চাঁদপুর, শনিবার ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২ ফাল্গুন ১৪২৬, ২০ জমাদিউস সানি ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৪-সূরা তাগাবুন


১৮ আয়াত, ২ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৪। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যাহা কিছু আছে সমস্তই তিনি জানেন এবং তিনি জানেন তোমরা যাহা গোপন কর ও তোমরা যাহা প্রকাশ কর এবং তিনি অন্তযামী।


 


 


 


 


 


 


আমি অস্বীকার করছি না যে, মেয়েরা বোকা, মহান খোদা তাদের তৈরি করেছেন পুরুষদের জুরী হিসাবে।


-জর্জ ইলিয়ট।


 


 


স্বভাবে নম্রতা অর্জন কর।


 


 


 


 


 


ফটো গ্যালারি
স্কুলজীবনের বন্ধুত্ব
রিয়াজ মোচ্ছাবির
১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


ব্যস্ততম একটি শহরে ফাহিমা ও সুমাইয়া নামে দুজন ঘনিষ্ঠ বান্ধবীর বসবাস। তারা একই স্কুলে পড়ে। দুজনেই দেখতে ভারি মিষ্টি ও মেধাবী। তবে তারা পরস্পরের প্রতি খাবার ও পড়াশোনা নিয়ে খুবই হিংসুটে ও ঝগড়াটে। 'পা ছাড়া মানুষ যেমন হাঁটতে পারে না, আমরাও একজন আরেকজনকে ছাড়া চলতে পারবো না। আমাদের এক আত্মা দুই দেহ'_এটা আমার কথা নয়, ওদের কথা। কথাগুলো তাহলে খুলেই বলি।



 



প্রথমদিকে দুজনেই দুই প্রকৃতির মেয়ে ছিলো। ফাহিমা ছিলো শান্ত অন্যদিকে সুমাইয়া দুষ্টুমিতে সেরা। কিন্তু ধীরে ধীরে ফাহিমা সুমাইয়ার সাথে দুষ্টুমিতে যোগ দেয়। কথায় আছে না_'সঙ্গ দোষে লোহা ভাসে'। মেধাবী, স্মাটের পাশাপাশি তাদের আরো অতিরিক্ত গুণের কারণে ক্লাসে তারা বেশি পরিচিত ছিলো। যেমন দুষ্টুমি করা, একজনের সাথে আরেকজনের ঝগড়া লাগানো, অন্যজনের টিফিন চুরি করে খাওয়া, হাসি-ঠাট্টা করা, স্যারদের কথা নকল করে মজা করা ইত্যাদি। কিন্তু দুজনকেই দেখলে মনে হবে তারা কি নিষ্পাপ, অবুজ। একই শহরে থাকা সত্ত্বেও তার আগে তাদের কোনোদিন কথা এবং দেখা হয়নি। স্কুলেই শুধু দেখা হতো। সপ্তম শ্রেণিতে অন্য এক বান্ধবীর মাধ্যমে তাদের পরিচয় ঘটে। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে তাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব শুরু হয়। ফাহিমা পড়াশোনায় খুবই ভালো এবং যত্নশীল। কিন্তু সুমাইয়া পড়াশোনায় ফাঁকিবাজ। তবে খুবই মেধাবী। কারণ কোনো জিনিস পড়লেই সুমাইয়া সহজেই মনে রাখতে পারে, কিন্তু পড়াশোনায় তেমন যত্নশীল না।



একদিন ক্লাসে সুমাইয়া ফাহিমার পছন্দের বেলুন ফুটিয়ে ফেলে। ফাহিমা খুব কান্না করে। তখন ক্লাসের সকলে তার কাছে এসে সান্ত্বনা দেয়। কিন্তু সুমাইয়া তো ফাহিমাকে সান্ত্বনা দেয়া তো দূরের কথা, তার কাছেও আসেনি। এজন্যে ফাহিমা সুমাইয়ার সাথে রাগ করে। কদিন তাদের আলাদাভাবে স্কুলে আসা-যাওয়া হতো। ক্লাসে তাদের দেখা হতো, কথা হতো না। সুমাইয়া পরে তার ভুল বুঝতে পারে। পরে সুমাইয়া ফাহিমার রাগ ভাঙানের জন্যে হঠাৎ বলে, 'শাশুড়ি আম্মা আন্নে কেমুন আছুন?' ফাহিমা একটু হেসে উত্তর দেয়, 'হ বউমা ভালা আছি, আন্নে কেমুন আছুন?' সুমাইয়া বলে, 'এতোদিন ভালা ছিলাম না, এখন ভালো লাগার ভাব আইছে।' এভাবে কথার দুষ্টুমির মাধ্যমে আবার তাদের ভেতর মিল হয়।



 



একদিন ক্লাসে স্যার সুমাইয়াকে বাংলা বিষয়ের কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে। সুমাইয়া কিছুক্ষণ ভেবে বলে, স্যার উত্তরটা আমি পারি তবে আপনাকে উত্তরটা কেমনে যে বোঝাই, সেটাই তো বুঝতে পারছি না। কি যে অবস্থা আমার! তখন স্যারসহ ক্লাসের সবাই হেসে দিলো।



 



একদিন স্কুলে অ্যাসেম্বলিতে সুমাইয়া, ফাহিমার পেছনে দাঁড়িয়ে শপথ পড়ার সময় সুমাইয়া পড়তে লাগলো 'আমি শপথ করিতেছি যে, ফাহিমার সেবায় সবর্দা নিয়োজিত থাকিবো, তার প্রতি অনুগত থাকিবো, হে প্রভু আমাকে শক্তি দিন আমি যেনো ফাহিমাকে বেশি করে জোরে জোরে মারতে পারি।' তখন স্যার তার কথা শুনতে পেয়ে বলে, 'হে প্রভু আমাকে শক্তি দিন আমি যেনো আজ সুমাইয়াকে বেশি বেশি করে মারতে পারি।' এটা শুনে অ্যাসেম্বলির সকল শিক্ষার্থী হেসে দিলো।



 



পরীক্ষার আগে ক্লাসে এসে সুমাইয়া সবাইকে বলতো আজ আমি সব পড়ে আসছি। আজ ১শ'-তে ৯৫ পাবোই। পরীক্ষার সময় লেখা দেখাবে বলে সুমাইয়া তার বেঞ্চের সামনের ও পেছনের বান্ধবীর কাছ থেকে ঘুষ হিসেবে ফুচকা খেতো। পরে পরীক্ষার সময় দেখা যেতো তাদের কাছ থেকে সুমাইয়াই লেখা দেখে লেখতো। দুজনেই একজন আরেকজনের কলমের টুপ ভাঙতো। সুমাইয়ার একটা বদঅভ্যাস আছে কোনোকিছু হলেই বলতো, কি অবস্থা? মাঝে মাঝে ফাহিমা মজা করে বলতো_'আমার তো ভালোই অবস্থা। আন্নের কি অবস্থা?' তখন সুমাইয়া রেগে গিয়ে বলতো_'এটা আবার কি ধরনের মজা? কি অবস্থা!' তখন ফাহিমা আবার বলতো_'আলহামদুলিল্লাহ আমার ভালো অবস্থা!' সুমাইয়া বলতো_'আবারও। তোমার কি যে অবস্থা হইছে!'



 



ক্লাসের ফাঁকে সুমাইয়ার সামনে ফাহিমা বই পড়তে বসলে সুমাইয়া বই নিয়ে যেতো, এখনতো পড়ার সময় না। ফাহিমা বলতো_'কিসের সময়?' বলতো_'এখন গানের সময় বুবু।' একজন স্কুলে না আসলে আরেকজন স্কুলে আসতো না। সবসময় স্কুলে দুজনেই হাতে হাত রেখে চলতো। তাদের এতো ঘনিষ্ঠতা দেখে ক্লাসের অনেকের হিংসে হতো। তেমনি একজন হলো অাঁখি। অাঁখি দুজনকেই বেস্ট ফ্রেন্ড বলে দাবি করতো কিন্তু তারা তাকে নিয়ে মজা করতো, তাই অাঁখি তাদেরকে বলতো_'তোদের একসময় অনেক ঝগড়া হইবো। তখন আমি তোদেরকে নিয়ে মজা করবো।' অাঁখি সবসময় তাদেরকে অনুসরণ করতো। তারা যেভাবে চুলের স্টাইল করতো, অাঁখিও সেভাবে চুল স্টাইল করে আসতো, তারা যে রকম জুতা পড়তো, সেও সে রকম জুতা পড়তো। দুজনে যে বেঞ্চে বসতো অাঁখিও সেই বেঞ্চে বসতো। দুজনের জীবনের অনেক লক্ষ্য আছে। ফাহিমার লক্ষ্য বড় হয়ে বড় পুলিশ অফিসার হবে। সুমাইয়া প্রায় সময় তাকে নিয়ে মজা করে বলতো_'ওরে বাবা, ফাহিমা আবার পুলিশ অফিসার হবে।' সুমাইয়ার ইচ্ছা আর.জে. (রেডিওজকি) হবে। এটা শুনে ফাহিমা বলতো, 'আপনার যেই কণ্ঠ! আপনার কথা শুইনা সবাই বেহুঁশ হইয়া যাইবো। আবার ওনি আর.জে. হইবো, যতো ডং।'



তাদের স্কুলের নিয়মিত একটা খাবার ফুচকা। যেদিন তারা ফুচকা না খায় সেদিন তাদের দিনটা নাকি ভালো যায় না। স্যারের কাছে বকা খায়, দুজনের ভেতর খুঁটিনাটি জিনিস নিয়ে ঝগড়া হয়। তাই তাদের নিয়মিত ফুচকার দোকানদারের কাছে যেতে হয়। যেদিন তাদের কাছে টাকা থাকে না। তখন অাঁখির কাছে গিয়ে বলে, তুমি যদি আমাদের ফুচকা খাওয়াও তাইলে আমরা তোমাকে বেস্ট ফ্রেন্ড হিসেবে মেনে নেবো। অাঁখি তখন সরলমনে ফুচকা খাওয়ায়। সুমাইয়া প্রায়সময় ফাহিমাকে বলতো_'তুমি খাঁটি বন্ধুত্ব কখনো টাকা দিয়ে কিনতে পারবে না। খাঁটি বন্ধুত্ব তৈরি করতে হলে তোমাকে বিশ্বাস, ভালোবাসা, বিসর্জন অর্জন করতে হবে।' ফাহিমা বলতো, 'ও মা ভূতের মুখে রাম রাম।' ফাহিমা বলতো_'এগুলো সবই আমার ভেতর আছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় তোমার ভেতর এগুলো নাই। তবে তোমার ভাগ্য ভালো যে, আমার মতো একটা বান্ধবী পেয়েছো।' সুমাইয়া বলতো_'তোমার ভাগ্য ভালো আমার মতো একজন আর.জে. বান্ধবী পেয়েছো। কি অবস্থা?' ফাহিমা বলতো, 'আন্টি আমার ভালো অবস্থা।' একদিন সুমাইয়ার মন খারাপ ছিলো। ফাহিমা জিজ্ঞেস করে_'কিরে কি হইছে সই? কে তোরে কি বলছে বল্? তারে আজকে মাইরাই ফালামু, নইলে নিজে মইরা যামু। কিরে কথা বলস না কেনো? আচ্ছা, আজ আমরা টিফিনটাইমে পালায় বাসায় চইলা যামু।' তখন সুমাইয়া, ফাহিমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে। ফাহিমা বলে_'কি হইছে সই?' কান্না করতে করতে সুমাইয়া বলে_'স্কুলজীবনের দিনগুলো সত্যিই মিস করবো রে সই।' এভাবেই তাদের স্কুলজীবনের দিনগুলো অতিবাহিত হচ্ছে।


আজকের পাঠকসংখ্যা
২১৩৬৫১
পুরোন সংখ্যা