চাঁদপুর, শনিবার ১১ জুলাই ২০২০, ২৭ আষাঢ় ১৪২৭, ১৯ জিলকদ ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৭১-সূরা নূহ্


২৮ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


২৬। নূহ আরও বলিয়াছিল, 'হে আমার প্রতিপালক! পৃথিবীতে কাফিরগণের মধ্য হইতে কোন গৃহবাসীকে অব্যাহতি দিও না।


২৭। তুমি উহাদিগকে অব্যাহতি দিলে উহারা তোমার বান্দাদিগকে বিভ্রান্ত করিবে এবং জন্ম দিতে থাকিবে কেবল দুষ্কৃতকারী ও অধিকার।


 


 


 


মৌনতা নিরপেক্ষতার উত্তম পন্থা।


-শ্যামলচন্দ্র দত্ত।


 


 


 


 


যার দ্বারা মানবতা উপকৃত হয়, তিনিই মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।


 


 


ফটো গ্যালারি
ঝরো ঝরো মুখর বাদল দিনে
এহসানুল হক সুমন
১১ জুলাই, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


কংক্রিটঘেরা এই শহরে বর্ষা মানে কোলাহলের নগরে স্থবিরতা। নোংরা সড়কগুলো ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার হওয়া। আকাশ-বাতাসে থাকা ধুলাবালুকে বশ করে এক নির্মল পরিবেশ তৈরি করে এই বর্ষা। প্রবল বৃষ্টিতে মনে পড়ে বর্ষার কত গান-কবিতা। দিগন্তজোড়া কালো মেঘ, বিরহ, হাহাকার বৃষ্টিতে ধুয়ে-মুছে যায়। বর্ষার গানগুলো মনে কড়া নাড়ে, বেজে ওঠে গুনগুনিয়ে



 



'নীল নবগনে আষাঢ় গগনে, তিল ঠাঁই আর নাহিরে। ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে। বাদলের ধারা ঝরে ঝরো-ঝরো, আউশের ক্ষেত জলে ভরো-ভরো, কালিমাখা মেঘে ওপারে অাঁধার ঘনিয়েছে দেখ চাহিরে রে...।' কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কবিতায় বর্ষার চিরায়িত রূপকে তুলে ধরেছেন। এখন আষাঢ় মাস। আষাঢ়-শ্রাবণ দুমাস বর্ষাকাল। বর্ষা মানে ঘনকালো মেঘ, ঝুম বৃষ্টি, নতুন প্রাণ জেগে ওঠার গান। বর্ষা মানেই কবিতা লেখার দিন, গ্রামের মানুষকে ঘরমুখো করে তোলা। বর্ষা মানে রমনীর ঘরে বসে নকশিকাঁথায় ফুল তোলায় ব্যস্ত থাকা। বর্ষা আমাদের মনকে স্নিগ্ধ করে তোলে। খরতাপ মুছে দিয়ে প্রকৃতিকে শীতল করে, খাঁ খাঁ ফসলের মাঠে পানি দিয়ে সবুজ-সতেজ করে তোলে কৃৃষকের স্বপ্নকে। তৃষ্ণাকাতর চারপাশের প্রকৃতি হয়ে উঠে সবুজ। বৃষ্টির অভাবে অনুর্বর মাটি হয়ে উঠে উর্বর। ফিরে পায় প্রাণের স্পন্দন। বর্ষায় ফোটে কদম, সোনালু, জারুল, কৃষ্ণচূড়া। গাছে গাছে ফুলের সৌন্দর্য বর্ষার রূপকে আরও বাড়িয়ে দেয়। বর্ষাকে স্বাগত জানাতে কদম ফুল নিয়ে অপেক্ষা করে প্রকৃতি। তাই বর্ষা মানেই কর্দমাক্ত রাস্তা আর গাঁয়ের দস্যি ছেলেদের কদম ফুলকে ঘিরে হৈহুল্লোড়-আনন্দ।



 



প্রবল বর্ষণে নদী-নালা, খাল-বিল পানিতে ভরে পূর্ণ যৌবনা হয়ে উঠে এ সময়। বিলে-ঝিলে ফুটন্ত শাপলা-শালুক বিমোহিত করে। নৌকায় করে ঝিলে কিশোরীর শাপলা তোলার দৃশ্য সবারই মন কাড়ে। হঠাৎ ঝুম বৃষ্টিতে গরুর পাল নিয়ে বাড়িমুখী রাখাল, গ্রামের ছেলেমেয়েদের কাদায় লুটোপুটি খাওয়া কিংবা বড় কচুর পাতাকে ছাতা করে শিশুর বৃষ্টিতে ছুটে চলা, কৈশরের দুরন্তপনায় সদ্য পানিতে পরিপূর্ণ হওয়া, নদীর বুকে উঁচু গাছ থেকে লাফ দিয়ে বৃষ্টি-নদীতে গোসল, এক অপরূপ পরিবেশ তৈরি করে বর্ষা। নদীতে সাঁতরানো গাঁয়ের দামাল ছেলেদের দেখে মনে হবে ওরা যে পানকৌড়িদেরও হার মানিয়েছে।



 



রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আরেকটি কবিতায় বলেছেন, 'আবার এসেছে আষাঢ় আকাশ ছেয়ে, আসে বৃষ্টির সুবাস বাতাস বেয়ে। এই পুরাতন হৃদয় আমার আজি, পুলকে দুলিয়া উঠিছে আবার বাজি, নূতন মেঘের ঘনিমার পানে চেয়ে, আবার এসেছে আষাঢ় আকাশ ছেয়ে...।'



 



বসন্ত প্রেমের ঋতু হিসেবে পরিচিত হলেও বর্ষার বিমোহিত করা রূপ মানবজাতির মনে প্রেম জাগায়। রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, 'এমন দিনে তারা বলা যায়। এমন ঘন ঘোর বরিষায়, এমন মেঘস্বরে বাদল ঝরঝরে, তপনহীন ঘন তমসায়...।' বৃষ্টিস্নাত দিনে কবি-সাহিত্যিকরা কবিতা-গান চর্চায় মেতে ওঠেন।



 



অতিমাত্রায় কার্বন নিঃসরণের ফলে বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ছে। ফলে জলবায়ুর ওপর এর ব্যাপক প্রভাব পড়ছে। অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি দেখা যাচ্ছে। বর্ষা আমাদের জীবনে যেমন আনন্দের, অন্যদিকে কষ্টেরও। প্রতি বছর উজানের পানির সঙ্গে পলি চলে আসে আমাদের দেশের নদ-নদীতে। নদীর বুক পলিতে প্রায় ভরে গেছে। বৃষ্টি হলে সবটুকু পানি ধরে রাখতে পারে না নদী। ফলে অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে নদী থেকে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে পানি। বন্যা হলে নদীপাড়ের মানুষ পড়েন বিপাকে। ঘর-বাড়ি নদীর পানিতে ডুবে যায়। কৃষকের সোনাফলা ফসলসহ ক্ষেত তলিয়ে যায়। গবাদিপশু নিয়ে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা চালায় নদীপাড়ের মানুষ। তীব্র খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা যায়। নানা ধরনের পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয় মানুষ। প্রতি বছর দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ বেশি এ সমস্যা পড়েন। আশীর্বাদের বর্ষা একসময় তাদের কাছে অভিশাপে পরিণত হয়। উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার, ঘাঘট, যমুনেশ্বরীসহ নদ-নদীগুলো পলিতে পরিপূর্ণ হওয়ায় পানি ধরে রাখতে পারে না। প্রতি বছর এসব নদী এলাকায় লক্ষাধিক মানুষ বন্যার কবলে পড়েন। বন্যার ভয়ে চরের অনেকে নৌকায় বসবাস শুরু করেন। শত শত কোটি টাকার অবকাঠামো, ফসল ও মৎস্য খাতের ক্ষতি হয়। পানির এলোমেলো গতিপ্রবাহের কারণে প্রতি বছর নতুন নতুন এলাকা ভাঙনের শিকার হয়। মানুষের ঘর-বাড়ি, রাস্তা-ঘাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মন্দির, ফসলের ক্ষেত ভেঙে নদীতে চলে যায়। ফলে একটি সচ্ছল পরিবার মুর্হূতেই নিঃস্ব হয়ে যায়। নিজের ভিটেমাটি নদীতে বিলীন হলে আশ্রয় নেন নদীর বেড়িবাঁধে। ফসলের মাঠ হারিয়ে কৃষি থেকে প্রতি বছর অন্য পেশায় নিয়োজিত হন হাজার হাজার মানুষ।



 



আষাঢ়-শ্রাবণ দুমাস বর্ষাকাল হলেও আমাদের দেশে এরপরও বর্ষার প্রভাব থাকে। থাকে বৃষ্টিপাতও। চলে কার্তিক মাস পর্যন্ত। উত্তরাঞ্চলে একটি কথা প্রচলিত আছে_'কাইতান সাতাওয়ে চলি যায় ঝরি' অর্থাৎ কার্তিক মাসের ঝড়ের পর বর্ষাকালের বিদায় হয়। তাই বর্ষার ব্যাপ্তি আমাদের দেশে বেশি। থাকে শরৎ-হেমন্তের কিছু দিন পর্যন্ত। কার্তিক মাসে পানি সরে যাওয়ার পর ক্ষেত-পাথার আবার জেগে ওঠে। তখনই আসলে বর্ষার প্রভাব শেষ হয় প্রকৃতি থেকে। বর্ষা প্রকৃতিকে ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করে। জমিতে পলি জমে উর্বর হয়, ফসলি জমিতে পোকা-মাকরের আবাস, বিষাক্ত কীটনাশক ধুয়েমুছে নিয়ে যায় বর্ষা। কৃষকের জন্য হয়ে উঠে আগামী দিনের স্বপ্ন। বিশ্বের বিরাজমান মহামারি এই বর্ষার জলে ধুয়েমুছে যাক। বর্ষা সবার হৃদয়ে আনন্দের বন্যা বইয়ে দিক। এই প্রত্যাশা নিরন্তর।



 


করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ২,৫৫,১১৩ ১,৯৫,৬২,২৩৮
সুস্থ ১,৪৬,৬০৪ ১,২৫,৫৮,৪১২
মৃত্যু ৩৩৬৫ ৭,২৪,৩৯৪
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৭৮০৭৮৬
পুরোন সংখ্যা