।

আরিয়াকে কোনোভাবেই বোঝানো যাচ্ছে না। মা যতোই চেষ্টা করছে সফল হচ্ছে না। তার সব চেষ্টাই বিফলে যাচ্ছে যেনো। মেয়েকে সে বলেছে, মামনি। তুমি হয়তো জানো না। আসলে পৃথিবীতে ভূত বলতে কিছুই নেই।

না আমি অত কিছু বুঝি না। আমি ভূতের সাথে সেলফি তোলবো। এ্যাঁ, এ্যাঁ।

আরে তুমিতো দেখি ছোটবেলাতেই পাগল হয়ে যাচ্ছো। তোমাকে বলছি না ভূত বলতে কিছু নাই। এতো মহাবিপদ।

আরিয়ার মা এবার উঠে দাঁড়ালো। তাকে যতই বোঝানোর চেষ্টা করছে। সে কিছুতেই মানছে না। সে কোনো কিছুই বোঝার চেষ্টাই করছে না।

মামনি আরিয়া, চল তোমাকে চিড়িয়াখানায় নিয়ে যাই। সেখানে বাঘের সাথে সেলফি তুলবে। সিংহের সাথে। বানরের সাথে। উটের সাথে। ময়ূরের সাথে। তুমি যার সাথে ইচ্ছে সেলফি তুলতে পারবে। এমনকি তুমি যদি গ-ারের সাথে সেলফি তুলতে চাও তাও ব্যবস্থা করে দিবো। লক্ষ্মী মামণি আমার। এভাবে জিদ করে না। জাদু ময়না আমার চল চিড়িয়াখানা যাই।

আরিয়া বললো, এ্যাঁ, এ্যাঁ। আমি অত কিছুর সাথে সেলফি তুলবো না। আমি ভূতের সাথে সেলফি তুলবো। তুমি আমাকে ভূতের সাথে সেলফি তোলার ব্যবস্থা করে দাও। বলেই আরো জোরে কান্না করতে লাগলো।

আরিয়ার বাবাও একজন ডাক্তার। সে আরো বেশি ব্যস্ত। তাকে ফোন দেয়া হচ্ছে কিন্তু ধরছে না। আরিয়া কান্না জড়িত কণ্ঠে বললো, তুমি নানুকে ফোন দাও। আমি তার সাথে কথা বলবো। তাড়াতাড়ি দাও।

এবার আরিয়ার মা যেনো একটু স্বস্তি পেলো। মনে মনে ভাবলো, মেয়ের হয়তো সুবুদ্ধি উদয় হতে শুরু করেছে। আরিয়া তার নানুর কাছে ফোন ধরে বললো, নানু ভাই, তুমি কেমন আছো। আমি ভালো নেই। মামণি আমার কথা শুনছে না।

আরিয়ার নানু বললো, কি। এতো বড় কথা। আমার নানু ভাইয়ের কথা শুনছে না। আমার নানু ভাইয়ের আবদার ফেলে দিচ্ছে। আমিতো ভালোই ছিলাম তোমার কথা শুনে মন খারাপ হয়ে গেলো।

তোমার মন খারাপ করার দরকার নেই। তুমি আমার আবদার শোন।

হ্যাঁ হ্যাঁ নানু ভাই। তুমি তোমার আবদার বলো। আমি পূরণ করতে তোমার বাসায় আসছি।

হ্যাঁ নানু ভাই তুমি এখনি সঙ্গে করে নিয়ে আসো।

কি নিয়ে আসবো বলো।

নানু ভাই আমি ভূতের সঙ্গে সেলফি তোলবো। তুমি ভূত নিয়ে এসো।

এবার যেনো আরিয়রা নানু চুপসে গেলো। কথা বলতে পারছে না। কি বলবে তারও কোন হদিস খুঁজে পাচ্ছে না।

নানুর কথা শুনতে না পেয়ে আরিয়া আবার কাঁদতে লাগলো। আর বলতে লাগলো। আমি আগে থেকেই জানতাম তুমিও আমার আবদার শুনবে না। তুমিও মামনির মতো পঁচা।

নাগো নানু ভাই। তুমি ছোট মানুষ। তুমি বুঝতে পারছ না। ভূত বলতে আসলে পৃথিবীতে কিছু নাই।

তুমিও মামনির মত আমাকে বোগাস দিচ্ছ। আমার ক্লাসের বন্ধুরা কত সুন্দর সেলফি তোলে। সেটা আবার আমাকে দেখায়। সেদিন দেখলাম এক বন্ধু গাধার গাড়ীতে চড়ে গাধার সঙ্গে সেলফি তুলছে। আর আমি ভূতের সঙ্গে সেলফি তোলব আর তোমরা আমাকে তুলতে দিবে না।

তুমি ভূত বাদ দিয়ে সাগরের সাথে, বান্দরবন পাহারের সাথে, সিলেটের জাফলং ঝর্নার সাথে, মহাস্থানগরে বেহুলার বাসর ঘরের সাথে, আগ্রার তাজমহলের সাথে তুমি যার সাথে সেলফি তুলতে চাও তোলার ব্যবস্থা করে দিবো। কিন্তু ভূতের সাথেতো সেলফি তোলা যাবে না।

এবার যেনো আরিয়া নিরুপায় হয়ে গেলো। তার শেষ ভরসা ছিলো তার নানু ভাই। সেও ফেল মারলো । এবার সে অভিমানে ফোন রেখে দিলো। আসলে ঝামেলাটা পাকিয়েছে স্কুলে।

স্কুল থেকে বলেছে শিশু-কিশোর সেলফি উৎসব। সেরা সেলফিদাতার জন্যে রয়েছে আকর্ষণীয় গিফট। তাছাড়া সেরা সেলফির জন্যে তিনজনকে সার্টিফিকেট দেয়া হবে। আর আরিয়া সেখান থেকেই ভেবেছে সে সেলফি তুলবে। সবার থেকে ব্যতিক্রমী সেলফি। ভূতের সঙ্গে সেলফি।

আরিয়ার ধারনা ভূত আমাদের মতোই কোনো মানুষ। কারণ এই ধারনাটা তার মায়ের কাছ থেকে নেয়া। তার মা এর আগে বলেছিলো, দেখ আরিয়া ভালো করে স্ট্যাডি করবে। না হলে ভূত ধরবে। তখন সে জানতে চায়, মামনি ভূত ধরবে মানে। ভূত ধরবে মানে হলো, তুমি যদি ঠিক মতো ব্রাশ না করো, সময় মতো গোসল না করো, নিয়মিত খাওয়া-দাওয়া না করো, নিয়মিত পড়াশোনা না করো, সঠিক টাইমে স্কুলে না যাও তাহলে ভূত তোমাকে শাস্তি দিবে। আর ভূতের শাস্তি হলো ভয়ঙ্কর ভয় দেখানো। ভূতের কাজই হলো এই রকম। তবে যারা নিয়মিত এগুলো মেনে চলবে তাদেরকে ভূত কোনো শাস্তি দিতে পারবে না। তাদের সাথে ভূতের একটা ভালো বন্ধুত্ব হয়ে উঠবে। এবং ভূত কখনো তাদেরকে শত্রু মনে করবে না।

তারপর থেকে আরিয়া নিয়মিত সব কাজ করতে লাগলো। তাইতো সে ভেবেছে সে যেহেতু নিয়মিত ঘুম থেকে ওঠে, নিয়মিত ব্রাশ করে, নিয়মিত নাস্তা করে, নিয়মিত স্কুলে যায় তাহলে তার ভূত শত্রু হবে কেনো। তাহলেতো ভূত তার বন্ধু। বন্ধুর সঙ্গে কেনো সেলফি তোলা যাবে না।

আরিয়া সেলফি সর্ম্পকেও তেমন জানতো না। সেদিন ক্লাসে ম্যাডাম পুরো টপিক সেলফি নিয়ে আলোচনা করে। এমনকি কীভাবে ভালো সেলফি তোলা যায় তা প্রাকটিক্যাল আকারে দেখিয়ে দিয়েছে। আর সেই থেকেই সেলফি তোলার জন্য আরিয়ার আগ্রহ বেড়ে গেছে ।

আরিয়াদের কলিং বেল বেজে উঠলো। রুম খুলেতেই এই আমার নানু ভাই কোথায়? আমার কলিজা রাগ করছে কেনরে। আরিয়ার নানু ভাই বলতে বলতেই রুমে প্রবেশ করলো।

এসে দেখে আরিয়া সোফার উপর বসে আছে। আরিয়ার মা আজ হাসপাতালে যায়নি। মেয়েটি সকাল থেকে এখন পর্যন্ত কিছুই খায়নি। খাবারের উপর সে অভিমান করে আছে। আর বলছে ভূতের সাথে সেলফি না তুললে সে কোন খাবার মুখে দিবে না। সে কিছু খাবে না। আজ সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত ভূতের সাথে সেলফি তোলার ব্যবস্থা না করে দিলে সে কথা বলা বন্ধ করে দিবে।

বলা চলে আরিয়ার ফ্যামিলি পুরোই বিপদে পড়ে গেছে। তার নানুভাই এবার ভাবলো কিছু একটা করা উচিত। যাতে আরিয়ার জেদ দমানো যায়। নানুভাই আর মা মিটিংয়ে বসছে। উপায় বের করার মিটিং। অনেক ক্ষণ চিন্তা করার পর ভাবল একটা কিছু পেয়েছি। যার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব হবে। আর তাহল আমরা একজনকে ভূত বানিয়ে নিয়ে আসবো। আর আরিয়াকে বলবো এটাই হলো ভূত। এটার সঙ্গে তুমি সেলফি তোল।

আরিয়ার মা বলল, হ্যাঁ, ব্যাপারটা মন্দ হয় না। মেয়ের জেদ কমাতে এছাড়া আর কোনো উপায় নেই। তবে একটা বিষয় বাবা তাহলে বাচ্চাদের কাছে কখনো মিথ্যা কথা বলা উচিত না।

আমি আরিয়াকে বলেছিলাম নিয়মিত সব মেনে চললে ভূতরা সব বন্ধু হয়ে যায়। আরিয়া এই ব্যাপারটা খুব যত্ন সহকারে মনে রেখে দিয়েছে। তার মাথার মেমোরিতে লোড করেছে। ফলে আমাদের আজ এমন পরিস্থিতির স্বীকার হতে হচ্ছে।

টেনশন করো না। সমাধানের বুদ্ধি যখন পেয়েছি সব ঠিক হয়ে যাবে। তার আগে বল আমাদের বাসার কাজের মেয়েটার নাম কি।

ওর নাম কাজল। সবাই কাজু বলে ডাকে। ওকে কেনো বাবা?

আরে ওকেইতো ভূতের সাজ দিবো। পুরো ফেসটাই বিউটি পার্লারে গিয়ে চেঞ্জ করে আনবো। তুই কি বলিস?

হ্যাঁ সমস্যা নেই। বিষয়টি মন্দ হয় না। আমি তাহলে কাজুকে ডাকছি। বলে কাজলকে ডেকে আনলো।

কাজল পুরো ব্যাপারটা শুনে সেও কাঁদতে শুরু করতে লাগলো। তার কথা সে আরিয়ার সাথে চিটিং করতে পারবে না। সে ভূত সাজতেও পারবে না। তাকে কত করে বোঝানো হচ্ছে কিন্তু সে কিছুতেই এগুলো শুনছে না। কিছুতেই এগুলো মানছে না। তার কথা, শিশুদের সাথে মিথ্যা খেলা করলে আল্লাহপাক নারাজ হন।

এবার আরিয়ার মা অনেকটাই উত্তেজিত হয়ে গেলো। আরে যখন ভাত চুরি করে নিয়ে যাস তখন আল্লাহর কথা মনে থাকে না। আর আমার মেয়ে না খেয়ে মারা যাবার পথে আর তুই শুনাচ্ছিস নীতি কথা।

আরিয়ার নানুভাই এবার থামতে বললো। আর কাজের মেয়েকে টাকা দেবার প্রলোভন দেখালো। কাজের মেয়েদের টাকার প্রতি লোভ থাকেই। তাই তাকে বুঝিয়ে রাজি করানো হলো।

তুমি থাকো আমি কাজের মেয়েকে নিয়ে ভূত ধরে নিয়ে আসি। তারপর তুমি তার সাথে ছবি তুলো। তবে এখন তুমি এক গ্লাস দুধ পান করো। আমরাতো যাচ্ছি। আরিয়াকে নানু ভাই বললো।

আরিয়ারও পেটে ক্ষুদা লাগছে সে আসলে কখনো এরকম না খেয়ে থাকেনি। তাই তারও কেমন কেমন জানি লাগছে। আরিয়ার নানুভাই কাজের মেয়েকে নিয়ে বিউটি পার্লারের উদ্দেশ্য বের হলো। সেখানে গিয়ে বিউটিশিয়ানদের সব খুলে বললো। এবার বিউটিশিয়ানরা কাজলকে এমন সাজ দিলো। একদম ভূত সাজ! পুরো মুখে কালি আবার তার উপর সাদা সাদা দাগ। পোশাকও অন্যরকম, মুখে একটা অন্য রকম মুখোশ। বড় মানুষ দেখেই অনেকটা ভয় পাবে। সাজগোজ শেষ।

কাজলকে আয়নার সামনে গিয়ে নিজেকে একাবার দেখে নিতে বললো। সেতো আয়নায় নিজের চেহারা দেখে জোরে চিৎকার। সবাই ছুটে আসলো। সে বললো, ওমা এইটা আমি। আমার নিজের চেহেরা দেইখা আমি নিজেই ভয় পাচ্ছি। সকল বিউটিশিয়ান খিল খিল করে হেসে ফেললো।

এবার কাজলকে সঙ্গে নিয়ে নানু ভাই বাসায় ফিরলো। রাস্তায় কাজলকে একদম কথা বলতে নিষেধ করা হলো। আর বলা হলো সে যেনো ভুলেও আরিয়ার সামনে মুখ না খোলে। সেও বললো এ ব্যাপারে সে বেশ সতর্ক।

বাসায় গিয়ে আরিয়াকে ডাকা হলো।

আরিয়া নানু ভাই। এই দেখো, ভূতকে সঙ্গে নিয়ে এসেছি। তার সাথে সেলফি তোলো। কাল ক্লাসে গিয়ে জমা দিও। আরিয়ার চোখে মুখে এবার আনন্দের বন্যা। মনে হচ্ছে সে বিরাট কিছু পেতে যাচ্ছে। কাজুর সামনে আরিয়া এসে হাজির। ওমা ভূত এই রকম হয়। আমিতো আগে শুনেছি ভূতের নাকি পা নেই। এ ভূতের দেখি পা আছে?

আরে নানুভাই আধুনিক ভূতের পা থাকে। আর আমাদের যুগের ভূতের কোনো পা থাকে না।

নানু ভাই ভূত দেখতে এতো খারাপ কেনো? কি বিশ্রী। তার থেকে আমার খেলনা ডলটা অনেক সুন্দর।

আগের ভূতগুলো দেখতে সুন্দর ছিলো। এত সুন্দর ছিল যে অনেক লোকজন তাকে বিয়ে করতে চাইত। তাই রাজা একবার সিদ্ধান্ত নিলো। সব ভূতের গায়ের রং বিশ্রী করে দাও। সেই থেকে ভূতদের গায়ের রং এত বিশ্রী হয়ে গেছে।

ও আচ্ছা তাই। নানু ভাই আমি সেলফি তোলার আগে। ভূতকে একটু ছুঁয়ে দেখি?

হ্যাঁ কেনো দেখবে না। অবশ্যই দেখবে। বলতেই আরিয়া কাজুকে ছুঁয়ে দেখলো। তার খুব ভালো লাগছে। তার মনের ভিতর একটা আনন্দের ঢেউ খেলছে। সবচেয়ে ভালো লাগার কারণ সে ভূতকে তো দেখছেই তারপর আবার সে ভূতকে ছুঁয়েও দেখতে পেরেছে। এবার সে জিজ্ঞাসা করছে, নানু ভাই ভূতরা কি খায়। আমি একটু ভূতের সাথে খাবো।

ভূতরাতো হাওয়া খায়। তাদের খাওয়া দেখা যায় না। তাই তার সাথে খাবার দরকার নেই। তুমি শুধু সেলফি তুলে রাখ পরে আরেক দিন ভূতকে দাওয়াত দিবো। সেদিন খাওয়াবো?

হ্যাঁ, স্যার তাড়াতাড়ি করেন। মুখোশ পইরা আমার দম আটকে আসছে। কাজের মেয়ের কথার আওয়াজ আসলো।

এবার আরিয়া বললো। নানুভাই পরিচিত কণ্ঠ। আমাদের বাসার কাজের মেয়ে নাকি।

হু, আমি কাজের মেয়ে কাজু। ওমা! আমার দম আটকে আসছে।

বলে কাজল সব মুখোশ খুলে ফেললো। সোজা বেসিনে গিয়ে বমি করতে লাগলো। বাসার মেঝেতে টান হয়ে শুয়ে পড়লো। আরিয়া এবার সব বুঝে ফেললো। নানুভাই প্ল্যান করে তার চোখে ধূলো ছিটিয়ে দিতে চেয়েছিলো। কিন্তু পারলো না।

আরিয়াও মেঝেতে শুয়ে পড়লো। আবার কাঁদতে শুরু করলো। আর বলতে লাগলো, আমি ভূতের সঙ্গে সেলফি তোলবো!

আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৯১৬৫৮
পুরোন সংখ্যা