চাঁদপুর, শনিবার ০৪ এপ্রিল ২০২০, ২১ চৈত্র ১৪২৬, ০৯ শাবান ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুর সদর উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা শত ছাড়ালো : চাঁদপুরে আরো ১৪ জনের করোনা শনাক্ত, জেলা মোট আক্রান্ত ১৮০
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৯-সূরা হাক্কা ঃ


৫২ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


 


২০। 'আমি জানিতাম যে, আমাকে আমার হিসাবের সম্মুখীন হইতে হইবে।'


২১। সুতরাং সে যাপন করিবে সন্তোষজনক জীবন;


২২। সুউচ্চ জান্নাতে


 


আল হাদিস


 


যা ইচ্ছা আহার করতে পারো, যা ইচ্ছা পরিধান করতে পারো, যদি তোমাকে অপব্যয় ও গর্ব স্পর্শ না করে।


বাণী চিরন্তন


মধুর ব্যবহার লাভ করতে হলে মাধুর্যময় ব্যক্তিত্বের সংস্পর্শে আসতে হয়। -উইলিয়াম উইন্টার।


 


 


 


 


 


assets/data_files/web

যে যা বলে বলুক, তুমি তোমার নিজের পথে চল।


-দান্তে।


 


 


পুরাতন কাপড় পরিধান করো, অর্ধপেট ভরিয়া পানাহার করো, ইহা নবীসুলভ কার্যের অংশ বিশেষ।


 


ফটো গ্যালারি
জাটকা রক্ষা পাক
সুধীর বরণ মাঝি
০৪ এপ্রিল, ২০২০ ১৬:০১:১৩
প্রিন্টঅ-অ+


খুব কষ্ট এবং যন্ত্রণা থেকে লিখতে বসলাম। দেখি আর ভাবি মানুষ কীভাবে পারে? দিনের বেলাতেই জেলারা অবাধে জাটকা শিকার করছে। অথচ ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত নদীতে সকল প্রকার মাছ ধরা নিষিদ্ধ। এ সময়ে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকলেও এবং রাতে নদীগুলো অন্ধকার থাকার কথা থাকলেও সন্ধ্যার পরপরই নদীগুলো আলো ঝলমলে হয়ে উঠে। আমরা এ অবস্থা দেখতে চাই না। আমরা এর প্রতিকার চাই।

ইলিশ আমাদের জাতীয় মাছ। ইলিশ উৎপাদনে বাংলাদেশ প্রথম। একটি জটকা ৫-৭ মাসের মধ্যে এক কেজি ওজনের ইলিশে পরিণত হয়। একটি জাটকা ৫ টাকা আর একটি ইলিশ ৬শ’-৯শ’ টাকা। জাটকা রক্ষা করতে পারলে ইলিশ হয় এবং তা জাতীয় সম্পদে পরিণত হয়। ‘যারা ধরে জাটকা, তাদের ধরে আটকা’, ‘আর ধরবো না জাটকা, ইলিশ খাবো টাটকা’Ñএ শ্লোগানগুলো বাস্তবায়ন করতে পারলেই রক্ষা হবে ইলিশ। যাতে ইলিশের উৎপাদন বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।

ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ। ইলিশ রক্ষা করা এবং এর উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করা প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। ডিম ছাড়ার সময় এবং প্রজনন মৌসুমে নদীতে সকল প্রকার মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকলে কতিপয় অসাধু ব্যক্তি অতিরিক্ত মুনাফার আশায় গোপনে ইলিশ শিকার করে আমাদের মৎস্য সম্পদের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। জাটকাসহ নদীর অন্যান্য মাছকে রক্ষা করতে হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক নজরদারী, আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং এর সাথে নদীর নাব্যতা এবং গতিকেও সচল রাখতে হবে। নিষিদ্ধ মৌসুমে নদীতে সকল প্রকার মাছ না ধরার অভিযানকে শতভাগ সফল করতে হবে। এ অভিযানকে সফল করার জন্যে প্রশাসনের পাশাপাশি সচেতন নাগরিককে এগিয়ে আসতে হবে। গত দুই বছরে এ অভিযান সফল হলেও চলতি বছরের অভিযানে প্রশাসনের কিছুটা নমনীয়তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

গত দুই বছরের অভিযানে ইলিশ মাছসহ অন্যান্য মাছের উৎপাদন যেমন বেড়েছে তেমনি পূরণ হয়েছে আমাদের পুষ্টি চাহিদা। উপরের শ্লোগানগুলো শুধু কাগজে-কলমেই শোভা পাচ্ছে কিন্তু বাস্তবে প্রতিফলন তেমন একটা দেখা যাচ্ছে না। নিয়মিত অভিযান পরিচালিত না হওয়ার ফলে জেলেরা অবাধে মাছ ধরাার সুযোগ পাচ্ছে। চাঁদপুর লঞ্চঘাটের পর থেকে গজারিয়া, হাইমচরের চরভৈরবী, ঈশানবালা, মাঝের চর, লক্ষ্মীপুর, ভোলা এবং বরিশালে অনেকটা প্রকাশ্যে প্রশাসনের নাকের ডগায় দিনের বেলাতেই নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল দিয়ে অবাধে জাটকাসহ অন্যান্য মাছ নিধন চলছে। আর রাতের আঁধারেতো কথাই নেই। যেনো অবৈধভাবে মাছ ধরার মহোৎসব চলে।

জাটকাসহ নদীর অন্যান্য মাছ রক্ষার অভিযানকে সফল করতে এবং মৎস্যসম্পদকে রক্ষা করতে হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত, কোস্টগার্ডসহ অন্যান্য সকল টহল অভিযানকে আরো জোরদার করতে হবে এবং প্রত্যেকের কাজের সমন্বয় করতে হবে। প্রশাসনের কাজের জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। নিষিদ্ধ মৌসুমে নদীতে সকল প্রকার মাছ না ধরার অভিযানকে শতভাগ সফল করতে হবে। জাটকা এবং ইলিশ রক্ষার অভিযানকে সফল করতে হলে প্রশাসনিক অভিযানকে শক্তিশালী ও কার্যকর করতে হবে। অভিযানে কেউ যেনো কোনো প্রকার সুযোগ গ্রহণ করতে না পারে সেদিকে নজর রাখতে হবে। জেলে এবং নাগরিকদের আরো সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

জাটকাসহ নদীর অন্যান্য মাছ রক্ষার গুরুত্ব বিষয়ে স্থানীয় পর্যায়ে চলমান সভা-সমাবেশ, লিফলেট, ফেস্টুন ইত্যাদি এবং গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা পরিচালনা করতে হবে। প্রয়োজনে বিজিবি এবং সেনাবাহিনীকে কাজে লাগাতে হবে এবং বর্তমানে এর যথেষ্ট প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। জাটকা রক্ষার অভিযানে প্রশাসনের কোনো রকম অবহেলা পরিলক্ষিত হলে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। নিষিদ্ধ সময়ে কোনো জেলে মাছ ধরলে তার জেলেকার্ড বাতিলসহ ন্যূন্যতম দশ বছরের জামিন অযোগ্য সশ্রম কারাদ- দিতে হবে। আইনের সঠিক প্রয়োগ যেমন থাকতে হবে তেমনি থাকতে হবে সচতেনতামূলক কার্যক্রম তাহলেই রক্ষা পাবে পৃথিবী-বিখ্যাত চাঁদপুরের ইলিশ এবং বাড়বে রপ্তানি আয়।

আসুন, মৎস্যসম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের পাশাপাশি সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করি। প্রশাসন যতো কঠোর হবে জাটকা এবং ইলিশ রক্ষার অভিযান ততো সফল হবে। আমরা জাটকা রক্ষার সফল অভিযান দেখতে চাই। তা যতো কঠোর ও কঠিনই হোক।


আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৩৬০৫৫
পুরোন সংখ্যা