চাঁদপুর, শনিবার ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২ ফাল্গুন ১৪২৬, ২০ জমাদিউস সানি ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • শাহরাস্তিতে ডাকাতি মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড ও ৪ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে চাঁদপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালত। || 
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৪-সূরা তাগাবুন


১৮ আয়াত, ২ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৪। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যাহা কিছু আছে সমস্তই তিনি জানেন এবং তিনি জানেন তোমরা যাহা গোপন কর ও তোমরা যাহা প্রকাশ কর এবং তিনি অন্তযামী।


 


 


 


 


 


 


আমি অস্বীকার করছি না যে, মেয়েরা বোকা, মহান খোদা তাদের তৈরি করেছেন পুরুষদের জুরী হিসাবে।


-জর্জ ইলিয়ট।


 


 


স্বভাবে নম্রতা অর্জন কর।


 


 


 


 


 


ফটো গ্যালারি
জীবনের গান : সংগ্রাম ও স্বপ্নের কথন
জাহিদ নয়ন
১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


জীবন এক অনিশ্চিত ভ্রমণের নাম। জন্মের পর থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বিচিত্র পথ ও সময় পাড়ি দিয়ে এগিয়ে চলে জীবন নামক এ ভ্রমণের যাত্রা।



মানুষ নামক বাহনে চড়ে সুখ, দুঃখ, হাসি, কান্না নানা অনুভূতির স্বাদ নিয়ে জীবন ছুটে চলে এক বন্দর থেকে অন্য বন্দরে। বিচিত্র সব অভিজ্ঞতা ও স্মৃতি কথা নিয়ে মানুষের গল্প তৈরি হয়, সৃষ্টি হয় ইতিহাস।



 



এমন কিছু কথা, গল্প, স্মৃতিচারণ ও মানবিকতাবোধের কথন নিয়ে তৃপ্তি সাহা লিখেছেন একটি প্রবন্ধ গ্রন্থ 'জীবনের গান'।



 



আপাত দর্শনে বইটিকে প্রবন্ধ সংগ্রহ বলা গেলেও বিষয়বস্তু ও লেখার বৈচিত্র্যময় উপস্থাপনের কারণে বইটি কখনো স্মৃতিকথা, কখনো শিক্ষামূলক, কখনো ইতিহাস পাঠ, মানবতাবাদ ও সমাজচিত্র প্রতিফলনের পাঠ মনে হবে।



 



আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের কিছু উজ্জ্বল স্মৃতি ও সেই সময়ে লেখক ও তাঁর পরিবারের অবস্থান তুলে ধরেছেন 'আমরা বেঁচে আছি' নামক প্রবন্ধে। একটা লাইন আমার মনে খুব দাগ কেটেছে। লেখক বলেছেন 'পাকসেনারা এলে লবণ-মরিচের গুঁড়ো ওদের চোখে-মুখে ছুঁড়ে মারবো_এ ছিলো ছোটদের বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার একটি প্রয়াস।'



 



এ লাইন আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে। একই সাথে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন লেখক ও তাঁর পরিবারের কতটা বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে টিকে থাকতে হয়েছিলো তার বর্ণনা পাওয়া যায়।



 



'আমাদের খোকা' প্রবন্ধে একটা জীবন্ত গল্পের ছলে বঙ্গবন্ধুর অনেক ব্যক্তিগত তথ্য আমরা পেয়ে যাই। খোকার জন্মস্থান, পারিবারিক অবস্থান, খেলাধুলা, পড়াশোনা, দুরন্তপনা ও বেড়ে ওঠার সতেজ ও চিত্ররূপময় বর্ণনার মধ্যে যেনো আমাদের সেই খোকাকে জীবন্ত ফিরে পাই।



 



বাঙালি জাতির মুক্তির দূত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শৈশব, কৈশোর ও যৌবনের নানা ঘটনা ও ব্যক্তিগত বিষয় এ প্রবন্ধটিতে চোখ বুলালে খুব সহজেই জানা হয়ে যাবে।



 



জাতি হিসেবে আমাদের এগিয়ে চলার মূলমন্ত্র হল সুশিক্ষা অর্জন ও শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন। এর জন্যে আমাদের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষকতার রূপরেখা, কেমন হবেন একজন শিক্ষক, শিশুবান্ধব শিক্ষা কেমন হওয়া উচিত কিংবা বই ও গ্রন্থাগারের সাথে শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক কেমন হতে পারে এসব বিষয়ে লেখক তাঁর নিজস্ব চিন্তা তুলে ধরেছেন সাবলীল ভাষায় ও যৌক্তিকতার আলোকে। লেখকের ভাষায়_' শিক্ষাকে যদি একটি গাছ হিসেবে কল্পনা করি তবে তার পাতা, ফুল, ফল হবে সুশিক্ষা। শিক্ষা যদি একটি ময়ুর হয়, তবে সুশিক্ষা হবে ময়ুরের পেখম তুলে নাচা।'



 



আমাদের মুক্তিযুদ্ধ যেমন গৌরবের অধ্যায় ঠিক তেমনি বেদনার অধ্যায় বললেও ভুল হবে না। স্বাধীনতা অর্জনের জন্যে মানুষের ত্যাগ, পাকবাহিনীর পৈশাচিক নির্যাতন সহ্য করার করুণ চিত্র ফুটে উঠে 'জীবনের গান' প্রবন্ধে। নিজের অজান্তেই চোখ ভিজে যায়।



 



লেখক তৃপ্তি সাহার প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ হওয়ায় প্রতিটি প্রবন্ধ কিংবা বইয়ের প্রতিটি পাতায় পরম যত্ন ও মমতার ছাপ পাওয়া যায়। নিজস্ব আবেগ ও অনুভূতির সবটুকু নিংড়ে দিয়েছেন তাঁর প্রতিটি লেখায়।



মানবিকতা ও মূল্যবোধের গল্প শুনিয়েছেন তিনি বইয়ের শুরুতেই। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর মানবিকতার গল্প দিয়ে লেখার সূচনা করেছেন তিনি। তাঁর আদর্শ ও মানবতাবাদী চিন্তাধারা সমাজ ও প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করার প্রয়াস ব্যক্ত করেছেন লেখক।



 



বর্তমান সময়ে এসে জাতি-ধর্ম বিদ্বেষ, মানবতার অপমান ও আমাদের চিন্তা-চেতনার অবক্ষয়ের চিত্র সামনে চলে আসে। এর পাশাপাশি আজকের সময়েও মানবতার পূজারী ও সত্যিকারের বীরেরা যে একেবারে হারিয়ে যায়নি তাও বলেন তিনি।



 



বহুমুখী গল্প, ঐতিহাসিক ঘটনা ও তথ্য, ব্যক্তিগত আনন্দ-বেদনার অনুভূতি নিয়ে পুরো বইয়ের পাতায় পাতায় তৃপ্তি সাহা জীবনের গান শুনিয়েছেন আমাদের। এ গান কখনো আমাদের পুলকিত করে আবার কখনো বেদনা জাগায় মনে।



 



১৭৬ পৃষ্ঠার বইটিতে সর্বমোট ৩৭টি প্রবন্ধ, একটি গল্প ও একটি কবিতা রয়েছে। বইটি প্রকাশ করেছে চৈতন্য প্রকাশ।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৮১১৪৫৯
পুরোন সংখ্যা