চাঁদপুর, শনিবার ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২ ফাল্গুন ১৪২৬, ২০ জমাদিউস সানি ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৪-সূরা তাগাবুন


১৮ আয়াত, ২ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৪। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যাহা কিছু আছে সমস্তই তিনি জানেন এবং তিনি জানেন তোমরা যাহা গোপন কর ও তোমরা যাহা প্রকাশ কর এবং তিনি অন্তযামী।


 


 


 


 


 


 


আমি অস্বীকার করছি না যে, মেয়েরা বোকা, মহান খোদা তাদের তৈরি করেছেন পুরুষদের জুরী হিসাবে।


-জর্জ ইলিয়ট।


 


 


স্বভাবে নম্রতা অর্জন কর।


 


 


 


 


 


ফটো গ্যালারি
হিমুর সঙ্গে সুবোধের হলো দেখা
সোহেল নওরোজ
১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


হিমুর হাতে নাইলনের দড়ি। দড়িটির সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১০ টাকা। তবে তাকে কোনো টাকা দিতে হয়নি। দড়ি বিক্রেতা তাকে সম্ভবত মাস্তান টাইপের একজন ভেবেছে। এ এলাকায় ব্যবসা করতে হলে যাকে মোটা অঙ্কের চাঁদা দিতে হয়। চাঁদার ঝামেলা দড়িতে মিটে যাওয়ায় বিরাট স্বস্তি পেয়েছে। পারলে তার আড়তের সব দড়ি হিমুকে দিয়ে দেয়! দড়িটা তার ভীষণ পছন্দ হয়েছে। হলুদ রঙের দড়ি পাওয়া যায় এটা হিমুর জানা ছিলো না। মানবসমাজে হলুদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে তাহলে!



হলুদ রঙের দড়িটা মূলত বাদলের জন্যে লাগবে। বাদলকে সে মানুষের বর্তমান অবস্থা বোঝাবে। কাজটা কঠিন কিছু নয়, তবে এর জন্য আরেকটা পুতুল লাগবে। দড়ির এক প্রান্তে বেঁধে পুতুলটাকে ঝুলিয়ে দেবে। পুতুলের জায়গায় নিজেকে কল্পনা করতে হবে। এজন্যে অখ- মনোযোগ প্রয়োজন। বাদলের তা আছে। রুপাকে বললে পুতুলের ব্যবস্থা হয়ে যাবে। এ বয়সেও রুপার মধ্যে শৈশবের বাতিক লাফ দিয়ে ওঠে। তার সংগ্রহে এতো পুতুল আছে যা দিয়ে রীতিমতো পুতুলের মিউজিয়াম করা যাবে। সমুদ্র থেকে এক বালতি পানি তুললে যেমন কিছু আসে-যায় না, তেমনি রুপার সংগ্রহশালা থেকে একটা পুতুল নিলেও তেমন কিছু যাবে-আসবে না। সমস্যা সেটা নয়। সমস্যা হলো, খালাদের বাড়িতে ঢোকা। খালুজান মোটামুটি কঠিন ধরনের 'রেড এলার্ট' জারি করে রেখেছেন। যে কোনো মূল্যে হিমুকে প্রতিহত করতে হবে। এ বাড়ির দরজা-জানালা হিমুর জন্যে চিরতরে বন্ধ। ক্ষীণ একটা আশা আছে। সেটা মাজেদা খালা। এজন্যে কিঞ্চিৎ কৌশল অবলম্বন করতে হবে। মাজেদা খালাকে একটা টোপ দিলেই ক্ষুদ্র সুচ হয়ে ঢুকে বৃহৎ আকারের ফাল হয়ে বেরোনো যাবে।



ভাদ্র মাসের দুপুর। চিমটা ধরনের গরম পড়ছে। তার পাঞ্জাবি ঘামে ভিজে জবজবে হয়ে গেছে। পিচঢালা রাস্তাটা এতো গরম যে ঠিকভাবে পা ফেলা যাচ্ছে না। খালি পায়ে হাঁটার ফলে তাপটা বেশি অনুভূত হচ্ছে। এটা নিয়ে বেশিক্ষণ ভাবা যাবে না। তাহলে মস্তিষ্ক গরমের জন্যে আলাদা একটা সেল খুলে বসবে। তখন এ তাপ কয়েকগুণ বেশি অনুভূত হবে। তারচেয়ে খালাকে পটানোর কৌশল ঠিক করা জরুরি। হঠাৎ উদোম শরীরের এক লোকের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে হিমুর হাত থেকে নাইলনের দড়ি পড়ে গেলো। লোকটার হাতে ধরা খাঁচাটাও রাস্তায় ডিগবাজি দিতে লাগলো। এ দুপুরে এমন হন্তদন্ত হয়ে কোথায় যাচ্ছে লোকটা?



কিছু বুঝে ওঠার আগেই হিমুকে চুম্বকের মতো জড়িয়ে ধরে লোকটা। হিমু অপ্রস্তুত হয়ে যায়। দিনে দিনে অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে। চেনা নেই, জানা নেই যখন-তখন কোত্থেকে কে এসে তাকে কদমবুচি করে, জড়িয়ে ধরে। বিব্রতকর অবস্থা! সে কি তবে মহৎ হওয়ার দিকে যাচ্ছে! বাবাকে জিজ্ঞেস করতে হবে। মহৎ হওয়ার আগে এমন 'ফেভিকল' উপদ্রপ সইতে হয় কি না!



হিমুর আগেই মুখ খোলে লোকটা। পরিচয় দেয়, নাম সুবোধ। প্রধান কাজ পালিয়ে বেড়ানো। পালানোর প্রধান কারণ সময় তার পক্ষে না। মানুষের ভেতর থেকে প্রেম-ভালোবাসা উঠে গেছে! হিমু লোকটার প্রতি বেশ আগ্রহ অনুভব করে। মহামানবদের নাকি মন বসে না চার দেয়ালে। লোকটার অবস্থাও তথৈবচ। তবে কি লোকটা তার আগেই মহামানব পর্যায়ে চলে গেছে!



'সুবোধ সাহেব, এভাবে হন্তদন্ত হয়ে যাচ্ছেন কোথায়? জরুরি কাজ আছে মনে হয়?'



'তা জানি না বস। তবে এটুকু জানি আমাকে পালাতে হবে। এটাই আমার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। হবে কী?'



'বাহ, খুব সুন্দর লক্ষ্য স্থির করেছেন। আমার সঙ্গে আপনার একটা বিষয়ে মিল আছে। আমি, আপনি দুজনেই ছুটছি, আপনার গতি একটু বেশি আমার একটু কম। তবে কেউই জানি না কোথায় যাচ্ছি।'



'আমার ভাগ্যটাই এমন। এখানে কিছুই নেই। হবে কী?'



'হওয়ার আগেই তো হইয়ে দিয়েছেন! নিজের ভাগ্য নিজেই পড়ে ফেলেছেন। একটু সবুর করেন। সবুরে মেওয়া ছাড়াও অনেক কিছু ফলে।'



'আপনি আমাকে লজ্জায় ফেলছেন বস! এখন জামানা খারাপ। কেউ কারো সঙ্গে ভালো করে কথাও বলতে চায় না। মানুষ ভালোবাসতে ভুলে গেছে। হবে কী?'



'কথায় কথায় হবে কী বললে হবে কী করে? হওয়ার জন্যে সময় দিতে হবে না? আর প্রেম-ভালোবাসা কিছুই দুনিয়া থেকে ওঠেনি। একটা মেয়ে নাম রুপা আমাকে ভালোবেসে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। ভালোবাসা কাকে বলে, কত প্রকার, কী কী তা আমি হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি।'



'আপনার কথা শুনে আমি আশা ফিরে পাচ্ছি। আপনার কথায় জাদু আছে। আমার ভোর হবে কী?'



'ভোর-রাত-দুপুর-বিকাল সব হবে। ভালো জিনিস এখনও পৃথিবী থেকে হারিয়ে যায়নি। তা আপনার খাঁচা খালি কেনো?'



'খাঁচার ভেতর অদৃশ্য সূর্য আছে। খালি চোখে দেখা যায় না।'



'আপনার তো বিরাট ক্ষমতা! আস্ত সূর্য নিয়ে ঘুরছেন, তাও অদৃশ্য! তা আস্ত সূর্য একা আপনি নিয়ে গেলে দুনিয়া তো আন্ধার হয়ে যাবে! দেখা যাবে দিনের বেলাও লোডশেডিং!'



'হবে কী?'



'অবশ্যই হবে। এক কাজ করেন এই দড়িটা রাখেন। এটা দিয়ে খাঁচাটা ঝুলিয়ে দেবেন। প্রতিদিন কিছু ঘৃণা খাঁচায় জমা করে রাখবেন। দেখবেন পৃথিবীটা আগের মতো আর খারাপ লাগছে না।'



বাদলের জন্যে জোগাড় করা দড়ি এখন সুবোধের হাতে। তাকেও বাদলের মতোই খুশি খুশি লাগছে। সে হিমুর পিছ পিছ হাঁটছে। পা ফেলছে সতর্কভাবে। কোনোভাবেই হিমুকে অতিক্রম করা যাবে না। ঠিক বাদল যেভাবে হাঁটে!



ট্রাফিক সিগন্যালে শত শত গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। হাঁটার মতো মহৎ একটা গুণ আছে বলেই হিমুর সময় কখনো থমকে যায় না, চলতেই থাকে। সিগন্যাল পার হয়ে পাশের দেয়ালে চোখ পড়তেই হিমু দেখতে পায় সুবোধের হাসি হাসি মুখের ছবি অাঁকা। অল্প সময়েই কেমন বদলে গেছে! ছবিতে লেখা_'সুবোধ তুই ঘুরে দাঁড়া। হবে কী?' হিমুর মন প্রসন্ন হয়। ঘুরে যখন দাঁড়াচ্ছে তখন ভোর আসবেই। দ্রুত শেখার জন্যে সুবোধের একটা ধন্যবাদ প্রাপ্য। পেছনে ফিরে সুবোধকে আর খুঁজে পায় না হিমু। গেলো কোথায়? হিমুর হাতে দড়িও নেই! ব্যাপারটা বুঝে ওঠার আগেই রাস্তার পাশের ডাব বিক্রেতা ছুটে এসে হিমুকে কদমবুছি করে। হিমু বেশ বুঝতে পারে, নতুন কোনো ফেভিকল যন্ত্রণা মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে!



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
২৫৯৬৩৩
পুরোন সংখ্যা