চাঁদপুর, শনিবার ৬ জুন ২০২০, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ১৩ শাওয়াল ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৯-সূরা হাক্কা :


৫২ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


৩৪। এবং অভাবগ্রস্তকে অন্নদানে উৎসাহিত করিত না,


৩৫। অতএব এইদিন সেথায় তাহার কোন সুহৃদ থাকিবে না,


৩৬। এবং কোন খাদ্য থাকিবে না ক্ষত নিঃসৃত স্রাব ব্যতীত,


 


 


 


অতিরিক্ত চাহিদাই মানুষের পতনকে ডেকে আনে।


-জন অলকৃট।


 


 


 


মানবতাই মানুষের শ্রেষ্ঠতম গুণ।


 


 


 


 


ফটো গ্যালারি
তারে আমি চোখে দেখিনি
সোহানুর রহমান অনন্ত
০৬ জুন, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


তোমার ফেসবুক অ্যালবাম ঘাঁটাঘাঁটি করলাম, একটা পিকচারও দেখলাম না, ফেইক না তো? ইনবঙ্ করলো রায়হান। পিকচারের কী দরকার? রোমানা বললো। আমি কাউকে না দেখে একসেপ্ট করি না। তাই। হু। আমাকে তো করে ফেলেছেন। ভুলে করেছি, এখন চেক করছি। যদি ফেইক হই, বললো রোমানা। রায়হান আর কোনো উত্তর দিলো না। ফেসবুককে বিশ্বাস নেই, ফেইক হতেই পারে। মেয়েটি রায়হানকে কোনো জ্বালাতন করে না। মাঝে মাঝে স্ট্যাটাসে কমান্ড করে। সপ্তাহে সাত দিনই প্রোফাইল পিক চেঞ্জ করে। কখনও বিড়ালের ছবি কখনও বা গোলাপের ছবি। রায়হানের এসবে মাথাব্যথা নেই। যে যেভাবে হ্যাপি থাকে, তাকে সেভাবেই থাকতে দেয়া উচিত। তবু মাঝে মাঝে মেয়েটিকে কড়া কথা শোনাতে ইচ্ছা হয়।



 



(২)



নিজেকে বেশ আনলাকি মানুষ বলে মনে হয় রায়হানের। তার কারণ হলো, কাউকে সহজে মেনে নিতে পারে না ও। কোথায় যেনো একটা দেয়াল তৈরি হয়ে যায়। কেনো এমন হয়? রোমানা এ প্রথম নিজ থেকে মেসেজ করলো কেমন আছেন? রায়হান কোনো উত্তর দিলো না। আপনি কি আমার ওপর বিরক্ত? রায়হান এবারও কোনো উত্তর দিলো না। কিছু বলছেন না যে? তবু কোনো উত্তর নেই? আপনার আইডিটা কি হ্যাক হয়ে গেছে? এবার রায়হান উত্তর দিলো, আমি কোনো ফেইক আইডির সঙ্গে চ্যাট করতে ইচ্ছুক নই। রোমানার মেসেজ অফ হয়ে গেলো। মেয়েটির সঙ্গে এভাবে খারাপ ব্যবহার করা কি ঠিক হচ্ছে? নিজেকেই নিজে প্রশ্ন করে রায়হান। উত্তর মেলেনি প্রশ্নের।



 



(৩)



সকালে ইনবঙ্ খুলতেই মেয়েটির একটা দীর্ঘ মেসেজ। এভাবে কাউকে ছোট করে দেখতে হয় না। আমি ফেইক আইডি হলেও মানুষ, নিশ্চয়ই আপনার শত্রু নই? নিচে আমার সেলফোন নম্বর দেয়া আছে। জাস্টিফাই করতে পারেন। সকাল সকাল এমন মেসেজ দেখে অবাক হলো রায়হান। বেশ রাগী মেয়ে মনে হচ্ছে। নাম্বারটা নিজের সেলফোনে উঠিয়ে কল করলো। বেশ কয়েকবার কল হলো কেউ ধরলো না। মনে মনে ভাবল, এটাও ফেইক নম্বর কি-না। শেষবার যখন কল করল তখন রিসিভ হলো। ওপাশে মিষ্টির রিনরিনে গলা, হ্যালো। আপনি রোমানা? জি। না মানে, আমি রায়হান। চিনেছি, ফেইক আইডি বিশেষজ্ঞ, তাই না। রোমানার কথায় হেসে উঠলো রায়হান। এভাবেই শুরুটা। প্রথমে বন্ধুত্ব তারপর ভালোলাগা। দুজন দুই মেরুর মানুষ। রায়হান ঢাকায় আর রোমানা চট্টগ্রামে। অবশেষে সিদ্ধান্ত নিলো, রোমানা-রায়হান দেখা করবে। প্রথমে রোমানা দেখা করতে রাজি হয়নি। পরে রায়হানের চাপে রাজি হয়। তারপর অপেক্ষা। দেখা করার ঠিক তিন দিন আগে রোমানা বললো, ইদানীং কেনো যেনো মনে হয় আমি খুব সুখী মানুষ। আর মানুষ যখন বেশি সুখে থাকে। তখনই তার ভেতর মৃত্যুর ভয় চলে আসে। চলো না একদিন আগে দেখা করি আমরা। না, যেদিন দিনক্ষণ ঠিক করা হয়েছে সেদিনই দেখা করবো। তার আগে যদি আমার কিছু হয়ে যায়। দূর পাগলি মেয়ে, কিছুই হবে না। সত্যি কিছু হবে না। হু সত্যি।



(৪)



বারবার ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছে রায়হান। আশপাশে ভালো করে তাকিয়ে দেখলো। জায়গা তো ঠিকই আছে, কিন্তু রোমানা আসছে না কেনো?। হাতের ফুলগুলো বাতাসে শুকিয়ে যাচ্ছে। রোমানার মোবাইলে ফোন করতেই, ধরল এক ভদ্রমহিলা। সম্ভবত রোমানার মা, আমি কি রোমানার সঙ্গে কথা বলতে পারি? ভদ্রমহিলা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন। আপনি কিছু জানেন না? না। আপনি রোমানার কী হন। বন্ধু? রোমানা গতকাল রাতে মারা গেছে। মাঝে মাঝে ওর বুকে ব্যথা করতো। হঠাৎ গতকাল ব্যথাটা তীব্রভাবে উঠলে, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু বাঁচানো গেলো না। ভদ্রমহিলা কেঁদে ফেললেন। মনে পড়ে গেলো রোমানার কথা, একটা দিন আগে দেখা করা যায় না। সত্যি দেখা হলো তাকে, আর কোনো দিন দেখতেও পারবো না। মনটা হাহাকার করে উঠলো রোমানার জন্যে। যেখানে থাক ভালো থাক, এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে পারছি না।



 



 



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৪২২৭১
পুরোন সংখ্যা