চাঁদপুর। সোমবার ২৫ ডিসেম্বর ২০১৭। ১১ পৌষ ১৪২৪। ০৬ রবিউস সানি ১৪৩৯
kzai
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  •  ||  শাহরাস্তি থানার উপ সহকারী পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম (৩৫) শুক্রবার সকালে দায়িত্ব পালনকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। ||   ||   ||  শাহরাস্তি থানার উপ সহকারী পরিদর্শক রকিকুল ইসলাম (৩৫) শুক্রবার সকালে দায়িত্ব পালনকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ||   || -------------------- || ------- || শাহরাস্তি থানার উপ সহকারী পরিদর্শক রাকিকুল হাসান (৩৫) শুক্রবার সকালে দায়িত্ব পালনকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। ||   ||   ||  ||  শাহরাস্তি থানার উপ সহকারী পরিদর্শক রকিবুল ইসলাম (৩৫) শুক্রবার সকালে দায়িত্ব পালকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। ||   ||   || শাহরাস্তি থানার উপ সহকারী পরিদর্শক রাকিবুল হাসান (৩৫) শুক্রবার সকালে দায়িত্ব পালকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৩-সূরা আহ্যাব

৭৩ আয়াত, ৯ রুকু, মাদানী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৩৯। তাহারা আল্লাহর বাণী প্রচার করিত এবং তাঁহাকে ভয় করিত, আর আল্লাহকে ব্যতীত অন্য কাহাকেও ভয় করিত না। হিসাব গ্রহণে আল্লাহই যথেষ্ট।

৪০। মুহাম্মাদ তোমাদের মধ্যে কোন পুরুষের পিতা নহে ; বরং সে আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী। আল্লাহ্ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


assets/data_files/web

অভিজ্ঞতা হচ্ছে সুন্দর ও মজবুত দালান তৈরির উপকরণের মতো।

-ম্যানিলিয়াস।


কবর এবং গোসলখানা ব্যতীত সমগ্র দুনিয়াই নামাজের স্থান।


ফটো গ্যালারি
ইমপ্রেশনিজম, ডাডাইজম ও সুররিয়ালিজমের ক্যানভাস
মুহাম্মদ ফরিদ হাসান
২৫ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


শিল্পের জগতে নতুন একটি ধারা তখনই সৃষ্টি হয়, যখন প্রচলিত চিন্তা, চেতনা ও উপস্থাপন থেকে সরে এসে শিল্পীরা স্বতন্ত্র একটি ঢংয়ের আলোয় নিজেদের উদ্ভাসিত করেন। এই উপস্থাপন শিল্পের দুনিয়ায় কেবল নতুনত্বই যোগ করে না, পাশাপাশি এটি শিল্পের প্রবাহকে হাজার হাজার বছর ধরে গতিশীল রাখতে সবচেয়ে অর্থবহ ভূমিকাও পালন করে। বিশ্ব চিত্রকলার যে বৈচিত্র্য, সহস্র চিন্তার বর্ণিল প্রকাশ তার উৎসমূলে খোঁজ করতে গেলে আমরা ধারা ভেঙে নতুন ধারা সৃষ্টি করার সমগ্র প্রক্রিয়াটি দেখতে পাবো। চিত্রকলার প্রতিটি ইজমই প্রথমে একজনের চিন্তার ফসল হলেও পরবর্তীতে বহুল চর্চার কারণে ওই ধারাটির একটি নিজস্ব বলয় সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন শিল্পীদের চিন্তায় ও চর্চায় মতবাদের বিকাশ ঘটে এবং সমৃদ্ধ হয়। ঊনিশ শতকের চিত্রকলায় যেসব মতবাদ গতানুগতিক চিন্তাকে ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিলো তার মধ্যে 'ইমপ্রেশনিজম' অন্যতম। শিল্পের রাজধানী প্যারিসে ১৮৭৪ সালে (১৫ এপ্রিল থেকে ১৫ মে পর্যন্ত) প্রথমবারের মতো ইমপ্রেশনিস্টদের অাঁকা নিয়ে মাসব্যাপী একটি চিত্রপ্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিলো। এ প্রদর্শনীতে উপস্থাপিত ক্লদ মোনের Impression, Sunrise ছবিটিকে ইমপ্রেশনিজম ধারার প্রারম্ভলগ্নের উল্লেখযোগ্য চিত্রকর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১৮৭৪ সালে ছবিটির প্রদর্শনী হলেও ক্লদ মোনে এটি এঁকেছিলেন ১৮৭২ সালে। মোনে তাঁর জন্মশহর ল হাভরে গিয়ে এই ছবিটি এঁকেছিলেন। `Impression, Sunrise’ ছবিটি থেকেই পরবর্তীতে `Impressionism’শব্দটি নেয়া হয়। ওই প্রদর্শনীতে ৩০ জন শিল্পী তাঁদের ২ শতাধিক কাজ প্রদর্শন করেছিলেন। ক্লদ মোনে ছাড়াও শিল্পের ইতিহাসের উজ্জ্বল এ প্রদর্শনীতে অ্যাডগার দেগা, কামিল ফিসারো, পিয়েরে অগাস্ট রেনোয়া, আলফ্রেড সিসলি প্রমুখ অংশ নেন। ইমপ্রেশনিস্ট শিল্পীরা এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রচলিত রীতি-নীতি ভেঙে দিয়েছিলেন। এ ভাঙন কেবল ছবি অাঁকায় ফর্মের পরিবর্তন কিংবা রোমান্টিসিজম, রিয়ালিজম থেকে দূরে সরে নয়, এ পরিবর্তন সামাজিকও। প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে না গিয়ে, সরকারি সহযোগিতা না নিয়ে শিল্পীরা একজন ফটোগ্রাফারের বাড়িতে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিলেন। শিল্পীর স্বাধীনতার বিষয়ে তাঁরা ছিলেন আপসহীন। যেহেতু প্রথা ভেঙে, প্রথার বাইরে গিয়ে নতুন কিছু করার চেষ্টা ছিলো শিল্পীদের, তাই স্বাভাবিকভাবে সমালোচকদের নিষ্ঠুর সমালোচনা সহ্য করতে হয়েছে ইমপ্রেশনিস্টদের। প্রথমবারের মতো আয়োজন হলেও ইমপ্রেশনিস্ট শিল্পীদের ছবি দেখতে ৪ হাজারের বেশি দর্শনার্থী প্রদর্শনীতে এসেছিলেন।



ইমপ্রেশনিস্ট শিল্পীদের চিন্তার জগতে একবার ডুব দিয়ে আসা যাক। ইমপ্রেশনিস্ট শিল্পীরা উপলব্ধি করেছিলেন সময় ও আলোর পরিবর্তনে রঙের পরিবর্তন হয়। আলোর তারতম্যের কারণে রঙ একেক সময় একেক রূপ লাভ করে। এ ধারার শিল্পীরা জীবন ও প্রকৃতির সংবেদনশীল মুহূর্তগুলোকে ক্যানভাস-বন্দী করতে আগ্রহী ছিলেন। ফলে তাঁরা চার দেয়ালের স্টুডিওকে বাদ দিয়ে বেছে নিলেন খোলা আকাশ। কেননা, স্টুডিও-এর বদ্ধ রুমে জীবন ও প্রকৃতির মুহূর্তের দৃশ্য অবলোকন করা সম্ভব নয়। যেহেতু মুহূর্তের তারতম্য, রঙের পরিবর্তনকে তুলিতে প্রকাশের ইচ্ছে রাখেন ইমপ্রেশনিস্ট শিল্পীবৃন্দ, তাই তাঁদেরকে বিপুল মনোযোগ সহকারে জীবন ও জগতের মুহূর্তের দৃশ্যকে দেখতে হতো, উপলব্ধি করতে হতো মুহূর্তের পরিবর্তনগুলোকে। আলো ও বিশুদ্ধ রঙের প্রতি বিশেষ আগ্রহ ছিলো এ ঘরানার শিল্পীদের। তাঁরা উজ্জ্বল রঙে ছোট ছোট অাঁচড়ে ছবি অাঁকতে আগ্রহী ছিলেন। ইমপ্রেশনিজম সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রখ্যাত সমালোচক বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর বলেছেন, 'ইমপ্রেশনিজম বাস্তববাদের দৃশ্যমান পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাড়িয়ে দিয়েছে। এই স্টাইলে প্রতিফলিত হয় দুই মনোভঙ্গি। প্রথমটি হচ্ছে স্থানিক রং সম্বন্ধে উৎসাহ। ...দ্বিতীয়টি হচ্ছে পরিচিত দৃশ্য কিংবা বস্তুকে অপরিচিত ধরনে কিংবা অপ্রত্যাশিত কোণ থেকে দেখার উত্তেজক মোহনীয়তা। বাস্তববাদের ক্যামেরা চোখে শিল্পীর ভূমিকা প্রকৃতির বর্ণনে পর্যবসিত।...তাঁদের ব্রত 'চোখ' হয়ে ওঠা।'



যদিও সে সময়ে এ ধারাটি নতুন ছিলো, তবু ক্লদ মোনে বলতেন, ইমপ্রেশনিজম হচ্ছে সরাসরি সংবেদন। প্রত্যেক মহান শিল্পীই কম বা বেশি ইমপ্রেশনিস্ট ছিলেন। কেননা, এটি মূলত সহজাত প্রবৃত্তির প্রশ্ন। ইমপ্রেশনিজম ধারার প্রখ্যাত শিল্পীদের মধ্যে থেকেও অ্যাডওয়ার্ড মনে আলাদা ছিলেন। তিনি বলতেন, 'প্রকৃতিতে কোনো রেখা নেই।' রেখাবিহীন কেবল রঙের মিশ্রণে তিনি চিত্রকর্ম অাঁকতেন। আবার ক্লদ মোনে ভাবতেন চিত্রকর্ম হচ্ছে 'বৈজ্ঞানিক মানসের প্রতিশ্রুতি'। অ্যাডগার দেগা মনে করতেন চিত্রের মধ্যে গতিময়তা থাকতে হবে। আবার ইমপ্রেশনিজমে তিনি শরীরী প্রতীক ব্যবহার করেছেন। শুধু অ্যাডগার দেগা কিংবা মোনে নন, ফ্রেডরিক বাজিল, কামিল পিসারো, পিয়েরে অগাস্ট রেনোয়া, আলফ্রেড সিসলি, গুস্তাভ ক্লাইলবট, মেরি ক্যাসাট, পল সেজান, বার্থ মরিসট প্রমুখ ইম্প্রেশনিস্ট শিল্পীরা প্রত্যেকেই পরস্পর থেকে আলাদা ছিলেন। রঙের ব্যবহারে, চিন্তায় ও উপস্থাপনে তাঁদের স্বাতন্ত্র্যের কারণেই ইমপ্রেশনিজম শক্তিশালী মতবাদে রূপ লাভ করে। ফলে এ ধারার চিত্রকর্মের ভান্ডার খুব দ্রুতই সমৃদ্ধ হয়েছে। অ্যাডওয়ার্ড মোনের `Luncheon on the Grass’, আলফ্রেড সিসলির দঋড়ম, `Fog, Voisins’ বার্থ মরিসট-এর `In a Park’, অ্যাডগার দেগার `The Absinthe Drinker’, ম্যারি ক্যাসার্টের `At te opera’, পিয়েরে অগাস্ট রেনোয়া `Girl with a Hoop’গুস্তাভ ক্লাইলবটের `Paris Street, Rainy Day’,, ক্লদ মোনের `Vetheuil in the Fog’, কামিল পিসারোর `The Boulevard Montmartre, Afternoon’ ইমপ্রেশনিজম ধারার উল্লেখযোগ্য চিত্রকর্ম।



আধুনিক চিত্রকলার ইতিহাসে ইমপ্রেশনিজম প্রথম শিল্প আন্দোলন হলেও এ ধারাটির কিছু সীমাবদ্ধতা ছিলো। জীবনের অতলে ঘুরে আসা ইমপ্রেশনিস্ট শিল্পীদের উদ্দেশ্য নয়। অনেক শিল্পসমালোচক মনে করেন, ইমপ্রেশনিস্ট শিল্পীরা জীবনের সুখকে এঁকেছেন। বেদনা-বিদীর্ণতা, দুঃখ ও দহন তাঁদের তুলিতে তেমনভাবে উঠে আসেনি। অনেকদিকে বিষয়ের বৈচিত্র্যও উল্লেখযোগ্য ছিলো না। কিন্তু তা সত্ত্বেও ইমপ্রেশনিজম পরবর্তীতে নতুন নতুন ধারা সৃষ্টিতে সহায়ক হয়েছিলো। বলা হয়, ইমপ্রেশনিজম হলো সকল আধুনিক চিত্রকলার উৎস। এ ধারাটির পথ ধরেই পরবর্তীতে নিউ ইমপ্রেশনিজম, পোস্ট ইমপ্রেশনিজম, ফবিজম ও কিউবিজম মতবাদের জন্ম নেয়। প্যারিসে ইমপ্রেশনিজম ধারার যে শিল্প আন্দোলন শুরু হয় পরবর্তী সময়ে সেটি দেশ ও কালের সীমানা ভেঙে ফেলে। প্রায় শতবর্ষব্যাপী এ ধারার গুরুত্বপূর্ণ শিল্পীরা ক্যানভাসে ঝড় তোলেন। চিত্রকলার এ ধারা পরবর্তীতে সাহিত্যসহ শিল্পের অন্যান্য শাখায় প্রভাব বিস্তার করতে সমর্থ হয়। যার কারণে এখনো ইমপ্রেশনিজম শিল্পীদের চর্চা ও শিল্পরসিকদের আগ্রহের বিষয়।



দুই.



শিল্পের জন্যে শিল্প এবং মানুষের জন্যে শিল্প_চিন্তা ও চেতনাগতভাবে এ দু-ধারার মধ্যে ডাডাইজমের প্রতি আগ্রহী শিল্পীবৃন্দ শেষোক্ত দলের অধিবাসী ছিলেন। ফলে এ ঘরানার শিল্পীবৃন্দ রঙ ও তুলিতে কেবল ক্যানভাসকে রাঙিয়ে তাঁদের দায়িত্ব শেষ করেননি, বরং সমকালীন ঘুণেধরা সমাজবিশ্বাসের ভিত্তিমূলে তারা একযোগে প্রবলভাবে আঘাত করেছেন এবং কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন পুঁজিবাদী সভ্যতার পরিচিত মানচিত্র। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের রূঢ় অভিজ্ঞতায় তাঁরা স্বাভাবিকভাবেই যুদ্ধবিরোধী অবস্থান নেন। পুঁজিবাদের শূন্যতা, দ্বন্দ্ব, অমানবিকতা এ শিল্পীবৃন্দের চোখে সুস্পষ্টভাবে ধরা দিয়েছিলো। এ ভাবধারার শিল্পীবৃন্দ মনে করতেন পুঁজিবাদী সভ্যতাই মানুষকে বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যে নিক্ষেপ করেছে। যার কারণে প্রচলিত রাষ্ট্রচিন্তা, সামাজিক বিকাশকে তাঁরা কোনোভাবে মানতে পারেননি। প্রবহমান স্বচ্ছ ধারণার পরিবর্তে তারা শিল্পে যোগ করেন দুর্বোধ্যতা, যা কখনো অর্থহীন, কখনো উদ্ভটতার সাথে হাতে হাত মিলিয়ে হেঁটেছে। কেবল চিত্রকলাতেই নয়, ডাডাইজম একই সাথে সাহিত্য, সঙ্গীতসহ শিল্পের অন্যান্য মাধ্যমে প্রভাববিস্তার করতে সক্ষম হয়েছিলো। এ ধারা শিল্পী-সাহিত্যিকবৃন্দ সামাজিক অভিঘাতে উজ্জীবিত হওয়ার কারণে তাঁদের জনসম্পৃক্ততা ছিলো লক্ষ্যণীয়। ফলে মিছিল, সমাবেশ, রাজনীতি, সঙ্গীত, কবিতা, চিত্রকলার যূথবদ্ধ স্পর্শে ডাডাইজম বিংশ শতাব্দীর সূচনালগ্নের শক্তিশালী আন্দোলনে রূপ নেয় এবং বৈশি্বক আবেদন লাভ করে।



'ডাডা' শব্দটির উৎপত্তি নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন এটি রোমানীয় শব্দ। রোমানীয় শিল্পী ট্রিস্টান জারা ও মার্সেল জ্যাঙ্কো প্রায়ই 'ডা'-'ডা' শব্দটি ব্যবহার করতেন। রোমানিয়া ভাষায় এর অর্থ হলো 'হ্যাঁ'। জারা ও জাঙ্কোর রোমানীয় ডা-ডা শব্দ থেকে ডাডা'র উৎপত্তি। আবার অনেকে মনে করেন, ডাডা শব্দ ফ্রেঞ্চ শব্দ। যখন কাভারেট ভলতেয়ার ক্যাফেতে উপস্থিত শিল্পীরা তাঁদের আন্দোলনের উপযুক্ত নাম খুঁজছিলেন তখন সেখানে ফরাসি-জার্মান একটি অভিধান ছিলো। সে অভিধান হাতড়েই শিল্পীদের 'উধফধ্থ শব্দটি সবার পছন্দ হয়। ফ্রেঞ্চ ভাষায় 'ডাডা' শব্দের অর্থ 'যড়ননুযড়ৎংব' বা 'খেলনা ঘোড়া'। ডাডাবাদ আন্দোলনের অাঁতুড়ঘর হিসেবে সুইজারল্যান্ডের জুরিখের নাম এখানে উল্লেখ্য। জুরিখের সাথে সাথে এর ঢেউ নিউইয়র্কে গিয়েও পেঁৗছেছিলো। ১৯১৬ সালের অক্টোবরে জুরিখের কাভারেট ভলতেয়ার ক্যাফেতে সমমনা শিল্পী, সাহিত্যিকরা আলোচনার মাধ্যমে ডাডাইজমের সূচনা ঘটান। এ আলোচনায় অংশ নেন হুগো বেল, মার্সেল জ্যাঙ্কো, হার্নস রিচটার, জঁ্য আর্প, ট্রিস্টান জারা, রিচার্ড হিউলসেনব্যাক, সোফি টিম্বার প্রমুখ। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ডাডাবাদের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রায় সকল ব্যক্তিই শিল্পের একাধিক শাখায় যুক্ত ছিলেন। ডাডাইজম এমন একটি মতবাদ, যে মতবাদটি একই সময়ে, একই সাথে চিত্রকলা ও সাহিত্যকে সমানভাবে প্রভাবিত করতে সমর্থ হয়েছিলো। ১৯১৬ সালের ১৪ জুলাই ডাডা আন্দোলনের প্রথম ইশতেহার প্রকাশিত হয়। এটি লিখেছিলেন হুগো বেল। ১৯১৮ সালে ডাডাইজমের দ্বিতীয় ইশতেহার লিখেন ট্রিস্টান জারা। অন্যদিকে ১৯২০ সালের ১ জুন বার্লিনে প্রথমবারের মতো দওহঃবৎহধঃরড়হধষ উধফধ ঋধরৎ্থ-এর আয়োজন করা হয়। এ প্রদর্শনীতে ডাডাবাদী শিল্পীদের দুশ'টি কাজ প্রদর্শিত হয়েছিলো।



ডাডাইজম শিল্পীর স্বাধীনতার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখে থাকে। তাই এ ধারার শিল্পীরা স্বাধীন মতো তাঁদের চিন্তার প্রকাশ ঘটানোর সুযোগ পেতেন। সে-সময় সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে এ আন্দোলনের অন্যতম শিল্পী মার্সেল জ্যাঙ্কো বলেছেন, 'আমরা আমাদের সংস্কৃতির ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলেছিলাম। সব কিছুই ধ্বংস হয়ে গিয়েছিলো। আমরা আবার প্রাচীন অন্ধকারের মধ্যে নিক্ষিপ্ত হয়েছিলাম।' ডাডাবাদের আরেক প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ট্রিস্টান জারার মতে, 'ডাডাইজম প্রচলিত সবকিছু নিয়ে সন্দেহ করে'। যেহেতু ডাডাইজমে বিশ্বাসী শিল্পীদের প্রচলিত ধ্যান-ধারণা, প্রচলিত ব্যবস্থার ওপর থেকে বিশ্বাস উঠে গিয়েছিলো, তাই তাঁরা শিল্পীর স্বাধীনতা উপভোগ করে প্রচলিত রীতি-নীতির শৈল্পিক বিরুদ্ধাচরণে মেতে উঠেন। হাতের কাছে যা কিছু ছিলো তাই হয়ে উঠলো তাঁদের শিল্প প্রকাশের মাধ্যম। কোনো স্বাভাবিক বিষয়কে প্রতিবাদের ছাঁচে ফেলে অস্বাভাবিক করে উপস্থাপনের কাজ ডাডাবাদী শিল্পীরা সযত্নে করে গেছেন। সে কারণেই আমরা ডাডাবাদের চিত্রকলায় খ- খ- বস্তুর উপস্থাপন ও বিক্ষিপ্ততা দেখতে পাই। ডাডাবাদী শিল্পীরা কেউ কেউ মনে করতেন, শিল্পের এই অস্বাভাবিক বিক্ষিপ্ততা তাঁদের সৃষ্টি নয়। বরং সময়ই ছিলো বিক্ষিপ্ত ও বিপর্যস্ত। জার্মান শিল্পী কার্ট স্কুইটার বলেছেন, 'ডাডা আন্দোলনে আমরা কেবল সময়কে তার নিজের 'প্রতিচ্ছবি' দেখিয়েছিলাম।' বিশিষ্ট সমালোচক ক্যারেন ক্যাডমি ডাডাইজমের শিল্পীদের বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করতে গিয়ে লিখেছেন, ডাডা মানে 'সব অর্থ' এবং একই সাথে 'কোন অর্থ' নয়। তাঁর মতে, 'প্রাত্যহিক জীবনে ব্যবহার্য জিনিসপত্রকে তাদের শিল্প-নির্মাণে ব্যবহার করে দাদাবাদীরা আধুনিকতার সাইন ও সিম্বলের সমালোচনা করেছেন এবং সবকিছু ভেঙ্গে চুরমার করেছিলেন। দাদাবাদী আর্টিস্ট কঁৎঃ ঝপযরিঃঃবৎং বলেছিলেন, যত যাই না করা হচ্ছিলো তবুও সবই ভেঙ্গে পড়ছিলো এবং ভাঙ্গা অংশ থেকে নতুন কিছু তৈরি করতে হচ্ছিলো।' যার কারণে অনেকেই ডাডাইজমকে অ্যান্টি-আর্ট, প্রতিশিল্প বলে মনে করতেন। ডাডাইজমের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা হলেন লুই আরাগঁ, হুগো বল, আন্দ্রে ব্রেটন, মার্সেল ডাচাম, জঁ্য আর্প, পল অ্যালুয়ার্দ, জন হার্টফিল্ড, ম্যান রে, জুলিয়াস ইভোলা, হানা হৌক, ফিলিপ সুপাল, মার্সেল জ্যাঙ্কো, ট্রিস্টান জারা, জর্জ গ্রোস, ওয়াল্টার সের্নার প্রমুখ।



১৯১৬ সাল থেকে শুরু হওয়া ডাডাইজমের জোয়ার ১৯২৪ সাল পর্যন্ত অক্ষুণ্ন ছিলো। পরবর্তীতে এ আন্দোলনের গতি মস্নান হয়। কিন্তু ডাডাবাদ নিঃশেষ হয়ে যায়নি। এ আন্দোলনটি সুইজারল্যান্ডে শুরু হলেও পরবর্তীতে ফ্রান্স, আমেরিকা, জার্মানি, রোমানিয়া, ব্রিটেন, বেলজিয়াম, অস্ট্রিয়াসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একটি মতবাদ নতুন আরেকটি মতবাদ উদ্ভবে সহযোগিতা করে। সময়ের আবর্তনে ডাডাইজমও পরাবাস্তববাদসহ পরবর্তী শিল্প আন্দোলনগুলোতে মিশে গিয়েছিলো। সে সময়ে ডাডা আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পী হুগো বল বলেছিলেন, 'ডাডা শিল্পের একটি নতুন প্রবণতা। এখনো পর্যন্ত এটা সম্পর্কে কেউ জানে না। কিন্তু ভবিষ্যতের জুরিখে ডাডাইজম নিয়ে মানুষ আলোচনা করবে।' ২০১৬ সালে বিশ্ববাসী ডাডাবাদের শতবর্ষ উদ্যাপন করেছে। কেবলমাত্র জুরিখেই ডাডাবাদের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে দেড় শতাধিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই উদ্যাপনই প্রমাণ করে হুগো বলের ভবিষ্যৎবাণী বৃথা যায়নি; বরং একবিংশ শতাব্দীতে এসেও শতবর্ষ পূর্বের এ আন্দোলন শিল্পরসিকদের দৃষ্টি ও মনোযোগ দাবি করছে।



তিন.



কোনো বিশেষ সামাজিক ও রাষ্ট্রিক অভিঘাতকে কেন্দ্র করে এক-একটি শিল্প আন্দোলনের উদ্ভব ঘটে। সেই বিশেষ অভিঘাতের পরিবর্তন হলে অথবা নতুন কোনো প্রেক্ষাপট সামনে চলে আসলে পূর্ববতী আন্দোলনের প্রবাহটি ক্ষীণ হয়ে উঠে। জুরিখে শুরু হওয়া ডাডাইজমের ক্ষেত্রেও তেমনটি হয়েছিলো। ১৯১৬ সাল থেকে শুরু হওয়া ডাডাইজম ১৯২৪ সালে এসে ঝিমিয়ে পড়ে। সামাজিক প্রেক্ষাপটে ডাডা আন্দোলনের গতি মস্নান হওয়ার যথেষ্ট কারণও ছিলো। তবে ডাডাইজম একেবারে নিঃশেষ হয়ে যায়নি। বরং পরবর্তীতে এ মতবাদটি প্যারিসের শুরু হওয়া সুররিয়ালিজম বা পরাবাস্তববাদ আন্দোলনের সাথে মিশে যায়। ডাডাবাদী অনেক শিল্পীই তখন সুররিয়ালিজম ধারার সাথে যুক্ত হন। সে কারণে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর যখন সুররিয়ালিজমের উদ্ভব ঘটে, তখন ডাডাইজমের বিভিন্ন চিন্তাও এই মতবাদটির মধ্য দিয়ে উপস্থাপিত হয়। বিশেষত, ডাডাবাদী শিল্পীরা যে বাস্তবতাকে অস্বীকার করে উদ্ভটতা ও যুক্তিহীনতার মধ্যে আশ্রয় নিয়েছিলেন, সুররিয়ালিজম নিঃসঙ্কোচে সেই 'বাস্তব ও যুক্তহীনতা'কে গ্রহণ করেছিলো। একই কারণে পুঁজিবাদী সভ্যতার ওপর ডাডাইজমের মতো সুররিয়ালিজম ধারার শিল্পীদের বিরূপ ধারণা ও ক্ষোভ ছিলো। কিন্তু সার্বিক বিষয় নিয়ে পৃথিবীর প্রতি তাঁরা ইতিবাচক অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছিলেন।



সুররিয়ালিজম ধারার আদি পুুরুষ ধরা হয় ফরাসি কবি গিয়োম অ্যাপোলিনিয়ারকে। তাঁর কবিতায় প্রাথমিকভাবে সুররিয়ালিজমের উপস্থাপন হয়েছিলো। তিনিই ১৯১৭ সালে দঝঁৎৎবধষরংস্থ শব্দটি পল ডিরমি'র কাছে লেখা এক পত্রে প্রথম ব্যবহার করেন। দঝঁৎৎবধষরংঃ্থ শব্দটিও তাঁর দেয়া। তাঁর দঞযব ইৎবধংঃং ড়ভ ঞরৎবংরধং্থ নাটকে অ্যাপোলিনিয়ার এ শব্দটির ব্যবহার করেন। এ নাটকটি ১৯১৭ সালে মঞ্চস্থ হলেও অ্যাপোলিনিয়ার এটি ১৯০৩ সালে লিখেছিলেন। অন্যদিকে এ মতবাদটি প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে কবি আন্দ্রে ব্রেতোঁ স্মরণযোগ্য অবদান রেখেছেন। এ ধারায় অর্থবহ অবদানের জন্যে তাঁকে 'দি পোপ অব সুররিয়ালিজম' বলা হয়। যদিও সুররিয়ালিজমের প্রথম ইশতেহার প্রকাশ করেন ইয়ান গল। এ ইশতেহারটি ১৯২৪ সালের ১ অক্টোবর প্রকাশিত হয়। এর কিছুদিন পরেই ১৫ অক্টোবর আন্দ্রে ব্রেতোঁ সুররিয়ালিজমের দ্বিতীয় ইশতেহারটি প্রকাশ করেন। তিনি ১৯৩০ সালে এ ধারার তৃতীয় ইশতেহারটিও প্রকাশ করেন। ইয়ান গল ও আন্দ্রে ব্রেতোঁ_দুজনে দু দল সুররিয়ালিস্ট শিল্পীর নেতৃত্ব দিতেন। ইয়ান গলের নেতৃত্বে ছিলেন ফ্রান্সিস পিকাবিয়া, ট্রিস্টান জারা, মার্সেল আর্লেন্ড, জোসেফ ডেলটিল, পিয়েরে অ্যালবার্ট বিরোট প্রমুখ। আন্দ্রে ব্রেতোঁর নেতৃত্বে ছিলেন লুই আরাগঁ, পল এলুয়ার্দ, রবার্ট ডেসনোস, জ্যাক বারোন, জর্জ ম্যালকিন প্রমুখ। এ দুটি দলেই ডাডাইজম আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গ ছিলেন। অবশ্য ইয়ান গল ও আন্দ্রে ব্রেতোঁ এ শিল্প আন্দোলন নিয়ে প্রকাশ্য-দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন।



সুররিয়ালিজম বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য ডাডাইজম থেকে নিলেও এ মতবাদটি 'শিল্পের উৎস ও উপকরণ' বিবেচনায় অন্যটির চেয়ে স্বতন্ত্র। সুররিয়ালিজম আন্দোলনের সামনের ভাগে ছিলেন ফরাসি কবি আন্দ্রে ব্রেতোঁ। তিনি শিল্প রচনায় 'অবচেতন মনের ওপর গুরুত্ব' দেয়ার জন্যে শিল্পীদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি মনে করেন, 'অবচেতন মন হতে পারে কল্পনার অশেষ উৎস।' তিনি অবচেতন মনের ধারণাটি নিঃসন্দেহে সিগমুন্ড ফ্রয়েডের কাছ থেকে পেয়েছিলেন। ডাডাবাদী শিল্পীরা শিল্পের উৎস ও উপকরণ আহরণে 'অবচেতন' মনের ধারণার ওপর সচেতন ছিলেন না। সুররিয়ালিস্ট শিল্পীরা এসে অবচেতন মনের উৎস থেকে শিল্প রচনার প্রতি গুরুত্ব দেন এবং সফলতাও লাভ করেন। আন্দ্রে ব্রেতোঁ মনে করতেন, 'যা বিস্ময়কর, তা সবসময়ই সুন্দর'। অবচেতন মনের গহীনেই বিস্ময়কর সুন্দরের বসবাস। তার সন্ধান করাই হতে পারে শিল্পীর যথার্থ কাজ। অবচেতন মনের কারণেই সুররিয়ালিজমের শিল্পীরা গভীর আত্মঅনুসন্ধানে নামেন। মনের গহীন থেকে স্বপ্নময় দৃশ্যগুলো হাতড়ে বের করতে এবং মনের অন্তর্গত সত্য উন্মোচনে তাঁরা আগ্রহী ছিলেন। যার কারণে চেতন ও অবচেতনের মধ্যে শিল্পীরা বন্ধন স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। সুররিয়ালিস্ট শিল্পীরা অবচেতন মনের সেই সব উপলব্ধিকে দৃশ্যে রূপ দিলেন, যা পূর্বে কেউ কখনো করেনি। অবচেতনের ভূমিতে দাঁড়িয়ে বাস্তব উপস্থাপনের কারণে খুব দ্রুতই এ মতবাদটি বিশ্ব শিল্পকলায় 'অভিনবত্ব' যোগ করতে সমর্থ হয়।



সুররিয়ালিজমকে 'নির্দিষ্ট' ছকে ফেলা কঠিন। সুররিয়ালিস্ট শিল্পীরা একই ছাতার নিচে থেকে ছবি অাঁকলেও তাঁদের দৃষ্টি ও উপলব্ধির মধ্যে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। ফলে এ মতবাদটি সম্পর্কে একেকজন একেক রকম করে ভেবেছেন। সালভাদর দালি মনে করতেন, 'সুররিয়ালিজম একটি ধ্বংসাত্মক বিষয় এবং এটি কেবল তা-ই ধ্বংস করে যা দৃষ্টিকে সীমাবদ্ধ রাখে।' অন্যদিকে জন লেলন বলেছেন, 'সুররিয়ালিজম আমার কাছে বিশেষ প্রভাব নিয়ে উপস্থিত হয়েছিলো। কেননা, আমি উপলব্ধি করেছিলাম আমার কল্পনা উন্মাদনা নয়। বরং সুররিয়ালিজমই আমার বাস্তবতা।' ব্রেতোঁ বলতেন, 'ভাবনার যথাযথ পদ্ধতি অনুধাবনের জন্যে সুররিয়ালিজম আবশ্যক'। এ ধারায় স্বপ্ন ও বাস্তবতার মিশ্রণ হয় বলে সুররিয়ালিজমকে স্বপ্নবাস্তবতাও বলা হয়ে থাকে।



সুররিয়ালিজমের ঢেউ খুব অল্প সময়েই শিল্পের সবক'টি শাখায় অাঁচড়ে পড়ে। কবিতা, গান থেকে শুরু করে নাটক, সিনেমা পর্যন্ত সুররিয়ালিস্টদের চেতনাকে আচ্ছন্ন করে রাখে। ১৯২৪ সাল থেকে ১৯৩০ সাল পর্যন্ত সুররিয়ালিজম ধারায় অন্তত ৬টি সিনেমা নির্মিত হয়। এ ধারার প্রধান শিল্পীরা হলেন জ্যাঁ আর্প, ম্যাঙ্ আর্নেস্ট, আন্দ্রে মেসন, সালভাদর দালি, রেনে ম্যাগরেট, পিয়েরো রয়, জোয়ান মিরো, পল ডেলভাঙ্, ফ্রিদা কাহলো প্রমুখ। এ ধারার চিত্রকর্মের মধ্যে ১৯৩১ সালে অাঁকা সালভাদর দালির 'দ্য পারসিসটেন্স অব মেমোরি' সবচেয়ে আলোচিত ছবি। এটি কেবল এ ধারার মধ্যেই আলোচিত চিত্রকর্মই নয়, এটি দালিরও অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রতিভার নিদর্শন। 'দ্য পারসিসটেন্স অব মেমোরি'-তে দালি 'সময়ের' বিচিত্র অবস্থাকে ফ্রেমবন্দী করতে চেষ্টা করেছেন। 'মেটামরফসিস অব নার্সিসাস', 'নভিলিটি অব টাইম', 'প্রোফাইল অব টাইম'ও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ কাজ। সুররিয়ালিজম ধারার প্রধানতম চিত্রকর্মের মধ্যে রেনে ম্যাগরেট-এর 'দ্য সন অব ম্যান', 'দিস ইজ নট এ পাইপ', জর্জিও দি চিরিকো-এর 'দ্য রেড টাওয়ার', 'ম্যাঙ্ আর্নেস্ট-এর 'দি এলিফ্যান্ট সিলিবেস', ণাবং ঞধহমুঁ-এর 'রিপ্লাই টু রেড' ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হলে সুররিয়ালিজম আন্দোলন থেমে যায়। শিল্পবোদ্ধারা মনে করেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষের মধ্য দিয়ে এ আন্দোলনটির অনানুষ্ঠানিক মৃত্যু ঘটে। কিন্তু অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শিল্প আন্দোলনের মতো সুররিয়ালিজমের চর্চা বর্তমানেও হচ্ছে। বাংলাদেশের শিল্পাঙ্গনেও সুররিয়ালিজমের সুস্পষ্ট প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৫৫০৮০
পুরোন সংখ্যা