চাঁদপুর, শনিবার ৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৯ রবিউস সানি ১৪৪২
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
একাত্তরের বীরসেনানীর সান্নিধ্যে
শাহাদাত হোসেন
০৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


নবম শ্রেণিতে থাকাকালে স্যার আমাদেরকে দায়িত্ব দিলেন একজন মুক্তিযোদ্ধার মুখে যুদ্ধের কাহিনি ভিডিও ধারন করার। তখনই হলাম হতভম্ব। অবাক হয়ে প্রশ্ন করলাম, মুক্তিযোদ্ধা পাবো কোথায় স্যার? আমাদের গ্রামে কেউ আছে বলে তো মনে হয় না।



-কেনো আমাদের সাঈদ ভাইয়ের বাবা আছে না? তিনি তো মুক্তিযোদ্ধা।



-সাঈদ ভাইয়ের বাবা মুক্তিযোদ্ধা?



-হ্যাঁ।



-আজ প্রথম জানলাম।



 



সাঈদ ভাই চা দোকানি। সাঈদ ভাইয়ের অবর্তমানে তার বাবা সামলান। আমরা তাকে চাচা বলে ডাকি। নাম আব্দুস সালাম। খুব ভালো মনের মানুষ। তিনি যে মুক্তিযোদ্ধা এ-কথা আমাদের জানা ছিলো না।



 



স্যার বললেন, এগারোটায় তোমাদের কাজ শুরু। আর তোমাদের কয়েকজনের জন্যে ক্লাস আজ ছুটি। বক্তব্য লেখা, ভিডিও করা যা যা লাগে জোগাড় করার জন্যে তোমাদের সময় দেয়া হলো।



-জি্ব স্যার। স্বাভাবিক জবাব দিয়ে নিজেদের কাজে মন বসাতে লাগলাম। কি কি জোগাড় করতে হবে এটা সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজে লেগে গেলাম। নিয়ম অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধের কাহিনি লেখার জন্যে দোকান থেকে কাগজ এনে সেগুলো গুছিয়ে কাজের উপযুক্ত করার দায়িত্ব দেয়া হলো আমাকে। এ কাজের দায়িত্ব পেয়ে কেনো জানি নিজের অজান্তেই খুশি হয়ে গেলাম। ভেবে দেখলাম কাগজ সাঈদ ভাইয়ের দোকানেই পাওয়া যাবে। আজকে একজন মুক্তিযুদ্ধের সৈনিকের মুখোমুখি হবো ভাবতেই ভালো লাগছে। স্কুল থেকে বেরিয়ে কোনোপ্রকার বিলম্ব না করে সরাসরি দোকানে ঢুকলাম। দেখলাম আব্দুস সালাম চাচা চেয়ারে বসে গল্প করছেন। জিজ্ঞেস করলাম চাচা কাগজ আছে?



-হ্যাঁ আছে।



-তিনি কাগজ গুনতে ব্যস্ত আমি তাঁর দিকে তাকিয়ে রইলাম। বয়স হয়েছে। শরীরে ভাঁজ পড়া। দুর্বল চলন। একবার তাকিয়ে কেউ ধরতে পারবে না তার ভেতরে লুকিয়ে থাকা একাত্তরের এক অকুতোভয় বীর সৈনিককে।



 



'চাচা আপনি কি মুক্তিযোদ্ধা?' প্রশ্নটা করার প্রবল ইচ্ছে ছিলো আমার। বিশেষ করে তার মুখ থেকে হ্যাঁ-বোধক উত্তর শোনার জন্যেই যেনো এ আগ্রহ। তবে দোকানে আরও লোক থাকায় প্রশ্নটা আর করা হয়ে উঠেনি।



 



কাগজগুলো গুনে আমাকে দিলেন। কাগজের দাম দিয়ে আবার ফিরে এলাম স্কুলে। যে যার নিজস্ব কাজ শেষ করে সবাই এক জায়গায় জড়ো হলাম। সঙ্গী বন্ধু একজন জিজ্ঞেস করলো, 'সবাই সবার দায়িত্বে পড়া জিনিসগুলো এনেছিস্?' সবাই একতালে জবাব দিলাম, হ্যাঁ। আচ্ছা কে কি জোগাড় করলে দেখি আগ্রহ বসে জিজ্ঞেস করলাম। সবাই সবার সংগ্রহ করা জিনিস দেখাতে লাগলো। মিনিট দু-এক যেতে না যেতে আমাদের এ কাজের সহযোগী শিক্ষক এসে গেলেন। তার বলে দেয়া জিনিসগুলো সবাই ঠিকঠাক এনেছি কি না তা পর্যবেক্ষণ করলেন। অবশেষে সবাইকে মাঠপর্যায়ের কাজে লাগিয়ে স্কুল থেকে বাহিরে চলে গেলেন। যখন ফিরে এলেন তখন তিনি একা নয়, সাথে আব্দুস সালাম চাচাও আছেন। মোটামুটি চলনে এগিয়ে আসছেন আমাদের দিকে। শুরুতে আমি বক্তব্য লেখার দায়িত্বে থাকলেও পরে অব্যাহতি নিই। চাচার কথাগুলো ভালোভাবে শোনার জন্যে খুব কাছাকাছি বসি। আমি ছিলাম ভিডিও ধারনের দায়িত্বে।



 



প্রথমে তিনি তাঁর নাম আর বয়স নিজ থেকে বলেন। অতঃপর শুরু হয় আমাদের সহকারী শিক্ষকের ধারাবাহিক প্রশ্ন করা। আমি ক্যামেরাটা ঠিকঠাক ধরে তার কথায় মনোযোগ দিই। নেভী জাহাজ আক্রমণ, পাকহানাদারের ক্যাম্প আক্রমণের কথা বললেন। হঠাৎ কৌতূহলবশত প্রশ্ন করলাম, 'আপনি বন্দুক চালানো শিখেছেন কীভাবে?'



-ট্রেনিং নিয়ে।



-কতদিন?



-৮-১০ দিনেই মোটামুটি শিখে যাই।



 



প্রায় দু ঘণ্টার প্রশ্ন-উত্তর সাথে যুদ্ধের গল্প শুনে কেটে গেলো।



 



 


হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৮৩-সূরা মুতাফ্ফিফীন


৩৬ আয়াত, ১ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


১৮। অবশ্যই পুণ্যবানদের আমলনামা 'ইলি্লয়্যীনে'


১৯। 'ইলি্লয়্যীন' সম্পর্কে তুমি কী জান ?


২০। উহা চিহ্নিত আমলনামা।


 


ভালো লোক কখনোই মরে না।


-ক্যালিমাচাস।


 


 


 


পরনিন্দাকারী বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে না।


 


 


ফটো গ্যালারি
করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৫,১২,৪৯৬ ৮,২৪,৩৫,৪৮২
সুস্থ ৪,৫৬,০৭০ ৫,৮৪,৪৩,৫১৫
মৃত্যু ৭,৫৩১ ১৭,৯৯,২৯৪
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৩৩৫১৯
পুরোন সংখ্যা