চাঁদপুর। সোমবার ৮ অক্টোবর ২০১৮। ২৩ আশ্বিন ১৪২৫। ২৭ মহররম ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪২-সূরা শূরা

৫৪ আয়াত, ৫ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

২৪। তারা কি বলে যে, সে (রাসূল) আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা বানিয়েছে, সুতরাং যদি আল্লাহ ইচ্ছা করেন তবে তোমার হৃদয় মোহর করে দিবেন। আল্লাহ মিথ্যাকে মুছে দেন এবং নিজ বাণী দ্বারা সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেন। অন্তরে যা আছে সে বিষয়ে তিনি সবিশেষ অবহিত।

২৫। তিনিই তাঁর বান্দাদের তাওবা কবুল করেন এবং পাপ মোচন করেন এবং তোমরা যা কর তিনি তা জানেন।

২৬। তিনি মু’মিন ও সৎ আমলকারীদের আহ্বানে সাড়া দেন এবং তাদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহ বর্ধিত করেন; কাফিরদের জন্যে রয়েছে কঠিন শাস্তি।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


প্রকৃতি নিয়ম মানতেও জানে আবার ভাঙতে জানে।                           


 -সিসেরো।


যাবতীয়  পাপ থেকে বেঁচে থাকার উপায় হলো রসনাকে বিরত রাখা।



 


ফটো গ্যালারি
শামসুর রাহমানের সাথে কিছুক্ষণ
সালাহ উদ্দীন
০৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


১৯৮৩ সালের কথা। তখন আমি অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। আমরা দর্শন বিভাগ থেকে শিক্ষার্থীরা সিদ্ধান্ত নিলাম একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে একটি ম্যাগাজিন বের করবো। সবাই এ বিষয়ে একমত হলো। কিন্তু সমস্যা দেখা দিলো সম্পাদনা নিয়ে। কে নেবে সম্পাদনার দায়িত্ব? পরে অনেক আলোচনার পর সম্পাদনার দায়িত্ব একরকম জোর করে আমার উপর চাপিয়ে দেয়া হলো। আমি অস্বস্তির মধ্যে পড়ে গেলাম। কারণ এর আগে আমি কখনো সম্পাদনা করিনি। তাই কী করবো, না করবো কিছুই ভেবে পাচ্ছিলাম না। আমি ম্যাগাজিন প্রকাশনার বিষয়ে বিভাগের চেয়ারম্যান স্যারের সাথে আলোচনা করলাম। তিনি আমাদের বিভাগ থেকে ম্যাগাজিন প্রকাশ করার ব্যাপারে একমত হলেন। শুধু তাই নয়, তিনি আমাকে যে কোনো প্রয়োজনীয় সাহায্যের আশ্বাসও দিলেন। আমরা ম্যাগাজিনের নাম ঠিক করলাম 'ঘাস-ফুল-নদী'। তাঁর আশ্বাস পেয়ে আমরা এবার লেখা সংগ্রহের কাজে নেমে গেলাম। বিভাগের নোটিসবোর্ডে 'লেখা আহ্বান' সংক্রান্ত একটি নোটিস দেয়া হলো। শিক্ষার্থীদের মধ্যে অভূতপূর্ব সাড়া পড়ে গেলো। কয়েকদিনের মধ্যে অনেক লেখা জমা হলো। এখন সমস্যা হলো লেখা বাছাই নিয়ে। যারা লেখা জমা দিয়েছিলো তারা সবাই উন্মুখ হয়ে অপেক্ষায় ছিল। সবারই প্রত্যাশা ছিলো তাদের লেখা যেন ছাপা হয়। পরবর্তীতে বিভাগীয় প্রধান স্যারসহ ম্যাগাজিন কমিটির সদস্যদের নিয়ে লেখা বাছাইয়ের কাজ শেষ করলাম। চেয়ারম্যান স্যার আমাকে বললেন, আরও ভালো মানের কিছু লেখা হলে ভালো হতো। তিনি দেশের প্রথিতযশা লেখকদের কিছু লেখা সংগ্রহ করার জন্যে পরামর্শ দিলেন। তাঁর পরামর্শ শুনে সবাই চিন্তিত হলাম। আমি তো আগে থেকেই চিন্তিত। কারণ আমার পরিচিত কোনো বরেণ্য লেখক ছিল না। তখন শামসুর রাহমান ছিলেন দৈনিক বাংলার সম্পাদক। আমি মনে মনে ঠিক করলাম, তাঁকে অনুরোধ করে যদি একটি কবিতা সংগ্রহ করা যায় তাহলে খুব ভালো হয়। এত বড়মাপের একজন কবি একটা ডিপার্টমেন্টের ম্যাগাজিনে লেখা দেবেন কিনা তা নিয়ে আমার স্বাভাবিকভাবেই সংশয় ছিল। যাক তারপরও সাহস করে একদিন বিকেলে দৈনিক বাংলার অফিসে গিয়ে হাজির হলাম। এই প্রথমই দৈনিক বাংলা অফিসে এসেছি। সেজন্যে শামসুর রাহমান কোথায় বসেন আমি জানি না। অফিসের পিয়নের কাছে কবির কথা জানতে চাইলাম। শামসুর রাহমান যে রুমে বসতেন পিয়ন হাত দিয়ে তা দেখিয়ে দিলেন। আমি সামনে এগিয়ে গেলাম। মনের মধ্যে একটু সঙ্কোচ ছিলো। কবি একজন তরুণকে কীভাবে নেন সে বিষয় নিয়ে ভাবনায় ছিলাম। হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ চোখে পড়ল করিডোরের পাশে একটা চেয়ারে কবি বসে আছেন। পাশে কবির চেয়েও বয়স্ক একজন লোক বসেছিলেন। লক্ষ্য করলাম তাঁরা মৃদু শব্দে কি যেনো আলোচনা করছেন। আমি সামনে গিয়ে কবিকে সালাম দিলাম। তিনি সালাম নিলেন এবং আমার দিকে তাকালেন। তারপর জানতে চাইলেন আমি কি জন্য এসেছি। আমি ইতস্ততভাবে একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে ম্যাগাজিন প্রকাশের কথা তাঁকে জানালাম। তারপর সসঙ্কোচে কবির কাছে ম্যাগাজিনের জন্যে একটি লেখা চাইলাম। সম্ভবত আমার ইতস্তত ভাব দেখে তিনি হেসে উঠেছিলেন। হাসিমুখেই বললেন, ভাষা আন্দোলনের কবিতা অনেকেই নিতে এসেছে। অনেককে দিয়েছিও। আমার হাতে তো এখন নতুন কোনো লেখা নেই। আমার মনে পড়লো কয়েকদিন আগে দৈনিক বাংলাতেই তাঁর 'ভ্রাতৃসংঘ' নামে একটি কবিতা পড়েছিলাম। কবিতাটি ভীষণ ভালো লেগেছিলো। আমি সেজন্যে তাৎক্ষণিক বললাম, তবে আপনার 'ভ্রাতৃসংঘ' কবিতাটি আমরা প্রকাশ করতে চাই। তিনি বললেন, ওটা তো অনেক বড় কবিতা। তাছাড়া কবিতাটিতে অনেক প্রিন্টিং মিসটেক আছে। একটু থেমে নিজে থেকেই বললেন, তুমি কবিতাটি নিয়ে এসো। আমি কারেকশন করে দেবো। আমি বললাম, স্যার কপিটি আমার বাসায় আছে। তিনি বললেন, আমিতো ৫টার দিকে চলে যাবো। আমি ৫টার আগেই কপিটি নিয়ে আপনার কাছে আসবো_একথা বলে অতি দ্রুত বাসায় গিয়ে কপিটি নিয়ে আসলাম। সেটি কবির কাছে দিলাম। তিনি তাঁর কবিতার কারেকশান করে দিলেন। দেখলাম সেখানে ৭/৮টি সংশোধন রয়েছে। শামসুর রাহমান সংশোধিত কপিটির মধ্যেই স্বাক্ষর দিয়ে আমাকে দিয়ে দিলেন। আমি চলে আসবো, এমন সময় তিনি বললেন, সম্পাদনা বড় কঠিন কাজ। সতর্কতার সাথে সম্পাদনার কাজ করবে।



আমি তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে এক বুক আনন্দ নিয়ে বাসায় ফিরে এলাম। এরপর চেয়ারম্যান স্যারকে টেলিফোনে শামসুর রাহমানের কবিতা সংগ্রহের বিষয়টি জানালাম। তিনি এ কথা শুনে খুব খুশি হলেন। আমাকে ধন্যবাদ জানালেন। আমি বললাম, স্যার কবিতা নেয়ার বিষয়টি গোপন রাখতে চাই। শামসুর রাহমানের কবিতা আমাদের চমক থাকুক। তিনি সহাস্যে বললেন, ঠিক আছে।



তারপর অনেক কষ্ট করে যথাসময়ে ম্যাগাজিনটি ছাপার কাজ শেষ হলো। আমরা শিক্ষার্র্থীদের কাছে ম্যাগাজিন বিতরণ করলাম। সবাই প্রথম পৃষ্ঠা উল্টিয়ে শামসুর রাহমানের কবিতা দেখে আশ্চার্য হয়ে গেল। আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম কবিকে ম্যাগাজিন দিয়ে আসবো। কবিকে ম্যাগাজিন দিতে কে কে যাবে তা নিয়ে হুলস্থূল লেগে গেল। চেয়ারম্যান স্যার আমিসহ ৫ জন কবির কাছে ম্যাগাজিন পেঁৗছে দিতে বললেন। আমরা গেলাম দৈনিক বাংলায়। সন্দিহান ছিলাম কবি অফিসে আছেন কি না। ভাগ্য ভালো, কবি অফিসেই ছিলেন। আমরা অনেক উত্তেজনা নিয়ে কবির হাতে 'ঘাস-ফুল-নদী' তুলে দিলাম। তিনি ধন্যবাদ জানালেন। আমি বললাম, স্যার একটু মন্তব্য করলে খুব খুশি হবো। তিনি সেসময় খুব ব্যস্ত ছিলেন। তার সামনে অনেক কাগজপত্র পড়ে আছে। তারপরও তিনি ম্যাগাজিনটি হাতে নিয়ে উল্টে-পাল্টে দেখলেন। আমি জানতে চাইলাম তাঁর লেখাটিতে কোনো প্রিন্টিং মিসটেক আছে কিনা। তিনি তাঁর দীর্ঘ কবিতাখানি মনোযোগ দিয়ে পড়লেন। তারপর আরো কিছু পাতা উল্টে-পাল্টে দেখে বললেন, অনেক সুন্দর হয়েছে। কোনো মিসটেক নেই। পরেরবার আরও ভালো করার চেষ্টা করবা। তারপর কবিকে ধন্যবাদ জানিয়ে আমরা সবাই চলে এলাম।



আজ থেকে ৩৫ বছর আগের ঘটনা। এরপর শামসুর রাহমানের সাথে আর ওইভাবে কথা হয়নি। কিন্তু ওই দুদিনের স্মৃতি আজও আমার হৃদয়ে গেঁথে আছে। শামসুর রাহমানের মতো কবির সাথে থাকা মুহূর্তগুলো আমাকে আজও আলোড়িত ও স্মৃতিকাতুরে করে তোলে।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৬২১৩১৭
পুরোন সংখ্যা