চাঁদপুর, শনিবার ০৪ এপ্রিল ২০২০, ২১ চৈত্র ১৪২৬, ০৯ শাবান ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুর সদর উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা শত ছাড়ালো : চাঁদপুরে আরো ১৪ জনের করোনা শনাক্ত, জেলা মোট আক্রান্ত ১৮০
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৯-সূরা হাক্কা ঃ


৫২ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


 


২০। 'আমি জানিতাম যে, আমাকে আমার হিসাবের সম্মুখীন হইতে হইবে।'


২১। সুতরাং সে যাপন করিবে সন্তোষজনক জীবন;


২২। সুউচ্চ জান্নাতে


 


আল হাদিস


 


যা ইচ্ছা আহার করতে পারো, যা ইচ্ছা পরিধান করতে পারো, যদি তোমাকে অপব্যয় ও গর্ব স্পর্শ না করে।


বাণী চিরন্তন


মধুর ব্যবহার লাভ করতে হলে মাধুর্যময় ব্যক্তিত্বের সংস্পর্শে আসতে হয়। -উইলিয়াম উইন্টার।


 


 


 


 


 


assets/data_files/web

যে যা বলে বলুক, তুমি তোমার নিজের পথে চল।


-দান্তে।


 


 


পুরাতন কাপড় পরিধান করো, অর্ধপেট ভরিয়া পানাহার করো, ইহা নবীসুলভ কার্যের অংশ বিশেষ।


 


ফটো গ্যালারি
তিনি সেই জন
সোহানুর রহমান অনন্ত
০৪ এপ্রিল, ২০২০ ১৬:০২:৪০
প্রিন্টঅ-অ+


বাসস্টপের ছাউনির নিচে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। বৃষ্টি হচ্ছে। মাঝে মাঝে ঘোলা দৃষ্টিতে কালো আকাশটার দিকে তাকান। এখন রাত কত হবে? হয়তো দশটা কি এগারোটার মতো। আশপাশে কোথাও কেউ নেই। সিমেন্টের বানানো ভাঙা বেঞ্চটাতে বসে রইলেন। শহরতলীর এ জায়গাটা এমনিতেই সন্ধ্যার পর নীরব হয়ে যায়। তার একটি নাম আছে, নজরুল। বিয়ে করি করি করে আর করতে পারেননি। বয়স এখন পঁয়ত্রিশের মতো হয়ে গেছে। অফিস থেকে এই জায়গাটা অনেক দূর। কিন্তু তার বাস জার্নি করতে ভালো লাগে। বাসের সিটে বসে বসে বই পড়েন। যাত্রীদের কথা শোনেন। একলা মানুষ বাসায় গিয়েই বা কী করবেন। বৃষ্টি হচ্ছে। হঠাৎ বৃষ্টির শব্দের সঙ্গে আরও একটা শব্দ শুনতে পেল। নূপুরের শব্দ। তিনি তাকিয়ে দেখলেন বিশ-একুশ বছরের একটি মেয়ে। মাথায় ছাতা থাকলেও অনেকটাই ভিজে গেছে। ভেতরে ঢুকে একেবারে তার সামনে এসে দাঁড়ালেন। আমি খুব বিপদে পড়েছি, মেয়েটি বলল। বিদ্যুৎ চমকানোর আলোয় যতটুকু বোঝা যায় মেয়েটি সুন্দরী। মুখের ওপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে কয়েকটি চুল।

মেয়েটি বলল, প্লিজ একটু হেল্প করবেন। বলুন কী করতে পারি? আমাকে একটু এগিয়ে দিয়ে আসবেন? এই তো সামনের পাড়াতেই আমি থাকি। কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন, ওটা তো আমার জন্য উল্টো রাস্তা। আমি তো বাম দিকে যাব। মেয়েটা হতাশ হলো, সামনে থেকে গিয়ে বাইরের আকাশে দিকে তাকাল। এভাবে কিছুক্ষণ কেটে গেল। বাইরে আষাঢ়ের আকাশ ভাঙা বৃষ্টি।

২.

বৃষ্টি একটু কমে এলো, মেয়েটি যাওয়ার জন্য পা বাড়াল। তিনি চেয়ে রইলেন। মেয়েটি চলে যাওয়ার পর কেমন যেন ফাঁকা ফাঁকা লাগছিল চারপাশটা। হুট করেই যেন মিলিয়ে গেল চমৎকার পারফিউমের ঘ্রাণটা। মাটির সোঁদা গন্ধ ভেসে আসছে বাতাসের সঙ্গে। বাইরে এসে দেখলেন মেয়েটি, বেশি দূর এগোতে পারেনি। কেননা বৃষ্টি হওয়ায় রাস্তায় পানি জমে গেছে, সেই সঙ্গে কাদা তো আছেই। তিনি পেছন থেকে মেয়েটিকে ডাকবেন বলে ভাবলেন। কিন্তু কী নামে ডাকবেন, হুট করে একটা নাম মনে এলো। এই মেঘবালিকা, মেয়েটি আচমকাই পেছনে ফিরে তাকাল। তিনি মেয়েটার কাছে গেলেন। চলুন, আপনাকে এগিয়ে দিয়ে আসি। মেয়েটির মুখে স্বস্তির হাসি। কিছু দূর যেতেই আবারও ঝুপঝুপ করে বৃষ্টি শুরু হলো। এক ছাতার নিচে যদিও দু'জন দাঁড়াতে পারছিলেন না, তাই তিনি ছাতা থেকে বের হয়ে যেতে চাইলেন। কিন্তু বের হলো মেয়েটি। তিনি ছাতার নিচে আর মেয়েটি খোলা আকাশের নিচে। পাশাপাশি হাঁটছে দু'জন। ফাঁকে ফাঁকে কথা হলো। মেয়েটির নাম চয়নিকা। পার্লারে কাজ করে। তিনি নিজের ব্যাপারে কিছুই বললেন না। এভাবে কোনো নারীর সঙ্গে তার কখনও হাঁটা হয়নি। কিন্তু তার কেন যেন মনে হতে লাগল। হাঁটাটা জরুরি ছিল।

৩.

মেয়েটি ধন্যবাদ দিয়ে বাড়িতে চলে গেল। তিনি ভেবেছিলেন এক কাপ চায়ের অফার করবে, কিন্তু করেনি। যাই হোক তিনি চলে গেলেন। সারা রাত আর ঘুম হয়নি। মেয়েটির মুখে কেমন যেন ভালোলাগার একটা ব্যাপার আছে। পরদিন অফিস থেকে বের হয়ে মেয়েটির পার্লারের কাছে গেলেন। সাধারণত মেয়েদের পার্লারের সামনে ছেলেরা ঘুর ঘুর করলে মানুষ ভিন্ন দৃষ্টিতে তাকায়। তিনি কিছুক্ষণ হেঁটে নিজেই অস্বস্তিতে পড়ে গেলেন। বাধ্য হয়ে বাড়িতে ফিরতে হলো। এভাবে আরও দু'দিন যাওয়ার পরও কোনো ফল হলো না। মেয়েটির সঙ্গে দেখা হয়নি তার। সেদিন বাধ্য হয়ে পার্লারের বেল চাপল। একটা মেয়ে এসে উঁকি দিল। তিনি বললেন, চয়নিকা আছে? মেয়েটি কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলল, ওনার জ্বর, আসেনি। তিনি চিন্তায় পড়ে গেলেন। সাহস করে তিনি চয়নিকাদের বাড়িতে গেলেন। তাকে দেখে প্রথমে চয়নিকা চিনতে পারেনি। পরে সেই রাতের কথা বলতেই হেসে বলল, ও আপনি না থাকলে কী যে হতো। এই প্রথম মেয়েটির চোখে চোখ রেখেছেন তিনি। সেই চোখ অনেক ভালোলাগার জন্ম দেয়। তা কী মনে করে এখানে এলেন? তিনি চট করে কোনো উত্তর না পেয়ে বললেন, আসলে আমার এক কাজিনের বিয়ে। তাই ভাবলাম...। ও আচ্ছা তাই বলুন। অনেক কথা হলো, শেষে তিনি ফোন নম্বর নিয়ে চলে এলেন। মুখে এক টুকরো হাসি ফুটে উঠল অজান্তেই।

৪.

একদিন পর তিনি সাহস করে ফোন করলেন। চয়নিক বলল, আপনার কাজিনের বিয়ে কবে? এই তো সামনের সপ্তাহে, কথা বাড়াতে গিয়েও আর পারে না। অফিসের কলিগদের জিজ্ঞেস করে আমার কি বিয়ের বয়স পার হয়ে গেছে? সবাই তাকে আয়না দেখার পরামর্শ দেয়। অকারণেই তিনি চয়নিকাদের বাড়ির সামনে ঘুর ঘুর করে। পৃথিবীর সবচেয়ে সুখের জায়গা যেন এটাই। আগে বাসে বসে থাকতেন আর এখন বসে থাকেন চায়ের দোকানে। এখান থেকে স্পষ্ট দেখা যায় ওদের বাসাটা। অন্য এক আষাঢ়ের রাতে তিনি চয়নিকাকে ফোন করলেন। হ্যালো, কেমন আছেন? জি, ভালো। আমি বোধহয় আপনার কাজিনকে সাজানোর কাজটা করতে পারব না। কেন? পরশু বাড়ি চলে যাচ্ছি। তাতে কী, এসে করবেন। আর আসব না। মানে! হ্যাঁ, আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। এখন গ্রামেই থাকব। তিনি আর কিছুই বলতে পারেন না। ফোনটা রেখে দেন। বারান্দার শিক ধরে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকেন। সব ভালোলাগাই দ্রুত আসে আবার দ্রুত চলে যায়। কী সুন্দর বৃষ্টি অথচ মনের কোণে কত না কষ্টের দাবানল। রাত বাড়ে তিনি দাঁড়িয়ে থাকেন, কয়েকটা জোনাক পোকা জেগে থাকে তার সঙ্গে। পৃথিবীর সবাই পছন্দের মানুষটিকে পায় না তবুও বেঁচে থাকতে হয়। ঠিক একা, একলা মানুষ হয়ে।

...


আজকের পাঠকসংখ্যা
২১১৯৮৫
পুরোন সংখ্যা