চাঁদপুর, শনিবার ২৩ মে ২০২০, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৯ রমজান ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুরে আরো ১২ জনের করোনা শনাক্ত, মোট আক্রান্ত ১৫৯
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৯-সূরা হাক্কা :


৫২ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


১৬। এবং আকাশ বিদীর্ণ হইয়া যাইবে আর সেই দিন উহা বিশ্লিষ্ট হইয়া পরিবে।


১৭। ফিরিশ্তাগণ আকাশের প্রান্তদেশে থাকিবে এবং সেই দিন আটজন ফিরিশ্তা তোমার প্রতিপালকের আরশকে ধারণ করিবে তাহাদের ঊধর্ে্ব।


 


বেদনা হচ্ছে পাপের শাস্তি।


-বুদ্ধদেব।


 


 


স্বভাবে নম্রতা অর্জন কর।


 


দোটানায় দিনযাপন
আকিব শিকদার
২৩ মে, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


বাবার ক্যান্সার। গলায় ব্যান্ডেজ, ব্যান্ডেজে রক্ত। এগারোটি থেরাপিতে চুল সাফ। চামড়ায় কালো দাগ। বিদেশে নিয়ে ভালো ডাক্তার দেখালে হতো। টাকা কোথায়...



 



বউকে ডেকে জানতে চাই_'কী করতে পারি?' বউ বলে_'যা ভালো মনে হয় করো।' বাবা যখন যন্ত্রণায় কুঁকিয়ে ওঠে, চিংড়ি মাছের মতো দলা পাকিয়ে যায়, বড় মায়া হয়।



 



সিদ্ধান্ত নিলাম বাড়িটা বেঁচে দেব। কিন্তু বউ-সন্তান নিয়ে থাকবো কোথায়! এদিকে বাবার মৃত্যুযন্ত্রণা, ওদিকে একমাত্র ছেলেকে অকূল সাগরে ফেলা। চিকিৎসার অভাবে বাবা মরলে লোকে বলবে_'কেমন ছেলে! বিনা চিকিৎসায় বাবাকে মারলো।' বাড়ি ভিটা বেঁচে দিলে কুৎসা রটবে_'কেমন বাপ! সন্তানের কথা ভাবল না!'



 



অসুস্থ বাপ বাড়ি বিক্রির গুঞ্জন শুনে বলেছিলো 'আমি আর কদিন! তোরা সুখে থাক বাবা, নাতিটার খেয়াল রাখিস।'



 



কার খেয়াল রাখবো, নাতিটার? নাকি অসুস্থ বাবার? ভাবতে ভাবতে কাচের গ্লাসে বেলের শরবতে চামচ নাড়ছিলাম। হাত-পা কাঁপছে, মুখ ঘামছে। শরবতে তিন ফোঁটা বিষ মিশিয়ে দিয়েছি আমি। তীব্র বিষ, মুখে নিলে মৃত্যু। মনে পড়ল ছোটবেলায় ম্যালেরিয়া জ্বরে সতেরো দিন ছিলাম হাসপাতালে। চিকিৎসার খরচ জোগাতে বাবা তার প্রিয় মোটরসাইকেলটি বেঁচে দিয়েছিলো। কই... একবারও তো বিষমাখা চকলেট খাইয়ে মেরে ফেলার কথা ভাবেনি। হাতের চামচ থেমে গেলো। বাবার বানানো বাড়ি ভিটা বেঁচেই বাবাকে বাঁচাবো। পরক্ষণে মনে পড়ল ছেলের পড়াশোনা, বউয়ের আবদার, সংসারের নানা খরচ।



 



বেলের শরবতে বিষ। না... বাবার হাতে কিছুতেই বিষের গ্লাস ধরিয়ে দিতে পারবো না। বাবা কত স্নেহে মানুষ করেছে আমাকে। শহরে রেখে শিক্ষিত করেছে, মোটা অঙ্কের ঘুষে চাকরি জুটিয়েছে, তার হাতে তুলে দেব বিষের গ্লাস!



বিষমিশ্রিত শরবত পিরিচে ঢেকে বাবার বিছানার পাশে রেখে চলে গেলাম দূর। যেনো কিছুই জানি না, জানতেও চাই না। যেনো বাড়ি থেকে পালাতে পারলেই বাঁচি, এমনকি পৃথিবী থেকেও...



 



আমার ছেলেটা গিয়েছিল বাবাকে ওষুধ খাওয়াতে। রোগীর পথ্য আপেল কমলা আঙুরের বেশি অংশ নাতিকে খেতে দিতো বাবা, আজ দিলো শরবতভরা গ্লাস। নাতি এক চুমুক মুখে নিয়েই মেঝেতে ঢলে পড়লো।



তারপর... বাবা বিছানায় যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে, ছেলে মেঝেতে পড়ে আছে নিস্তেজ। কী করবো! হায়... কোন্ দিকে যাবো আমি...!



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৫০৭৯৬৭৩
পুরোন সংখ্যা