চাঁদপুর, শনিবার ১৬ জানুয়ারি ২০২১, ২ মাঘ ১৪২৭, ২ জমাদিউস সানি ১৪৪২
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
নীলাঞ্জনার স্বপ্নগুলো
রহিমা আক্তার মৌ
১৬ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


এর আগে কখনও রায়হান আমাদের বাসায় আসেনি। কেউ দেখেনি এই পর্যন্ত ওকে। নামটাও জানে না কেউ। তবে এটুকু জানে আজকাল আমি কারো সাথে ঘুরে বেড়াই। কখনও ধানমন্ডির লেক ধরে কখনও বসুন্ধরা শপিংমলের সিনেপ্লেক্সে আবার কখনও টিএসসি কিংবা বাংলা একাডেমিতে। বাবা-মায়ের আত্মবিশ্বাস আছে যা করবো ভেবে চিন্তে করবো। নিশ্চয়ই ভুল কিছু করবো না। এইতো সেদিন বাবা ডেকে বললো, 'নীলা মা ভুল করতে করতে মানুষ শিখে। তুমিও শিখেছ অনেক, যা করবে ভেবে করবে। মনে রেখো, সব ভুল ক্ষমা করা যায় না। কিছু ভুল থাকে যাকে সারা জীবন বয়ে বেড়াতে হয়।'



 



না এখন আর আমি তেমন ভুল করবো না বাবা। তুমি আর এই বয়সে আমাকে নিয়ে টেনশন করো না।



 



জানি বাবা-মায়ের মন মানতে চায় না। তার উপর বিবাহ উপযুক্ত মেয়ে ঘরে থাকলে তাদের ঘুম হয় না। আর সেই বিবাহযুক্ত মেয়েটি যদি প্রতি রাতে চোখের জলে বালিশ ভেজায় তাহলে তো বাবা-মায়ের ঘুম হারাম। রায়হানকে নিয়ে এমনটা ভাবাটাই হবে আমার ভুল। ওকে চিনতে একটুও ভুল হয়নি আমার।



 



আমার চোখের কাজলে অাঁকা নীল স্বপ্নগুলো কখন যে রায়হানের চোখে সাজিয়ে দিয়েছি তা এখন আর মনে পড়ে না। তবে যখন একাকিভাবে জানালা কিংবা বারান্দার মাঝে দাঁড়িয়ে আকাশ দেখি তখন নীল আকাশ মনে করে দেয় আমার নীল স্বপ্নগুলোর কথা। কখন যে মনের অজান্তে রায়হানকে কথাটা বলেছি। এখন আর ও দেশের বাইরে যাবার কথা বলে না। মরুভূমির মাঝে যখন কোন ছায়া ছিল না সে সময় আকাশে মেঘ জমা হলে পথিকের মনে যে প্রশান্তি আসে সেই দিন আমারও তাই হয়েছে।



 



রায়হান নিজেই কল করেছিলো। মাত্র ৩ দিনের পরিচয়, কথা প্রসঙ্গে রায়হান বলছে, 'চেষ্টা করছি দেশের বাইরে যাওয়ার জন্য। আশা করি হয়ে যাবে।' কি যে বোকার মতো ওর মুখে কথাটা শুনে বলেছি, 'যাওয়ার কথা আগে থেকে বলার কোন প্রয়োজন নেই। যেদিন প্লেনে উঠবেন, উঠে একটা কল দিয়ে জানিয়ে দিলেই হবে।' রায়হান আমার মুখে এমন কথা শুনে অনেকটাই অবাক হয়েছে। সামান্য তিন দিনের পরিচিত কাউকে কেউ কি এইভাবে বলতে পারে। অবশ্য সেদিন কিছু ভেবে কথাটা বলিনি। এটা বললে ভুল হবে নিশ্চয়ই। তিন দিনের পরিচয় হলেও ওকে এরই মাঝে বিশ্বাস করতে ইচ্ছা হলো। সেই বিশ্বাস থেকেই হয়তো আপন মনে করে বলেছি। আজও কথাটা মনে হলে খুব হাসি পায়। এই পর্যন্ত প্রায় ৪/৫ বার রায়হান আমায় জিজ্ঞেস করেছে, 'নীলাঞ্জনা সেদিন তুমি কেন আমাকে বলছ, আগ থেকে বিদেশ যাবার কথা তোমায় না বলতে।' কখনও ওকে সঠিক কথাটা বলতে পারিনি। তাই বলে যে কথাটা এড়িয়ে গেছি তাও না। কেন জানি ওকে বুঝিয়ে উত্তরটা দিতে পারি না। প্রায় প্রতি মাসে রায়হান আমায় বলে।



 



'নীলাঞ্জনা আমি কি পারবো তোমার নীল স্বপ্নগুলোকে বাস্তবে রূপ দিতে। বা তোমার মনের মতো করে সাজিয়ে দিতে।' ওর কথাগুলো শুনে আমি হেসে কুল পাই না। এমন প্রশ্ন করা হয়তো ওর জন্যে ঠিক আছে কিন্তু আমি তো ওর কাছে এমন কিছুই চাইনি। ভাবনা আসে তার মানে রায়হান আমাকে নিয়ে আর আমার নীল স্বপ্নগুলো নিয়ে ভাবে। ভালোবাসার সুপুরুষ তার প্রেমিকার চোখের কাজলে অাঁকা নীলস্বপ্ন নিয়ে ভাবছে এর চেয়ে বড় কি হতে পারে। এর চেয়ে ভাগ্যবতী কে হতে পারে। সেইবার ওর জন্মদিনেও আমাকে প্রশ্নটা করেছে। উত্তরে বলেছি_'রায়হান আমি তো তোমার কাছে টাকা-পয়সা সোনা-গহনা দালান-কোঠা ব্যাংক ব্যালেন্স কিছুই চাইনি, শুধু চেয়েছি ৭০ ফুট বাই ৯০ ফুট একটা সাজানো ঘর। ঘরটির চার পাশে থাকবে সবুজ ঘাস। মাথার উপরের অর্ধেক হবে টিনের চাল আর বাকিটা হবে ছাদ। ছাদে উঠার জন্যে ছোট একটা সিঁড়ি। আমি তো জানি এতো বড় ঘরের মাঝে অনেকগুলো পিলার থাকবে। দেয়ালের অর্ধেক থাকবে ইটের আর বাকিটা থাইগ্লাস দেয়া। সেই ঘরে আমি আর তুমি ছাড়া কেউ ঢুকতে পারবে না। ঘরের একটা কোণায় থাকবে তোমার পড়ার সবকিছু আর অন্য কোণায় আমার। এই ঘরে কোন আসবাবপত্র যেমন খাট, আলমিরা সোফা কিছুই থাকবে না। একটা জায়গায় মাদুর বিছিয়ে কয়েকটা কুশন রাখবো। ওই কুশনে বসে আমরা গল্প করবো। খাওয়ার জন্য আমাদের কোন চেয়ার-টেবিল থাকবে না। ওখানে থাকবে কাঠের তৈরি ছোট বসার পিঁড়ি। আমাদের ঘুমানোর জন্য থাকবে ফ্লোর বেড, আমাদের বাসনপত্রগুলো হবে মাটির তৈরি। তবে আমাদের তো বন্ধু-বান্ধব থাকতেই পারে, ওরা তো আসবে দেখা করতে। এই ঘরটার পাশে ছোট একটি ঘর থাকবে সেখানে উঠবে অতিথিরা। যখন শীতের সময় হবে তুমি আমি হাত ধরে শিশিরের মাঝে হেঁটে বেড়াবো। গোধূলী বেলায় কবিতার বই হাতে ছাদে উঠবো। সূর্যের শেষ কিরণ দিয়ে আলপনার ছবি অাঁকবো। তুমি তো জানো আমি চা পছন্দ করি না। তাই বলে তোমাকে দিবো না তাতো হবে না। আমি কবিতা আবৃত্তি করবো, তুমি চা হাতে আনমনে শুনবে আর হারিয়ে যাবে স্বপ্ন রাজত্বে।



 



রায়হানকে এই কথাগুলো বলার আগেই ও বলেছে, নীলা আমরা কয়েক বন্ধু মিলে একটা জমি কিনেছি কেরানীগঞ্জে। ওখানে আমি তিনটা ফ্ল্যাট পাবো একটা তোমার নামে থাকবে। তুমি নিজের করে সাজাবে। আমি ওর কথা শুনে সেদিন কিছুই বলিনি। শহরের এই বড় বড় দালান-কোঠা আর আমার ভালো লাগে না। নিজের মতো করে একটা ঘর চাই যে ঘরে থাকবে ভালোবাসার পরশ, যে ঘরে থাকবে বিশ্বাস আর মর্যাদা। মর্যাদাহীন সমাজে বাস করতে করতে যেনো হাঁপিয়ে উঠেছি। আমার স্বপ্ন বাসরের কথা শোনার পর আর কখনও সে কেরানীগঞ্জের জমির কথা বলেনি। ওর বাবার অনেক জমি আছে। সেখানে একটা জমি আছে অনেক লম্বা। রায়হান বলেছে, সেই জমিতেও আমার জন্যে ঘর তুলবে।



 



এই পর্যন্ত কতবার যে একা একা সেই স্বপ্নগুলো নিয়ে ভেবেছি তা নিজেও জানি না। রায়হান ছাড়াও আরও একজন জানে স্বপ্নগুলোর কথা। যে স্বপ্ন হলো প্রদীপ। ও আমায় স্বপ্ন বিলাসী, কল্পনা বিলাসী বলে ডাকে। আরে বাবা স্বপ্ন দেখতে তো আর পয়সা লাগে না। শুধু মন লাগে। আর এমন একজন সঙ্গী লাগে যার চোখে নিজের চোখের কাজলে অাঁকা নীল স্বপ্ন সাজানো যায়। প্রায় সময় আমরা বাইরে গেলে বাসায় জানিয়ে যেতাম। তাই কেউ টেনশন করতো না। বছর ৩ হলো রায়হান আসতে একটু দেরি করছে। ওকে আসতে বললেও আসতে চায় না। বলেছি আর কত দিন, তুমি এবার বাবা-মায়ের সাথে দেখা করো, কথা বলো। ছন্নছাড়া মানুষের মতো আর ঘুরতে ভালো লাগে না। আজ না হয় কাল এমন করে সময় হয় না। আবার ওর সময় হয়তো আমার হয় না। এদিকে ওর ব্যস্ততা বেড়ে যায় বলে আমার সাথেও যোগাযোগ কিছুটা কম হচ্ছে। তার মধ্যেও চেষ্টা করতাম যোগাযোগ চালিয়ে নেবার। তবে কেউ কাউকে এড়িয়ে চলতাম না। এমনকি এড়াবার প্রশ্নই ওঠেনি। রায়হান কল করে যেতে বলে ধানমন্ডির লেকের পাড়ে। আমিও অফিস থেকে বের হয়ে সোজা ওখানে। সেদিন প্রায় ৩ ঘণ্টা ছিলাম আমরা লেকের পাড়ে। অনেক গল্প অনেক স্বপ্ন ছুড়ে দিলাম রায়হানের চোখে। কথার মাঝে হঠাৎ হঠাৎ রায়হানকে অন্যমনস্ক দেখতে পেলাম। একবার জিজ্ঞাসাও করেছি, রায়হান তোমার কি মন খারাপ বা কোনো কিছু ভাবছো নাকি।



 



ও কথাটা উড়িয়ে দিলো। সেদিন অনেকক্ষণ রায়হান আমার হাত ধরেছিলো। মনে হলো যেনো কিছু একটা বলতে চায়। আবার মনে হলো ও যেনো আমার কাছ থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। ওখান থেকে উঠে সেদিন আমায় নিয়ে যায় ডিনার করতে। দুজন এক সাথে রাতের খাবার খেয়ে ফিরি। রায়হান আমায় বাসা পর্যন্ত দিয়ে যায়। বাসায় আসতে বলেছি, ও বললো_আজ তো বাসা দেখা হলো আরেক দিন আসবো। বাসায় ফিরে একটা ম্যাসেজ পাঠায় 'নীলা আমি ১ সপ্তাহ ব্যস্ত থাকবো। এক সপ্তাহ পর তোমার সাথে কথা হবে। তুমি আমার জন্য দোয়া করো।' মাঝে মাঝে রায়হানের কাজের চাপ বেড়ে যায়। তখন ও নিজের জগতে থাকতে পছন্দ করে। তাই ওকে আর বিরক্ত করলাম না। এমনকি কোনো সংবাদ বা ম্যাসেজও পাঠাইনি। ওকে নিয়ে কোনো ধরনের দুশ্চিন্তা মাথায় আসেনি। ঠিক ১০ দিন পর ও কল করে। হ্যালো বলতেই বুঝেছি ওর গলা বসে গেছে। নিশ্চয়ই ঠা-া লাগিয়েছে। অবশ্য সবসময় ঠা-া থেকে ওর গলা বসে যায় না। বাইরে খুব দৌড়াদৌড়ি করলে এমন হয় বেশি। ১০ দিন পর ওর কথা শুনে যেনো হারিয়ে যাওয়া কিছু ফিরে পেলাম। অনেক আপন মনে হলো সেদিন রায়হানকে। ওর কথাগুলো শুনে মনে হলো ও যেন একটু শান্তি চায়, একটু আশ্রয় চায় আমার কাছে। দেখা করতে বলেছি। ও রাজি হয়নি। বললো, সময় হলে ঠিক দেখা করবো। দিনের বেলায় যা কথা হতো রাতেও বাসায় ফিরলে কিছুক্ষণ কথা না বলে থাকাটা দুজনের জন্যে কষ্টকর হতো। বাসায় ফিরে একটু ফ্রেস হয়ে ও ফ্লোর বেডে শুয়ে কথা বলতো। বলতো, নীলা সারাদিন পর যেনো শান্তি পাচ্ছি। কবে তুমি হবে আমার। আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিবে, ঘুম পাড়িয়ে দিবে।



 



সেদিনও রাত ১০টার পর ওকে কল করি। কিন্তু ও কল ধরেনি। পর পর পাঁচটা কল। না কিছুতেই ও কল ধরেনি। একটু টেনশন হলো। আবার নিজেকেই সান্ত্বনা দিলাম হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছে। কিন্তু সকাল বেলায় ও আমার কলগুলো দেখে আমাকে কল দেয়ার কথা তাও দিলো না। তাই ভাবনাটা একটু বেড়ে গেলো।



 



সকাল গড়িয়ে দুপুর ওর কোনো কল নেই। বাধ্য হয়ে কল করলাম। কিছু কথা হলো রাতের কলের বিষয়ে কিছুই বললাম না। রায়হানও কিছু বলেনি। এভাবে একটি মাস পার হলো। ও কখনও রাতে আমার কল ধরেনি। ইচ্ছা করেই কিছু জিজ্ঞাসও করিনি। এক বিকেলে ও নিজেই কল করে বলে, নীলা এখন কথা বলবো না রাতে কল দিও। সেইভাবে রাতে কল দেয়া। প্রায় দুই ঘণ্টা কথা হলো। মনে হলো ওর আর আমার নীল স্বপ্নগুলো দূরত্ব সৃষ্টি হচ্ছে। স্বপ্নগুলো মলিন হয়ে ধূসর হচ্ছে। কিন্তু কোনো কারণ খুঁজে পেলাম না। বাসায় আসার কথা বললে এড়িয়ে যায়। কেমন জানি পালিয়ে পালিয়ে বেড়ায়। খুব রাগ হলো। ওকে কল করে একটু মেজাজ দিয়ে কথা বলি, ও বললো, তুমি পোকা খাওয়া একটা ফল, তোমার সাথে এতো কিসের সম্পর্ক। কিসের আবার স্বপ্ন। ভেবেছি ভুলটা আমারই। এতোটা মেজাজ দেখানো ঠিক হয়নি। খুব স্বাভাবিক থেকে ১০ দিন পর দেখা করি। এই দেড় মাসে অনেক বদলে গেছে আমার রায়হান। তবে কি এই বদলে যাওয়ার পেছনে বিরাট কিছু জড়িত। কেনো সেদিন রায়হান আমায় পোকা খাওয়া ফল বললো। আমার সামনে ওর কল আসে। মোবাইল ধরে খুব সট করে কথা বললো। খুব দ্রুত চলে গেলো। আমাকে বাসায় পেঁৗছে দেবার প্রয়োজনও মনে করলো না রায়হান। বাসায় এসে রুমের দরজা বন্ধ করে অনেক কেঁদেছি, কেনো এমন হয়। কেনো বার বার আমার কাছ থেকে ভালোবাসা পালিয়ে বেড়ায়। আমি তো কাউকে কোনোদিন ঠকাইনি। তবে কেনো এমন হয়। যাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখি সেই আমার স্বপ্নের ঘর ভেঙে চুরমার করে দেয়। সারারাত কান্নার কারণে সকালে অফিস যেতে পারিনি। ইচ্ছে করে কল করিনি রায়হানকে। পুরো দিন গেলো রায়হান আমার খোঁজ করেনি। এইভাবে পুরো ৭ দিন। ভাবতে পারিনি রায়হানকে ছেড়ে ৭ দিন থাকতে পারবো। কিন্তু হৃদয়ে জমে থাকা ভালোবাসা যেনো উথলে পড়লো। ওকে কল করে পেলাম না। কয়েকবার কল করার পর যাই ধরলো, বললো, আমি ব্যস্ত আছি। আমার বুঝতে বাকি রইলো না যে ওর এখন বাস্তবতা বলতেও কিছু আছে। ওর কিছু কথায় প্রকাশ পেলো ও নতুন বাসর সাজিয়েছে। ওর ঘরে বিবাহিত স্ত্রী আছে। আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। অনেকটা দোটানার মাঝে দিন যাচ্ছে।



 



আমার জন্মদিনে ও এসেছে দেখা করতে। সেদিন নিজ মুখে স্বীকার করেছে যে, ১০ দিনের কাজের কথা বলে আমার কাছ থেকে দূরে সরেছিলো, তখন সে বিয়ে করেছে। এই কারণে রাতে কল ধরে না। আজ আর ওর কথাটা অবিশ্বাস হলো না। বাসার সবাই জানে, আজ নিশ্চয়ই আমি ওর সাথে দেখা করতে গিয়েছি। মায়ের ফোন_হ্যালো নীলা, আজকের দিনে ওকে বাসায় নিয়ে আয়। ওর সাথে কথা বলি।



 



মাকে কোনো জবাব দিতে পারিনি। মা রায়হানের সাথে কথা বলতে চেয়েছিলো আমি ইচ্ছা করে দিইনি। বাসায় ফিরে এসে সবার সাথে স্বাভাবিক থাকি। রায়হানকে জানিয়ে দিই, এখন থেকে সপ্তায় একটা সাক্ষাৎ দিবো। এক মাসে একটা কল দিবো আর বছরে একবার দেখা করবো। শুনে ও কিছুই বলেনি। নিজের ডায়রিতে কিছু কথা লিখে ঘুমিয়ে পড়ি। ঘুম খুব আরামের ঘুম।



 



রায়হান বাসায় আসে। ড্রয়িং রুমে সোফার উপর বসে থাকে। শাহিনা এসে বলে, 'আপা আপনার খোঁজে কেউ এসেছে।' আমি ওয়াশরুমে তখন। ড্রয়িংরুমে খুব কথা শোনা যাচ্ছে। বাসার সবাই বুঝতে পারে ও রায়হান, যার সাথে আমার নীল স্বপ্নগুলো জড়িয়ে আছে। ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে ইচ্ছা করেই রুমে বসেছিলাম। বাবা রায়হানের সাথে কথা বলছে, 'বাবা আমি যেমন চেয়েছি তুমি ঠিক তেমনটি। সৃষ্টিকর্তা আমার মেয়েকে বোঝার মতো করে তোমায় পাঠিয়েছে। তুমিই পারবে আমার নীলাকে সুখী করতে। জানো বাবা, নীলাঞ্জনা আমার খুব লক্ষ্মী মেয়ে। ওকে সুখী করা খুব একটা কঠিন না। মেয়েটার তেমন কোনো লোভ নেই। খুব সাধারণভাবে চলতে ফিরতে পছন্দ করে।'



 



বাবার কথা শেষ না হতেই মা বলে, 'আমি সবসময় সৃষ্টিকর্তাকে বলেছি, নীলা মায়ের মনে যেনো আর কষ্ট না আসে। সৃষ্টিকর্তা আমার কথা শুনেছে। তুমি এতোদিন কেনো বাসায় আসোনি।'



 



মায়ের কথা শেষ হতেই মৌ এসে বলছে। আরে আপনি তাহলে সেই রায়হান। যার জন্যে আপু মাতাল। আপুর সব স্বপ্ন তাহলে আপনাকে নিয়ে। জানেন, আপু না আপনার জন্মদিনে দেয়ার জন্যে কত কিছু এনেছে। সবগুলো আমি প্যাকেট করেছি। আপু তুলে রেখেছে বলেছে, সময় হলেই দিবে। আচ্ছা, কবে আপনি আমার দুলাভাই হয়ে আসবেন।



 



রায়হানের আজ আসার কথা না। ওকে কিছু তথ্য সংগ্রহ করতে দিয়েছি, সেগুলো দিতেই এসেছে। দূর থেকে দেখছি ওর হাতে একটা বড় খাম। নিশ্চয়ই ওটার ভেতর আছে আমার প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো। মৌ আমাকে ডাকছে। রুম থেকে বলছি, 'আমার আসতে দেরি হবে। ওকে বলো, প্যাকেটটা রেখে যেতে।' না মৌ শুনলো না। এসে দরজায় শব্দ করে। তখন আমার ঘুম ভেঙে যায়। উঠে দেখি মা এসে দরজায় শব্দ করছে। বিছানা ছেড়ে উঠে বারান্দায় যাই। আজ রাতের দেখা স্বপ্নগুলোকে আমার নীল স্বপ্নের সাথে মিলাতে চেষ্টা করি। কিছুই মিলে না। যদি সত্যি রায়হান বাসায় আসে বাবা-মা নিশ্চয়ই ওকে এভাবে গ্রহণ করবে! কিন্তু কীভাবে বলবো, আমার চোখের কাজলে অাঁকা নীল স্বপ্নগুলো এখন রায়হানের চোখের ধূসর স্বপ্নে পরিণত হয়েছে। ভাগ্যিস রায়হান স্বপ্নে এসেছে বাস্তবে আসেনি। ভাবছি আর আকাশ দেখছি। সকালের ঠা-া হাওয়া আমার ভালো লাগে না। রায়হান বলেছিলো আকাশের দিকে তাকিয়ে আকাশকে প্রশ্ন করলে নাকি জানতে পারবো, সে আমায় কতটা ভালোবাসে। আমি প্রশ্ন করতে পারি না। পারি না নীল স্বপ্নগুলোকে আরেকটা নতুন স্বপ্নের মাঝে বন্দি করতে। থাক্ না সবাই তো স্বপ্নপূরণ করতে পারে না, সাজাতে পারে না। আমার নীল স্বপ্নগুলো না হয় এমনিতেই থাক। বাবা-মাও কখনও জানবে না আমার স্বপ্ন বিলীন হয়ে গেছে। মরীচীকার পেছনে ছুটছি আমি।



 



 



 


এই পাতার আরো খবর -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৮৯-সূরা ফাজর :


৩০ আয়াত, ১ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


১২। এবং সেথায় অশান্তি বৃদ্ধি করিয়াছিল।


১৩। অতঃপর তোমার প্রতিপালক উহাদের উপর শাস্তির কষাঘাত হানিলেন।


১৪। তোমার প্রতিপালক অবশ্যই সতর্ক দৃষ্টি রাখেন।


 


 


 


প্রকৃতি বিধাতার অমূল্য দান। _টমাস


 


 


 


 


 


যাহার একদিনের সংস্থান আছে ভিক্ষা করা তাহার জন্য নিষিদ্ধ।


 


 


 


 


ফটো গ্যালারি
করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৫,৩৮,০৬২ ১০,৬৪,২৭,১০৩
সুস্থ ৪,৮৩,৩৭২ ৭,৮০,৮৪,৯০৯
মৃত্যু ৮,২০৫ ২৩,২২,০৫৩
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৯১৩৩৯
পুরোন সংখ্যা