চাঁদপুর। বৃহস্পতিবার ৯ আগস্ট ২০১৮। ২৫ শ্রাবণ ১৪২৫। ২৬ জিলকদ ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • ফরিদগঞ্জের চান্দ্রার খাড়খাদিয়ায় ট্রাক চাপায় সাইফুল ইসলাম (১২) নামের ৭ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী ও সদর উপজেলার দাসাদি এলাকায় পিকআপ ভ্যান চাপায় কৃষক ফেরদৌস খান নিহত,বিল্লাল নামে অপর এক কৃষক আহত হয়েছে।
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪০-সূরা আল মু’মিন

৮৫ আয়াত, ৯ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৩১। যেমন, কওমে নূহ, আদ, মাসুদ ও তাদের পরবর্তীদের অবস্থা হয়েছিল। আল্লাহ বান্দাদের প্রতি কোন যুলুম করার ইচ্ছা করেন না।

৩২। হে আমার কওম, আমি তোমাদের জন্যে প্রচ- হাঁক-ডাকের দিনের আশঙ্কা করি।

৩৩। যেদিন তোমরা পেছনে ফিরে পলায়ন করবে; কিন্তু আল্লাহ থেকে তোমাদেরকে রক্ষাকারী কেউ থাকবে না। আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার কোন পথপ্রদর্শক নেই।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


দুঃখীদের মনের জোর কম থাকে।

-রবার্ট হেরিক।


যে শিক্ষা গ্রহণ করে তার মৃত্যু নেই ।



 


ফটো গ্যালারি
শিক্ষক বনাম শিক্ষক
সুধীর বরণ মাঝি
০৯ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

'কাকের মাংস খায় না কাকে, কভু মানুষের মাংস মানুষে খায় মানুষ নামের কিছু ভাল্লুক।' পাখিদের মধ্যে অতি চালাক হলো কাক। তারপরও সে তার নিজের জাত চেনে বলেই নিজের জাতের প্রতি সমীহ করে। আর মানুষের মধ্যে সর্বোচ্চ শ্রদ্ধেয়, জ্ঞানী ও সম্মানিত হলেন শিক্ষক। কিন্তু সেই শিক্ষকরা নিজেদের সম্পর্ককে ভেদাভেদের তুঙ্গে তুলে ধরে রেখেছেন। শিক্ষা ও শিক্ষক উভয়েই সমাজ ও জাতির অগ্রগতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষাক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের সবচেয়ে ধারাবাহিক সাফল্য হলো প্রাথমিক ও মাধ্যমিক এবং মাদ্রাসা শিক্ষায় বছরের প্রথম দিনে বই উৎসব পালন। অর্থাৎ ১ জানুয়ারি সকল শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যে বই তুলে দেয়া। দেশের উন্নতি বিচারের মাপকাঠির একটি হচ্ছে শিক্ষা। অর্থাৎ রাষ্ট্র শিক্ষাখাতকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে এবং শিক্ষার দায়ভার রাষ্ট্র কতটুকু গ্রহণ করছে সেটা এখানে বিবেচ্য বিষয়। আমরা সেখানে রাষ্ট্র এবং সরকারের কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখতে পাই। এর ধারাবাহিকতায় সরকার প্রতিটি উপজেলায় একটি করে সরকারি কলেজ এবং সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ঘোষণা করে। মাধ্যমিক স্তরে সরকারি কার্যক্রম (জি.ও.) চালু হলেও কলেজ পর্যায়ে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা (শিক্ষক সমিতির) বাধার কারণে ঘোষিত কলেজগুলোর জি.ও. জারিতে বিলম্বিত হচ্ছে। আমরা জানি, বীজ ভালো না হলে ফলনও ভালো হয় না। তাই শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে শিক্ষকদের গুণগত মানও অতীব প্রয়োজন। শিক্ষকরা হলেন সমাজের বাতিঘর। তাই বাতিঘরের মধ্যে এরকম টানাপোড়ন দেশ ও জাতির জন্য শুভকর নয়। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা (শিক্ষক সমিতির) নেতাদের কাছে একটি সবিনয় জিজ্ঞাসা। আপনারা অনেকেই আছেন যারা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (এমপিওভুক্ত) প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করে পরবর্তীতে উচ্চ শিক্ষা শেষ করে বিসিএস দিয়ে শিক্ষা ক্যাডারে শিক্ষক হয়েছেন। তাই বলে কি আপনি আপনার সাবেক ওই সকল স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের দেখলে সম্মান করবেন না? তারাতো আপনার মতো ক্যাডার না। তাদের দেয়া শিক্ষার ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী জীবনে আপনি অগ্রসর হয়েছেন। আপনি ক্যাডার হয়েছেন বলে কেউ আপনার সমকক্ষ হতে পারবে না_এই ধারণা মোটেও কি প্রাসঙ্গিক? আপনি ক্যাডার তাই বলে অন্যকে সম্মান দেয়ার ক্ষেত্রে সংকীর্ণতা পোষণ করবেন কেন? ক্যাডার মানে এই নয় যে, আপনি সকল কিছুর ঊধর্ে্ব। ক্যাডার মানে এই, আপনি আদর্শ। সবাই আপনার সততা এবং আচরণ দেখে মুগ্ধ হবেন, মোহিত হবেন এবং আপনাকে অনুসরণ করবেন। আপনি হবেন অনুসরণীয়। একজন ক্যাডারভুক্ত শিক্ষক হয়ে নিশ্চয়ই আপনি চাইবেন না আপনার সমগোত্রীয় কেউ অসম্মানের বোঝা কাঁধে নিয়ে বয়ে বেড়াক। গোটা শিক্ষকরা কেন একটা শিক্ষা পরিবারের নয়? দক্ষিণ এশিয়ার কিছু দেশ ছাড়া পৃথিবীর কোনো দেশেই শিক্ষা নিয়ে এরকম ক্যাডার নন-ক্যাডার বৈষম্য নেই। শিক্ষকদের ক্যাডার নন-ক্যাডার বিরোধের কারণে শিক্ষার অগ্রগতি ব্যাহত হচ্ছে এবং জাতীয় উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ঠিক আছে আপনারা ক্যাডার হওয়ার জন্য যথেষ্ট পরিশ্রম করেছেন। সেই মেধা ও পরিশ্রমের প্রতি সম্মান আমাদের আছে। কিন্তু তার জন্য শিক্ষা জাতীয়করণের একটা অগ্রবর্তী প্রচেষ্টা ও কর্মপরিকল্পনাকে আটকে দেয়া কতটা সমাচীন? দেশের স্বাধীনতার জন্য যদি ৩০ লাখ মানুষ জীবন দিতে পারে, তবে দেশের শিক্ষা ও জাতীয় উন্নয়নের স্বার্থে ক্যাডার নন-ক্যাডার ভেদাভেদ ভুলে কেন শিক্ষার জাতীয়করণকে সফল করতে পারি না? আমাদের একটা বিষয় পরিষ্কার মনে রাখা দরকার, একটা সমিতি বা সংগঠন রাষ্ট্র বা সরকারের চেয়ে অধিক শক্তিশালী হতে পারে না। আমি প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রের জনগণের চাহিদা পূরণ করতে বাধ্য। আমরা যদি বিরোধে লিপ্ত হই তাহলে তৃতীয় পক্ষ সুযোগ নেবে। নেয়ার অধিকার আছে তার, দেয়ার ক্ষমতা আছে যার। তাই আসুন তর্কে নয়। সকল সংকীর্ণতার ঊধর্ে্ব উঠে কলেজ জাতীয়করণকে সফল করে শিক্ষা এবং জাতীয় উন্নয়নের গর্বিত অংশীদার হই। শিক্ষক আমি, আছে যত সমগোত্রীয় সকলেই হোক উন্নত_ এই হোক সকলের ব্রত।

আজকের পাঠকসংখ্যা
৭৯০৮৬১
পুরোন সংখ্যা