চাঁদপুর। সোমবার ৫ নভেম্বর ২০১৮। ২১ কার্তিক ১৪২৫। ২৫ সফর ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪৩-সূরা যূখরুফ


৮৯ আয়াত, ৭ রুকু, মক্কী


৪৫। তোমার পূর্বে আমি যে সকল রাসূল প্রেরণ করিয়াছিলাম তাহাদিগকে তুমি জিজ্ঞাসা কর, আমি কি দয়াময় আল্লাহ ব্যতীত কোন দেবতা স্থির করিয়াছিলাম যাহার ইবাদত করা যায়?


৪৬। মূসাকে তো আমি আমার নিদর্শনসহ ফিরআওন ও তাহার পরিষদবর্গের নিকট পাঠাইছিলাম। সে বলিয়াছিল, 'আমি তো জগৎসমূহের প্রতিপালকের প্রেরিত।'


 


 


সৎলোকের পরামর্শ অনুযায়ী চলে কাজে ব্যর্থ হলেও দুঃখ করা উচিত নয়।


-স্যামুয়েল রাওয়েল।


 


 


 


যে ব্যক্তি সওয়াবের (পুণ্যের) নিয়তে পরিবারের জন্য খরচ করে আল্লাহ তাহাকে সদকার সওয়াব দান করিবেন।


 


 


ফটো গ্যালারি
পিকাসো : নানা দিকে নানা রঙে
পীযূষ কান্তি বড়ুয়া
০৫ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


নতুন পথে হাঁটাই সৃজনশীল মানুষের মৌলিকত্বের বিজ্ঞাপন। শিল্পের নতুন পথ তৈরি করে নেওয়াই তার আজন্ম সাধনা। প্রচলিত পথে সৃজনশীলতা নিয়ে পথ চলা মানে এক অর্থে অনুকরণ ও অনুসরণ। তাতে শিল্পের কোন উপকার তেমন হয় না, হয়তো সংখ্যায় বাড়ে। সৃজনশীল শিল্পে যে যত বড় উদ্ভাবক সে তত কালজয়ী। সেই অর্থে পৃথিবীর সকল প্রথমই কালজয়ী। তেমনি যিনি শিল্পের পথে না হেঁটে শিল্পকে নিজের পথে হাঁটাতে পেরেছেন তিনিই কালজয়ী। এ রকম এক কালজয়ী মহান শিল্পী পাবলো রুইজ পিকাসো যাকে পৃথিবী চেনে পাবলো পিকাসো নামেই।



'চেয়ে নিই না, খুঁজে নিই'



কী এমন ছিলেন তিনি? প্রশ্ন উঠতেই পারে। কী ছিলেন না তিনি? উত্তরও এ প্রশ্নেই দেয়া যেতে পারে। বিংশ শতাব্দীর সেরা প্রভাবশালী চিত্রকর তিনি। তিনি নিজেই বলেছেন,'আমি চেয়ে নিই না,খুঁজে নিই।' এই খোঁজ মানেই হলো শিল্পের সাধনা, নতুনকে আলোয় আনার প্রসূতি-প্রয়াস। চিত্রশিল্পের ইতিহাসে পাবলো পিকাসো এক স্ফূরিত মহাপ্রতিভা। আঠারোশ একাশি সালের পঁচিশে অক্টোবর স্পেনের মালাগায় জন্ম তার। ঊনিশ্শো তিয়াত্তরের আট এপ্রিল একানব্বই বছর বয়সে শিল্পের দেশ ফ্রান্সের মগিন্সে মহাকাব্যিক এই জীবনের যবনিকা। সুদীর্ঘ আটাত্তর বছরের সৃজনশীল জীবনে তের হাজার পাঁচশ পেইন্টিং, এক লক্ষ ছাপচিত্র ও খোদাই এবং চৌত্রিশ হাজার অলঙ্করণ করে গেছেন পিকাসো।



সাহিত্যে যেমন শেঙ্পীয়ার, মনোবিজ্ঞানে সিগমান্ড ফ্রায়েড, তেমনি চিত্রকলায় পাবলো পিকাসোই ভূবনজয়ী বীর। শিশুকাল হতে নিজেকে চিনিয়ে দেয়া জাত শিল্পী পিকাসোই বলেছেন,'সব শিশুই একজন শিল্পী, বড় হতে হতে সেই শিল্পীসত্তা বজায় থাকাটাই সমস্যার কথা'।



'পিজ পিজ' ও পিকাসো



বাবা ডন হোসে রুইজ বস্নাসকো ছিলেন চিত্রকর ও অঙ্কনশিল্পের অধ্যাপক। সাত বছর বয়সে তাঁর কাছেই পিকাসোর ছবি অাঁকায় হাতে খড়ি। মাত্র তের বছর বয়সেই বাবাকে ছাড়িয়ে যায় পুত্র পাবলো। তের বছরেই পাবলো হয়ে উঠে স্পেনের ইতিহাসে সেরা প্রতিকৃতি শিল্পী। তার অাঁকা পোট্র্রেট 'আন্ট পেপা' সেরা প্রতিকৃতির খ্যাতি পায় স্পেনে। মা মারিয়া পিকাসো লোপেজ-এর স্মৃতিচারণায় উঠে আসে তার ছোটবেলার প্রথম শব্দ উচ্চারণের কথা। সবাই যেখানে প্রথম উচ্চারণে ডাকে মা-কে, সেখানে পাবলোর প্রথম বোল ছিলো 'পিজ পিজ'! 'পিজ' আসলে লাপিজ যা স্পেনীয় ভাষায় বোঝায় পেন্সিলকে। বড় হয়ে পেন্সিলই তার আপন-সখা হয়ে দাঁড়ায়। অথচ মা পাবলোকে বলেছিলেন, সে যদি পড়াশুনা করে তবে জেনারেল পদবীর সেনা কর্মকর্তা হতে পারবে আর যদি আধ্যাত্মিক জগতে যায় তবে তার পক্ষে পোপ হওয়া সম্ভব। মা চাননি পাবলো চিত্রকর হোক। কিন্তু ভবিতব্য ঠেকায় কে? আন্দালুসিয়ার অধিবাসী বলেই পাবলো পিকাসোর বাপ্তিস্মের পর নামের সাথে জুড়ে যায় অনেক সন্ত ও আত্মীয়ের নাম। ফলে নাম হয়ে যায় বিশাল লম্বা, যদিও এই নামের আর কোনো ব্যবহার খুব একটা ছিল না।



পিকাসোর শোক ও নীল পর্ব



সাত বছর বয়সী বোন কঞ্চিটা ডিপথেরিয়ায় মারা যাওয়ার পরে পাবলোর পরিবারে আসে শোক। এই শোকের পর প্রিয় বন্ধু কার্লোস ক্যাসাগেমার আত্মহত্যা পাবলোকে বিষাদে ভরিয়ে দেয়। শোকার্ত পাবলো একের পর এক এঁকে যান বিষাদের ছবি। স্পেন থেকে ফ্রান্সে এসে তিনি দারিদ্র্য আর ঠা-ার প্রকোপে কাতর হয়ে পড়েন। তার এ সময়ের সঙ্গী কবিবন্ধু ম্যাঙ্ জ্যাকব, যার কাছে তার ফরাসী ভাষায় হাতে খড়ি। ঠিক এ সময়টাতেই পাবলো ও তার কবি বন্ধুর তকমা লেগে যায় স্টার্ভিং আর্টিস্ট বা উপোসী শিল্পী হিসেবে। পেটে ক্ষুধা নিয়ে বিছানার অভাবে একজন রাতে জেগে ছবি অাঁকতো আর অন্যজন দিনে লিখতো কবিতা। পিকাসো রাত দশটা-এগারোটা হতে ছবি অাঁকা শুরু করতেন এবং সারারাত ধরে ছবি এঁকে দিনে ঘুমাতেন। কখনো কখনো প্রবল ঠা-া হতে বাঁচতে আগুন পোহাত নিজেদের অাঁকা ছবি কিংবা রচিত কবিতা পুড়িয়ে। ঊনিশ্শো এক থেকে ঊনিশ্শো চার-এর সময়কালে তার ছবিতে ফুটে উঠেছে দারিদ্র্য। ছবির বিষয়ে উঠে এসেছে ভিখারী, অন্ধ মানুষ, অপুষ্টি, গরীব মানুষ, পতিতা, ভবঘুরে ইত্যাদি। তার বন্ধু ক্যাসাগেমার মরণোত্তর প্রতিকৃতিও তিনি এঁকেছেন অনেক। ছবির পশ্চাৎ পটের রং হতে শুরু করে ছবির মূল বিষয়ে ছিল কেবল নীল আর নীল আর মূল বিষয়ে ছিল নীল ও সবুজাভ নীলের সমাহার। নীল হলো বিষাদের রং। গ্রীক পুরাণমতে দেবরাজ জিউসের কষ্টেও মেঘের রং যেন হয়ে যায় নীল। এই নীলকেই তিনি বেছে নিয়েছেন তার কষ্টের সময়ে। তাই একে বলা হয় বস্নু পিরিয়ড বা নীল পর্ব। স্বয়ং পিকাসোই বলেছেন, নীল হলো রঙেদের রঙ,কালার অব কালারস্। নীল পর্বের চিত্রকলা সম্পর্কে পিকাসো স্বীকার করেছেন, বন্ধুর অকাল আত্মখুনের পর হতেই তার নীলযুগের সূচনা। এ পর্বের ছবিগুলো হলো : জায়মে সেবার্তিসের প্রতিকৃতি (বন্ধুকে অাঁকা প্রথম বস্নু পিরিয়ডের ছবি), সোমরসপায়ী, হেলানো ভাঁড়, নারী ও কবরী, ক্যাসাগেমার মৃত্যু, আত্মপ্রতিকৃতি, নীল হ্যাট ও নারী, সিগারেট ও নারী, লোভী মেয়ে, দ্য ভিজিট (দুই বোন), নারীর মস্তক, মাতাল ক্লান্ত নারী, বুড়ো গিটারবাদক, অন্ধলোকের প্রাতঃরাশ, দ্য ট্র্যাজেডি, বুড়ো ইহুদি ও বালক, কৃচ্ছতাসাধক ইত্যাদি।



ধীরে ধীরে বিষণ্নতা হতে পাবলো নিজের উত্তরণ ঘটিয়েছেন ঊনিশ্শো চার হতে ঊনিশ্শো ছয়ে অাঁকা ছবিগুলোতে, যখন তার প্রফুল্লতার আশ্রয় গোলাপী আর লাল। কখনো কখনো কমলা বর্ণের বাহার। তাই এ'সময়ের কর্মজীবন 'রোজ পিরিয়ড' নামে অভিহিত কেননা ফরাসীতে পিংক মানেই রোজ। গোলাপি পর্বের ছবির বিষয় সার্কাসের ক্লাউন, অভিনেতা, অপ্রকৃত অবয়বের নারী ইত্যাদি। রোজ বা গোলাপি পর্বের ছবিগুলো হলো : অভিনেতা, বসে থাকা নগি্নকা, মা ও শিশু, যুগল নগি্নকা, বলের উপর দড়াবাজিকর, ভাঁড় ও গ্লাস, লাল চেয়ারে বসা ভাঁড়, দুইভাই, দুই যুবক, পাখা হাতে নারী, যুবনারী ও ফুলের ঝুড়ি, ছাগল ও যুবনারী ইত্যাদি।



পিকাসোর ছবিতে আফ্রিকান প্রভাব তৈরি হয় ঊনিশ্শো সাত হতে ঊনিশ্শো নয় সালের কাল-ব্যাপ্তিতে। এই সময়ের ছবিতে মুখোশের ব্যবহার তাই বাড়তে থাকে। তার ভাষ্যে আমরা পাই,"অন্যেরা দেখেছে 'কী' এবং জেনেছে 'কেন'। আমি দেখেছি কী হতে পারতো এবং জানতে চেয়েছি কেন নয়?" এই হলো পাবলো যার কাছে সৃষ্টিকে ভেঙ্গে গড়াটাই মূল। এ কারণেই তার বলা, প্রতিটি সৃষ্টির আগেই ধ্বংসের জন্ম হয়। তাই তিনি তার প্রতিটি সৃষ্টিতে আগের সৃষ্টিকে ভেঙ্গে এগিয়ে গেছেন নতুনের উৎসবে। আফ্রিকান প্রভাব-পর্বের ছবিগুলো হলো : অবগুণ্ঠন-নৃত্য, তিনজন নারী, কৃষকের বউ, নগ্নতা, মানুষের মাথা, নারীর মাথা, নারী বক্ষ, মেরিন বাস্ট, বসে থাকা রমণী, বন্ধুতা ইত্যাদি।



কিউবিজম ও কোলাজ



ব্র্যাকের সাথে পিকাসোকেই মানা হয় কিউবিজমের যুগল জনক হিসেবে। মাতিস্-এর মতো শিল্পীরা যখন রঙকে প্রাধান্য দিয়েই ছবিকে ভাবতেন তখন পিকাসো ছবিকে অবয়বমুখী করে তোলার প্রয়াস পেতেন। কেননা, তিনিই জানেন, শিল্প হচ্ছে মিথ্যে যা আমাদের সত্যি অনুধাবনে চালিত করে। অবয়বের বহির্চিত্রের মধ্যে বিষয়ের অন্তর্চিত্র ফুটিয়ে তোলাটাই শিল্পীর সাধনা। তাই বর্ণচাতুর্যের আশ্রয়ে না গিয়ে মনোক্রোম-এর মাধ্যমে দর্শককে বিভ্রান্তহীনভাবে বিষয় অনুধাবনে সহযোগিতা করাটাই ছিলো পিকাসোর লক্ষ্য। সাধারণ চিত্রকলা কেবল প্রকৃতি ও তার অনুষঙ্গ নিয়ে মেতে থাকলেও কিউবিজমের জনক পিকাসো মেতেছেন দ্বিমাত্রিক তলে অবয়বের অধ্যয়নে। যে কারণে তার অাঁকা প্রতিকৃতিগুলো হবহু না হয়ে কিছুটা জ্যামিতিক চিত্রের আদল পায়। তার ছবিতেই ইংরেজি বর্ণমালার হরফগুলো অবয়ব নির্মাণে জীবন পায় এবং কোন কোন ছবিতে এ হতে জেড ব্যবহৃত হয়েছে অবলীলায় নান্দনিকতা ধারণ করে। ঊনিশ্শো দশ হতে বার সালের মধ্যে শুরু হয়েছে বিশ্লেষণাত্মক ঘনকচিত্রকলা এবং এ'সময়ের ছবিতে পিকাসো ও ব্র্যাক প্রায় কাছাকাছি ছিলেন বৈশিষ্ট্যে ও শিল্পগুণে। পিকাসোর পছন্দের নির্মিতি ছিলো অবয়বকে সমকৌণিক ও সরলরৈখিক বিভাজন যেখানে একটি প্রতিকৃতি এক দৃষ্টিকোণ থেকে বুঝবার অবকাশ নেই। এক এক অবস্থান ও দৃষ্টিকোণ হতে প্রতিকৃতির এক একটি অঙ্গ অবলোকন করা যায় এমন। আর এ কারণেই পাবলো বিশ্বাস করতেন, শিল্পী হচ্ছে আবেগের ধারক যা পরিপার্শ্ব হতে তৈরি হয়। বস্তুত ঘনকচিত্রকলা কিংবা বিশ্লেষণধর্মী ঘনকচিত্রকলার পক্ষে বলতে গিয়ে পিকাসো একটি কোটি টাকা মূল্যের প্রশ্নবাণ ছুঁড়েছেন অন্যদের প্রতি,'কে মানুষের মুখ শুদ্ধভাবে দেখে? আলোকচিত্রগ্রাহক, আয়না নাকি চিত্রকর?' এ'প্রশ্নের উত্তর হতেই বিশ্লেষণী ঘনকচিত্রকলাবিদ্যার ভিত নির্মাণ হয়ে যায়। ব্যক্তির অন্তর্গত সত্তাকে বের করে আনার ক্ষমতা আদতে আলোকচিত্রী কিংবা আয়না কারুরই নেই। কেবলমাত্র একজন বিশ্লেষণমুখী ঘনক চিত্রকলাবিদের পক্ষেই বাহ্যিক ফাঁদ এড়িয়ে অন্তরের মানুষটির প্রকৃত অবয়ব নির্মাণ করা সম্ভব। আমরা লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির 'মোনালিসা' ছবির হাসির প্রকৃত বিশ্লেষণ হতেই এই সত্যের পক্ষে যথার্থ তথ্য সম্পর্কে অবগত হই। পিকাসো যেমন উপলব্ধি করেন, কোন কোন শিল্পীর হাতে সূর্য হয়ে উঠে হলুদ বিন্দু আবার কারো হাতে হলুদ বিন্দুটিই জ্বলে উঠে সূর্য হয়ে। ঠিক তেমনি ঘনকচিত্রকলা ও রঙপ্রধান চিত্রকলার মধ্যে এরকমই পার্থক্য।



বিশ্লেষণধর্মী ঘনকচিত্রকলা নিয়ে খেলতে খেলতেই পিকাসো নিয়ে আসেন শিল্পের নতুন এক ধারা 'কোলাজ' যাতে অাঁকা চিত্রপটের সাথে সিগারেট-এর মোড়ানো কাগজের এবং খবরের কাগজের ময়লা ছেঁড়া অংশ জুড়ে দেওয়া হয় এবং সমাবেশ তৈরি করা হয়। প্রথম প্রথম মনে হতো এ' আবার কী? কিন্তু দেখতে দেখতে তা জনপ্রিয় হয়ে উঠে। কোলাজের মধ্যেই ফুটে ওঠে শিল্পীর দৃষ্টিভঙ্গি, কল্পনা ও বাস্তবের সমন্বয়। একটা বড় প্রশ্নের সমাধান হলো কোলাজের মধ্য দিয়ে। 'চিত্রপটের উপর পৃথিবীকে ধারণ করা যায় কীভাবে' এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে শিল্পীরা যখন ঘর্মসিক্ত হয়ে উঠেছেন বলা যায়, কোলাজই তখন সমাধান হয়ে দাঁড়ায়। আর এ কারণেই পিকাসো শিল্পের ব্যাটারি বলতে তল, রেখা রঙ ও আলোকের সমন্বয়কেই বুঝাতেন। কেননা, এদের কোলাজেই ফুটে উঠে চমৎকার এক একটি চিত্রগল্প। সাদামাটাভাবে অনন্য শিল্প উপস্থাপন করতে গিয়েই পিকাসো নিজেকে স্টাইলবিহীন চিত্রকর আখ্যা দিয়েছিলেন।



পিকাসোর জীবনে নারী



নারী আর পিকাসোর রসায়ন ততটাই বিপরীত যতটা মজাদার এবং নিবিড় পিকাসো ও চিত্রকলা। নারী হলো পিকাসোর শিল্পদাসী। তাই তার কাছে নারীর যন্ত্রণা সৃষ্টির যন্ত্র। পিকাসোর কর্মজীবন যেমন রঙের নামে নামে পর্ব ধরে ধরে চলেছে তেমনি ব্যক্তি জীবনকেও নারীর নাম দিয়ে পর্ব হিসেবে উল্লেখ করাটা বাহুল্য হবে না। কারো মতে পিকাসোর জীবনে ছিলো সাত নারীর সমাহার। এর মধ্যে দু'জন করেছে আত্মহত্যা, দু'জনের হয়েছে মনোবিকলন। অনেকের মতে, পিকাসোর জীবনে নারীর সংখ্যা পার হয়েছে শতক। এইসব নারীকে পিকাসো ব্যবহার করেছেন মডেল হিসেবে। পনিটেইলধারী লিডিয়া ছিলো তার অনেক চিত্রকর্মের মডেল, যদিও তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তা প্রচার হয়নি তেমন। চিত্রকর্মের মডেল হওয়ার কারণেই লিডিয়ার নামের আগে পনিটেইল খ্যাতিটা বসে যায় পিকাসোর বদৌলতে। লিডিয়াও শেষমেষ পিকাসোর জৈবিক জীবনের সাথী হয়ে যায়।



তাই বলা যায়, পিকাসোর চিত্রকর্মের অধিকাংশই তার ব্যক্তিজীবনের সচিত্র ধারাবর্ণনা বই আর কিছুই নয়। আত্মজৈবনিক নারীদের বিকৃত চিত্র এঁকেই পিকাসোর শিল্পীসত্তা যেন বিকশিত হয়েছে,উৎফুল্ল হয়েছে। পিকাসোর হাতে অাঁকা গার্ট্রুডের প্রতিকৃতি যেন না নারী না পুরুষ। সারাজীবন গার্ট্রুডকে এভাবেই চিত্রে রেখেছেন বিকৃত করে। তার জীবনে তাই নারীর স্থান দ্বিবিধ, হয় দেবী নয় পাপোষ।



পিকাসোর নারীরা সময়কাল অনুযায়ী নিম্নরূপ :



* ফার্নান্দো অলিভিয়া-১৯০৪-১৯১১



* ইভা গায়েল-১৯১১-১৯১৫



* ওল্গা খোকলোভা- ১৯১৭-১৯৩৫



* মারি থেরেস ওয়াল্টার-১৯২৭-১৯৩৬



* দোরে মার -১৯৩৬-১৯৪৪



* ফ্রাঁসোয়া গিলিত-১৯৪৪-১৯৫৩



* জ্যাকলিন রোক-১৯৫৩-১৯৭৩



অাঁকা ছবি : বিষয় পিকাসো



পিকাসো তার প্রতিকৃতি এঁকেছেন বেশ কয়েকটা। নিজের পনর বছর হতে নব্বই বছর বয়স অব্দি প্রায় পনরটা আত্ম প্রতিকৃতি এঁকেছেন। সালভাদর দালি ও ঊনিশ্শো সাতচলি্লশ সালে পিকাসোর একটি প্রতিকৃতি অাঁকেন।



লেখা বই : বিষয় পিকাসো



* মার্ক হাডসন - 'পিকাসো : চ্যালেঞ্জিং দ্য পাস্ট'।



* ফার্নান্দো অলিভিয়া - 'লাভিং পিকাসো'।



* মারি থেরেস ওয়াল্টারের কন্যা মায়া'র পুত্র অলিভিয়ার ওয়িদমায়ার- 'পিকাসো : দ্য রিয়েল ফ্যামিলি হিস্টরি'।



* গার্ট্রুড স্টেইন - 'অটোবায়োগ্রাফি অব এলিস বি টোকলাস'।



* গার্ট্রুড স্টেইন - 'ইফ আই টোল্ড হিম,অ্যা কম্পিস্নটেড পোট্র্রেট অব পিকাসো' নামে একটি গদ্য-শব্দাবয়ব।



* নরম্যান মেইলার- 'পোট্র্রেট অব পিকাসো অ্যাজ অ্যা ইয়াং ম্যান'।



চলচ্চিত্র : বিষয় পিকাসো



* ঊনিশশো ছিয়ানব্বই সালে নির্মিত চলচ্চিত্র 'সারভাইভিং পিকাসো'। পরিচালক জেমস আইভরির তত্ত্বাবধানে এতে পিকাসোর চরিত্র চিত্রায়ন করেন অ্যান্তনি হপকিন্স। চলচ্চিত্রটি অ্যারিয়ানা স্ট্যাসিনোপুলোস হাফিংটন লিখিত উপন্যাস 'পিকাসো : ক্রিয়েটর এন্ড ডেস্ট্রয়ার' অবলম্বনে রুথ প্রাওয়ার জাব্বালা-এর চিত্রনাট্য মোতাবেক নির্মিত।



নাটক : বিষয় পিকাসো



* নাটকের নাম 'পিকাসো অ্যাট দ্য ল্যাপিন অ্যাজাইল'। রচয়িতা স্টিভ মার্টিন। নাটকটির ঊনিশ্শো তিরানব্বই সালের তের এপ্রিল প্রিমিয়ার শো অনুষ্ঠিত হয়।



পিকাসো মিউজিয়াম



মুউজে পিকাসো মালাগা নামে একটা যাদুঘর পিকাসোর নামে স্পেনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে তার ছোটবেলা হতে শিল্পী হিসেবে নির্মিত হওয়া ও বাঁক বদলের বৈশিষ্ট্য অনুধাবন করা যায়। ষোড়শ শতকের প্রথমভাগে নির্মিত বুয়েনাভিস্তা প্যালেস নামে এক ভবনের আট হাজার তিনশ বর্গমিটার স্থানজুড়ে দুই হাজার তিন সালে এই যাদুঘরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এতে পিকাসোর পারিবারিক সদস্যরা পিকাসোর দুইশ পঁচাশিটা চিত্রকর্ম দান করেন।



পিকাসোর রসরঙ্গ



একদিন সমুদ্রতটে এক ছোট্ট বালক কুড়োনো এক কাগজ এনে পিকাসোকে দিয়ে বলল অটোগ্রাফ দিতে। বালকটিকে দেখেই তার সন্দেহ হলো, এতো ছোট ছেলে কি পিকাসোর ছবি বুঝবে? তিনি জিজ্ঞেস করলেন,অটোগ্রাফ নিতে কে পাঠিয়েছে। জবাবে শিশুটি পিছন ফিরে তার বাবা-মাকে দেখিয়ে দিল। পিকাসো তখন তার হাতে দেওয়া কাগজের টুকরোটি ফেলে দিয়ে শিশুটার পিঠে একটা স্কেচ এঁকে স্বাক্ষর দিয়ে দিল। কেউ একজন তাকে এ'বিষয়ে জিজ্ঞেস করতেই পিকাসো জবাবে বলেছিল, আমি দেখতে চাই, শিশুটির পিঠে অাঁকা স্কেচটি তার বাবা-মা কতদিন সংরক্ষণ করতে পারবে।



পিকাসো একবার খেতে গেলেন এক রেস্টুরেন্টে। দোকানদার তাকে প্রস্তাব দিলো, একটা অটোগ্রাফ দিলে সে পিকাসোকে বিনামূল্যে খেতে দিবে। পিকাসো তখন মুচকি হেসে বলেছিল,' আমি কেবল আমার খাবারের বিল পরিশোধ করতে চাই, রেস্টুরেন্ট কেনার কোন ইচ্ছে আমার নেই।'



রাজনীতিবিদ পিকাসো ও শান্তির প্রতীক



বিশ্বযুদ্ধের দামামায় তার বন্ধুদের অনেকেই যুদ্ধে গেলেও ফ্রান্সের অধিবাসী নয় বলে পিকাসোকে যুদ্ধ যেতে দেওয়া হলো না। কিন্তু যুদ্ধশেষে পিকাসো পোল্যান্ডের কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন এবং বিখ্যাত চিত্রশিল্পীকে নিজেদের দলে পেয়ে পোল্যান্ডের কমিউনিস্ট পার্টি উৎফুল্ল হয়ে উঠে। ঊনিশ্শো আটচলি্লশ সালে পোল্যান্ডে শান্তি সম্মেলনেও পিকাসো যোগ দেন। মূলত তার বান্ধবী দোরে মার-এর উৎসাহে পিকাসো কমিউনিস্ট রাজনীতির দিকে আগ্রহবোধ করেন এবং রাজনীতিতে সক্রিয় হন। এই শান্তি সম্মেলনে যোগ দিতে যাওয়ার সময় পিকসোকে বলা হয় একটা অাঁকা ছবি প্রতীক হিসেবে নিয়ে যেতে। কিন্তু সময়াভাবে পিকাসো সেই মোতাবেক কোনো প্রতীক অাঁকতে না পারায় দলীয় কর্মীরা পিকাসোর স্টুডিওতে এসে একটা পায়রার ছবি নিয়ে যায় এবং তা পোল্যান্ডের শহরে টাঙিয়ে দেয়। ঊনিশ্শো আটচলি্লশের এই পায়রা প্রতীকই আজ বিশ্বজুড়ে শান্তির পায়রা বা শান্তির প্রতীক হয়ে বেঁচে আছে। নিজের জীবনজুড়ে অন্তর্গত বেদনায় যিনি নীল হয়েছেন তারই অাঁকা পায়রা হয়েছে সার্বজনীন শান্তির প্রতিচ্ছবি।



মোনালিসার হুমকি ও অন্যান্য



ফ্রান্সের ল্যুভর মিউজিয়াম হতে বেশ কয়েকটা চোরাই চিত্রকর্ম কিনে নিয়েছিলেন পিকাসো যদিও তাতে মোনালিসার ছবিটা ছিলো না। কিন্তু চুরি হয়ে যাওয়া মোনালিসার ছবির খোঁজে পিকাসোর বাসায়ও তল্লাশি করে পুলিশ, যা পিকাসোকে ভড়কে দিয়েছিলো বেশ। শেষমেষ পিকাসো ঐ ছবিগুলো নদীতে ফেলতে মনস্থির করেছিলেন, যদিও পরে ফেলেছিলেন কিনা তা জানা যায় না। নিজে যেমন চুরি যাওয়া চিত্রকর্ম কিনেছিলেন তেমনি তার চিত্র কর্মও নেদারল্যান্ডের কুন্সখাল মিউজিয়াম থেকে চুরি যায় অন্য আরও পাঁচজন নামী চিত্রকরের চিত্রকর্মের সাথে। অপরাধী ধরা পড়ায় অপরাধীর মা ছবিগুলো পুড়িয়ে ফেলেন। ফলে ভষ্ম ছাড়া চিত্রকর্মগুলো আর পাওয়া যায়নি।



অথচ পিকাসোর বাসসৃহে নিজের অাঁকা কোনো ছবি নেই। এ'প্রসঙ্গে এক জিজ্ঞাসার জবাবে তার বাসায় আগন্তুককে পিকাসো বলেন, 'আমি এতো বড় ধনী নই যে পাবলো পিকাসোর ছবি আমার ঘরে টানাতে পারি।' এই হলো হেঁয়ালির রহস্যে ভরা পিকাসো।



'যৌবনের কোন বয়স নেই' এই আপ্তবাক্যে বিশ্বাসী পিকাসো যুদ্ধের ধ্বংসলীলার বিরুদ্ধে ছিলেন প্রতিবাদী। 'কোরিয়া ম্যাসাকার ' ছবিতে তিনি কোরিয়ার বিরূদ্ধে যুদ্ধে সংঘটিত ভয়াবহগার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। নিজের কান্ট্রিসাইড গ্রামে অমানবিক আক্রমণে তছনছ করে তোলার বিরূদ্ধে তিনি অাঁকেন বিখ্যাত চিত্রকর্ম 'গুয়ের্নিকা' যা যুদ্ধবিরোধী সর্বাপেক্ষা আধুনিক উপায়ে প্রতিবাদের শিল্পবিবৃতি।



বিখ্যাত চিত্রকর্ম



'আভিগনন শহরের বারবনিতা' তার একটি উল্লেখযোগ্য শিল্পকর্ম যা ঊনিশ্শো সাত সালে কিউবিজম বিপ্লবের পূর্বে অঙ্কিত। ছবিটাতে বার্সেলোনার আভিগনন শহরের রাস্তায় পাচজন নগি্নকা বারবনিতাকে দেখা যায় যাদের মধ্যে আফ্রিকান মুখোশ-শিল্পের প্রয়োগ দেখা যায় এবং এরা কেউ সহজাত নারীদেহধারী নয়, কিছুটা বিকৃত। এক অঙ্গের সাথে অন্য অঙ্গ সামঞ্জস্যহীন। এর মধ্যে বাঁ দিকের তিনজন নগি্নকার দেহে বার্সেলোনার পার্শ্ববর্তী আইবেরিয়ান সংস্কৃতির ছাপ পাওয়া যায়।



'গুয়ের্নিকা' ছবিটি ঊনিশ্শো সাঁইত্রিশ সালে অাঁকা যাতে গুয়ের্নিকা গ্রামে স্পেনে গৃহযুদ্ধকালীন জাতীয়তাবাদী সরকারের নির্দেশে জার্মান ও ইতালিয়ান সৈন্যরা বোমা মেরে ধ্বংসলীলা চালায়। এই ছবিটি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ।



পিকাসোর অাঁকা 'উওম্যান অব আলজিয়ার্স' ছবিটি বিশ্বের এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হওয়া চিত্রকর্ম, যার দাম সতের কোটি তিরানব্বই লাখ পঁয়ষট্টি হাজার মার্কিন ডলার যা বাংলাদেশি টাকায় একশ' চলি্লশ কোটি টাকা। কিউবিক ধারায় উজ্জ্বল তৈলরঙে অাঁকা ছবিটিতে এক বসনহীনা নারীকে দেখা যায়, যাতে ইংরেজি এ হতে ও পর্যন্ত বর্ণমালার ফর্ম ব্যবহৃত হয়েছে। ছবিটি ঊনিশ্শো চুয়ান্ন-পঞ্চান্ন সালের দিকে অাঁকা।



পিকাসো ও সালভাদর দালি



পিকাসো এবং সালভাদর দালি দুজনেই জন্মসূত্রে স্পেনিশ। মালাগা এবং কাতালান তাদের জন্মস্থান। পিকাসোর চেয়ে বাইশ বছরের ছোট সালভাদর দালি ঊনিশ্শো ছাবি্বশ সালে ফ্রান্স সফরকালে পিকাসোর সাথে সাক্ষাৎ করেন। পিকাসোর প্রতি দালির সীমাহীন শ্রদ্ধা ছিলো। ল্যুভর মিউজিয়াম দেখাকে তুচ্ছ করে দালি সাক্ষাৎ করেছিলেন পিকাসোর সাথে। এই দুই বিখ্যাত শিল্পী নিজেদের সাক্ষাতে কী বলেছিলেন তা জানা যায় না। তবে এরপর গালা দালি ও দালি নিজে পিকাসোকে কমপক্ষে একশ'টি চিঠি ও পোস্ট কার্ড পাঠিয়েছিলেন। পিকাসো দালিকে সম্মান জানিয়ে ঊনিশ্শো চৌত্রিশ সালে নিউইয়র্কে তাঁর ছবির প্রদর্শনীতে দালিজ স্পেস নামকরণ করে সৌজন্য প্রদর্শন করেন। ঊনিশ্শো সাতচলি্লশ সালে সালভাদর দালি পিকাসোর একটি প্রতিকৃতি অঙ্কন করেন যাকে তিনি নাম দেন 'পোট্র্রেট অব পাবলো পিকাসো ইন টুয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরি'। ধারণা করা হয় এর মাধ্যমে দালি পিকাসোকে খাটো করেছেন। এতে পিকাসোর মাথাটিকে একটি পাদবেদীর উপর স্থাপন করা হয় এবং তার ব্রেইন বা মস্তিষ্ক হতে চামচ আকারে একটি বাঁশিকে নির্গমন করা হয়। বুকখানি পাদানির উপর অলস বিছিয়ে রাখা হয়েছে। দালির স্ত্রী গালা দালির মতে, পিকাসো শিল্পকে ধ্বংস করেছেন কেননা তার অাঁকা ছবিগুলোতে অবয়বগুলো কুৎসিৎ ও বিকৃত। পক্ষান্তরে দালির ছবিতে মুখগুলো সৌন্দর্যম-িত। দালি ও পিকাসো যুগপৎ প্রতিদ্বন্দ্বী ও গুণগ্রাহী ছিলেন।



পিকাসোর অাঁকা 'পোট্র্রেট অব ওলগা' এবং দালির অাঁকা 'পোট্র্রেট অব মাই সিস্টার'-এর মধ্যে প্রচুর মিল পাওয়া যায়।



পৃথিবীর সবচেয়ে প্রভাবশালী চিত্রশিল্পী পাবলো পিকাসো যিনি আজও তাঁর স্থান হতে বিন্দুমাত্র চ্যুত হননি তাঁর ভিন্নতার জন্যে, তাঁর দূরদর্শিতার জন্যে। একাধারে চিত্রকর, ভাস্কর, খোদাই শিল্পী, ছাপচিত্র শিল্পী, অলঙ্করণবিদ, শিল্পদার্শনিক, নাট্যকার ও কবি পাবলো পিকাসোর প্রভাব আজও সেই উচ্চতায় আছে যেমনটি ছিলো সূচনালগ্নে কিংবা জীবিতকালেও। কিউবিজমের সহ-সূচনাকারী, কোলাজ শিল্পধারার প্রবর্তক, পরাবাস্তব চিত্রকলার দৃঢ় ধ্বজাধারী পাবলো পিকাসো নিজেই স্বয়ং একটি প্রতিষ্ঠান। তাকে কখনো অ্যাবস্ট্রাকশনিস্ট, কখনো কিউবিস্ট, কখনো সুররিয়ালিস্ট, কখনো ক্লাসিসিস্ট হিসেবে আমরা অবতীর্ণ হতে দেখি। কখনো কখনো মনে হয় তিনি একজন স্যাডিস্ট যার চিত্রমালায় বিকৃতভাবে উপস্থাপিত নারীরা নিজেরাই কষ্ট পায় আজীবন, পিকাসোকে আনন্দ দিয়ে। পিকাসো দিনশেষে থেকে যান পিকাসো-ই।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৫০২৯১৮
পুরোন সংখ্যা