চাঁদপুর। বৃহস্পতিবার ৫ জুলাই ২০১৮। ২১ আষাঢ় ১৪২৫। ২০ শাওয়াল ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • কচুয়ায় স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে জেলা দায়রা জজ আদালত
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৯-সূরা আয্-যুমার

৭৫ আয়াত, ৮ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

২৪। যে ব্যক্তি কেয়ামতের দিন তার মুখ দ্বারা অশুভ আযাব ঠেকাবে এবং এরূপ জালেমদেরকে বলা হবে, তোমরা যা করতে তার স্বাদ আস্বাদন কর, সে কি তার সমান, যে এরূপ নয়?

২৫। তাদের পূর্ববর্তীরাও মিথ্যারোপ করেছিল, ফলে তাদের কাছে আযাব এমনভাবে আসল, যা তারা কল্পনাও করত না।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


মন যদি পরিষ্কার হয় তবে চোখের দৃষ্টি স্বচ্ছ হবে।                       


-টমাস পেইনি।


যে শিক্ষিত ব্যক্তিকে সম্মান করে, সে আমাকে সম্মান করে।   



 


ফটো গ্যালারি
টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টসমূহ উপলব্ধিতে গভর্নেন্সের রূপান্তর
পীযূষ কান্তি বড়ুয়া
০৫ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


২০১৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দারিদ্র্য নির্মূল,ধরিত্রী সুরক্ষা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে পরবর্তী পনের বছরের জন্যে ১৭টি টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট গৃহীত হয় যার ১৬৯টি লক্ষ্য এবং ২৩০টি সূচক ধার্য করা হয়। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে এই ১৭টি টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনের জন্যে রাষ্ট্রসমূহ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।



কিন্তু এই ১৭টি টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জন একটি গিরি-অতিক্রম্য কঠিন কর্মযজ্ঞ যা কোন রাষ্ট্রের কেবলমাত্র সরকারের একার পক্ষে করা সম্ভব নয়। তাই এই সুবিশাল ও মহৎ কর্মযজ্ঞকে সফল করে তুলতে রাষ্ট্রের সকলকে এই প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট করা জরুরি। এই কর্মযজ্ঞে সরকারের পাশাপাশি সুশীল সমাজ, প্রাইভেট সেক্টর, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাসমূহ, গণমাধ্যমসহ সকলের সক্রিয় ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আবশ্যক। সকলের অন্তর্ভুক্তিমূলক এই কর্মযজ্ঞকে সফল করতে হলে অভীষ্ট উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ সকলের কাছে উপলব্ধিযোগ্য করে তুলতে হবে। তার জন্যে কর্মযজ্ঞ পরিচালনা বা গভর্নেন্সের রূপান্তর প্রয়োজন। গভর্নেন্সের রূপান্তর না ঘটাতে পারলে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টসমূহ কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় প্রসার ও বিস্তার অর্জনে ব্যর্থ হবে। পরিণামে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রিয় ধরিত্রীর কাঙ্ক্ষিত রূপান্তর অর্জন সম্ভব হবে না এবং ভবিষ্যতের জন্যে পৃথিবীকে নিরাপদ ও বসবাসযোগ্য রাখাও হুমকির সম্মুখীন হবে।



 



এসডিজি বা টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট কী :



টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট মূলত ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে বর্তমানের চাহিদা পূরণ। এটি ভবিষ্যতের উন্নত ধরিত্রী প্রাপ্তির এক নীল নকশা।



ঙৎমধহরুধঃরড়হ ড়ভ বপড়হড়সরপ পড়ড়ঢ়বৎধঃরড়হ ধহফ ফবাবষড়ঢ়সবহঃ এর উবঢ়ঁঃু ঝবপৎবঃধৎু এবহবৎধষ গৎ উড়ঁম ঋৎধহঃু এর মতে, 'Organization of economic cooperation and development Gi Deputy Secretary General Mr Doug Frantz Gi g‡Z, 'SDGs are nothing less than a blueprint for a better world.A road map to get from the world we have to the world we want to have.It's a bumpy road, it's a vital journey and we will all be held to account in 2030 for what we have achieved collectively and individually.'



মেঙ্েিকার চিফ অব স্টাফ অব দ্য প্রেসিডেন্ট গৎ ঋৎধহংরংপড় এুঁসধহ এর মতে, 'এসডিজি সমূহ কেবলমাত্র বাড়তি কিছু হওয়া উচিৎ নয় বরং এটি সরকারের দায়িত্বশীলতার অতি গহীনে থাকা উচিৎ।'



ৎগভর্নেন্স কী ও তার রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তা :



গভর্নেন্স বা শাসন বা পরিচালনা মূলত কার্যনীতিসমূহ প্রতিষ্ঠা এবং তার সুষ্ঠু বাস্তবায়নের জন্যে অবিরত তদারকিকেই বুঝায়।



এসডিজি সমূহের সফল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে উদ্ভূত জটিলতা ও প্রয়োজনীয়তা এবং তাদের আঞ্চলিকীকরণ ও স্থানীয়করণের জন্যে প্রচলিত পরিচালন পদ্ধতি কার্যকর নাও হতে পারে। আজকের জটিল বিশ্ব পরিস্থিতিতে সরকারকে অর্থনতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত ব্যাপক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়। এতে সরকারের একার পক্ষে ১৭টি এসডিজি বাস্তবায়ন ও ধারণ করার জন্যে সংগঠিত হওয়া কঠিন বৈকি। এই অভীষ্টসমূহকে এগিয়ে নিতে হলে সরকারকে ক্ষেত্র বিশেষে তার নীতিমালার বাইরে গিয়ে কাজ করতে হবে। এটা সহজ কাজ নয়। সরকারের সকল যন্ত্রাংশে বর্ধিত জটিল সমীকরণ ও সম্পূরকতায় এসডিজিকে অগ্রাধিকার প্রদান করতে হবে। টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টের উপরে কাজ করা মানেই রাষ্ট্রের আয় সীমাকে অগ্রাহ্য করে এক দুর্জয় চ্যালেঞ্জকে মোকাবেলা করা। এই সংগ্রামে সকলের অন্তর্ভূক্তিমূলক অংশীদারিত্ব নিশ্চিতকল্পে পরিচালন পদ্ধতির রূপান্তর প্রয়োজন।



 



এসডিজি সমূহ বাস্তবায়নে বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রের গভর্নেন্সের রূপান্তর :



প্যারাগুয়ের এসডিজি অর্জনে রাষ্ট্রীয় কৌশলের অংশ হিসেবে ন্যাশনাল টিম গঠন করা হয়েছে যাতে উৎপাদনশীল খাতের প্রতিনিধি, সামাজিক খাতের প্রতিনিধি, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রের প্রতিনিধি, এজেন্ডা বাস্তবায়নে মধ্যস্থতাকারী সকলেই সংশ্লিষ্ট আছেন। সুইডেন এসডিজি বাস্তবায়নের শুরুর পর থেকেই নিজেরা অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে শুরু করেছে এবং তাদের সকল মন্ত্রণালয়কে এতে সম্পৃক্ত করেছে।



এসডিজি বাস্তবায়নে নেদারল্যান্ডের অভিজ্ঞতা চমকপ্রদ। তাদের এসডিজি সমন্বয়কারী Hugo Von Meijin Feldt বলেন, ''I was appointed as the SDG Co-ordinator without three P's.The famous three P's are : no power, np people and no pennies.' তারপরও নেদারল্যান্ড এগিয়ে যাচ্ছে এসডিজি অর্জনে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যস্থতায় আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে ১০-১২টি লক্ষ্য বাস্তবায়নে উদ্বুদ্ধ করছে।



মেক্সিকো সরকার National Council of the 2030 AGENDA for Sustainable Development-এর মাধ্যমে Sub-National Government এর সংশ্লিষ্টতা সাফল্যের সঙ্গে বৃদ্ধি করতে পেরেছে।



 



এসডিজি অর্জনে বাংলাদেশ :



এসডিজি অর্জনে বাংলাদেশ অনেকটুকু এগিয়ে গেছে ইতিমধ্যেই। ১৬ সদস্যের এসডিজি বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে যার কনভেনর হলেন মুখ্য সচিব এবং একজন অতি উচ্চমান ক্ষমতা সম্পন্ন কর্মকর্তা এর মুখ্য সমন্বয়ক।



মন্ত্রণালয়সমূহ ম্যাপিং-এর মাধ্যমে ৪০টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগসমূহকে নেতৃত্বশীলতা প্রদান করা হয়েছে এবং ৩৪টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগসমূহকে সহ-নেতৃত্ব প্রদান করা হয়েছে। বাকী ৬১টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগসমূহ সহযোগী দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছে।



ডাটা গ্যাপ বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিয়মিত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং উৎপাদনের জন্য ইতোমধ্যেই পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় একটি প্রকাশনা চূড়ান্ত করেছে। সেই তথ্যমতে,এই মুহূর্তে ৭০টি সূচকের পর্যাপ্ত ডাটা আছে, ১০৮টি সূচকের ডাটা মডিফাই করে তৈরি করা যাবে এবং ৬৩টি সূচকের কোন ডাটা নাই। নতুন জরিপ ও সেনসাসের মাধ্যমে এই ডাটা উৎপাদন করতে হবে।



 



বাংলাদেশে এসডিজি বাস্তবায়নে গভর্নেন্স রূপান্তরের উদ্দেশ্য :



ক) ভবিষ্যৎকে মাথায় রেখে গভর্নেন্স রূপান্তর



খ) ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা



গ) সুযোগ সমূহের সদ্ব্যবহার



ঘ) নতুন বিষয়বস্তু নিয়ে নতুন দিগন্ত উন্মোচন



ঙ) সমন্বিত প্রয়াসে এসডিজি বাস্তবায়ন



চ) মানসিকতা ও সংশ্লিষ্ট নেতৃত্বের রূপান্তর



ঙ) এসডিজি সমূহের স্থানীয়করণে প্রয়োজনীয় গভর্নেন্স প্রদান।



 



রূপান্তরিত গভর্নেন্সের মাধ্যমে প্রাপ্ত সাফল্য :



১। জনগণের দোরে দোরে সেবা পৌঁছে যাওয়া।



২। কমিউনিটি ক্লিনিক ও টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান



৩। জনগণকে অনলাইনে সেবা প্রদান



৪। জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন



৫। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মাইন্ডসেট পরিবর্তনে বছরে ৬০টি প্রশিক্ষণ



৬। সেবা সম্পর্কিত নাগরিক সনদ



৭। অ২র @ রহহড়াধঃড়ৎ এর মাধ্যমে ঞঈঠ তথা সেবা প্রদানে ঃরসব, পড়ংঃ ধহফ ারংরঃ হ্রাস করা



৮। প্রতি মঙ্গলবার অফিস প্রধান কর্তৃক গণশুনানি



৯। তথ্য অধিকার আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন



১০। তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা নিয়োগ ও আবেদনের প্রেক্ষিতে তথ্য প্রদান



১১। সকল সেবা অনলাইনভিত্তিক করা



১২। সেবাসমূহের স্থানীয়করণ



১৩। ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ঢ়ধঢ়বৎষবংং ড়ভভরপব ও ঊ-ভরষরহম নিশ্চিত করা



১৪। হয়রানিমুক্ত সেবা ও সহনীয় মাত্রায় দুর্নীতি হ্রাস



 



গভর্নেন্স রূপান্তরে চ্যালেঞ্জসমূহ :



* রিসোর্স মবিলাইজেশন



* বেসরকারি ও ব্যক্তিগত খাত হতে তহবিল সংগ্রহে পন্থা উদ্ভাবন



* রিসোর্স সমূহের কার্যকর ও যোগ্য ব্যবহার



* উপকারভোগীদের সম্পৃক্তকরণ



* তথ্য-উপাত্তের প্রাপ্যতা ও ব্যবস্থাপনা



* এসডিজি স্থানীয়করণে স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা।



এসডিজি বাস্তবায়নের অভিযাত্রায় জাতির জনকের মহান স্বপ্ন ও আদর্শ হতে বাংলাদেশ অনুপ্রাণিত। 'সকলের জন্য সমান সুযোগের মাধ্যমে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ' জাতির জনকের এই প্রজ্ঞাঋদ্ধ দর্শনই বাংলাদেশের এসডিজি অর্জন ও গভর্নেন্স রূপান্তরের মূলমন্ত্র।



 



এসডিজি দাবি করে দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকারসহ ঐকতানিক ও সামষ্টিক প্রয়াস। এ মুহূর্তে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে পরিগণিত। বাংলাদেশ তার সকল পলিসিতে এসডিজিকে প্রাধান্য দিয়েছে। সরকার অন্তর্ভূক্তিমূলক উন্নয়ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে যাতে দরিদ্রতম ও ঝুঁকিপূর্ণ অংশও সমন্বিত জাতীয় উন্নয়ন প্রচেষ্টায় সংশ্লিষ্ট হয়।



যেহেতু দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, তাই বিভিন্ন অঙ্গনে চ্যালেঞ্জ, রিসোর্স মবিলাইজেশন, ডাটা ব্যবস্থাপনা_এইসব বিষয়গুলোকে নজর দিতে হবে। তবেই আশা করা যায়, ২০৩০ সালে ঝউএ ঔঁহপঃরড়হ এ বাংলাদেশ আত্মবিশ্বাসের সাথে শীর্ষস্থানীয় রাষ্ট্র হিসেবে পরিগণিত হবে।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১২৬৪৩৩
পুরোন সংখ্যা