চাঁদপুর। বৃহস্পতিবার ৯ আগস্ট ২০১৮। ২৫ শ্রাবণ ১৪২৫। ২৬ জিলকদ ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • ফরিদগঞ্জের চান্দ্রার খাড়খাদিয়ায় ট্রাক চাপায় সাইফুল ইসলাম (১২) নামের ৭ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী ও সদর উপজেলার দাসাদি এলাকায় পিকআপ ভ্যান চাপায় কৃষক ফেরদৌস খান নিহত,বিল্লাল নামে অপর এক কৃষক আহত হয়েছে।
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪০-সূরা আল মু’মিন

৮৫ আয়াত, ৯ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৩১। যেমন, কওমে নূহ, আদ, মাসুদ ও তাদের পরবর্তীদের অবস্থা হয়েছিল। আল্লাহ বান্দাদের প্রতি কোন যুলুম করার ইচ্ছা করেন না।

৩২। হে আমার কওম, আমি তোমাদের জন্যে প্রচ- হাঁক-ডাকের দিনের আশঙ্কা করি।

৩৩। যেদিন তোমরা পেছনে ফিরে পলায়ন করবে; কিন্তু আল্লাহ থেকে তোমাদেরকে রক্ষাকারী কেউ থাকবে না। আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার কোন পথপ্রদর্শক নেই।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


দুঃখীদের মনের জোর কম থাকে।

-রবার্ট হেরিক।


যে শিক্ষা গ্রহণ করে তার মৃত্যু নেই ।



 


ফটো গ্যালারি
স্বচ্ছ পানির আড়িয়াল বিল
গাজী মুনছুর আজিজ
০৯ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

দক্ষিণে ধলেশ্বরী ও পদ্মা নদীর মাঝে আড়িয়াল বিলের অবস্থান। প্রায় ২০ হাজার একরের এ বিল ঢাকার নবাবগঞ্জের উত্তর-পশ্চিম, দোহারের পশ্চিম ও মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর জুড়ে বিস্তৃত। বর্ষা মৌসুমে বিলের প্রায় সবত্র পানি থাকে। তখন বিল অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের মাধ্যম হয় ডিঙি নৌকা।

নৌকা নিয়ে আড়িয়াল বিলের মাঝে যখন আসি, তখন মধ্যদুপুর। সূর্যের তেজও বেশ। বিলের স্বচ্ছ পানি দেখে লোভও সামলাতে পারিনি। তাই গামছা পরে টুপ করে নেমে পড়ি। তারপর দিই ডুব। মুহূর্তেই শরীর যেন শীতল হয়ে গেল। আসলে বিলের পানি কেবল দেখতেই স্বচ্ছ নয়, প্রচুর ঠান্ডাও। এ ঠান্ডায় শরীরের ক্লান্তি যেটুকু ছিল, সবই যেন নেমে গেল।

বিলে নামার আগে দেখতে আসি শ্রীনগরের উত্তর বালাসুর গ্রামের বিক্রমপুর জাদুঘর ও নৌকা জাদুঘর। জাদুঘর দেখার পর হাতে সময় ছিল প্রায় সারাদিন। তাই ভাবি আড়িয়াল বিলের পানিতে গোসলটা সেরে নিই। জাদুঘর থেকে হেঁটে আসি উত্তর বালাসুর বাজার। স্থানীয় হাশেম আলী জানান, একটু এগোলেই দেখা মিলবে বিলের। তার কথা শুনে হাঁটা শুরু করি। হাঁটতে হাঁটতেই পরিচয় হলো মাঝবয়সী লাল চানের সঙ্গে। তিনি দুধ ব্যবসায়ী। তাকে জানাই বিলের পানিতে গোসল করতে চাই, কোন পথে গেলে ভালো হয়? উত্তরে তিনি আমাকে তার সঙ্গে হাঁটতে বললেন।

কিছুক্ষণ হাঁটার পর ডিঙি নৌকায় পার হই বাইন্না খাল। তারপর আরও কিছুটা পথ হেঁটে আসি লাল চানের বাড়ি। দোতালা টিনের ঘর তার। দেখতে দারুণ। এ অঞ্চলে প্রায় সব বাড়িতেই দেখা মিলল এমন দোতালা টিনের ঘর। লাল চানের বাড়ির সঙ্গেই বাইন্না খাল। আর খালের সঙ্গেই আড়িয়াল বিল। বাড়ির ঘাটেই লাল চানের ইঞ্জিনচালিত নৌকা বাঁধা। লাল চান আমাকে নিয়ে উঠলেন তার নৌকায়। আমার সঙ্গে আরও কয়েকজন শিশু-কিশোর উঠল। এরা কেউ লাল চানের ছেলে, কেউ লাল চানের ভাইয়ের ছেলে।

নৌকায় রওনা হই বিলের দিকে। দেখি খাল ধরে ডিঙি নৌকায় অনেক নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর ফিরছেন বিল থেকে। তাদের কেউ ফিরছেন গোসল সেরে, কেউ ফিরছেন মাছ ধরে। কেউ আবার ফিরছেন শাপলা তুলে বা গরুর জন্য খাদ্য হিসেবে কচুরিপানা নিয়ে। এসব দেখতে দেখতে অল্প সময়ের মধ্যে খাল পার হয়ে আসি মাঝবিলে। তারপর থামানো হয় নৌকা।

চোখ যতোদূর যায়, কেবল বিল আর বিল। হঠাৎই মনে পড়ল হুমায়ূন আজাদের লেখা 'ভালো থেকো' ছড়ায় আড়িয়াল বিল নিয়েও একটি লাইন আছে। লাইনটি এমন_ 'ভালো থেকো বক, আড়িয়াল বিল'। ছড়ার কথা মনে করতেই দেখি বিলে অনেক বকের উপস্থিতিও আছে।

পুরো বিল জুড়েই শাপলা-শালুক আর কচুরিপানায় ভরা। বিলের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে অাঁকাবাঁকা সরু খাল। বিলজুড়ে অনেক ডিঙি নৌকাও আছে। এসব নৌকায় কেউ ঘুরে ঘুরে শাপলা তুলছেন, কেউ বসে বসে মাছ ধরছেন, কেউ আবার মাছ ধরছেন জাল দিয়ে। কিংবা কেউ কাটছেন কচুরিপানা। বিলের কিছু স্থানে ছোট ছোট বসতিরও দেখা মিলল।

আমাদের নৌকায় যে শিশু-কিশোররা এসেছে তারা সবাই বিলের পানিতে নেমে সাঁতার কাটছে মনের অনন্দে। তাদের সাঁতার আর স্বচ্ছ পানি দেখে থাকতে পারিনি, গামছা পরে আমিও নেমে পড়ি। এমন স্বচ্ছ আর ঠান্ডা পানিতে সাঁতার কেটে, ডুব দিয়ে গোসল করাতে মনে হলো নাগরিক জীবনের শত ক্লান্তি নিমিষেই দূর হয়ে গেছে, যেন ফিরে পেয়েছি অনাবিল প্রশান্তির পরশ।

বেশ কিছুক্ষণ সাঁতার কেটে উঠি নৌকায়। তারপর আরও কিছুটা বিলের মাঝে বেড়িয়ে ফিরি লাল চানের বাড়িতে। লাল চানের স্ত্রী খেতে দিয়েছেন। সত্যিই গ্রামের মানুষের আতিথ্য এখনও অনন্য। লাল চান জানান, ঢাকার দক্ষিণে ধলেশ্বরী ও পদ্মা নদীর মাঝে এ বিলের অবস্থান। এর আকার প্রায় ২০ হাজার একর। এরমধ্যে প্রায় ৯ হাজার একর রয়েছে ঢাকার নবাবগঞ্জের উত্তর-পশ্চিম ও দোহারের পশ্চিমে। বাকিটা মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার উত্তর বালাসুর, হাঁসারা, বাড়ইখালী, ষোলঘর, শ্যামসিদ্ধ, শ্রীধরপুর, আলমপুর, লস্করপুর, পুটিমারা, আটধিপাড়া, দয়হাটা, সেলামতি, মত্তগাঁও, শিমুলিয়া, মদনখালী, গদিঘাট, আমারগাঁও, বাগরাসহ এর আশপাশের গ্রাম নিয়ে বিস্তৃত।

বর্ষা মৌসুমে এ বিলের প্রায় সবত্র পানি থাকে। কোথাও দুই ফুট, কোথাও চার ফুট, আবার কোথাও থাকে পাঁচ থেকে ছয় ফুট। তখন বিল অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের মাধ্যম হয় ডিঙি নৌকা। সেজন্য বিল অঞ্চলের প্রায় সবার বাড়ির ঘাটেই ডিঙি নৌকা বাঁধা থাকে। বর্ষার পর পানি কমলেও বিলের কোথাও কোথাও পানি স্থায়ীভাবে রয়ে যায়। আর যেখানে পানি থাকে না সেখানে ধান চাষ করা হয়। বাকিটা সময় এসব বিলে কেবল পানি আর পানি।

লাল চানের বাড়ি থেকে আসি বালাসুর বাসট্যান্ড। স্ট্যান্ডের সামাদ ভাইয়ের টি-স্টলে গরুর দুধের চা খেতে খেতে কথা হলো স্থানীয়দের সঙ্গে। তারাও জানান বিল অঞ্চলের মানুষের জীবন-যাপনের নানা কথা। সামাদ ভাইয়ের বানানো চায়ের স্বাদ দারুণ। এক কাপ শেষ করে আরেক কাপ খেতে খেতে অপেক্ষা করি ঢাকার বাসের জন্য।

প্রয়োজনীয় তথ্য : ঢাকার গুলিস্তান থেকে বালাসুরের উদ্দেশে আরাম বাস ছাড়ে কিছুক্ষণ পরপর। সময় লাগবে প্রায় দেড় ঘণ্টা। বালাসুর নেমে রিকশায় যাওয়া যাবে উত্তর বালাসুর। সেখান থেকে যাওয়া যাবে বিলের কাছে। স্থানীয়দের কাছ থেকে ডিঙি নৌকা বা ইঞ্জিনচালিত নৌকা ধার বা ভাড়া নিয়ে ঘুরতে পারবেন বিলে। খাওয়ার জন্য বালাসুর বাসস্ট্যান্ড বা উত্তর বালাসুরে আছে কয়েকটি রেস্তোরাঁ। বালাসুর না গিয়ে চাইলে দোহার, নবাবগঞ্জ বা শ্রীনগরের অন্যান্য স্থান থেকেও আড়িয়াল বিল বেড়াতে পারবেন।

আজকের পাঠকসংখ্যা
৮০৬০৮৬
পুরোন সংখ্যা