চাঁদপুর, সোমবার ৮ জুলাই ২০১৯, ২৪ আষাঢ় ১৪২৬, ৪ জলিকদ ১৪৪০
jibon dip
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫২-সূরা তূর


৪৯ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


৪৭। ইহা ছাড়া আরও শাস্তি রহিয়াছে যালিমদের জন্য। কিন্তু উহাদের অধিকাংশই তাহা জানে না।


৪৮। ধৈর্য ধারণ কর তোমার প্রতিপালকের নির্দেশের অপেক্ষায়; তুমি আমার চক্ষুর সামনেই রহিয়াছো তুমি তোমার প্রতিপালকের সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর যখন তুমি শয্যা ত্যাগ কর,


৪৯। এবং তাহার পবিত্রতা ঘোষণা কর রাত্রিকালে ও তারকার অস্তগমনের পর।


 


 


assets/data_files/web

মনের যাতনা দেহের যাতনার চেয়ে বেশি। -উইলিয়াম হ্যাজলিট।


 


পবিত্রতা ঈমানের এক অঙ্গ।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
'সওগাত'-এর নাসিরউদ্দীন ও সমকালীন সাহিত্যিক
পীযূষ কান্তি বড়ুয়া
০৮ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


প্রজ্ঞালোকিত নাসিরউদ্দীন আপন জন্মভূমির বহতা নদীর মতোই 'সওগাত'-এর সম্পাদক নাসিরউদ্দীন। চলতে পথে নদী যেমন গড়ে তোলে সভ্যতা, ধুয়ে মুছে বিলীন করে জঞ্জাল-ঝঞ্ঝাট; তেমনি 'সওগাত'-এর সম্পাদক নাসিরউদ্দীনও প্রবহমান নদীর মতোই শক্তিমান ও উদ্যমী এক সংস্কারক। বেহুলার শ্বশুর, লখিন্দরের পিতা, মনসা-বিদ্বেষী, মহাদেবভক্ত চাঁদ সওদাগরের কিংবদন্তী লালিত 'ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর'-এর পাইকারদী গ্রামে জন্ম ও বেড়ে ওঠা নাসিরউদ্দীন নদীর মতোই আপন সৃজন-মানসের গন্তব্যে ছুটেছেন আজীবন। পদ্মা-মেঘনা-ডাকাতিয়ার ত্রিমিলনে সিক্ত নাসিরউদ্দীনের জীবন-মানস নির্মিত হয়েছে কর্মবীরের দর্শনে। শুধু পত্রিকা 'সওগাত' নয়, তিনি নিজের দীর্ঘ জীবনের মাধ্যমে সওগাত বয়ে এনেছেন নতুন এক যুগকে, যাকে তিনি ও অন্যরা নাম দিয়েছেন বাংলা সাহিত্যে 'সওগাত যুগ'। বিংশ শতকের সূচনালগ্নে তরুণ নাসিরউদ্দীন আবির্ভূত হন নতুন যুগের রাজা রামমোহন রায়ের মতো। তাঁর মনোময় আলোকদীপের প্রভায় সমাজের অন্ধকার দূর হয়ে আজ নারীরা এগিয়ে এসেছে সামনে 'বেগম' পত্রিকার মাধ্যমে জাগরণের অগ্রসেনানী হয়ে। যে যুগের মানুষ অকর্মণ্য হয়ে ঘরে বসে বাপের তালুক বিক্রি করে সুখের জীবন চলতো, সে যুগেই তিনি স্বোপার্জিত অর্থে পত্রিকার মাধ্যমে সংস্কারে ব্রতী হয়েছিলেন অন্তরালোকে পিছিয়ে এদেশীয় মুসলমান সমাজের মনন ও মানসকে। গ্রন্থবিতানের বিপণন কর্মীর কাছে মুসলমান সাহিত্যিকের রচিত গ্রন্থ সন্ধান করে ব্যর্থ মনোরথ হতে হতে কিশোর নাসিরউদ্দীন একসময় পরিণত হয়ে উঠেছেন প্রজ্ঞালোক প্রাপ্ত সংস্কারের দূত হয়ে।



মননশীল ও জ্ঞানভিত্তিক মুসলিম সমাজ গঠনের মহান স্বপ্ন বুকে ধারণ ও লালন করে মেঘনার পাড় হতে গঙ্গার তীরে পৌঁছানো পোড় খাওয়া তরুণ নাসিরউদ্দীন এক সময় হয়ে উঠেন আধুনিক ও ঐতিহ্যবাদিতার অনন্য ভরকেন্দ্র। তিনি একদিকে যেমন জাগাতে চেয়েছেন মুসলিম লেখকদের সৃজনশীলতার জগৎ তেমনি অন্যদিকে হিন্দু সাহিত্যিকদের সাহিত্য কর্ম বুকে ধারণ করে 'সওগাত'কে ঋদ্ধ করার পাশাপাশি হিন্দু-মুসলমানের সমপ্রীতিকে তুলে ধরেছেন ঊধর্ে্ব। তিনি একদিকে মুসলিম নারীদের মধ্যে যেমন সাহিত্যের প্রণোদনা তৈরি করেছেন তেমনি অন্যদিকে হিন্দু নারী সাহিত্যিকদের কাছেও ছিলেন আস্থা ও আন্তরিকতার প্রতীক। অর্থাৎ তিনি সার্বিকভাবে নারীদের জ্ঞান ও প্রজ্ঞার স্ফূরণ ঘটাতে সচেষ্ট ছিলেন যেমন, তেমনি অসামপ্রদায়িক চেতনার মশাল প্রজ্জ্বলিত রেখে এগিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছেন বাঙালির মুক্তবুদ্ধি ও মুক্তচিন্তার ধারাকে।



 



লেখকবন্ধু নাসিরউদ্দীন :



ভাগ্যের সাথে সংগ্রাম করে বড় হতে হতে নাসিরউদ্দীন একদিকে যেমন নির্মাণ করেছেন সমাজ-সভ্যতা, তেমনি অন্যদিকে নির্মাণ করেছেন আত্মজীবনের ধারাপাত। তিনি কেবল সাহিত্যের সহায় হয়ে উঠেছিলেন তাই-ই নয়, তিনি সাহিত্যিকের জন্যেও ছিলেন এক মহামঞ্চ। তিনি একদিকে যেমন বিরল মেধার অধিকারিণী ফজিলতুন্নেসাকে বিলেতে গণিত বিষয়ে পিএইচডি করতে আর্থিক সহযোগিতা করেছেন তেমনি বাউন্ডুলে নজরুলকে চুক্তিতে বেঁধে তার দারিদ্র্য ঘোচানোর প্রয়াস নিয়েছেন। তাঁর 'সওগাত'-এ কাজ করে ওপারে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় আর প্রেমেন্দ্র মিত্র যেমন ডাল-ভাতের ব্যবস্থা করেছিলেন, তেমনি এপারে আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরীও পেয়েছেন রুটি-রুজির দেখা। একদিকে 'বেগম ক্লাব'-এর মাধ্যমে তিনি মননশীল মুসলিম মহিলাদের সাহিত্য আড্ডার যেমন ব্যবস্থা করেছিলেন তেমনি অন্যদিকে ঊনিশশো ছত্রিশ সালে 'সওগাত সাহিত্য মজলিশ' সৃষ্টি করে লেখকদের নিয়মিত বসার সুযোগ তেরি করে দিয়েছেন। চা-পানের অবিরাম প্রবাহ বজায় রেখে তিনি যেমন নজরুলের গলায় গানের প্রবাহ অবিরত করেছেন তেমনি কক্ষ বরাদ্দ করে সাহিত্য আড্ডার লালনকারীতে পরিণত হয়েছেন। 'সওগাত সাহিত্য মজলিশ'-এর ধারাবাহিকতায় নাসিরউদ্দীন মহিলা সাহিত্যিকদের জন্যে গঠিত 'বেগম ক্লাব'-এ বেগম শামসুন্নাহার মাহমুদ ছিলেন প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি এবং নাসিরউদ্দীন তনয়া নূরজাহান বেগম ছিলেন এর প্রতিষ্ঠাকালীন সেক্রেটারী। কবি বেগম সুফিয়া কামাল ছিলেন 'বেগম ক্লাব'-এর উপদেষ্টা।



আঠারোশ আটাশি সালে বাবা আব্দুর রহমানের ঔরসে, মা আমেনা বেগমের রত্নগর্ভ হতে জন্ম নেওয়া নাসিরউদ্দীন সবচেয়ে বেশি আলোকনের কাজ করেছেন বাংলার অবরোধবাসিনী মুসলিম নারীদের জন্যে। বেগম রোকেয়ার আদর্শের ধ্বজাধারী 'সওগাত'-এর সম্পাদক নাসিরউদ্দীন নারীশিক্ষার প্রদীপটি উজ্জ্বল করে জ্বালিয়ে রেখেছেন নারী লেখকদের খুঁজে খুঁজে বের করে এনে। নারীদের জন্যে 'বেগম'-এর অবতারণা করে তিনি মুসলিম নারী লেখিকাদের প্রতিষ্ঠা দিয়ে গেছেন রক্ষণশীল সমাজ ব্যবস্থায়। বছরে একটি 'সওগাত' নারী সংখ্যার মাধ্যমে তিনি চেষ্টা করেছেন অন্তঃপুরবাসিনীকে কলম ধরাতে, নিজেদের চিন্তারাজিকে অবমুক্ত করতে। এইসব নারী লেখিকা নিজেরাই যে সব সময় স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে লিখতেন তা-ই নয়, কখনো কখনো নাসিরউদ্দীন নিজেও এদের তাগিদ দিয়ে লেখাগুলো লিখিয়ে নিতেন। এভাবেই তিনি পশ্চাৎপদ নারী সমাজকে টেনে এনেছেন জ্ঞানের আলোর মুক্ত প্রাঙ্গণে।



'সওগাত'-এ মুসলিম নারী লেখক :



বেগম রোকেয়ার লেখা 'সওগাত' প্রথম সংখ্যায় 'সওগাত' নামে একটি কবিতা এবং একটি প্রবন্ধ 'সিসিম ফাঁক' ছাপা হলেও যে নারী লেখককে 'সওগাত' গড়ে তুলেছে বলা যায়, তিনি আজকের জননী সাহসিকা বেগম সুফিয়া কামাল, যিনি প্রথম দিকে সুফিয়া এন হোসেন নামেই লিখতেন। তাঁর প্রথম কবিতা 'বাসন্তী' ছাপা হয় 'সওগাত'-এ। ছাপার আগে কবি কাজী নজরুল ইসলাম এই কবিতাটিকে প্রয়োজনীয় ঘষামাজা সম্পন্ন করেন। প্রথম কবিতা ছাপা হওয়ার পর হতেই এই মহিলা কবির লেখার প্রতি সাড়া তৈরি হয়। এর ফলে ঘর হতে তার পুরো কবিতার খাতা আনা হলো 'সওগাত' অফিসে এবং কবিতাগুলো নজরুলের সম্পাদনায় একের পর এক মাসিক 'সওগাত'-এ ছাপা হতে থাকলো। সওগাতে নিয়মিত লিখতে থাকা অন্যান্য মুসলিম নারী লেখকদের মধ্যে চট্টগ্রামের হাবীবুল্লাহ্ বাহারের বোন বেগম শামসুন্নাহার মাহমুদ, প্রথম মুসলিম নারী ঔপন্যাসিক নুরুন্নেসা বিদ্যাবিনোদিনী, কবি কাজী নজরুলের অসফল প্রেমের নায়িকা গণিতে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হওয়া ফজিলতুন্নেসা, আয়শা আহম্মদ, রাবেয়া খাতুন ও হোসনে আরা প্রমুখ খ্যাত-অখ্যাত নারী লেখিকাবৃন্দ। বাংলা তেরশ চৌত্রিশ সালের অগ্রহায়ণ সংখ্যায় ফজিলতুন্নেসা লিখিত 'বাঙালি মুসলিম নারী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা' শীর্ষক একটি মূল্যবান প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়, যার আবেদন আজও সমকালীন বলেই প্রতীয়মান।



'সওগাত'-এ হিন্দু নারী লেখিকাবৃন্দ :



ঊনিশশো আঠার সালের দুই ডিসেম্বর 'সওগাত' প্রথম সংখ্যায় নাসিরউদ্দীন প্রথম পাতায় বেগম রোকেয়ার কবিতা 'সওগাত' ছাপানোর বিপরীতে দ্বিতীয় পাতায় কবি মান কুমারী বসুর কবিতা প্রকাশ করেন। মান কুমারী বসু ছিলেন মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের বাবা রাজ নারায়ণ দত্তের ভ্রাতুষ্পুত্রের ঘরের নাতনী। অর্থাৎ মধুসূদনের ভাতিজি। মাইকেলের সমাধির এপিটাফে উৎকীর্ণ কবিতার ভাব অবলম্বনে মান কুমারী বসুও তার নিজের সমাধির এপিটাফ রচনা করেন। এছাড়াও স্বর্ণকুমারী দেবী, রাধারাণী দেবীর মতো নামীদের পাশাপাশি তুলনায় স্বল্পখ্যাত সরসীবালা বসুদের মতো কবির লেখাও 'সওগাত'-এ ছাপা হতো।



'সওগাত'-এ মুসলিম সাহিত্যিক :



সওগাত কখনো ধর্ম প্রচারের মুখপাত্র ছিলো না। 'সওগাত'-এর লক্ষ্য ছিলো অন্তর্জগতের আলোকন ও সাহিত্যিক পরিম-ল বৃদ্ধি ও বিকাশ ঘটানো। তারই সূত্র ধরে সওগাতে প্রায় অনেকেই লিখেছেন। সওগাতের মূল লেখক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, যিনি রীতিমতো মাসিক দেড়শ টাকা বেতনে তখনকার দিনে চুক্তিবদ্ধ হয়ে চাকরি করতেন 'সওগাত'-এ। নজরুল ও অন্য কয়েকজনের উদ্যোগেই সওগাত একসময় মাসিকের পাশাপাশি সাপ্তাহিক হিসেবেও প্রকাশিত হয়। যুদ্ধক্ষেত্র হতে পাঠানো হাবিলদার নজরুলের 'বাউন্ডুলের আত্মকাহিনী' গল্পটি অন্য সম্পাদকরা না ছাপালেও নাসিরউদ্দীন তা 'সওগাত'-এ প্রকাশ করেন। নজরুলের প্রথম দিককার লেখায় তাঁর পরিচয় হাবিলদার কাজী নজরুল ইসলাম থাকলেও পরবর্তীতে হাবিলদার পদবীটি উঠে যায়। নজরুলের অনেক লেখার মধ্যে 'চল্ চল্ চল্ / ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল' গানটি 'সওগাত'-এই প্রথম ছাপা হয়। 'সওগাত' সম্পাদক নাসিরউদ্দীনের ভাষ্য হতে পাই, নজরুলের গল্প ও উপন্যাসের অধিকাংশই তার ফরমায়েশে লেখা। অল্প সময়ের ব্যবধানে লেখা এবং অনেক সময় আগের লেখা কী গেছে তা খেয়াল না করেই তিনি পরের সংখ্যার ধারাবাহিক লিখেছেন। কেবল পান আর চা নিয়ে সামনে বসিয়ে দরজা বন্ধ করিয়ে দিয়ে তারপর নাসিরউদ্দীন এক বসাতে নজরুল থেকে লেখা আদায় করেছেন। নজরুলের গল্প ও উপন্যাসগুলো তাই বাস্তবিকপক্ষে আরও মানসম্মত হতে পারতো। কখনও কখনও নজরুল 'সওগাত'-এ সম্পাদকীয় কলামও লিখতেন। 'সওগাত'-এ নজরুল কেবল লেখক কিংবা কর্মী হিসেবেই সংযুক্ত ছিলেন না। তিনি 'সওগাত সাহিত্য মজলিশ'-এর মূল আড্ডারু ছিলেন। গান গেয়ে, খল্ খল্ হাসিতে জমিয়ে রাখতেন তাঁর 'সওগাত' ক্ষণিকাবাস। বাংলা সাহিত্য চর্চায় আরবী-ফার্সীজাত শব্দের আত্মীকরণে নজরুলকে 'সওগাত' সম্পাদক নাসিরউদ্দীনই অধিক প্রণোদিত করেন। তবে 'সওগাত'-এ নাসিরউদ্দীন নজরুলের সব লেখা ছাপেননি। তিনি নজরুলের 'রক্তাম্বরধারণী মা' কবিতাটি না ছাপিয়ে এড়িয়ে যান। কেননা ঐ সময় তার উদ্দেশ্য ছিল 'সওগাত'-কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। 'রক্তাম্বরধারিণী মা'-তে একদিকে যেমন বৃটিশ রাজশক্তির ভয় ছিলো তেমনি অন্যদিকে মৌলানা আক্রাম খাঁ ও সমমনা অন্যদের কাছ থেকে আক্রমণ আসার ভয় ছিলো।



মূলত যে চিন্তা নায়কের লেখা পেয়ে নাসিরউদ্দীন নিজেকে ধন্য মনে করেছিলেন তিনি হলেন আব্দুল করিম সাহিত্য বিশারদ। প্রাচীন বাংলার সাহিত্য নিয়ে লেখা একটি প্রবন্ধ দিয়ে তিনি সমৃদ্ধ করেন তেরশ পঁচিশ বাংলার অগ্রহায়ণের 'সওগাত'-কে। প্রথম দিকে কেউ নাসিরউদ্দীনকে 'সওগাত'-এ তাঁর নিজের পদবী সম্পর্কে জানতে চেয়ে প্রশ্ন করলে তিনি নিজেকে ব্যবস্থাপক বলে পরিচয় দিতেন এবং সম্পাদক হিসেবে নাম ছাপা হতো আব্দুল করিম সাহিত্য বিশারদের। কয়েক সংখ্যা পরে এই নাম পরিবর্তিত হয়ে সম্পাদক হিসেবে নাসিরউদ্দীনের নাম ছাপা হতে থাকে। প্রসঙ্গত বলা যায় আব্দুল করিম দুটি উপাধি লাভ করেছিলেন। একটি সাহিত্য সাগর আর অন্যটি সাহিত্যবিশারদ। তিনি 'সাহিত্যবিশারদ' এই উপাধি পছন্দ করেন এবং আমৃত্যু তাঁর নিজের নামের সাথে যুক্ত করেছিলেন।



নাসিরউদ্দীনের 'সওগাত'-এ মহাকবি কায়কোবাদের কবিতা প্রথম সংখ্যাতেই ছাপা হয়েছিলো। এছাড়া আরও যে সকল মুসলিম সাহিত্যিক 'সওগাত'-এ লিখতেন তাদের মধ্যে আবুল ফজল, বন্দে আলী মিয়া, পল্লীকবি জসীম উদ্দীন, কবি শাহাদাত হোসেন, মোহাম্মদ বরকত উল্লাহ্, খান মুহম্মদ মঈনুদ্দিন, হাবীবউল্লাহ্ বাহার, আবুল কালাম আজাদ, বেনজির আহমদ, আব্দুল গফুর, আবুল হোসেন, কাজী মোতাহার হোসেন, প্রাবন্ধিক মহম্মদ শহীদুল্লাহ্, একরামুদ্দীন প্রমুখ উল্লেখযোগ্য। বরকত উল্লাহর দার্শনিক প্রবন্ধসমূহ 'সওগাত'-এর অনন্য সম্পদ। তাঁর জিজ্ঞাসাভিত্তিক আধুনিক আধ্যাত্মিক প্রবন্ধে উপকৃত হয় বাঙালি শিক্ষিত সমাজ। আবুল ফজলের সাথে 'সওগাত' কেন্দ্রিক রবীন্দ্রনাথের পত্র চালাচালি পত্রিকার পাতায় ছাপা হয়েছিল, যার মূল উপজীব্য বিষয়ই ছিল বাংলা ভাষায় মুসলমানি শব্দ। স্যাটায়ার শিল্পের পথিকৃৎ, 'আয়না'র স্রষ্টা আবুল মনসুর আহমদ 'সওগাত'-এর বেতনভূক কর্মী ছিলেন। 'আয়না' গ্রন্থের সকল লেখাই 'সওগাত'-এ প্রথম ছাপা হয়। বলা যায়, সম্পাদক নাসিরউদ্দীনের পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতাতেই এইসব লেখার জন্ম হয় ও প্রকাশিত হয়। ইসলামিক পত্রিকা 'মাসিক মোহাম্মদী' হতে বিতাড়িত হয়ে মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী এসে নাসিরউদ্দীনের সাথে যোগ দেওয়ায় আক্রাম খাঁ'র রোষের আগুনে যেন ঘৃতাহুতি পড়ে। এমনিতেই মৌলানা আক্রম খাঁ খুব কড়া সামপ্রদায়িক ভাষায় আক্রমণ করতেন 'সওগাত'-কে। তার উপর ওয়াজেদ আলী ছুটে যাওয়ায় 'মাসিক মোহাম্মদী'-র আক্রমণ আরও দ্বিগুণ বেড়ে গেল। মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী দীর্ঘদিন 'সওগাত'-পত্রিকার সম্পাদকীয় কলাম লিখতেন।



সওগাতে যারা প্রাবন্ধিক ও গদ্যকার ছিলেন তাদের লেখায় যেমনি বিষয়বস্তুর মধ্যে ব্যাপক বৈচিত্র্য ছিলো তেমনি ছিলো ব্যাপ্ত গভীরতা। আবদুল ওদুদের 'বাঙ্গালী মুসলমানের সাহিত্যসেবা'-র মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধগুলি 'সওগাত'-এর অনন্য সম্পদ। নাসিরুদ্দীন সম্পাদিত 'সওগাত' পত্রিকায় পীরপূজা, ইসলামের দান, ইসলামে পরমতসহিষ্ণুতার মতো বিষয়ে গুরুগম্ভীর লেখার পাশাপাশি রয়েছে 'মোল্লা সমাজ'-এর কড়া সমালোচনা এবং 'মুসলিম সমাজে ভিক্ষুকসমস্যা'-র মতো সমাজ পর্যবেক্ষণমূলক বিচিত্র বিষয়ের ওপর সুলিখিত প্রবন্ধ। পত্রিকার কয়েকটি সংখ্যায় প্রমিত বাংলা ভাষা এবং সেকালের মুসলমান সমাজের মুখের ভাষার সম্পর্কের জটিল বিন্যাস-কেন্দ্রিক বেশ কয়েকটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়াও প্রকাশিত হয়েছে নিখাদ সাহিত্য সমালোচনামূলক বেশ কয়েকটি প্রবন্ধ যার মধ্যে মুহম্মদ শহীদুল্লাহ-র 'চিত্রাঙ্গদা' নিয়ে আলোচনা এবং একরামুদ্দীনের 'মেঘনাদবধ কাব্য' ও 'বৃত্র-সংহার'-মহাকাব্যদ্বয়ের উপর লিখিত নাতিদীর্ঘ প্রবন্ধ উল্লেখযোগ্য। উল্লেখ্য যে 'সওগাত' এ গ্রন্থ আলোচনা ও সাহিত্যিক সমালোচনার দায়িত্ব বর্তেছিলো আবুল কালাম শামসুদ্দিনের ঘাড়ে এবং তিনি অত্যন্ত যোগ্যতার সাথে সে দায়িত্ব পালন করেন। তিনিই প্রথম নজরুলকে 'যুগ-প্রবর্তক' হিসেবে আখ্যা দেন।



ঊনিশশো পঞ্চাশ সালের পর হতে 'সওগাত' যখন ঢাকা হতে প্রকাশিত হতে শুরু করে তখন তখন তাতে কাজ করতেন এবং লিখতেন আব্দুল গাফফার চৌধুরী, কবি শামসুর রাহমান, হাসান হাফিজুর রহমান প্রমুখ। তারা কেবল 'সওগাত'-কে লিখেই সমৃদ্ধ করেননি, নিজেরাও 'সওগাত'-এর সমাজ সংস্কারকের ভূমিকাকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন সর্বতোভাবে। ঊনিশশো চুয়ান্ন সালে 'সওগাত' পত্রিকায় কবি সৈয়দ শামসুল হকের 'স্বপ্নতারা' কবিতা প্রকাশিত হয়। কবি আসাদ চৌধুরী সরাসরি 'সওগাত'-এর সাথে যুক্ত না থাকলেও তার ছোটবেলায় বাসায় রাখা 'সওগাত' হতে কবিতা বিষয়ে ধারণা লাভ করেন, যা তাকে পরবর্তীতে কবি হিসেবে আত্মপ্রকাশে উদ্বুদ্ধ করে। সাংবাদিক আব্দুল গাফফার চৌধুরী ঊনিশশো তিপান্ন সাল হতে বেশ কয়েক বছর 'সওগাত'-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন। ঊনিশশো ঊনপঞ্চাশ সালে 'সওগাত'-এ তার প্রথম গল্প প্রকাশিত হয়। হাসান হাফিজুর রহমান মাসিক 'সওগাত'-এর নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। গান্ধীবাদী মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী এবং বামপন্থী হাসান হাফিজুর রহমানের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে নাসিরউদ্দীন মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলীকে সম্পাদকীয় লেখার দায়িত্ব হতে অব্যাহতি দেন। হাসান হাফিজুর রহমান স্কুল ছাত্র থাকাকালীন সময়ে 'সওগাত'-এ তার ছোটগল্প 'অশ্রুভেজা পথ চলাতে' প্রকাশিত হয়। কুড়ি বছর বয়স হতেই কবি আহসান হাবীব 'সওগাত' পত্রিকায় কর্মী হিসেবে যোগ দেন। ঢাকা হতে প্রকাশিত 'সওগাত'-এ কবি ফররুখ আহমদের 'ডাহুক' কবিতাটি প্রকাশিত হয়, যার মূলভাব মুজাদ্দেদী সুফী মতবাদের উপর প্রতিষ্ঠিত।



'সওগাত'-এর ব্রাহ্ম ও হিন্দু কবি-লেখকেরা :



'সওগাত'-এর হিন্দু লেখকদের তালিকা নেহায়েৎ ক্ষুদ্র নয়। 'সওগাত'-এর উদ্দেশ্য একটি মননশীল আধুনিক মুসলিম সাহিত্য সমাজ গঠন করা হলেও তার পত্রিকায় প্রসিদ্ধ ও খ্যাতিমান হিন্দু ও ব্রাহ্ম লেখকদের বিচরণ ছিলো। রবীন্দ্রনাথ সেই সময়ে লেখনীর বিনিময়ে সম্মানী নিলেও তখন 'সওগাত' থেকে তিনি কোনো সম্মানী গ্রহণ করেননি। বরং বিনা সম্মানীতে তিনি 'সওগাত' নামে পত্রিকার নামের সঙ্গে চলনসই একটি কবিতা দেন। পাশাপাশি তাঁর প্রবন্ধেও 'সওগাত' সমৃদ্ধ হতো সে সময়। তিনি 'সওগাত'-এর মূল উদ্দেশ্যের সাথে পূর্ণাঙ্গ সহমত ছিলেন এবং তরুণ সম্পাদক রবীন্দ্রনাথকে প্রথম সংখ্যা 'সওগাত' দিতে গেলে তিনি 'সওগাত'-এর আবির্ভাবের উদ্দেশ্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং 'সওগাত'-এর সাফল্যের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে এ'ক্ষেত্রে 'সওগাত'-কে অগ্রণী বলে অভিমত দেন। আরেক ব্রাহ্ম বরিশালের কবি জীবনানন্দ দাশও লিখতেন 'সওগাত'- এ। কবি কাজী নজরুল এবং জীবনানন্দ দাশের মধ্যে প্রথম সাক্ষাৎ 'সওগাত' অফিসেই হয়েছিল, যদিও তেমন কোনো বাক্য বিনিময় হয়নি। 'সওগাত'-এ লিখতেন শরৎ চন্দ্র ঠাকুর, হাসির গানের রচয়িতা নলিনী কান্ত প্রমুখ। তারা নাসিরউদ্দীনকে দেখলেই প্যারোডি গাইতেন



'ঘাড়ের উপর এতো বড় শির / নাম রেখেছে তার নাসির / মরি হায়! কলিকাতা কেবল ভুলে ভরা।' 'সওগাত' প্রথম সংখ্যায় ছন্দের যাদুকর সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত লিখেছিলেন শাহজাদি জেবুন্নেসার ফার্সী কবিতার অনুবাদ 'সৌন্দর্য-সূর্যের প্রতীক'। তার অনুবাদে ছন্দ ও ভাষা এতো প্রাঞ্জল ও গতিশীল ছিলো যে, মনে হয়েছিল এটিই একটি মৌলিক লেখা। কবি কুমুদ রঞ্জন মলি্লকও কবিতা দিয়ে 'সওগাত'-কে সহযোগিতা করেন। গবেষক দীনেশচন্দ্র সেনের 'বঙ্গভাষার উপর মুসলমানের প্রভাব' শিরোনামে প্রবন্ধ 'সওগাত'-এর মর্যাদা বৃদ্ধি করেছিল নিঃসন্দেহে। বঙ্কিমচন্দ্রের 'আনন্দমঠ' উপন্যাস এবং তার মধ্যে বিদ্যমান 'বন্দে মাতরম' সংগীত নিয়ে হিন্দু ও মুসলমান, এই দুই সমপ্রদায়ের মধ্যে যে-রাজনৈতিক বিবাদ উপস্থিত হয়েছিল, তার চিহ্ন ধারণ করে প্রাবন্ধিক পুলকেশ দে সরকারের লেখা 'আনন্দমঠ কি স্বদেশী গ্রন্থ' শীর্ষক প্রবন্ধটি 'সওগাত'-এর শরীরে জ্বলজ্বল করছে আজও সোনার অক্ষরে। ছায়াছবি বিষয়ে প্রেমেন্দ্র মিত্র-সহ আরও কয়েকজন লেখকের লেখাও প্রকাশিত হয়েছিল 'সওগাত'-এ। এইসব লেখার সাথে ছবি সংযুক্ত হওয়াতে 'সওগাত' হয়ে উঠে সবার কাছে লোভনীয়।



নাসিরউদ্দীন ও আজকের সমকালীন সাহিত্যিক:



সওগাত-এর নাসিরউদ্দীনকে নিয়ে আজকের সমকালীন সাহিত্যিকরা বিচ্ছিন্নভাবে কিছু কিছু কাজ করে যাচ্ছেন। সাহিত্যিক মলয় চন্দন মুখোপাধ্যায় 'দেবাঞ্জলি' প্রথম সংখ্যায় ছেপেছেন নাসিরুদ্দীনের সাক্ষাৎকার। শর্মিষ্ঠা দাশগুপ্ত ছোট্ট পুস্তিকার মাধ্যমে 'সওগাত' স্মরণ করতে গিয়ে নাসিরউদ্দীনকেও স্মরণ করেছেন। জহিরুল হাসান নামে এক সাহিত্যিক 'বাংলায় মুসলমানের আটশো বছর' শীর্ষক বইতে "সওগাত' পত্রিকাই শুধু নয়, একটি আন্দোলনের নাম" শিরোনামে একটি প্রবন্ধ প্রকাশ করেন। দিলীপ মজুমদার দু'হাজার দশ সালে 'সওগাত, রবীন্দ্রনাথ এবং মুসলিম মানস' নামে একটি গবেষণাগ্রন্থ প্রকাশ করেন। 'সওগাত' পত্রিকায় প্রকাশিত বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন লেখক ও কবির লেখা থেকে সফিউনি্নসা নামে পশ্চিমবঙ্গের এক নারী সম্পাদক প্রকাশ করেছেন 'শতবর্ষের সেরা সওগাত' শিরোনামে এক অসাধারণ সংকলন গ্রন্থ । এই গ্রন্থে সওগাতে প্রকাশিত লেখক ও কবি তালিকা থেকে সওগাতের বিষয়-বৈচিত্র্য ও মনন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। তবে সংকলনটিতে নারী লেখকদের তেমন কোনো গুরুত্ব দেয়া হয়নি, যদিও নারী লেখকরাই ছিলেন 'সওগাত'- এর প্রাণ। আজকালের সাহিত্যিকদের লেখায় ও আলোচনায় নাসিরউদ্দীন ও 'সওগাত' বিভিন্নভাবে উল্লেখিত ও চর্চিত হচ্ছেন। 'চাঁদপুর সাহিত্য সম্মেলন ২০১৭'-এর স্মারক সংখ্যা 'উছল'-এর মধ্যে নাসিরউদ্দীনের একটি বিরল সাক্ষাৎকার পত্রস্থ হয়েছে। চাঁদপুরের কমিউনিটি পুলিশিং-এর স্মারক প্রকাশনায় প্রকাশিত কবিতার মধ্যেও সওগাত সম্পাদক নাসিরউদ্দীন জীবন্ত হয়ে আছেন।



স্মরণালোকে আলোকিত নাসিরউদ্দীন :



পিতার অকাল প্রয়াণে একদা যে ছেলেটি সুপারির ব্যবসার মাধ্যমে জীবিকা অর্জনে লিপ্ত হয়েছিল এবং পরবর্তীতে স্টীমার কোম্পানির সহকারী ও বীমা কোম্পানীর কর্মী হয়ে অবশেষে মনোনিবেশ করেন সম্পাদনার ব্রতে। সেই ছেলেটি যে বাঙালি মুসলিম সাহিত্যিক ও সাহিত্য জগতে নিয়ে আসবে বিপ্লব তা ছিলো অকল্পনীয়। 'সওগাত' সম্পাদক নাসিরউদ্দীন কোনোরূপ সামপ্রদায়িক চিন্তা হতে মুসলিম সাহিত্যিকদের পৃষ্ঠপোষকতা করেননি। বরং তিনি মুসলিম সমাজের গোঁড়ামি সংস্কারের পক্ষে ছিলেন। তাই আবুল মনসুর আহমদকে দিয়ে তিনি 'সওগাত'-এ লিখিয়েছেন 'লীডারে কওম' ও 'হুযুর কেবলা'। একদিকে তিনি যেমন জন্ম দিয়েছেন মুসলিম নারী লেখিকার তেমনি ঔপন্যাসিক নজরুলেরও জন্ম হয়েছে তাঁর হাতে। তিনিই নজরুলকে তাগাদা দিয়ে 'মৃত্যুক্ষুধা' ও 'কুহেলিকা' উপন্যাসদ্বয় লিখিয়ে নিয়েছেন ধারাবাহিকভাবে।



'সওগাত' সম্পাদক নাসিরউদ্দীন যেমন অন্য সাহিত্যিকদের লিখতে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন তেমনি তিনি নিজেও দু'একটি রচনা সৃষ্টি করেছিলেন। তবে নিজে সৃষ্টির দিকে নজর না দিয়ে আধুনিক মননের সাহিত্যিক সৃষ্টির দিকেই তাঁর মনোনিবেশ ছিলো অধিক। তিনি একদিকে কোলকাতার লেখকদের যেমন পেয়েছেন তেমনি অন্যদিকে বাংলাদেশের লেখকদেরও পেয়েছেন কাছ থেকে। তিনি শৈশবে যেমন মধুসূদনকে পাঠ করে উজ্জীবিত ছিলেন তেমনি রবীন্দ্রনাথের সানি্নধ্যেও তিনি ধন্য হয়েছেন। তিনি যেমন নজরুলকে আপন করে জেনেছেন তেমনি জীবনানন্দকেও দেখেছেন কাছ থেকে। শামসুর রাহমানও তাঁর সামনে এসেছেন অকপট হয়ে। নাসিরউদ্দীন 'সওগাত'-এর মাধ্যমে যেমন মুসলিম সাহিত্যিকদের নতুন মেজাজের এক সাহিত্যের স্রোতে আনতে পেরেছিলেন তেমনি হিন্দু সাহিত্যিকদের প্রেমও পেয়েছিলেন। তার সমকালীন সাহিত্যিকদের সৌরভে তিনি সত্যিকারের একজন অসামপ্রদায়িক চেতনার আধুনিক মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছিলেন সার্থকভাবেই। তিনি কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালেয়র মনোগ্রামে সরস্বতীর ছবি সংযুক্ত করতে তিনি যেমন পক্ষে ছিলেন না তেমনি হাজী শরীয়তউল্লাহর বংশধর পীরকেও বলতে ছাড়েননি-' পত্রিকায় নারী-পুরুষের ছবিতে অসুবিধা হলে পকেটে রাখা ইংল্যান্ডের রাজার ছবিওয়ালা টাকায় অসুবিধা হয় না?' তিনি এমনই অসামপ্রদায়িক, এমনই আধুনিক। সত্যিকার অর্থেই 'সওগাত' সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠান, একটি আন্দোলন এবং একটি যুগের দীপ্যমান কালজয়ী নাম।



 



লেখক : পীযূষ কান্তি বড়ুয়া, কবি ও প্রাবন্ধিক। ঢ়রলঁংযঢ়ঢ়ন@মসধরষ.পড়স



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৫৪৭৩১
পুরোন সংখ্যা