চাঁদপুর, শনিবার ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬, ৪ রজব ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুরে হোম কোয়ারেন্টাইনে ২৪২ জন, আইসোলেশনে থাকার রোগী করোনা আক্রান্ত কিনা জানা যাবে আজ রাতে
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৫-সূরা তালাক


১২ আয়াত, ২ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


২। উহাদের 'ইদ্দাত পূরণের কাল আসন্ন হইলে তোমরা হয় যথাবিধি উহাদিগকে রাখিয়া দিবে, না হয় উহাদিগকে যথাবিধি পরিত্যাগ করিবে এবং তোমাদের মধ্য হইতে দুইজন ন্যায়পরায়ণ লোককে সাক্ষী রাখিবে; আর তোমরা আল্লাহর জন্য সঠিক সাক্ষ্য দিবে। ইহা দ্বারা তোমাদের মধ্যে যে কেহ আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাস করে তাহাকে উপদেশ দেওয়া হইতেছে। যে কেহ আল্লাহকে ভয় করে আল্লাহ তাহার পথ করিয়া দিবেন।


 


 


 


ঘুম পরিশ্রমী মানুষকে সৌন্দর্য প্রদান করে।


-টমাস ডেককার।


 


 


 


 


নামাজ হৃদয়ের জ্যোতি, সদ্কা (বদান্যতা) উহার আলো এবং সবুর উহার উজ্জ্বলতা।


 


 


ফটো গ্যালারি
চমক
ইয়াছিন দেওয়ান
২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


দৃশ্যটা দেখার জন্যে প্রস্তুত ছিলাম না। একমাসে এতো কিছু ঘটে যাবে বুঝতে পারিনি। আমি চাঁদনীকে চমক দিবো বলে, না জানিয়ে চলে এসেছি। কিন্তু সে উল্টো আমাকে চমক দিলো!



একমাস পূর্বে, আমি ট্রেনের ছাদে বসে আছি। দুটো টিকেট কেটেও সিট পেলাম না। পরে জানতে পারলাম, চারটা টিকেট কাঁটলে নাকি একটা সিট দেয়! তবুও বছর শেষে সরকারের রেলপথে ক্ষতি দেখানো হয়!



ট্রেনের ভেতরে এক বগিতে ষাট জনের সিট থাকে। কিন্তু মানুষ প্রায় আড়াইশ উঠে। মানুষের গন্ধের চেয়ে বাজে আর কিছু নেই। ঢাকা থেকে দেওয়ানগঞ্জের দূরুত্বে দুইশত বারো কিলোমিটার। গাজীপুর পার হতেই বন্ধু শিশিরের প্রস্রাবের চাপ দিলো। ট্রেন থামে প্রতি স্টেশনে দুইমিনিটের জন্যে। প্রস্রাবের জন্যে একবার নামলে নিশ্চিত ট্রেন মিস। সেই ভয়ও নামার সাহস করছে না। আরো এক ঘণ্টা শেষ হলো। আর সহ্য করতে পারছে না। একবার দাঁড়াচ্ছে তো আরেকবার বসছে। এদিকে ট্রেনের ছাদের আশে পাশের মানুষ হাসছে। পরের স্টেশনে বাধ্য হয়ে দুজনে নামতে হলো। অতঃপর ট্রেন মিস করেছি। পরের ট্রেনে যখন বাড়ি আসলাম। তখন নিজেদের ভাগ্যবান বলেই মনে হয়েছে। পাশের বাড়ির চাচা আমাদের প্রথম ট্রেনেই ছিল।সেই ট্রেন ময়মনসিংহ ক্রস করলে নাকি ডাকাত কয়েকজন এসে ছুরি,পিস্তল দেখিয়ে সব নিয়ে গেছে"! খালার কাছে শুনলাম,প্রায় সময়ই আসার সময় এমন হয়,যারা ছাদে থাকে। আমরা কিভাবে বাঁচলাম, সেই কথা শুনে, খালতো বোন রসিকতা করা ছাড়লো না। ধীরে ধীরে তার প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ছিলাম। একটা সময় জানতে পারলাম সে চার বছর ধরে আমাকে ভালোবাসে। আজ যেভাবেই হোক, আমাকে তার করে রাখবেই। বিয়ের পরিকল্পনা চলছে। দূর সম্পর্কের দুলাভাই তাকে সাহায্য করছে। আমি ঘটনা বুঝে, পিছুটানের জন্যে পঁচিশতম দিনে, চুরি করে ট্রেনে বসে আছি।



তিস্তা ছাড়বে তিনটায়। আরো পাঁচমিনিট বাকি আছে।আমার ভয় এখনও কাটেনি। আচমকা সে জানলার কাছে এসে হাত ধরল। কান্না করছে।সেই রকম কান্না।আমিও দূবর্ল হতে লাগলাম।ট্রেন ছাড়ার জন্যে বাঁশি দিলে, হাত ছাড়লো। আমার পা কাপা বন্ধ হয়েছে। তাকিয়ে আছি পলকহীন। এক সময় হাতে চুমো খেয়ে উড়িয়ে দিলো আমার দিকে।



ট্রেন অনেক দূরে চলে এলে আর দেখা গেল না। খারাফ লাগলো। চাঁদনী না থাকলে একেই বিয়ে করতাম। আজ চাঁদনীকে বিয়ের কথাটা বলতে এসেছি। কিন্তু সে শুয়ে আছে। পাশে লম্বা কেউ। চাদর দিয়ে মুখ ঢাকা। আমি বললাম, এটা কে? সে পাল্টা প্রশ্ন ফিরিয়ে দিলো, একটা মেয়ে মানুষের পাশে কে শুয়ে থাকতে পারে? তুই কি মনে করিস, তোর জন্যে আমি অপেক্ষা করবো?



আমি নির্বাক হয়ে বেরিয়ে আসলাম।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৫২৯৩৩৫
পুরোন সংখ্যা