চাঁদপুর, শনিবার ৪ জুলাই ২০২০, ২০ আষাঢ় ১৪২৭, ১২ জিলকদ ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৭১-সূরা নূহ্


২৮ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


 


 


১১। 'তিনি তোমাদের জন্য প্রচুর বৃষ্টিপাত করিবেন,


১২। 'তিনি তোমাদিগকে সমৃদ্ধ করিবেন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে এবং তোমাদের জন্য স্থাপন করিবেন উদ্যান ও প্রবাহিত করিবেন নদী-নালা।


 


আপোষ এবং সমঝোতাই জীবনকে সুন্দর করবে।


-সিডনি স্মিথ।


 


 


 


স্বদেশ প্রেম ঈমানের অঙ্গ।


 


 


ফটো গ্যালারি
উড়ে যাবে কালো মেঘ
এসএম আল-আমিন
০৪ জুলাই, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


এখন দিনের শুরু হয় কোনো মৃত্যু সংবাদ শোনার মধ্য দিয়ে। চারদিকে শুধু দুঃসংবাদ। ক্ষণে ক্ষণে ভেসে আসে অ্যাম্বুলেন্সের হুইসেল। এভাবে প্রতিটি দিন গড়ায়, রাতের অন্ধকার নামে। আসে আরেকটি নতুন ভোর। করোনা মহামারির এ সময় প্রত্যেকের দিনলিপি প্রায় এমনই। একবিংশ শতাব্দীর নতুন প্রজন্মের মহামারির গল্প শুধু ছবি, গল্প, কাব্য ও রূপকথায় জেনেছি। আমরা নতুন প্রজন্ম প্রথম, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ দেখিনি। দেখিনি মহান মুক্তিযুদ্ধ। শুধু পূর্ববর্তী প্রজন্মের কাছে ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের শাণিত চেতনার গল্প শুনেই শিহরিত হয়েছি এক গৌরবমাখা অনুভবে। যুদ্ধ-পরবর্তী অর্থনৈতিক মন্দাভাবে নতুন সামাজিক প্রেক্ষাপটে বেঁচে থাকার যুদ্ধের গল্পের অাঁচও কিছুটা পেয়েছি বিভিন্ন শিল্প, সাহিত্যের চিত্রে। কিন্তু এবারই প্রথম আমাদের প্রজন্ম এ ভয়াবহ মহামারির সম্মুখীন। এ যেনো এক অন্য যুদ্ধ। এ যুদ্ধে পুরো বিশ্ব এখন ভীত। এ যুদ্ধ এক অদ্ভুত অদেখা রহস্যময় শত্রুর বিপক্ষে। ভাবতে অবাক লাগে এই ক্ষুদ্র অদেখা জীবাণুটির কী চরম শক্তি যে, এক নিমিষে কাবু করে ফেলেছে মানবদেহ। একটি নির্দিষ্ট স্থান থেকে উৎপত্তি হয়ে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে গেলো নিমিষেই। শুধু মানুষকে আক্রান্তই করছে না, মানুষের মধ্যে তৈরি করে চলছে চরম ভীতি। মানুষের জীবননাশের কারণও হয়েছে এই জীবাণু। মৃত্যু আতঙ্কের কাছে দেশ, জাত, শ্রেণি, ধর্ম, বর্ণ, অর্থবিত্ত সব যে ঠুনকো_করোনা দেখিয়ে দিয়েছে। মানুষ এখন আপন জীবন ঘরবন্দী। যতোই দিন বাড়ছে সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। ঘরের বাইরে প্রত্যেকেরই করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, তবু অনেক মহানুভব মানুষ ও প্রতিষ্ঠান আক্রান্ত ও ঘরে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। অনেকের মানবতার পরশে পাশে থাকা অসহায় হতদরিদ্র দুস্থ মানুষগুলো একটু হলেও সাহস পাচ্ছে। সামাজিক দূরত্ব, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, এতোসব সচেতনতার কথা বলা হচ্ছে এবং তা মেনে প্রত্যেক মানুষ এখন গৃহবন্দী হয়ে অবরুদ্ধ সময় পার করছে শুধু অদৃশ্য এই ভাইরাসটির সংক্রমণ প্রতিহতের চেষ্টায়। ইতিবাচকভাবে যদি দেখি মানুষ যথেষ্ট সচেতনতার সঙ্গে নিজেদের অস্তিত্ব বাঁচানোর এই যুদ্ধে নিরাপদ দূরত্ব রেখেও ঠিকই তাদের নিজ নিজ পেশায় কাজ করে চলেছে।



 



পৃথিবীকে সুস্থ করতে এখন এই মুহূর্তের সামগ্রিকভাবে সমবেত চেষ্টার বিকল্প নেই। আমরা কেউই একা বাঁচতে পারি না, পারবও না। আমি সুস্থ থাকলেই আমার চারপাশের পরিবেশ সুস্থ-সুন্দর থাকবে। এই যে মানবতার মায়ায় ভালোবাসার জাল ছড়াতে শুরু করেছে, তাতে মনে হয় না করোনা আর বেশিদিন বিরক্ত করবে পৃথিবীকে। হয়তো লকডাউনের এই পৃথিবীতে আমরা কেউই ভালো নেই। আগামী দিনের আর্থসামাজিক মন্দাভাবের ভয়াবহতার আশঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে। তবুও একটা আশার আলো বুকে রেখে নতুন ভোরকে স্বাগত জানাতে চাই আগামীর পৃথিবীতে। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, আন্তরিকতা আনা, আর স্বেচ্ছা বন্দিত্বে সারা পৃথিবীর আকাশে করোনার কালো মেঘের ছায়া কেটে যাবে। করোনার এই অাঁধার কেটে সুদিন আসবেই। প্রকৃতি আবার হাসবে। প্রাণভরে নিঃশ্বাস নেবো খোলা আকাশের নিচে। গোটা পৃথিবীই এখন নতুন সূর্যোদয়ের প্রত্যাশায়। আমরা বিশ্বাস করি, 'ভোর হয়নি, আজ হলো না, কাল হবে কি না তাও জানা নেই, পরশু ভোর ঠিকই আসবে। অপেক্ষা কেবল সময়ের'।



 


করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ২,৫৫,১১৩ ১,৯৫,৬২,২৩৮
সুস্থ ১,৪৬,৬০৪ ১,২৫,৫৮,৪১২
মৃত্যু ৩৩৬৫ ৭,২৪,৩৯৪
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৭৫৩৩১৫
পুরোন সংখ্যা