চাঁদপুর। সোমবার ৬ নভেম্বর ২০১৭। ২২ কার্তিক ১৪২৪। ১৬ সফর ১৪৩৯

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • ---------
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩১-সূরা লোকমান


৩৪ আয়াত, ৪ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


২১। তাদেরকে যখন বলা হয়, আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, তোমারা তার অনুসরণ কর, তখন তারা বলে, বরং আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে যে বিষয়ের উপর পেয়েছি, তারই অনুসরণ করব। শয়তান যদি তাহাদেরকে জাহান্নামের শাস্তির  দিকে দাওয়াত দেয়, তবুও কি?


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


একজন মানুষ দরিদ্র হলেও ভালোবাসতে এবং প্রার্থনা করতে পারে।


                               -জন লিভাগর্ট।

সদর দরজা দিয়ে যে বেহেস্তে যেতে চায় সে তার পিতা-মাতাকে সন্তুষ্ট করুক।


কবি পীযূষ কান্তি বড়ুয়ার গুচ্ছ কবিতা
০৬ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


হেমন্ত-পুরাণ



 



মাড় দেওয়া কড়কড়ে রোদে আকাশের উজালা নীল



তারে টানা দিনকে শুকিয়ে আসন্ন শীতের প্রস্তুতি নেয়



সাদা মেঘের ন্যাপথালিন ভাঁজ করা দিনের খাপে খাপে



নিরাপদ রাখে পতঙ্গ সংক্রমণের আশঙ্কা হতে।



ভোরের ঘাস শিশিরের নূপুর পায়ে



কমলা রোদের হ্যাজাক টানা জলসায়



নেচে নেচে ক্লান্ত হয়ে উবে যায় অহনায়



নূতন সোনার খনিতে বাতাস হয়ে উঠে লহনা



মাড়াইয়ের ময়দানে মন্থিত হয় পার্বণী গীতের সুর



দিন ছোট হয়ে আসে, রাতের মাতৃত্বে গুঁজে থাকে মুখ



রোমাঞ্চিত হয়ে উঠে হিম মাটির পরশ পেয়ে



আড়চোখে ঘরের দাওয়ায় বসে হেসে উঠে হেমন্ত।



 



নান্দনিক



 



জোড় বেঁধে জলচর মীন



অনাবিল জলকেলি করতে করতে



ধাবমান জাহাজের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠে।



কচুরিপানার বিচ্যুত দ্বীপ



জাহাজ ও জোড়া মীনের মধ্যে তৈরি করে মধ্যস্থতা।



মেঘ চিরে রূপসী রোদ



জলে ডুবে নেয়ে নেয় দিনের ফুরসতে



রোদে আর মীনে খুনসুটি বেড়ে চলে ক্রমশ



চেয়ে থাকে আকাশ মাতাল দৃষ্টিতে



নদী তখন নারী হয়ে উঠে মাতোয়ারা স্রোতের কাছে।



 



বিশ্বস্মৃতি



 



কবিতাটি কেউ শোনেনি আগে



সেই বিকেলে এসেছিলো যারাই অনুরাগে



কবি ছিলেন কণ্ঠে আগুন জ্বেলে



তর্জনী তাঁর উঠলো ঢেউয়ে হেলে।



ঊনিশ মিনিট কেটে গেলো মুগ্ধ শ্রবণকাল



রেসকোর্সের সে উদ্যানে স্রোতের টাল-মাটাল



কবিতাটি বিশ্বস্মৃতির ধন



এক কবিতায় পরাধীনতার শেকল অপনোদন।



সাত মার্চের সেই কবিতার তিনিই মহাকবি



তাঁর ভাষণে আগাম দিনের সমৃদ্ধির ছবি।



সেই কবিতা একটি বাংলাদেশ



ইউনেস্কোর বিশ্বস্মৃতির চির জাগরুক রেশ।



 



সে আসে হেমন্তে



 



শরৎ নয় তার দেখা মেলে হেমন্তেই



সদর দরজার ঢুকতেই ডানে



সে ঘাপটি মেরে থাকে মায়ের বুকে



তার অন্য বোনেরা শরতেই দাপিয়ে বেড়ায়



শক্তির আবির্ভাবে কাশের শুভ্রতা গায়ে মেখে।



সে যে কেন হেমন্তেই ভূমিষ্ঠ হয় তা দুর্জ্ঞেয়



তবে ফাগুন-চৈত্রেও তার গন্ধে বাতাস সুখী হয়



ভোরে যখন ঘুমে আর রোদে দ্বন্দ্ব শুরু



সে তখন বিছায় চাদর মায়াবী আদরে



সাদার সাথে কমলার আদিখ্যেতা যে এতো মধুর



তা তাকে দেখেই শেখা।



মাঝে মাঝে নিচতলার বৌদিরা তার মাকে



ঝাঁকিয়ে যায় কোমর ধরে



মায়ের কোলে লুকিয়ে থাকা সে লুটিয়ে ধূলোয়



চলে আসে বিশ্ব জননীর পদচ্ছায়ে।



কখনো কখনো সনদ-তীর্থগামী যুগল দেবশিশু



কুড়িয়ে ভরিয়ে তোলে করপুট



পাঠিয়ে দেয় বিদ্যা-জননীর মমতার ডালায়



কিংবা আপন জননীর মারফতে সিদ্ধার্থ গৌতমের



ধ্যানমগ্ন অনুশীলনে পৌঁছে যায় হেমন্তের আগন্তুক।



শরৎ তার জন্মঋতু হলেও



শিউলি ভবনে সে আসে হেমন্তে



অসুরবিনাশিনীর দেখা না পেলেও



হেমন্তে তার মাঝে শরৎকে মেলে।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৩২৯৭২
পুরোন সংখ্যা