চাঁদপুর, শনবিার ২৫ জানুয়ারি ২০২০, ১১ মাঘ ১৪২৬, ২৮ জমাদউিল আউয়াল ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬২-সূরা জুমু 'আ


১১ আয়াত, ২ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৫। যাহাদিগকে তাওরাতের দায়িত্বভার অর্পন করা হইয়াছিল, কিন্তু তাহারা উহা বহন করে নাই, তাহাদের দৃষ্টান্ত পুস্তক বহনকারী গর্দভ। কত নিকৃষ্ট সে সম্প্রদায়ের দৃষ্টান্ত যাহারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে। আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না।


 


 


মানুষের মধ্যে ঈশ্বরের উপস্থিতিটাই হল বিবেক। -সুইডেন বোর্গ।


 


 


নফস্কে দমন করাই সর্বপ্রথম জেহাদ।


ফটো গ্যালারি
আমাদের বাংলাদেশ
জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়
২৫ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


কবি বলেছেন, সকল দেশের রাণী সে যে আমার জন্মভূমি। কারণ এতো সবুজ-শ্যামল দেশ আর কোথাও পাওয়া যায় না। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ, মাছে-ভাতে বাঙালির দেশ। বাংলাদেশ ফুল-পাখিদের দেশ, গানের দেশ, কৃষিপ্রধান দেশ। আপ্যায়নপ্রিয় জাতি আমরা। তাই পৃথিবীর যে দেশেই যাই না কেনো বাংলাদেশই কেবল মনের মণিকোঠায় স্থান লাভ করে থাকে। এ দেশ আমাদের মায়ের মতো ভালোবাসার। যারা দেশে থাকেন তারা দেশের গুরুত্ব সহজে উপলব্ধি করেন না। কারণ দেশেই আছেন তারা, প্রতিদিনের কাজকর্ম করছেন। কিন্তু যারা দেশে থাকে না, তারা দেশ থেকে দূরে থাকায় দেশকে ভালো করে অনুভব করতে পারে। যেই দেশে বড় হওয়া ও বেড়েওঠা সেই দেশে না থাকা বেদনাদায়ক। তাই প্রবাস থেকে দেশে ফিরলে আমরা যেন স্বর্গ হাতের মুঠোয় পেয়ে যাই।



 



বাংলাদেশ প্রকৃতির বৈচিত্রপূর্ণ দেশ বলে শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষার দেখা পাই। পৃথিবীর কম দেশেই পাওয়া যায় এমন বৈচিত্র। আবহাওয়ার কারণে আমাদের উৎসব পাল্টায়। শীতকালে আমরা ভাঁপা পিঠা খাই, গ্রীষ্মকালে আম-জাম পাকে। বর্ষায় নদী প্রাণ ফিরে পায়, আর শরতে আকাশে মেঘের ভেলা ভাসে। হেমন্তে ফসলের মাঠ ভরে যায়, কৃষক আনন্দিত। বসন্ত হলো ঋতুরাজ। বারো মাসে এত বৈচিত্র প্রকৃতিতে পৃথিবীর আর কোনো দেশে তেমন দেখা যায় না। ঋতু যেমন বৈচিত্রপূর্ণ, তেমনি এই দেশের মানুষ অনেক রকম। কেউ কামার, কুমার, তাঁতী, জেলে, কেউ কৃষক, শ্রমিক। আবার কেউ বড় অফিসার, রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, চিকিৎসক ইত্যাদি ইত্যাদি। শরীরের গঠনও মানুষের ভিন্ন ভিন্ন। কেউ ফর্সা, কেউ কালো, কেউ শ্যামলা এবং উচ্চতায় কেউ লম্বা কেউ বেঁটে। অনেক ধর্ম আছে এ দেশে। সব শ্রেণি-পেশার মানুষ মিলেমিশে এখানে বাস করে। সবার মাঝে আছে প্রীতি আর মায়ার বাঁধন।



 



বাংলাদেশে আছে হরেক রকম উৎসব। ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে ঈদ, পূজা, বড়দিন ইত্যাদি। নবান্ন উৎসব, পহেলা বৈশাখে মানুষের মনে খুশির বীণ বেজে ওঠে। উৎসবগুলিতে মানুষ ভালো ভালো খাবার রান্না করে, নতুন জামাকাপড় পড়ে। দেশে খুশির বন্যা বয়ে যায়। একসময় কিশোররা ঘুড়ি উড়াতো, ডাংগুলি খেলত। মা-চাচীরা নঙ্ীকাথা বুনতো যত্ন করে। বটতলায় গানের আসর জমত। এমন অনেক কিছুই হত।



 



দেশের জনসংখ্যা অনেকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কলকারখানা, যানবাহন বেড়েছে। বাংলাদেশের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সমস্যার মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা একটি। প্রতিদিন দশ বিশজন মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। অনেক মানুষ পঙ্গু হয়। খুন ও ধর্ষণ দেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা। শিশুরাও আজ খুন-ধর্ষণের কবল থেকে রেহাই পাচ্ছে না। এমন ঘটনার মানবতার পরাজয়। ধিক্কার জানাই সেই পশুদের, যারা এমন ঘৃণ্য কাজ করে। দুর্নীতি দেশটাকে ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাচ্ছে বলে দেশ পূর্ণ গতিতে এগিয়ে যেতে পারছে না। এসব সমস্যার বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।



 



বাংলাদেশের প্রাকৃতিক বৈচিত্র বদলে গেছে। কারণ সময় বদলে গেছে, আগের অনেক কিছু এখন আর হয় না। আবার নতুন অনেক কিছু পুরাতনের জায়গা দখল করে নিয়েছে। এভাবেই চলবে, নিষ্ঠুর পৃথিবীর এমনই নিয়ম। তবে আধুনিকতার সাথে তাল মেলাতে গিয়ে নিজের শেকড়কে ভুললে চলবে না। সংস্কৃতির মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা যাবে না। কোনো ক্ষতিকারক, অশুভ বিষয়কে আধুনিকতা ভাবলে সেটা ভয়ানক হবে। কারণ সবার আগে বাংলাদেশ এবং আমাদের সংস্কৃতি। দেশপ্রেম নিয়ে সবাই আসুন আমাদের বাংলাদেশের জন্য কাজ করি। বাংলাদেশকে পৃথিবীর মধ্যে মডেল রাষ্ট্রে পরিণত করি।


আজকের পাঠকসংখ্যা
২৬৭০৩২
পুরোন সংখ্যা