চাঁদপুর। সোমবার ২৫ ডিসেম্বর ২০১৭। ১১ পৌষ ১৪২৪। ০৬ রবিউস সানি ১৪৩৯
kzai
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  •  ||  শাহরাস্তি থানার উপ সহকারী পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম (৩৫) শুক্রবার সকালে দায়িত্ব পালনকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। ||   ||   ||  শাহরাস্তি থানার উপ সহকারী পরিদর্শক রকিকুল ইসলাম (৩৫) শুক্রবার সকালে দায়িত্ব পালনকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ||   || -------------------- || ------- || শাহরাস্তি থানার উপ সহকারী পরিদর্শক রাকিকুল হাসান (৩৫) শুক্রবার সকালে দায়িত্ব পালনকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। ||   ||   ||  ||  শাহরাস্তি থানার উপ সহকারী পরিদর্শক রকিবুল ইসলাম (৩৫) শুক্রবার সকালে দায়িত্ব পালকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। ||   ||   || শাহরাস্তি থানার উপ সহকারী পরিদর্শক রাকিবুল হাসান (৩৫) শুক্রবার সকালে দায়িত্ব পালকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৩-সূরা আহ্যাব

৭৩ আয়াত, ৯ রুকু, মাদানী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৩৯। তাহারা আল্লাহর বাণী প্রচার করিত এবং তাঁহাকে ভয় করিত, আর আল্লাহকে ব্যতীত অন্য কাহাকেও ভয় করিত না। হিসাব গ্রহণে আল্লাহই যথেষ্ট।

৪০। মুহাম্মাদ তোমাদের মধ্যে কোন পুরুষের পিতা নহে ; বরং সে আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী। আল্লাহ্ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


assets/data_files/web

অভিজ্ঞতা হচ্ছে সুন্দর ও মজবুত দালান তৈরির উপকরণের মতো।

-ম্যানিলিয়াস।


কবর এবং গোসলখানা ব্যতীত সমগ্র দুনিয়াই নামাজের স্থান।


ফটো গ্যালারি
বাংলা ছড়ার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পালাবদলের ধারা
পীযূষ কান্তি বড়ুয়া
২৫ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

সৃজনশীলতা মানুষের আজন্ম চেতনা। শিল্প মানুষের আমৃত্যু কাঙ্ক্ষিত। এই দুইয়ের মিলিত নান্দনিক ধারায় জন্ম হয়েছে বাংলা ছড়ার। মানুষের মূক মুখে ভাষার যেদিন প্রথম সূচনা সেদিন হতেই ছড়ার সাহচর্য মানুষকে পেয়ে বসেছিল? এ'কথা বিনা তথ্য প্রমাণেই বলা সহজ। আনুমানিক সপ্তম শতকে জন্ম নেয়া বাংলা ভাষার মধ্য দিয়েই বাংলা ছড়ার সূচনা হয়েছে এ'কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়। ভুসুক পা যেদিন চর্যায় বললেন, 'ভুসুক তুই আজ বাঙালি ভইলি', সেদিন থেকেই বাঙালি জাতিসত্তার এক দূরদর্শী উন্মেষ সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়। চর্যাপদে কাহ্নপা রচিত প্রথম চর্যাটি বাংলা ছড়ার একটি সার্থক প্রাথমিক পর্যায় বলে সবারই স্বীকৃতি পেয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় চর্যাপদের সন্ধ্যাভাষা অতিক্রম করে আজকের ডিজিটাল সংস্কৃতিতে এসে বাংলা ছড়া ক্রমাগত নিজেকে যুগোপযোগী করে নিয়েছে এবং নিচ্ছে। ভবিষ্যতেও ছড়া তার যুগকে ধারণ করবে এ'কথা হলফ করে বলা যায়।

বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ ও মধ্যযুগে লোকমুখে প্রচারিত ছড়াগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিলো অমনোযোগে। আধুনিক যুগে এসে এগুলোর প্রতি মনোযোগ আকৃষ্ট হয়। ছড়াকার ও প্রকাশক যোগীন্দ্রনাথ সরকার সর্বপ্রথম এই লোকজ ছড়াগুলোকে সংগ্রহ করে বইয়ের দুই মলাটে বন্দী করেন। ১৮৯৯ সালে তাঁর এই মহৎ কর্মের ভূমিকায় কীর্তিমান সাহিত্যিক রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী সর্বপ্রথম ছড়াকে বাংলা সাহিত্যের মূল ধারা হিসেবে উল্লেখ করেন। রবীন্দ্রনাথের হাতে এসেও ছড়া অনেক বেশি আদৃত হয়। তিনিই ছড়ার জগৎকে মেঘের রাজ্যের সাথে তুলনা করেন। মেঘদলের যেমন কোনো নিয়ম নেই? কোথা হতে কোথা যায়? কোন্ সুদূরে ? তেমনি বাংলা ছড়াও নির্দিষ্ট কোনো নিয়মের বাইরে। ছড়ার যে ছন্দ তারও স্বরূপ বের করতে রবীন্দ্রনাথ ছিলেন অগ্রণী এবং তাঁর হাতেই স্বরবৃত্ত ছন্দ 'ছড়ার ছন্দ' বলে প্রতিষ্ঠা পায়। তিনিই নির্ধারণ করেন ছড়ার ছন্দে অর্থাৎ প্রতিটি ছড়ায় পর্বগুলো হয় সর্বোচ্চ চারমাত্রার এবং কেবল চারমাত্রারই। প্রতিটি ছড়ার ছন্দ সর্বোচ্চ তিনটি পূর্ণ পর্ব নিয়ে গঠিত, যাদের প্রতিটিই চারমাত্রিক। এতে একটি অপূর্ণ পর্ব থাকতেও পারে আবার না-ও থাকতে পারে।

ছড়ার কলেবর নীতিদীর্ঘ এবং ছড়ায় শব্দ অপেক্ষা সুরের প্রাধান্য বেশি। ছড়া তাই সুরে সুরে মাথা দুলিয়ে পড়ার যোগ্য। স্বরবৃত্তের লয় দ্রুত বলে ছড়াও অপেক্ষাকৃত দ্রুত পাঠ করতে হয়। ছড়া অবশ্যই অন্তঃমিল সমৃদ্ধ এবং প্রতি পর্বের আদ্যধ্বনি শ্বাস ঘাতপ্রধান। ছড়া গবেষক ও প্রাবন্ধিক ড. আশুতোষ ভট্টাচার্য 'লোকসাহিত্য' গ্রন্থে বাংলা ছড়াকে তিনভাগে বিভক্ত করে দেখিয়েছেন। যথা- (ক) লৌকিক ছড়া, (খ) সাহিত্যিক ছড়া এবং (গ) আধুনিক ছড়া। লৌকিক ছড়াগুলোর রচয়িতার নাম জ্ঞাত হওয়া যায়নি এবং পল্লী অঞ্চলের লোকজ উপাদান হতেই এই ছড়ার জন্ম যা গ্রামাঞ্চলে লোকের মুখে মুখে প্রচারিত। সাহিত্যিক ছড়াগুলোর রচয়িতার নাম সম্পর্কে জ্ঞাত হওয়া যায়। আধুনিক ছড়াগুলো বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের সূচনার পর থেকেই বিরচিত। অতীতের ছড়ায় খনার বচন, পল্লী শ্লোক, ধাঁধা, হেয়ালি ইত্যাদি মিশে আছে ওৎপ্রোত হয়ে। ননসেন্স রাইম, ঘুমপাড়ানি ছড়া, শিশুতোষ ছড়া ইত্যাদি বিষয়ই ছিলো অতীতের ছড়ার প্রধান উপজীব্য।

স্বরবৃত্ত ছন্দে ছড়া ও কবিতার মাঝামাঝি এক ধরনের সৃষ্টিকর্ম রয়েছে যাদের ছড়া বললে ভুল হয় এবং কবিতা বললে অবিচার হয়। ছড়াকার ও সাহিত্যিক অন্নদাশংকর রায় এই ধরনের সৃষ্টিকে বলেছেন 'পদ্য' এবং শিশু সাহিত্যিক খালেক বিন জয়েনউদ্দিন এই ধরনের সৃষ্টিকে বলেছেন ছড়া-কবিতা। অর্থাৎ তারা ছড়া এবং কবিতা? এ দুটোরই ঘ্রাণ বহন করে।

বাংলা ছড়ার বর্তমান ধারা :

পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নির্মাণশৈলীর দিক থেকে বাংলা ছড়া অতীত থেকে বেশ এগিয়ে গেছে বর্তমানে? এ'কথা খুব জোর দিয়ে বলা যায় না। ননসেন্স রাইমের স্বপ্নদ্রষ্টা 'পাগলা দাশু' কিংবা 'হ-য-ব-র-ল'-এর জনক সুকুমার রায় এবং রবীন্দ্রনাথের পর তেমন কেউ বাংলা ছড়া নিয়ে কার্যত নূতন কিছু সৃষ্টি করতে পারেননি।

আজকের যুগে বাংলা ছড়া নিয়ে যে পরিবর্তনের প্রয়াস লক্ষ্যণীয় তাতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য-

ক. বিষয় বৈচিত্র্য

খ. ছড়া বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন

গ. অন্তঃমিল তৈরির প্রকৌশল

ঘ. ছড়ার চরণবিন্যাস ও নবআঙ্গিক

ঙ. ছড়ায় মাত্রাবৃত্ত ছন্দ প্রয়োগের প্রয়াস

চ. মুক্তক ছড়ার প্রয়াস

ছ. বাংলা ছড়ায় কতিপয় বিদেশী চর্চা (হাইকু, লিমেরিক, লতিফা ইত্যাদি)

অতীতের ছড়া হতে বর্তমান ছড়ার যে বড় উত্তরণ তাতে ছড়ার বিষয় বৈচিত্র্য এক বড় স্থান দখল করে আছে। ছড়া এখন কেবল শিশুদের বিষয় নয়, ছড়া এখন কেবল ঘুমপাড়ানি বা আবোলতাবোল নয়। আজকের ছড়া অনেক পরিণত, অনেক শক্ত কণ্ঠস্বরের অধিকারী।

অন্নদাশংকর রায়ের ছড়াতে আমরা পাই?

তেলের শিশি ভাঙ্গলো বলে

খুকুর 'পরে রাগ করো

তোমরা যারা ধেড়ে খোকা

ভারত ভেঙ্গে ভাগ করো

তার বেলা?

ছড়া যখন রাজনীতির কথা বলে তখন তা আর শিশুতোষ বিষয় হয়ে স্তিমিত থাকে না। হয়ে যায় বড়দের বিষয়। ছড়ায় মুক্তিযুদ্ধ এসেছে অনেকভাবে। অনেক ছড়াকারের হাতেই ছড়ায় মুক্তিযুদ্ধ ফুটেছে ছোটদের জন্যে যেমন, তেমনি বড়দের জন্যেও। মুক্তিযুদ্ধোত্তর বাংলা ছড়ায় বিষয় বৈচিত্র্যে যিনি অনন্য তিনি ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া। 'মুক্তিসেনা' নিয়ে তিনি লিখেছেন?

ধন্য সবাই ধন্য

অস্ত্র ধরে যুদ্ধ করে

মাতৃভূমির জন্য।

........................

দেশের তরে ঝাঁপিয়ে পড়ে

শক্ত হাত ঘায়েল করে

সব হানাদার সৈন্য

ধন্য ওরাই ধন্য।

তেমনি মধ্যবিত্ত বাঙালির সামাজিক জীবনে লৌকিকতার বিড়ম্বনার কথাও ফুটিয়ে তুলেছেন ছড়াকাররা-

অসময়ে মেহমান

ঘরে ঢুকে বসে যান

বোঝালাম ঝামেলার

যতগুলো দিক আছে

তিনি হেসে বললেন

ঠিক আছে ঠিক আছে।

(সুকুমার বড়ুয়া)

আজকালকার বাজারে মামা-চাচার জোর ছাড়া চাকরি পাওয়া অসম্ভব। এই কথা ছড়াকাররা তুলে ধরেছেন। ছড়ায় ছড়ায় আজ প্রতিবাদ হয়ে উঠেছে সচেতন এক হাতিয়ার। সুন্দরবন রক্ষা কিংবা আগুনে মানুষ পোড়ানো কিংবা উগ্র মৌলবাদের বিরুদ্ধে আজ ছড়া অন্যতম শক্ত হাতিয়ার। আজকের ছড়ায় কেবল কোমল দিকগুলোই লিখা হয় না, সাথে সাথে সামাজিক অসঙ্গতি, পরিবেশ রক্ষা, প্রযুক্তির উন্নয়ন, ক্রীড়া, সমকালীনতা প্রভৃতি বিষয়ও এতে ফুটে উঠেছে। ছড়াতে প্রেম আছে, প্রিয়ের নিবেদন আছে, আছে ধর্ম-দর্শন। তাই বলা যায়? বিষয় বৈচিত্র্যে আজকের ছড়াই ব্যাপক ও বিস্তৃত।

ছড়া বিষয়ে অতীতের দৃষ্টিভঙ্গিরও পরিবর্তন হয়েছে আজকাল। আজকের ছড়া আর সুর করে পড়ে না বরং আবৃত্তি করে পাঠ করে। ছড়ায় কঠিন বিষয়কে প্রতিষ্ঠা দেয়া হয়েছে বর্তমানে।

অতীতের অধিকাংশ ছড়াতে অন্তঃমিল থাকতো এক সিলেবল বা এক ধ্বনির। আজকাল ছড়াতে একাধিক সিলেবলের অন্তঃমিল লক্ষ্যণীয়। এমনকি মধ্যমিলও বিস্তর। এতে ছড়া পাঠের ব্যঞ্জনা বৃদ্ধি পেয়েছে।

চরণবিন্যাস ও আঙ্গিকের দিক থেকে আজকাল ছড়াতে বিবিধ পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেখা যায়। পশ্চিমবঙ্গের ছড়াকার সতীশ বিশ্বাস ছয় চরণের 'ছড়াক্কা' প্রবর্তনের চেষ্টা করছেন। ছড়াকার অনন্য আমিনুল ত্রিমিল ছড়ার প্রয়াসে নিমগ্ন আছেন। যত্রতত্র সেলফি তোলা নিয়ে আজকাল হুলস্থূল কা-। আইসিইউ-তে রোগী দেখতে সেলফি, ধর্ম সম্পাদনে সেলফি। সেলফির এই রোগকে ছড়াকারে আমরা পাই?

এ রোগ গেছে বড্ড বেড়ে কমার উপায় নাই

সেলফি রোগের নাম শোন ভাই

হলে কারও রক্ষা নাই।

সব জায়গাতে তা তোলা চাই

হাসপাতাল আর মক্কা নাই

আজব রোগের চিকিৎসা কী, জানতে আমি চাই।

('সেলফি'? প্রিন্স মাহমুদ হাসান)

প্রথাবদ্ধ মিল থেকে ছড়াকে মুক্তি দিতে আমীরুল ইসলাম লিখেছেন?

নদীর জলে ছলাৎ ছলাৎ নৌকা ভাসে

পদ্ম হাসে। নৃত্যরত জলের খেয়ায় জীবন নাচে

চাঁদ ডেকে যায়। সূর্য ডাকে।

নক্ষত্রের পাড়ায় পাড়ায়

ছন্দ হারায়। ভাবতে ভাবতে আমরা যাব

ধানশালিকের দেশে।

প্রবাসী ছড়াকার সালেম সুলেরী সহ অনেকেই আজকাল ছড়ায় মাত্রাবৃত্ত ছন্দের প্রয়োগ নিয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি অনেকে বাংলায় হাইকু, লতিফা, লিমেরিক লিখে ছড়াকে ভিন্ন আঙ্গিক দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন অবিরল। সপ্তপদী ছড়া নিয়ে ছড়া গবেষক সতীশ বিশ্বাস লিখেছেন?

চারদিকে শাসনের কড়াকড়ি।

এটা ওটা কোরো না;

সেটা হাতে ধোরো না;

স্কুলে, ঘরে, না-এর ছড়াছড়ি।

তাই ছোট প্রণেতার

হাত-পা জড়সড়।

সুখ নেই মনে তার।

ছড়া আজ মাত্রার বাঁধন হতে মুক্তি নিয়ে মুক্তক ছড়া হওয়ার প্রয়াসে লিপ্ত। যেমন?

ছড়ার কথা শোনো

আজ যা ছড়া কালকে তার মিল হবে না কোনো

এই কথা কি জানো?

ছড়ায় নাকি গাইতে পারে সুরের ছড়া গানও।

(প্রাবন্ধিক)

বর্তমান সময়ে 'ছড়া' নিয়ে ব্যাপক নিরীক্ষা চলছে। ছড়ার আঙ্গিক, ছন্দ, বিষয়, কলেবর ইত্যাদি সবকিছু নিয়েই ছড়াকে যুগোপযোগী করে তোলার প্রতি ছড়াকাররা নিবেদিত আছেন নিরন্তর। আধুনিক ছড়া এখনও তার পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করেনি। নিরীক্ষার সফলতা যেদিন আসবে সেদিন বর্তমানের ছড়া হবে এক ঋদ্ধিময় জগৎ, কী বড় কী ছোট সবার জন্যে।

বাংলা ছড়ার ভবিষ্যৎ পালাবদল :

আজকের শিশুদের শৈশব লুপ্ত প্রায়। যন্ত্রের মহিমায় তারা গড়ে উঠছে যন্ত্রমানব হয়ে। তাই মানবীয়তার স্থলে তাদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তির যান্ত্রিক মনন। ছড়া নয় গেম্সের অ্যাপস্, অতি কাল্পনিক স্বাভাবিক জীবন বিচ্ছিন্ন কার্টুন এবং জিপিএ নির্ভর প্রতিযোগিতা সর্বস্ব শিক্ষাব্যবস্থায় ছড়া ও শৈশব আজ শিশুদের জীবন হতে চলে যাচ্ছে ক্রমশঃ দূরে। এই অবস্থায় ভবিষ্যতে ছড়ার হাল কী হতে পারে তা খুব আগাম কোনো স্পষ্টতায় আসে না। তবুও ভবিষ্যতে বাংলা ছড়ার হাল কী হতে পারে তা' কল্পনা করা যেতে পারে। ভবিষ্যতে বাংলা ছড়া আর কাগজে-কলমে কিংবা বই-পুস্তকে লিখিত হবে না। ছড়া লিখিত হবে হাতের মোবাইলে, ট্যাবে, ল্যাপটপে। ছড়া চলে যাবে পুরোমাত্রায় অনলাইনে। ভার্চুয়াল জগৎ জুড়ে ছড়া বিচরণ করবে। এমনও হতে পারে? ছড়া 'ই-সমবায়' এর মাধ্যমে যৌথভাবে নির্মিত হতে পারে। অর্থাৎ একটি গোষ্ঠীতে অনলাইনে ছড়া পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে। গোষ্ঠীর সদস্য প্রতিজন বা জনে জনে একটু একটু করে ছড়াতে অবদান রাখবে। ফলে তা ব্যক্তি ছড়াকারের ছড়া না হয়ে গোষ্ঠী ছড়াকারের ছড়ায় পরিণত হতে পারে। এর কিছুটা নমুনা হালে দেখা যাচ্ছে। গ্রুপের অ্যাডমিন দু'লাইন ছুড়ে দিচ্ছে আর সদস্যরা তাতে লাইন জুড়ে দিচ্ছে। অর্থাৎ ছড়া কোনো একক মালিকানার শিল্প না হয়ে ছড়া ভবিষ্যতে হয়ে যেতে পারে গোষ্ঠীর সৃজন-শস্য।

এমনিতেই বর্তমান যুগ বহুলাংশে যন্ত্রনির্ভর। ভবিষ্যতের মানুষ সর্বাংশে যন্ত্রনির্ভর হবে বলা যায়। তাতে প্রতিটি শব্দ জন্ম নেবে যন্ত্রের স্পর্শে। নিসর্গ হারিয়ে গিয়ে ভবিষ্যৎ পৃথিবীতে যান্ত্রিক সৌন্দর্যে গা ভাসাবে মানুষ। সঙ্গত কারণেই ছড়ায় তখন যন্ত্রের উৎপাত বাড়বে। প্রতিটি শব্দ হবে যন্ত্রময় এবং যন্ত্রের যন্ত্রণাময়। ছড়াকার দন্ত্যস রওশন লিখেছেন

আমাদের মিনিটার

আছে কম্পিউটার

সেই পিউটারে

আমাদের মিনিটা

সুর তোলে গীটারে।

ভবিষ্যতের ছড়াকাররা দারুণ ব্যস্ত সময় কাটাবেন। আগামী পৃথিবীর বড় সঙ্কট হলো সময়। এখনই সময় বড় সঙ্কট হয়ে দাঁড়িয়েছে। চবি্বশ ঘন্টায় আজকাল মানুষ বিশ ঘন্টা-ই থাকে ব্যস্ত। কাজেই ভবিষ্যতের পৃথিবীতে বিপুল কলেবরের ছড়া অনাগ্রহী করে তুলবে ছড়াশিল্পীকে এবং ছড়া ভোক্তাকে। সেক্ষেত্রে ভবিষ্যতের ছড়া হয়তো বা আট চরণের অধিক হবে না। ছড়াকার ও ছড়া-বিজ্ঞানী সতীশ বিশ্বাস যেমন এখন ছয় লাইনের ছড়াক্কা লিখছেন, তেমনি ভবিষ্যতের ছড়াও হয়তো দুই স্তবকের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে আসবে, যা মূলত নির্মেদ, নির্জলা ছড়া হবে। যেমন :

ফেসবুকে লেকচারে

পেজটুকে এক স্যারে

বসেছেন লাইভ

সাবজেক্ট ম্যাথ

কম্প্যাক্ট প্যাথ

করেছেন সমাধান আনটিল্ ফাইভ।

(পীযূষ কান্তি বড়ুয়া)

ছড়া বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য সম্পদ। ছড়া বাংলা সাহিত্যের প্রাণ। সময়ের চাবুকে আহত হবে ঠিকই, তবে ছড়ার গায়ে নতুন মাংস আসবে। আসবে নতুন গতি। ভবিষ্যতের পৃথিবীতে ছড়া বেঁচে থাকবে প্রযুক্তির আশীর্বাদ নিয়ে, মানবীয়তা লুপ্ত করে। এতে চাঁদের বুড়ি থাকবে না, থাকবে না পাহাড়ী ঝরণা কিংবা নদীর কলধ্বনি। ছড়ার দেহে মেগা আর গিগাবাইটের কামড়ে সে হয়ে উঠবে মহাজাগতিক। সারাবিশ্বের নানা প্রান্তে যে যার অফিসে বা বাসায় বসে ছড়া পাঠের আসর হবে বড় পর্দায় ফেসবুক লাইভ কিংবা স্কাইপে-তে জলসা বসিয়ে। দূরত্ব কোনো বিষয় নয়, সময়ের ব্যবধান কোনো বিষয় নয়, ছড়া হবে আগামী দিনে সার্বজনীন ভারচুয়াল বিনোদন।

আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৫৫৩৬৩
পুরোন সংখ্যা