চাঁদপুর, শনিবার ২১ মার্চ ২০২০, ৭ চৈত্র ১৪২৬, ২৫ রজব ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ছেলেটির করোনা ভাইরাস নেগেটিভ পাওয়া গেছে। অর্থাৎ সে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী নয়। তথ্য সূত্র: আরএমও ডাঃ সুজাউদ্দৌলা রুবেল। || বৈদ্যনাথ সাহা ওরফে সনু সাহা করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যায় নি : সিভিল সার্জন
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৬-সূরা তাহ্রীম


১২ আয়াত, ২ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


 


১২। আরও দৃষ্টান্ত দিতেছেন 'ইমরান-তনয়া মার্ইয়ামের-যে তাহার সতীত্ব রক্ষা করিয়াছিল, ফলে আমি তাহার মধ্যে রূহ ফুঁকিয়া দিয়াছিলাম এবং সে তাহার প্রতিপালকের বাণী ও তাঁহার কিতাব-সমূহ সত্য বলিয়া গ্রহণ করিয়াছিল, সে ছিল অনুগতদের অন্যতম।


 


বিদ্যালয়ের শিক্ষক হইতেছেন একজন মিস্ত্রী, যিনি গঠন করেন মানবাত্মা।


-আল্লামা ইকবাল।


 


 


কৃপণতা একটি ধ্বংসকারী স্বভাব, ইহা মানুষকে দুনিয়া এবং আখেরাতে উভয়লোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।


 


ফটো গ্যালারি
করোনা ভাইরাস এবং কিছু কথা
আশরাফ জুয়েল
২১ মার্চ, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


মানুষের জীবন শুরুই হয় যুদ্ধের মাধ্যমে। কোটি কোটি শুক্রাণু অনবরত দৌড়াতে থাকে একটি, মাত্র একটি ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হবার জন্যে। একটি শুক্রাণু একটি ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হওয়ামাত্র বাকি সব শুক্রাণুর মৃত্যু ঘটে, তৈরি হয় একটি জাইগোট, এগুতে থাকে একটি জীবন তৈরির প্রক্রিয়া। তারপর মায়ের পেটে বেড়ে উঠতে থাকে সেই সম্ভাবনা। নয় মাস পর জন্ম হয় একটি মানুষের। চলতে থাকে তার যুদ্ধ। প্রতি মুহূর্তে এ যুদ্ধে জয়ী হয়েই সেই শিশু মানুষটি বড় হতে থাকে। যুদ্ধ বন্ধ হয় না। এ যুদ্ধ চলতে থাকে মৃত্যু অবধি।



 



কিন্তু এ চলমান যুদ্ধের মধ্যেও চলতে থাকে বহুবিধ যুদ্ধ। সেই হাবিল-কাবিল থেকে আরম্ভ করে মানুষের মধ্যে হানাহানি, কাটাকাটি খুনোখুনি চলতেই আছে। সাথে আছে প্রকৃতির খামখেয়ালিপনা। মানুষ এর মধ্যেই দেখেছে রাজায় রাজায় যুদ্ধ, রাজায় প্রজায় যুদ্ধ, প্রজায় প্রজায় যুদ্ধ, সবগুলো যুদ্ধে মরেছে মানুষ, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সভ্যতা, থমকে দাঁড়িয়েছে, আবার সকল প্রতিকূলতা মাড়িয়ে হাঁটতে আরম্ভ করেছে। মানুষের এই ইতিহাস বহু পুরোনো। এসবের মধ্যে গত শতাব্দীতে মানুষ দুটো বীভৎস ধ্বংসযজ্ঞের সাক্ষী হয়েছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের চেয়েও আরও বেশি ভয়াবহতা নিয়ে হাজির হয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। এ দুটি যুদ্ধ, বিশেষ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ মানুষের মনোজগতে বিশাল পরিবর্তন এনেছে, মানুষ হয়ে উঠেছে আত্মকেন্দ্রিক, তাদের মনে স্থায়ীভাবে আসন গেড়েছে হিংসা। মানুষের আচরণগত পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষ পূর্বের যে কোনো সময়ের চাইতে হয়ে উঠেছে হিংসাত্মক। মানুষ মানুষকে মারছে, নিজেরাও মরছে। কিন্তু কে কাকে কেনো মারছে তা জানে না।



 



যা হোক এ লেখার উদ্দেশ্য ভিন্ন। ইন্টারনেটের এ যুগে খুব দ্রুত তথ্য এক স্থান থেকে আরেক স্থানে মুহূর্তের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে। আমরা ইতোমধ্যেই অবগত নভেল কোরোনা ভাইরাসজনিত কোভিড- ১৯ অসুখ এবং এর ভয়াবহতা সম্পর্কে। চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম এ ভাইরাসের দেখা মেলে ২০১৯ সালের নভেম্বরের শুরুর দিকে। ক্রমেই মানুষ এ ভাইরাসে আক্রান্ত হতে আরম্ভ করে। বিশেষ করে বয়োবৃদ্ধ মানুষ এতে আক্রান্ত হয়। কিছু মানুষ মারাও যায়, কিন্তু কেউই এমনকি রোগবিষেশজ্ঞরাও এ রোগের ভয়াবহতা অাঁচ করতে পারেননি। এ ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল হিসেবে উহান শহরের বন্য পশুপাখির বাজারের কথা বলা হয়, পরে কেউ কেউ উহানের অবস্থিত বায়োলজিক্যাল ল্যাব থেকে দুর্ঘটানবশত এ ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়ার কথাও বলেন। সে যাই হোক নভেল কোরোনা ভাইরাস বসে থাকেনি। তার থাবায় অসংখ্য মানুষ অসুস্থ হতে থাকে, মারা যেতে থাকে অনেক মানুষ। ক্রমশ এ অসুখ ছড়াতে থাকে চীনের অন্যান্য শহরগুলোয়। সেখান থেকে আশপাশের দেশ হয়ে ছড়াতে থাকে ইউরোপে, বিশেষ করে ইতালী। একে একে আক্রান্ত হতে থাকে পুরো ইউরোপ। বাদ যায়নি আমেরিকা, এশিয়া। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ অচেনা অসুখকে প্যানডেমিক ঘোষণা করে। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোও হিমশিম খাচ্ছে এ ভাইরাসের প্রকোপ থেকে নিজেদের বাঁচাতে। শুরুতে ভাবা হয়েছিলো তাপমাত্রাজনিত কারণে নিম্ন তাপমাত্রার দেশসমূহে এ প্রাণঘাতী অসুখ দ্রুত বিস্তার লাভ করছে, কিন্তু পরে এসব ধারনাসমূহকে মিথ্যে প্রমাণ করে এ ভাইরাস প্রতিদিন অসংখ্য মানুষকে আক্রমণ করছে, কেড়ে নিচ্ছে মানুষের জীবন।



 



এ পর্যন্ত পৃথিবীজুড়ে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় দুই লক্ষ এবং মৃতের সংখ্যা প্রায় আট হাজার। দিন দিন নতুন নতুন মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন এ রোগে, মারা যাচ্ছেন আরও অনেক মানুষ। চিকিৎসা না থাকায় পৃথিবীর অনেক দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বন্ধ করা হয়েছে বিমান চলাচল। কোন কোন দেশ তাদের সীমান্তও বন্ধ রেখেছে। এসব উদ্যোগ গ্রহণের ফলেও থেকে নেই এর বিস্তার, থেমে নেই মৃতের মিছিল। আজ পর্যন্ত পৃথিবীর প্রায় ১৬০টি দেশের হানা দিয়েছে এ মরণঘাতী ভাইরাস।



 



বাংলাদেশে প্রথম এ রোগ ধরা পড়ে, চলতি মাসের ৮ তারিখ, সম্ভবত ইতালীফেরত প্রবাসীর শরীরে এ রোগের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। আইইডিসিআর এ রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বা তাদের চিকিৎসা কোথায় কীভাবে চলছে তার বিস্তারিত জানাচ্ছেন আমাদের। এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে ১০ জন রোগীর শরীরে কোরোনা ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে।



এর মধ্যে সরকার স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করেছেএ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠান সীমিত আকারে করেছেন। এজন্যে আমরা সরকারকে সাধুবাদ জানাই। বিদেশফেরত প্রবাসীদের কোয়ারেন্টাইনে রাখার ব্যবস্থা করেছে। আরও যা যা প্রস্তুতি নেয়া সম্ভব তার সব কিছুই করার চেষ্টা করছে। কিন্তু আমরা জানি এ এমন এক যুদ্ধ যা শুধু সরকারের একার পক্ষে সামলানো অসম্ভব। এ অদৃশ্য প্রাণঘাতী শত্রুর বিপক্ষে সম্মিলিতভাবে লড়তে হবে, তাতেও যদি ক্ষতির পরিমাণ সীমিত রাখা যায়।



আমরা জানি বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে জনবহুল দেশগুলোর অন্যতম। আমাদের স্বাস্থ্যখাতের অবস্থা পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোর ধারে-কাছেও নয়। আমাদের জনগণ নিজের এবং অন্যের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে অসচেতন। ঢাকা শহর পৃথিবীর অন্যতম দূষিত শহর। এমতবস্থায় আমাদের করণীয় কী? দীর্ঘ পনের বছর ক্রিটিক্যাল কেয়ারে কাজ করার সুবাদে, আমার অভিজ্ঞতাপ্রসূত কিছু সুস্পষ্ট প্রস্তাবনা রাখতে চাই। এ প্রস্তাবনাগুলো আসলে আমাদের সবার প্রতি_সরকার, জনগণ এবং স্বাস্থ্যসেবাদানকারী কর্মীদের প্রতিও।



 



এর আগে বলে নেয়া ভালো, ইতালীতে প্রথম রোগী শনাক্ত হবার একুশ দিন পর অসংখ্য রোগীর আক্রান্ত হতে আরম্ভ করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে সাবধান করে দিয়েছে। আমরা হয়তো অনেকেই ভাবছি, আমাদের দেশে তো মাত্র দশ জন আক্রান্ত, কেউ মারাও যায়নি, ভুলে যাবেন না, আগামী দুই সপ্তাহে আক্রান্তের সংখ্যা মারাত্মক আকার ধারণ করেত পারে।



 



এক.



সরকারের প্রতি : ক) সব ধরনের গণজমায়েত বন্ধ করার আদেশ দিন। বিভিন্ন উৎসব, মেলা, ওয়াজ-মাহফিল, বিবাহসংবর্ধনা, রাজনৈতিক মিটিংসহ সকল গণজমায়েত বন্ধ করুন। এসব গণজমায়েত বন্ধ করতে না পারলে ভাইরাসের বিস্তার ঘটবে খুব দ্রুত, যার ফলাফল হবে ভয়াবহ। খ) কোয়ারেন্টাইনের সুবিধা বাড়ান। প্রয়োজনে জেলায় জেলায় আলাদা ব্যবস্থা গড়ে তুলুন। স্টেডিয়ামগুলোকে এ কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। হোম কোয়ারেন্টাইনের অভিজ্ঞতা মোটেও সুখকর নয়। এসব জায়গায় পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করুন। বিদেশফেরত/সন্দেহজনক ব্যক্তি যাতে কোয়ারেন্টাইনের স্থান ত্যাগ করতে না পারে সেজন্যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে নিয়োজিত করুন। গ) দিন দিন আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নতি হলেও তা এখনো প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। সাধারণ রোগীরাই বিছানা সঙ্কটের জন্যে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়, সেখানে এ মহামারীর সময়ে যথাযথ চিকিৎসাসেবা পাওয়া আরও দুষ্কর। আর এ সময়ে সন্দেহজনক কোরোনা আক্রান্ত রোগীরা যদি সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা নেবার জন্যে উপস্থিত হয় তবে রোগ নির্ণয়ের পূর্বেই তার দ্বারা আরও অনেক মানুষ আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। তাই জেলায় জেলায়, প্রয়োজনে উপজেলায় আলাদা বিল্ডিং-এ আউটডোর চিকিৎসার ব্যবস্থা গড়ে তুলুন। যদি কোনো রোগীর উপসর্গ কোভিড-১৯ রোগের সাথে মিলে যায় তবে তাকে কোয়ারাইন্টানে পাঠিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করা হোক। যদি অবস্থা গুরুতর হয় তবে তাকে বিশেষায়িতে চিকিৎসা দেবার ব্যবস্থা করা হোক। এর ফলে অন্তত এ ভয়ানক রোগ বিস্তারের সম্ভাবনা কিছুটা কমবে। ঘ) সাময়িক সময়ের জন্যে মসজিদ-মন্দির-গীর্জায় প্রার্থনা বন্ধ করার বিষয়ে চিন্তা করুন। ঙ) বিরোধীদলসহ সকল রাজনৈতিক দলের সাথে মতবিনিময় করে এ ভয়ানক রোগ মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্যমত গড়ে তোলার ব্যাপারে কাজ করুন। চ) স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্যে বিশেষ ইনস্যুরেন্স ব্যবস্থা ঘোষণা করুন। সেবা দিতে গিয়ে যদি কেউ আক্রান্ত হন বা মারা যান তবে তার পরিবারের জন্যে স্থায়ী ভিত্তিতে যাবতীয় খরচ বহনের সিদ্ধান্তগ্রহণ করুন। ছ) জনগণকে সচেতন করে তোলার ব্যাপারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করুন। স্কুল, কলেজের শিক্ষক, মসজিদের ঈমামদেরও এ কাজে সম্পৃক্ত করা যেতে পারে। জ) যে সকল সরকারি/বেসরকারি অফিস-আদালতের কাজ ঘরে বসে অনলাইনে করা সম্ভব সেগুলো ঘরে বসে করার সুযোগ দিন। এতে কম মানুষ বাড়ির বাইরে আসবে। ঝ) প্রয়োজনে সব ধরনের অফিসের সময়সূচি কমিয়ে আনা যেতে পারে। রমজানের অফিস সময়সূচির মতো সকাল ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত। ঞ) নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের গুদামজাত করার বা অহেতুক সরবরাহ কম দেখিয়ে দাম বাড়িয়ে দেবার ব্যাপারে কঠোর হোন। লক্ষ্য করা যাচ্ছে ইতোমধ্যেই জিনিসপত্রের দাম ঊধর্ে্বাগামী। এটা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে, এর ফল হবে আরো ভয়াবহ। ট) আগামী একমাস সব ধরনের নির্বাচন বন্ধ ঘোষণা করা হোক। ঠ) সর্বোপরি আমাদের প্রাণপ্রিয় সেনাবাহিনীকে মাঠে নামান। এর আগে দেশের সবধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে সেনাবাহিনী আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। কারণ যে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগে সেনাবাহিনী যেভাবে তাদের অভিজ্ঞতা এবং সক্ষমতা দিয়ে কাজ করতে পারবে তা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান পারবে না। ড) বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানকে এ দুর্যোগপূর্ণ সময়ে সরকারের পাশে এসে দাঁড়াতে বাধ্য করুন। ঢ) দেশী এবং বহুজাতিক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য দাতাগোষ্ঠীর মাধ্যমে একটি তহবিল গঠন করুন।



 



দুই.



জনসাধারণের প্রতি : ক) অনুগ্রহপূর্বক অহেতুক জমায়েত করবেন না। যতোটা সম্ভব অন্তত দুই সপ্তাহ বিভিন্ন পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় জমায়েত থেকে নিজেকে দূরে রাখুন। খ) এক স্থান থেকে আরেক স্থানে যাবার ক্ষেত্রে গণপরিবহণ পরিহার করুন। একান্ত প্রয়োজন না হলে দূরে কোথাও ভ্রমণ থেকে বিরত থাকুন। গ) সামান্য জ্বর-কাশি নিয়ে চিকিৎসকের কাছে বা হাসপাতালে দৌড়াবেন না। মোবাইলের মাধ্যমে আত্মীয়, বন্ধু, পরিচিত চিকিৎসকের সাহায্য নিন। ঘ) বাইরে থেকে ঘরে ফিরে কাপড়-চোপড় পরিবর্তন এবং গোসল না করে কাউকে স্পর্শ করবেন না। ঙ) আপনার প্রাণপ্রিয় বৃদ্ধ পিতা-মাতা, দাদা-দাদীর ঘরে প্রয়োজন না হলে প্রবেশ করবেন না। বয়োবৃদ্ধদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম বিধায় তাদের আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এমনও হতে পারে, আপনি করোনা আক্রান্ত, কিন্তু আপনার বয়স কম হবার ফলে এ মারাত্মক ভাইরাস আপনার দেহে কোনো উপসর্গ তৈরি করতে পারছে না, কিন্তু বয়োবৃদ্ধ এবং শিশুদের সহজেই আক্রান্ত করে ফেলছে। চ) জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট হলে যে কোনো হাসপাতালে না গিয়ে সরকার নির্ধারিত হাসপাতালে যোগাযোগ করুন। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী চললে হয়ত আপনি বেঁচে যেতে পারেন, বাঁচাতে পারেন অনেক জীবন। ছ) অহেতুক হাত মেলাবেন না, কোলাকুলি করা থেকে বিরত থাকুন, বাসের হাতল, লিফটের বাটন বা যে কোনো কিছু স্পর্শ করার পর হাত ধুয়ে ফেলুন। প্রয়োজনে পকেটে ছোট জীবাণুনাশক বোতল রাখতে পারেন। সেটা দিয়ে হাত ঘষে নিন। জ) গুজব ছড়াবেন না। ঝ) ভয় বা অতিরিক্ত সাবধানতাবশত নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মজুত গড়ে তুলবেন না। ঞ) বিদেশফেরত যদি এমন কেউ থাকে যারা হোম কোয়ারেন্টান মানছে না তাদের ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করুন। ট) চিকিৎসকের কাছে তথ্য গোপন করবেন না।



 



তিন.



স্বাস্থ্য সেবাদানকারীদের প্রতি : ক) এ সঙ্কটময় সময়ে সকলেই আপনার দিকে তাকিয়ে আছে, তবুও নিজের এবং আপনার পরিবারের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। খ) ব্যক্তিগত নিরোধ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার চেষ্টা করার পরই রোগীদের সেবাদানে এগিয়ে যান। এমনও হতে পারে আপনার থেকে একজন সুস্থ মানুষ সংক্রমিত হয়ে যাচ্ছে। গ) মানুষকে অহেতুক ভীত করে তুলবেন না। ঘ) এমনিতেও চিকিৎসক নার্স এবং অন্যান্য সেবাদানকারীরা এ ধরনের পরিস্থিতিতে সবসময়ই বিপদজনক অবস্থায় থাকেন, তাই নিজেকে যতোটা সম্ভব নিরাপদে রাখুন। তবে দ্বায়িত্বে অবহেলা করবেন না। মানুষকে সাহস দিন, তাদের পাশে থাকার জন্যে আপনি অঙ্গীকারবদ্ধ। ঙ) ইতোমধ্যে ঢাকা মেডিকেলের চার চিকিৎসক হোম কোয়ারেন্টাইনে। হয়তো এ সংখ্যা বাড়বে। গত বছরের ডেঙ্গুতে আমরা আমাদের ছয় সহকর্মীকে হারিয়েছি। তাই সাবধান থাকুন।



 



কিছুক্ষণ পূর্বেই একজন কোরোনা আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু সংবাদ এলো। জানি না, এ সংখ্যা হয়তো আরও বাড়বে। যিনি মারা গেছেন তিনি ইতালিফেরত প্রবাসীর নিকটাত্মীয়। সামান্য সতর্কতা হয়তো এ জীবনহানি রুখতে পারতো। তাই সকলের প্রতি অনুরোধ, অদৃশ্য শত্রুর বিরুদ্ধে এ যুদ্ধে সম্মিলিতভাবে না লড়াই করলে হয়তো আরো অনেক দুসংবাদের মুখোমুখি হতে হবে।



আমরা লড়াই করা জাতি, আমরা সবাই লড়বো, একসাথে। তাই ভয় নয়, সাহসের সাথে এ মহামারী মোকাবিলায় এগিয়ে আসবো আমরা। জয় বাংলা। সৃষ্টিকর্তা আমাদের রক্ষা করুন।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১০৪১৪৬
পুরোন সংখ্যা