চাঁদপুর, শনিবার ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ৩ কার্তিক ১৪২৬, ১৯ সফর ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৬ সূরা-ওয়াকি'আঃ


৯৬ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৯৬। অতএব তুমি তোমার মহান প্রতিপালকের নামের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর।


 


 


একটা হাত পরিষ্কার করতে অন্য একটা হাতের সাহায্য দরকার।


-সিনেকা।


 


 


নামাজ যাহাকে অসৎ কাজ হইতে বিরত রাখে না তাহার নামাজ নামাজই নহে; কারণ উহা তাহাকে খোদার নিকট হইতে দূরে রাখে।


 


 


ফটো গ্যালারি
এক পলক দেখা
মোস্তাফিজুর রহমান
১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


খানাখন্দের পাকা রাস্তা মাড়িয়ে এবার গ্রামের মেঠোপথ ধরে চলা। সকালে খুব বৃষ্টি হয়েছে। তাই পড়ন্ত বিকেলে গ্রামের রাস্তাগুলো ছিল খুব পিচ্ছিল। পিচ্ছিল পথে আমাদের বয়ে চলা যানটি কয়েকবার সস্নিপ খেয়ে বুকে কাঁপন ধরায়।



 



চোখের পাতায় ঘুম এলো কেবল। দিনের বেলায় ঘুমানোর সুযোগ নেই। তবুও ক্লান্ত দেহটি ঘুম চাইছিলো। একটু সুযোগ করে ঘণ্টাখানেক ঘুমাবো তাই ভেবেছিলাম। বিছানায় বালিশের পাশেই থাকে ফোনটি। যে ফোনটি ছাড়া এখন জীবন প্রায় অচল। অথচ এমন একটা সময় কাটিয়েছি যখন এসব স্মার্টফোন কল্পনাই করিনি। কিন্তু এখন পরম সঙ্গী। চোখের পাতায় ঘুম যখন নামলো, হঠাৎ বেজে উঠলো ফোন। মাথার কাছে ফোনটি যখন বেজে ওঠে ঘুমের বারোটা বেজে যায়।



 



মাত্র ঘুম এলো আর সেটি বোধকরি ফোনটির সহ্য হচ্ছিলো না। ফোনের অপর প্রান্তে একজন আদুরে মানুষ। তাই রাগ করতে পারিনি।



 



-ভাইয়া, এক জায়গায় যেতে হবে।



-কোথায়?



-কাছেই। সন্ধ্যা হয়ে আসছে। দ্রুত বের হোন।



আমার কাছে তখন জবাব ছিলো, আসছি দাঁড়াও। তখনও চোখের পাতা টেনে খুলতে কষ্ট হচ্ছিলো। টালমাটাল অবস্থায় বিছানা ছেড়ে দ্রুত বের হলাম।



 



ও কোথায় নিয়ে যাবে সেটা বলেনি। কেবল ছুটতে শুরু করলো। মাঝপথে কয়েকবার জিজ্ঞেস করলাম, কোথায় যাচ্ছো? কয়েকবার জিজ্ঞেস করার পর হয়তো বিরক্তি নিয়েই বলতে হয়েছিল তার অব্যক্ত কথাটি। আসলে সে কী জন্যে ছুটছে?



 



খানাখন্দের পাকা রাস্তা মাড়িয়ে এবার গ্রামের মেঠোপথ ধরে চলা। সকালে খুব বৃষ্টি হয়েছে। তাই পড়ন্ত বিকেলে গ্রামের রাস্তাগুলো ছিল খুব পিচ্ছিল। পিচ্ছিল পথে আমাদের বয়ে চলা যানটি কয়েকবার সস্নিপ খেয়ে বুকে কাঁপন ধরায়।



 



রাস্তায় চলতে চলতে ওর ফোনে বারবার রিং হচ্ছিলো। কয়েকবার ও ফোনটি রিসিভও করেছে। কথা হয়েছে ওপ্রান্তের মানুষের সঙ্গে। তার নির্দেশনায় একটি মসজিদের সামনে দাঁড়ালাম। ভেতরে মোয়াজ্জিন আজানের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। গ্রামের ভেতর দিয়ে যাওয়ায় লোকজন নানা কথা জিজ্ঞেস করছিলো। কোথায় যাবেন? এসব নানা প্রশ্ন। সেগুলোর উত্তর দিয়ে পথ চলতে হয়েছে।



 



যেখানে আমরা দাঁড়ালাম তার আশপাশেই 'একজনের' বাড়ি। যে মানুষটিকে দেখতে ব্যাকুল হয়ে এতো দূর আসা। এক পুকুরপাড়ে এসে দাঁড়িয়ে ছিলো সে। কিন্তু ভাগ্যচক্র সহায় ছিলো না। জিজ্ঞাসু মানুষের কারণে এগিয়ে যেতে হলো আরও এক ক্রোশ।



 



আবার ফোন বাজতে শুরু করলো ওর ফোনে। আমরা যখন চলে যাচ্ছিলাম তখন পেছন ফিরে একজনকে দেখতে পেয়েছিলাম। যার চলন অন্য কথা বলছিলো। আসার পথেও ওর গতিবিধি অন্যরকম লেগেছিলো। প্রত্যাশা ছিলো আমাকে নিয়ে ছুটে চলা মানুষটির। এটি পরে টের পেলাম। যখন সে ফোন দিলো। কিন্তু দুজনের দেখা হয়নি।



 



দেখেছে কেবল একজন। যে দাঁড়িয়ে ছিলো। যে এতো দূর পথ ছুটে গেলো, তার ভাগ্যে এক পলক দেখার সুযোগ হলো না। ফেরার পথে ওকে দেখতে না পারার আক্ষেপ সত্যিই আমাকে অবাক করেছে। আসলে ভালোবাসা বোধকরি এমনই হয়।



 



এতো বাসনা নিয়ে কাছাকাছি এসেও দুজন দুজনকে দেখতে পেলো না। এই আক্ষেপ হয়তো আরও কিছু সময় পোড়াবে ওদের। বাড়াবে ভালোবাসা।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৬১৪০৪৪
পুরোন সংখ্যা