চাঁদপুর। সোমবার ১২ মার্চ ২০১৮। ২৮ ফাল্গুন ১৪২৪। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৬-সূরা ইয়াসিন

৮৩ আয়াত, ৫ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৩১। তারা কি প্রত্যক্ষ করে না, তাদের পূর্বে আমি কত সম্প্রদায়কে ধ্বংস করেছি যে, তারা তাদের মধ্যে আর ফিরে আসবে না।

৩২। ওদের সবাইকে সমবেত অবস্থায় আমার দরবারে উপস্থিত হতেই হবে।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


সঙ্গ দোষেই মানুষ খারাপ হয়।        


-প্রবাদ।


মানুষ যে সমস্ত পাপ করে আল্লাহতায়ালা তার কতকগুলি মাফ করে থাকেন, কিন্তু যে ব্যক্তি মাতা-পিতার অবাধ্যতাপূর্ণ আচরণ করে, তার পাপ ক্ষমা করেন না।


ফটো গ্যালারি
রাব্বী আহমেদের কবিতা
১২ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


থার্মকাপল



 



খুলে দাও যদি বুকের বন্ধ ঝাঁপি,



উত্তাপে তার কতোটুকু প্রেম মাপি।



দুয়ার বন্ধ আকাশের রঙ কালো,



মেঘের মিছিলে দৃশ্যেরা জমকালো।



 



মোম আগুনে পুড়ে যায় জলধারা,



দেয়ালে ঝুলছে সময়ের বাটখারা।



মুহূর্তগুলো ভাঙা কাচ খানখান,



চুমুকে চুমুকে অাঁধার করেছি পান।



এই যে শরীর, শরীরের শেষে কী?



যেখানে জ্বলছে সহস্র জোনাকি।



আলোকিত ওই পল্লীর নাম মন,



তাই ছোঁব বলে,



জীবনের এই অনাড়ম্বর আয়োজন।



 



 



জর্জেট অভিমান



 



সমস্ত নদী সমুদ্রে মিশে গেলে,



ভাটিয়ালি পাবে নৌকা হারানো গান।



ক্লান্ত হৃদয়, হৃদয়কে খুঁজে পেলে



বাতাসে ভাসবে জর্জেট-অভিমান।



 



সভ্যতা জুড়ে শেষ হলে ক্রন্দন,



পলাতক প্রেম আবারও ফিরবে ঘর।



অপেক্ষার চোখ খুঁজবে হারানো মুখ,



পৃথিবী তখনও রোগে-শোকে ভঙ্গুর।



 



সকল গৃহ ফিরিয়ে দেবার পর,



ফিরে আসি যদি নেবে কি আমার ভার?



প্রস্তর প্রেমে মাথা নত করে দিয়ে,



বাঁধবো দু'জন নুন-পান্তার ঘর।



 



থাকুক অভাব-দারিদ্র্য-অনটন



ক্ষুধা ও ক্লান্তি, হারানো দিনের গান।



দুঃখ আহিত জীবনের পথে পথে



প্রবাহিত হোক প্রেমের আদান।



 



 



এম্রায়োলজি



 



কোথাও যাওয়ার নেই, তাই যাই না।



বাজারে রবিশস্য উঠে, বিবাহিত জীবন



ডিমের দরদাম করেই কাটিয়ে দেয়



সুরভিত সময়।



 



শহরে জোনাকি নেই,



মরিচবাতির আলোয়, প্রিয় প্রেম



তুমি আর কতো বাসর সাজাবে?



 



বাজারের ফর্দে ফুটে আছে বিভিন্ন চাহিদা।



পিঁয়াজ, নতুন আলু, এলাচ, লবণ, ডাল,



মরিচ আর নরডেট টুয়েন্টি এইট।



 



অনিষিক্ত ভ্রূণের প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে বলি,



'না জন্মালেই বরং বাঁচা যায়।'



 



 



আড়াল



 



কেউ কি জানে বুকের কোথায় ক্ষত?



বিকেল ক্যানো রাতের সমুখে নত।



ক্লান্ত পাখিরা যেখানে জিরোয় ডানা,



সেখানে স্মৃতিরা গড়ে তোলে আস্তানা।



 



অবাধ্য রাত অাঁধারের কাছে ঋণী,



অলক্ষ্যে প্রেম মরে যায় প্রতিদিনই।



আমরাও মুছি পুরনো প্রেমের দাগ



সযত্নে তুলে রাখি আহত অনুরাগ।



 



 



বিশ্রাম



 



তোমার নিকটে গেলেই, যে ফুলের ঘ্রাণ পাই



তার কোনো ডাকনাম নেই?



অথচ, আমার বাগানে কতো ফুল



ফোটে রোজ প্রভাতে, তাতে জল ঢেলে দেই।



 



স্মৃতির কি ঘ্রাণ থাকে?



সময় যেভাবে যায় সেভাবে তুমিও,



ফুলের গন্ধের মতো বুকের বাগানে



আগাছা সরিয়ে পাশে, ঘুমিও।



 



 



প্রাচীন



 



যে কোন ঝড়েই তুলোর মত উড়ে,



তুমি কি আসবে হৃদয় অন্তঃপুরে?



বহু শতাব্দী প্রাচীন হৃদয়



হয়ে আছে সিলগালা।



 



অনেক খুলেছি এবার তোমার,



আমাকে খোলার পালা।



 



 



আঘাত



 



যে কোন আঘাতে ভেঙে পড়ে যাও ক্যানো?



আঘাতে ভাঙে না কতো কিছুই তো আছে।



যে বৃক্ষ মরে যেতে যেতে বাঁচে,



প্রাণ রেখে যায় আগামী বীজের কাছে।



 



ভেঙে চুরমার হয়ে যায় তবু কাচ,



অজস্র কাচ জন্ম দিয়েই তো মরে।



যে গৃহ ভাঙে ঝড়ের আঘাতে কোন,



ভিটে রেখে যায়, সম্ভাব্য কোন ঘরে।



 



মন ভেঙে গেলে, এমন কী ক্ষতি বলো?



কতো মন ভাঙে, আঘাতে-আঘাতে প্রিয়।



শুধু ভেঙে যাওয়ার ইচ্ছে জমে গেলে,



চুরমার হতে সময়টুকু দিও।



 



যা কিছু যায়, যা কিছু গিয়েছে চলে,



কেউ কি আর ফেরাবার কথা বলে?



দাগগুলো হোক আগামীর অনুরাগ,



ঋণ রেখে যাই তোমার কোলের কাছে।



সভ্যতার এই বিবর্তনের পথে,



মানুষের মনে



এমন অনেক ভাঙনের ব্যথা আছে।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৯৭১২৭০
পুরোন সংখ্যা