চাঁদপুর, শনিবার ৯ নভেম্বর ২০১৯, ২৪ কার্তিক ১৪২৬, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৭-সূরা হাদীদ


২৯ আয়াত, ৪ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


২৪। যাহারা কার্পণ্য করে ও মানুষকে কার্পণ্যের নির্দেশ দেয় এবং যে মুখ ফিরাইয়া লয় সে জানিয়া রাখুক আল্লাহ তো অভাবমুক্ত, প্রশংসার্হ।


 


 


 


 


 


আমরা বই পড়ে মানুষ চিনতে পারি না। -ডিজরেইলি।


 


 


ঝগড়াটে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট অধিক ক্রোধের পাত্র।


 


 


 


 


ফটো গ্যালারি
অসম্পূর্ণ ও সমাপ্তি
রহিমা আক্তার মৌ
০৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


_তোমাকে কল করেই পাই না, ম্যাসেজ বক্স মনে হয় খুলেই দেখো না। বুঝিনা তুমি ব্যস্ত, নাকি...?



_প্লিজ অনিমেষ রাগ করো না। কাজে ব্যস্ত বলেই মোবাইল সাইলেন্ট করে রাখি। যখন একটু সময় পাই ইচ্ছে করে হাত পা ছেড়ে দিয়ে একটু রেস্ট নিই।



_ঠিক আছে আর কৈফিয়ত দিতে হবে না। বলো কেমন আছো?



_হ্যাঁ ভালো আছি, তুমি ?



_আমায় যেমন রেখেছো ঠিক তেমনি।



_আমি তো ভালোই রাখতে চাই। ভালো কথা অনিমেষ আমি একটা জরুরি কাজে ব্যস্ত থাকব। তুমি ম্যাসেজ দিও। আমিও দিব তবে কথা হবে না।



_তো মহারানী, আপনার ব্যস্ততা কতদিনের?



_বেশি না, মাত্র মাস তিন হবে।



_আমাকে কি বলা যায় কী নিয়ে এত ব্যস্ততা? না থাক, জোর করছি না বলতে।



_জোর নয় অনিমেষ, আমি এখন বলব না। সময় হলেই জানতে পারবে।



_ওকে মহারানী, তবে আমায় ছেড়ে চলে যেও না। তুমি আছো, এটাই আমার অনেক।



এই ভাবে কথাবলে মোবাইল রেখে দেয় অনিমেষ আর রুনা।



পুরো তিন মাস পার হয়ে যায়। এর মাঝে কেউ কারো সাথে কথা বলেনি। মাঝে মাঝে মাঝে ম্যাসেজ দিয়েছে দুজন দুজনকে। আর যাই হোক এইটুকু জানে তারা দুজন ভালো আছে। ঠিক আছে।



'অনিমেষ আমার কাজটা এই মাত্র শেষ করেছি, সময় করে কল দিও। কতদিন কথা নেই, তুমি কেমন আছো? আমি আছি সেই আগের মতো।'



ম্যাসেজটা লিখে অনিমেষের মোবাইলে সেন্ড করে দিয়ে রুনা ওয়াশরুমে যায় গোসল করতে। এখন বেলা দুটা বেজে সতের মিনিট। ওয়াশরুমের জানালাটা পশ্চিম দিকে। পাশের জায়গাটা খালি বলে পুরো আকাশ দেখা যায়। শুধু আকাশ বললে ভুল হবে। পুরো চাঁদ, চাঁদের জোছনা, পুরো সূর্য আর সূর্যের আলো।



মনটা খুব ফুরফুরে লাগছে, ভাঙা গলায় গান ধরে রুনা_ তুমি আমার ঘুম, তবু তোমায় নিয়ে স্বপ্ন দেখি না/তুমি আমার সুখ, তবু তোমায় নিয়ে ঘর বাঁধি না...



প্রথমে মর্ডান ঝর্ণাটা ছেড়ে শরীরটা হালকা ভিজিয়ে নেয়। আলতো হাতে পুরো শরীরে সাবান মেখে আবার ঝর্ণা ছাড়ে। বাহির থেকে আসা রোদের মাঝে ঝর্ণার পানির ছিটা পড়ছে রুনার শরীরে। যেনো মুক্তোর দানা ছিটাচ্ছে কেউ। নিজেকে অন্যরকম মনে হয় রুনার। ইচ্ছে মতো পানি দিচ্ছে শরীরে। অনিমেষকে নিয়ে অনেক ভাবনাই আসে। কিন্তু কঠিন এক বাস্তবতার মাঝে নিজের সব স্বপ্নকে গলা টিপে হত্যা করে রুনা। গুনগুন করে গানের মাঝে ভাবে নিশ্চয়ই ঠিক সময়ে ওর কাছে কল আসবে। ওয়াশরুমে থেকেও কোথায় যেন হারায়...



গানের মাঝেই মনে পড়ে ওর কাজের কথা। পুরো তিন মাসের পরিশ্রম রুনার। যতটা পেরেছে নিজের শেষটুকু দিয়ে করেছে। রুনা জানে ভালোর কোনো শেষ নেই। তবুও নিজের কাছেই মনে হচ্ছে খুব একটা খারাপ করেনি।



ভাবনার অতল সাগরে ডুবে যায় রুনা। চো ভরা স্বপ্ন ওর। নিশ্চয়ই ও কাজের ফলাফল পাবে।



_হ্যালো মিস রুনা ইয়াসমিন বলছেন।



_জি, রুনা বলছি, আপনি?



_আমি শওকত জামিল, আপনার পাঠানো কাজটা এইমাত্র হাতে পেলাম। আমাদের সবার খুব পছন্দ হয়েছে।



রুনা কিছুটা অপ্রস্তুত ছিলো এই মুহূর্তে কোনো কল রিসিপ করার জন্যে। মোবাইলে শুধু জি জি বলে চুপ করে আছে।



_ম্যাডাম আপনি শুনতে পাচ্ছেন।



হ্যালো, হ্যালো...



_জি, শুনতে পাচ্ছি।



_ম্যাডাম আপনি সময় করে একবার অফিসে আসুন। সব বিষয় নিয়ে ফাইনালি কথা বলা দরকার। আপনি সময়টা জানিয়ে দিবেন। সেই সময়ে আমরা সবাই থাকব।



একদিন পর রুনা ভালো দিন দেখে সময় জানিয়ে দেয়। সে ভাবেই আয়োজন করে জামিল সাহেব। রুনা যায়, সবার সাথে ওর পরিচয় হয়। মাত্র ১৪/১৫ দিন পর থেকেই রুনার কাজটা সবার সামনে আসবে। অফিস থেকে পজেটিভ কথা পেয়েছে বলে সব ভালো তা মেনে নিতে রাজি নয় রুনা। সাধারণ মানুষগুলো কী ভাবে নেবে, বা গ্রহণ করবে কাজটা তাই দেখার বিষয়।



চারপাশে রুনাকে নিয়ে সমালোচনা। এই কাজ রুনাকে সবার কাছে জনপ্রিয় করে তুলছে। শওকত সাহেব নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে রুনার সাথে।



_ম্যাডাম আপনাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হবে না। এখন পুরো সময় আপনার। আপনি শুধু সামনে এগিয়ে যাবেন।



_আপনাদের সহযোগিতা না থাকলে হতো না। আমি চেষ্টা করেছি কাজটা করার।



_সুসংবাদ ম্যাডাম রুনা। এই বছরের সেরা স্থান অর্জন করেছে আপনার কাজ। আপনি হলেন প্রথম স্থান অধিকারী। খুব তাড়াতাড়ি আপনার কাছে সব রিপোর্ট যাবে। বিশাল আয়োজন হচ্ছে চীনমৈত্রী সম্মেলনে।



স্টেজে বসে আছে রুনা। তার দুপাশে দেশের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। রুনা আগেই বলে দিয়েছে ওর পাশের সিটে থাকবে ওর মা। সেভাবেই স্টেজ সাজানো হয়। একের পর একজন রুনাকে নিয়ে অনেক কিছু বলছে। ফুলের তোড়া দিয়ে রুনাকে বরণ করে নিয়েছে সবাই।



সঞ্চালক ঘোষণা করেন_এখন আমাদের সামনে কিছু বলতে আসছেন রুনা ইয়াসমিন। আমরা তার মুখে শুনব তার নিজের কথাগুলো।



রুনা ধীরপায়ে হেঁটে যায় নিজের কথাগুলো বলতে। ওর সামনে বসে আছে শত শত ভক্ত শুভাকাঙ্ক্ষীরা। তারা অপেক্ষায় আছে রুনার মুখে কিছু শোনার জন্যে।



জীবনের অনেক কথাই আজ রুনা বলবে। কবে কীভাবে সে এই কাজে আসে, কার সহযোগিতা তাকে আজ মঞ্চে এনে দাঁড় করিয়েছে। কে সাহস দিয়েছে বন্ধুর মত, কষ্টের সময় কে ছিলো পাশে, রুনার আনন্দে কে হেসেছিল, সব সব আজ বলার সময় এসেছে।



শত শত দর্শকের মাঝে চুপ হয়ে বসে আছে অনিমেষ, কী ভাবছে আজ অনিমেষ? অনেক কিছু বলে রুনা অনিমেষ নামটা উচ্চারণ করেই অনিমেষের দিকে তাকায়, রুনা নিজেই বলে_



_আজ আপনাদের সবার সাথে এখানে অনিমেষও বসে আছে।



ভক্তরা সবাই এদিক ওদিক খুঁজে ফেরে, কে সেই অনিমেষ, যে কিনা রুনার সাথে এভাবে অদৃশ্য হয়ে মিশে আছে। অনিমেষ কিছুই বলে না। কেউ চিনতে পারে না অনিমেষ কে। কারণ এই নামে কেউ তাকে চেনে না।



রুনা তার মাকে নিয়ে অনেক কিছু বলেছে। মা সন্তানের জন্যে সব সময় দুহাত তুলে দোয়া করে। সময় গড়িয়ে যায়, অনুষ্ঠান প্রায় শেষ। সবাই যার যার মত বিদায় নিচ্ছে। অনেকে স্টেজে এসে রুনার সাথে ছবি তুলছে, রুনা একটু একটু করে অনিমেষকে খুঁজে। কোথাও নেই অনিমেষ। তাহলে যাবে কই? নিশ্চয়ই কল করা উচিত। চারপাশে এত লোকজন, কীভাবে কল করবে। হঠাৎ রুনার মোবাইলে ম্যাসেজ আসার শব্দ হলো। পার্স থেকে মোবাইল বের করে দেখে অনিমেষ এর খুদেবার্তা :



প্রিয় রুনা, আমি জানি আজ তুমি খুব খুশি। তবে স্টেজে আমার কথা না বললেই পারতে। আমি তো আছি, আমি থাকবো তোমার অদৃশ্য এক বন্ধু হয়ে। তুমিই বলো জীবনে সবাই কি দৃশ্যমান হয়ে থাকতে পারে?



খুদে বার্তাটা পড়ে অনিমেষ কে কল করার জন্যে নাম্বারটা বের করে ঠিক সেই সময় রুনার মোবাইলে বেজে উঠে_'তুই যদি আমার হইতিরে বন্ধু আমি হইতাম তোর'।



নাম দেখতে হয় না, এটা অনিমেষ এর কল। ওর কল আসলেই এই গানটা বেজে উঠে। গানের শব্দে রুনা কল্পনার জগৎ থেকে বাস্তবে ফিরে আসে। ওয়াশরুমের দরজাটা ফাঁক করে টাওয়াল দিয়ে মোবাইলটা ধরে।



_হ্যালো অনিমেষ আমি ওয়াশরুমে, বের হয়ে কল দিচ্ছি।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৯২৬২১
পুরোন সংখ্যা