চাঁদপুর, সোমবার ৩ জুন ২০১৯, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২৮ রমজান ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫০-সূরা কাফ্


৪৫ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


২৮। ইহাতে উহাদের সম্পর্কে তাহার মনে ভীতির সঞ্চার হইল। উহারা বলিল, 'ভীত হইও না।' অতঃপর উহারা তাহাকে এক জ্ঞানী পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দিল।


২৭। তখন তাহার স্ত্রী চিৎকার করিতে করিতে সম্মুখে আসিল এবং গাল চাপড়াইয়া বলিল, 'এই বৃদ্ধা-বন্ধ্যার সন্তান হইবে?'


 


 


assets/data_files/web

সহনশীলতা এমন একটা গুন যা থেকে সফলতা আসবেই।


-জুভেনাল।


 


 


ধর্মার্থে প্রাণ উৎসর্গকারী শহীদের রক্ত অপেক্ষা বিদ্বান ব্যক্তির কলমের কালি অধিক পবিত্র।।


 


 


ফটো গ্যালারি
শূন্য যোগফল
কাদের পলাশ
০৩ জুন, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

ঈদবাজারে মানুষ এতোটাই নিমগ্ন থাকে যে কারো দিকে তাকানোর ফুসরৎ নেই। কদিন পেরুলেই ঈদ। বিপণীবিতানগুলোতে উপচেপড়া ভিড়। মানুষের গায়ের ভ্যাপসা গন্ধ! রমণীদের গায়ের বাহারি পারফিউম-সৌরভ যেনো মলিন। শিশুদের ঈদ যেনো মিশে আছে প্রতিটি নতুন জিনিসে। ওদের কোনো পছন্দ নেই। যা পায় তাতেই খুশি। বাবা-মায়ের পছন্দই ওদের পছন্দ। দোকানীরাও খুব ব্যস্ত। একটা ভাঁজ খুলছেন তো কেউ তাকে তুলছেন। আবার কাস্টমার। দোকানীরা ভাবেন, একবারে ডিসপ্লে করে রাখলেইতো ভালো হয়। কিন্তু ডিসপ্লে করলে জায়গা অনেক বেশি দখল করে। তাই এক প্রকার বাধ্য হয়েই গোছাতে হয়। মার্কেটের ভেতরে যেমনি চকচকা। বাইরেও মরিচ বাতির মিটিমিটি আলোর খেলা। নতুন সাজ শহরের অলিগলির মার্কেটও।

আরেফিন একটি চ্যানেলের বুমসমেত মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে। কেউ একবারও তাকালো না। একজন সাংবাদিকের দিকে তো সবাই তাকায়। বিভিন্ন দৃষ্টি আর কৌতূহলে। হয়তো ইতিবাচক নয়তো নেতিবাচক। কিন্তু এদিকে এখন মানুষের কোনো আগ্রহ নেই। বাধ্য হয়ে একে একে তিনটি মার্কেট পাল্টায় আরেফিন। ক্যামেরাম্যান ইতোমধ্যে সব অ্যাঙ্গেলে ফুটেজ নিয়ে ফেলেছে। সমস্যা হচ্ছে সাক্ষাৎকারের জন্যে লোক পাওয়া যাচ্ছে না।

দুজন মাকে ম্যানেজ করে বাচ্চাদের বক্তব্য নেয়ার চেষ্টা হলো। কিন্তু বক্তব্য ভালো হলো না। এমন বক্তব্য নিউজ এডিটরের কাছে গেলে ধমক খাওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না।

সর্বশেষ যে মার্কেটে আসা হলো। চলন্ত সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওঠার ব্যবস্থা ভালো। কিন্তু নামতে হয় হেঁটে। আরেফিন হাঁটে কিন্তু কাজ হয় না। হঠাৎ চোখ আটকে গেলো একদিকে। খুব চেনা মানুষ। হৃদয়ের ভেতরে বসতি পাতা মানুষ। যাকে দেখলে আরেফিন খেই হারিয়ে ফেলে। অন্তত দীর্ঘ দশ বছর তার দিকে নজর লেগে আছে। ভালো লাগে। খুব ভালো। মনে দোলা দেয়। কম্পন। চুরমার কয়েক মিনিটে আবার নিস্তব্ধ শীতল। চোখের আড়াল হতেই খুঁজে খুঁজে চোখ ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফিরে। তারপর শুরু হয় ব্যস্ততা। এভাবে দীর্ঘসময়। শুধু একটা মুখই ভেসে উঠে মনের আকাশজুড়ে। যে আকাশে আর কারো আনাগোনা নেই। একটা মুখ ভেসে ওঠে সর্বক্ষণ। কতোটা বিস্তৃত সে মুখ? অনন্ত সীমানায় যতোটা চোখ যায়।

অথচ কখনো কথা হয়নি মেয়েটির সাথে। এতোদিন মেয়েটি বুঝে গেছে যে আরেফিন তাকে নজরে নজরে রাখে। ভালো লাগাও বোঝানো হয়েছে চোখের ইশারায়।

কিন্তু মেয়েটি কী ভাবে? কোন্ দৃষ্টিতে নেয় সে? তবে তার কাছে নিশ্চয়ই ভালো লাগে আরেফিনের সরলতা কিংবা ভিতু ভিতু শরীরী ভাষা।

আরেফিন 'অঙ্গসজ্জা ফেব্রিঙ্'-এর সামনে আসতেই চোখ পড়ে মেয়েটির। গালের টোল যেনো বাতাসে উড়িয়ে দেয় মুগ্ধতা। জগতের সব হাসি যে ল্যাপ্টে থাকে মেয়েটির চেহারায়। স্বভাবতই সাংবাদিকরা বাচাল প্রকৃতির হয়। কিন্তু মেয়েটিকে সামনে পড়লেই কেমন যেনো হাবা হয়ে যায় আরেফিন।

খুব কাছে আসতে আরেফিন সাহস করে বলে, কেনাকাটা হয়েছে?

মুগ্ধতা ছড়ানো হাসি দিয়ে মেয়েটি বলে, না।

কিছু কথা বলতে চাই।

আমি বুঝতে পেরেছি।

কী বুঝতে পেরেছেন?

মাইক্রোফোনে কিছু বলতে হবে। আমি বলতে পারবো না।

মন বুঝেন?

হ্যাঁ?

মন... মন বুঝেন?

না না কিছু বলতে পারবো না বলে পাশ কাটিয়ে একটি দোকানে প্রবেশ করে মেয়েটি। আরেফিন দাঁড়িয়ে থাকে। ভেতর থেকে গ্লাস ভেদ করে দৃষ্টি দেয় মেয়েটি। তার জন্যে বাইরে কেউ অপেক্ষা করছে বুঝতে পারলেও যোগফল শূন্যই থেকে যায়...

আজকের পাঠকসংখ্যা
৯১৮২৭৯
পুরোন সংখ্যা