চাঁদপুর। সোমবার ১০ জুলাই ২০১৭। ২৬ আষাঢ় ১৪২৪। ১৫ শাওয়াল ১৪৩৮

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৮-সূরা কাসাস 


৮৮ আয়াত, ৯ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৭৯। কারূন তাহার সম্প্রদায়ের সম্মুখে উপস্থিত হইয়াছিল জাঁকজমক সহকারে। যাহারা পার্থিব জীবন কামনা করিত, তাহারা বলিল, ‘আহা, কারূনকে যেইরূপ দেওয়া হইয়াছে আমাদিগকেও যদি তাহা দেওয়া হইত! প্রকৃতই সে মহাভাগ্যবান।  


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 

প্রকৃতির প্রথম এবং প্রধান আইন  হচ্ছে মাতা-পিতাকে মান্য করা        -জাকুইল মিলার।


যখন কোন দলের ইমামতি কর, তখন তাহাদের নামাজকে সহজ কর। 


ফটো গ্যালারি
গোলাপ ও রক্তনন্দন
সৌম্য সালেক
১০ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


অসময়ে আবির্ভূত বৃষ্টিপাতের বর্ণনা করে সূচনা হয়েছে একটি গল্পের। সেই অসময়টা কোন্ মাস, বর্ষা কি শরৎ তার উল্লেখ নেই_ 'যখন উত্তর থেকে নতুন প্রেমের মতো গা-শির-শির করা মিষ্টি বাতাস বয় কি বয় না তা বোঝাও যায় না; যখন লোকেরা খুব ফূর্তির মেজাজে থাকে আর বলাবলি করে সংসারে বেঁচে থাকাটা কিছু মন্দ নয়; আর ছেলেমেয়েরা কাচের জিনিসপত্তর ভাঙ্গলেও যখন মায়েরা কিছু বলে না; যখন হাট বসতে থাকে বিকেলের অনেক আগে থেকেই আর ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে অনেক রাত্তির হয়ে যায়।' আসলে এমন একটা সময় হয়ত অঋতুসম্ভব; এমন একটা মাস অমৌসুম। এ রকম পটভূমি কেবল কবির দৃষ্টিতেই সচল, এর মর্ম কেবল জাদুর আঙ্গুলেই ক্রিয়াশীল। চলুন জাদুর প্রারম্ভে সেই মেঘপাতের কীর্তন শুনি_ 'ডিস্ট্রিক্ট বোর্ডের রাস্তার উপর সবে আধখানা হাট বসেছিল, সবে গিনি্নরা পয়সা বার করে দিচ্ছিল কর্তাদের হাতে, সবে তেলেভাজাওলা তার উনুন জ্বালিয়েছিল, এমন সময় বৃষ্টি। সে বৃষ্টিতে দু'হাত দূরেও কিছু দেখা গেল না। ডাকাত পড়ার মতো একটি শোরগোল পড়ে গেল...আলু পটল কুমড়োর বড় বড় ঝাঁকগুলো পথের ওপারেই ভিজতে লাগল। একটা খেয়া এপারে এসেছিল বৃষ্টি মাথায় করে কিন্তু আর ফিরে যেতে পারল না। ক্যাশবাক্স গামছা দিয়ে ঢেকে ভিজতে লাগল ঘটিয়াল। যাকে তাকে খামোখা গালাগাল দিতে লাগল সে। ওপারে ধু-ধু পাড়ের উপর কয়েকজন হাটুরে হতভম্ব হয়ে কোথায় পালাবে বুঝতে না পেরে যে যেদিকে পারল দৌড়ল। সে বৃষ্টি আর থামল না।' এই না থামা অকস্মাৎ আগত অমৌসুম বৃষ্টিপাত যেন জাদুময়। ১৯২০-এর দশকে জাদুবাস্তবতার ব্যবহার দৃশ্যমান হয়ে উঠে চিত্রশিল্পে, যদিও 'আরব্য রজনী'র আখ্যানগুলো জাদুবাস্তবতার অনন্য স্মারক। আধুনিক মানুষের সামনে, আধুনিক জীবনের সাথে সম্পর্কিত করে জাদুবাস্তবতাকে জনপ্রিয় করেন গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ।



তবে অবাক অনালোকিত সত্য হচ্ছে মার্কেজের প্রধান গ্রন্থ 'এক শতাব্দীর নির্জনতা' ১৯৬৫ সালে প্রকাশের দু'বছর আগেই ১৯৬৩ সালে ঢাকার মাইরেন্ডার রেস্তোরাঁয় বসে সৈয়দ শামসুল হক লিখে ফেললেন 'রক্তগোলাপ' শিরোনামের জাদুবাস্তবতার বিরল এক উপন্যাসিকা। বাক্যের সৌন্দর্য ও শব্দচয়নে, গল্পবর্ণনা ও পর্যায়ক্রম নির্মাণে, কথকতা ও অদ্ভুত আবহ সৃজনে 'রক্তগোলাপ' সৈয়দ হকের এক অভিনব গদ্যশিল্প। উপন্যাসিকার চরিত্রের নামকরণের মধ্যেও যেন জাদুর ছোঁয়া পাওয়া যায়_ পটকা, চালকুমড়ো, সামাদ, জহির, খাড়ানাক ও বোঁচানাক। গল্পের কেন্দ্রীয় অবস্থানে আছেন অধ্যাপক নাজিম পাশা, যিনি জাদু দলটির প্রধান, তাঁর মেয়ে চম্পা এবং আঙ্গুলে রক্তগোলাপ ফোটায় আল্লারাখা, যার বদলে দেয়া নাম ফেরদৌসি। আমরা আল্লারাখা নামের আরো একটি চরিত্রের সন্ধান পাই কাজী নজরুল ইসলামের 'জিনের বাদশা' শিরোনামের গল্পে। সে গল্পটিতে চান ভানুকে পাবার জন্যে জিনের বাদশা সেজে আল্লারাখা নানা রকম ভৌতিক কসরত দেখায় লোকের মনে ভয় ধরানোর মাধ্যম হিসেবে; কিন্তু ঘটনা ফাঁস হয়ে গেলে সব চেষ্টাই এক সময় বৃথা হয়ে যায়। চান ভানুর বিয়ে হয়ে গেলে দেখা যায় আল্লারাখার সে বাবরি চুল নেই, পরনে একখানা গামছা, হাতে পাঁচনী, কাঁধে লাঙ্গল। আল্লারাখার সব উত্তেজনা, উদ্দীপনার বিনাশ ঘটে। শেষবার চান ভানু এসে তাকে জিজ্ঞেস করে 'কে তোমারে এমনডা করল?' আল্লারাখা শান্ত হাসি হেসে বলে উঠে, 'জিনের বাদশা'। নজরুলের আল্লারাখা চরিত্রটি আসলে একজন প্রেমিকের, যে কিনা প্রেমিকার ওষ্ঠছোঁয়া নিতে বুকের রক্ত ঝরায়; জাদুময় বা ভৌতিক কীর্তিকলাপ এখানে গৌণ এবং কৃত্রিমভাবে এসেছে। সৈয়দ হকের 'রক্তগোলাপ' গল্পের নায়ক আল্লারাখাও একজন প্রেমিক, সে প্রেমিকার গুচ্ছ কেশের ভাঁজ থেকে গোলাপ তুলে আনে। সে ভাবে 'এক্ষুণি সে অবাক করে দিতে পারে চম্পাকে, যদি চম্পার ঐ চুলের চাঁদ সে একটুখানি স্পর্শ করতে পারে।' সত্যিই সে রক্তের মতো টকটকে লাল, তাজা, যেন এইমাত্র বাগান থেকে তুলে আনা হয়েছে এমন গোলাপে রাঙ্গিয়ে তুলে পুরো হল, সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়ে দশদিকে। এখানে কবির বর্ণনা একটু শোনা যাক- 'আল্লারাখা চম্পার কপালের উপর লুটিয়ে পড়া আধখানা চাঁদের মতো চুলের গুচ্ছ স্পর্শ করল_ আরেকটা গোলাপ বেরিয়ে এলো সেখান থেকে। হাততালি দিয়ে উঠল জনতা। এবারে আরো প্রবল। চমকে উঠল চম্পা। একি? তার সারা শরীর এক নিমিষে গোলাপের সুবাসে ভরে উঠেছে। বিস্ময় নিয়ে সে বিস্ফোরিত চোখে তাকিয়ে রইল আল্লারাখার দিকে।' বাস্তব ভূমি, ভিত্তি-ব্যবস্থার বাইরে কবির ও শিল্পীর আরেক চিত্রলোক, নন্দনলোক রয়েছে যেখানে তিনি স্বাধীন এবং তাঁর চেতনার মতোই স্বতন্ত্র। তবে সার্থকতা সেখানেই কেবল আসে, যেখানে কবির বা শিল্পীর বর্ণনা, নির্মাণ বা সৃজন বাস্তবতাকে ছাড়িয়ে পরাবাস্তবতায় উন্নীত হয়; সাধারণ সত্যের বাইরে শিল্পসত্য যেখানে জান্তব হয়ে উঠে। 'রক্তগোলাপ' উপন্যাসিকায় তেমনই এক অধিবাস্তবতার সম্মুখীন হই আমরা; বিস্ময়ে বাকরুদ্ধ হলেও সেখানে সম্মোহন কিংবা মুগ্ধতা ভিন্ন অনুসন্ধানের প্রশ্ন জাগে না_এখানেই শিল্পসত্যের সম্পূর্ণতা।



(২)



এ গল্পে আমরা কিছু জটিল মুহূর্তের সম্মুখীন হবো। যা 'পারফিউম হিস্ট্রি অব এ মার্ডারার' চলচ্চিত্রটির কথা মনে করিয়ে দেয়। সেখানে দেখা যায়, যাকে হত্যার জন্য অসংখ্য জনতা এবং রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ সমবেত হয়েছে, সেই খুনির



 



গন্ধমদিরাই কিনা এক পর্যায়ে সবাইকে মাতাল-কামুক করে তুলছে। 'রক্তগোলাপ' গল্পের ঈর্ষাকাতরপুরুষ জহিরও এক পর্যায়ে জনতার আক্রোশ উপেক্ষা করতে না পেরে ফেরদৌসির হাত চেপে ধরে, 'গোলাপের খেলাটা শুরু করো। এরা মানছে না।' গল্পে জাদুদলের প্রধান নাজিম পাশাকে তার কিছু গুণ থাকা সত্ত্বেও অদ্ভুত মনে হয়, তিনি রোজ কারণে-অকারণে কাঁদেন কিন্তু শব্দহীন, অশ্রুহীন সেই কান্না। রক্তগোলাপের কাহিনীর দিকে তাকালে দেখা যায়, 'একটা মানুষ গাছের মতো দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভিজছে অন্ধকারে। নড়ছে না, শব্দ করছে না। বৃষ্টি আর অন্ধকারে ভাল করে ঠাওর হচ্ছে না সত্যি সত্যি মানুষ না আর কিছু'_ এই বর্ণনার মধ্য দিয়ে আমরা আল্লারাখার সাক্ষাৎ পাই। নামের বৃত্তান্ত ছাড়া এই মানুষটির আর কোন পরিচয় পাওয়া যায় না। 'শ্যাম বর্ণ লম্বাটে মুখের মধ্যে সবকিছু হারানো খোয়ানোর স্থির একটা ছবি যেন। যেন লোকটা সারাক্ষণ কী ভাবছে তার কোন সমাধান হচ্ছে না, তাই ভারী অন্যমনস্ক।' দলের একমাত্র মেয়ে চম্পাকে দেখে তার মনে ধরে, ওর চুলের চাঁদ স্পর্শ করে সে গোলাপ তুলতে চায়। জহিরের ব্যাপক আপত্তি সত্ত্বেও রক্তগোলাপের জাদু দেখিয়ে সে দলে স্থান পায়। অল্প দিনের মধ্যেই রক্তগোলাপের সুনাম ছড়িয়ে পড়ে চারদিক। দলের আর্থিক সঙ্গতি বৃদ্ধির সাথে সাথে আল্লারাখা নাজিম পাশার প্রিয়ভাজন হয়ে উঠে। সে গোলাপ ছড়িয়ে দেয় জনতার মধ্যে_একশ, দুইশ, তিনশ এভাবে ৭৮৬টি। কিন্তু লোকেরা বাড়ি ফিরতে ফিরতে এই সংখ্যাটাকে ১০,০০০ পর্যন্ত তোলে। ৭৮৬ সংখ্যাটি নিয়ে দু'কথা বলতে হয়।



ঘটনাকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার জন্যে লেখকরা অনেক সময় কিছু প্রচলিত তথ্য, ঠিকানা বা বর্ণনার সত্যতা বজায় রাখেন, এতে কাহিনীর গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে এবং পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়। 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম'-এর স্থলে অনেক ক্ষেত্রে ৭৮৬-এর ব্যবহার প্রচলিত আছে। এটি বিসমিল্লাহের অক্ষরগুলোর সংখ্যামানের সমষ্টি। বিসমিল্লার স্থলে ৭৮৬ ব্যবহারের বা উচ্চারণের কোনো ধর্মীয় সম্পর্ক নেই, এটি কেবলই একটি প্রচলিত ধারণা। আল্লারাখার প্রতি চম্পার



অনুরাগ জহিরের মনে ঈর্ষার আগুন জ্বালিয়ে দেয়। এর মধ্যেই এক ভোরবেলা বোঁচানাক দেখতে পায় 'ফেরদৌসির বুকে মাথা রেখে ঘুমিয়ে আছে চম্পা'। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফেরদৌসিকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। সে হতাশায় অভিমানে এক ভগ্ন কিনারে গিয়ে ঠাঁই নেয়। একটি বিড়াল তার কাছে আসলে, সে ওকে গোলাপ উপহার দেয়। বিড়ালটা এটা দেখে ভড়কে যায়। এক পর্যায়ে তার মধ্যে রক্তগোলাপের কামনা আবার জেগে উঠে_'আরেকটা গোলাপ বের করল সে ভিতরে ফাটল থেকে। আরেকটা বের করল। তখন যেন নেশায় পেয়ে বসল তাকে। একে একে সাতশ' ছিয়াশিটা গোলাপ কখন সে বের করল, এখানে ওখানে স্পর্শ করে আর তাদের পাপড়ি ছিঁড়ল। পায়ের কাছে পাহাড় হয়ে উঠলো রক্তগোলাপের ছেঁড়া পাপড়িতে'। রক্তগোলাপের খেলা দেখতে আজো প্রচুর লোকের সমাগম ঘটেছে, সবাই চিৎকার করছে, কখন আরম্ভ হবে খেলা কিন্তু আজতো সেই জাদুকর ফেরদৌসি নেই। চিৎকার চেঁচামেচি আরম্ভ হয়ে গেলো, ইট-কাঠ উড়ে আসছে মঞ্চের দিকে; ঠিক এমন সময়ে মঞ্চের এক পাশে এসে দাঁড়িয়েছে ক্লান্ত, বিধ্বস্ত ফেরদৌসি, যদিও ইতোমধ্যে তার একদিনের জন্য সর্বোচ্চ সংখ্যক ৭৮৬টি গোলাপ বের করা সম্পন্ন করেছে। জহির এসে তার হাত চেপে ধরলে সে মঞ্চে এগিয়ে যায়। আজ আবার সে গোলাপ বের করতে আরম্ভ করেছে, টকটকে লাল, তাজা গোলাপ। মুহুর্মুহু করতালিতে ফেটে পড়ছে চারদিক, লোকেরা যে যার মতো গোলাপ নিয়ে বাড়ি ফিরে গেলো। চম্পা জানতেও পারল না সাতশ' ছিয়াশিটা গোলাপ ফুরিয়ে গেলেও ফেরদৌসি আজ আবার গোলাপ তুলতে পেরেছে। খেলা শেষ হয়ে গেলে দেখা গেল, 'নিজের রক্তের স্রোতে মুখ থুবড়ে পড়ে রইল রক্তগোলাপের জাদুকর ফেরদৌসির প্রাণহীন দেহ'। এখানে সৈয়দ হক দেখিয়েছেন সক্ষমতা কিংবা সৃজন প্রচেষ্টারও একটা সীমা রয়েছে, যাকে লঙ্ঘন করা মারাত্মক। দর্শকের আকাঙ্ক্ষাকে সামনে নিয়ে সে তার বিক্ষিপ্ত মনকে একাগ্র করে গোলাপ ফলিয়েছে ঠিকই, কিন্তু গোলাপের রক্তনন্দনে সে কুমার পড়ে থাকলো অসাড়, প্রাণহীন।



ঘটনা চিত্রণের পাশাপাশি গ্রন্থটিতে সৈয়দ হক ভাষা নির্মাণেও চমৎকার পারঙ্গমতা দেখিয়েছেন। পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা আমরা তাঁর বঁঢ়যড়হু (শ্রুতিমধুরতা) ব্যবহারের ক্রীড়া-কসরত দেখে মুগ্ধ হবো_'পশলার পর পশলা গোলাপের বৃষ্টি হচ্ছে। ফোয়ারা থেকে শীকরের মতো উৎক্ষিপ্ত হচ্ছে গোলাপ, গাঢ় থেকে গাঢ়তর হচ্ছে সুগন্ধ। ভারী হয়ে আসছে বাতাস। এক আশ্চর্য জাদুর সন্ধান পেয়ে লোকের কণ্ঠে মুহুর্মুহু ধ্বনিত হচ্ছে অভিনন্দন।' সৈয়দ শামসুল হক তাঁর উপন্যাসিকার প্রারম্ভে লিখেছেন, 'কবির রক্তেই শুধু গোলাপের সম্ভাবনা।' 'রক্তগোলাপ'-এর মর্ম সন্ধান তাঁর এটুকু বক্তব্যের মধ্যেই গভীর সংশ্লিষ্টতায় যুক্ত আছে।



কবির দৃষ্টি এবং লেখনিই সুন্দরকে সুন্দর বলে সাব্যস্ত করেছে। আদিকালে যে পিয়াসু প্রথম ফুলকে দেখে চমৎকৃত হয়ে সুন্দর বলে উঠলো সেও একজন কবি। পৃথিবীতে সুন্দরের সংজ্ঞায়ন করেছে কবি; কবির উপস্থাপনাই যুগ যুগান্তরব্যাপী মানুষের মধ্যে চারিত হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে দিকে দিকে। আমরা রবীন্দ্রনাথের কাব্যে এর দারুণ দৃষ্টান্ত খুঁজে পাই_ 'আমারি চেতনার রঙে পান্না হলো সবুজ/ চুনি উঠলো রাঙা হয়ে/ ফুলের দিকে তাকিয়ে বললাম সুন্দর/ সুন্দর হলো সে।'



স্বাভাবিক সত্য, তথ্য, বস্তু কিংবা বিধান-ব্যবস্থা যেখানে নিষ্ক্রিয়,



কবি সেখানে সক্রিয়; বিরূপ ও বিমর্ষ মুহূর্তে কবিই কেবল স্বপ্নলোকের গান শোনাতে শোনাতে ঘুম পাড়াতে জানে। গল্প-বর্ণনা, চরিত্র নির্মাণ, জাদুবাস্তবতা এবং প্রেমিকের সৃজন-বীক্ষণে সৈয়দ শামসুল হকের 'রক্তগোলাপ' বাংলা সাহিত্যের এক অনুপম সংযোজন; যেখানে গোলাপ ও রক্তমহিমার পটভূমি থেকে অগণ্য সম্ভাবনার শাঁস দেখা যায়।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
২৬০৯২৪
পুরোন সংখ্যা