চাঁদপুর। রোববার ৭ অক্টোবর ২০১৮। ২২ আশ্বিন ১৪২৫। ২৬ মহররম ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুর সদর উপজেলার ৫ নং রামপুর ইউনিয়নের দেবপুর বড়হুজুরের বাড়িতে ২ শিশুসন্তানসহ একই পরিবারের ৪জন মারা গেছেন। || চাঁদপুর সদর উপজেলার ৫ নং রামপুর ইউনিয়নের দেবপুর বড়হুজুরের বাড়িতে ২ শিশুসন্তানসহ একই পরিবারের ৪জন মারা গেছেন। || চাঁদপুর সদর উপজেলার ৫ নং রামপুর ইউনিয়নের দেবপুর বড়হুজুরের বাড়িতে ২ শিশুসন্তানসহ একই পরিবারের ৪জন মারা গেছেন। || চাঁদপুর সদর উপজেলার ৫ নং রামপুর ইউনিয়নের দেবপুর বড়হুজুরের বাড়িতে ২ শিশুসন্তানসহ একই পরিবারের ৪জন মারা গেছেন।
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪২-সূরা শূরা

৫৪ আয়াত, ৫ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

২২। তুমি জালিমদেরকে ভীত-সন্ত্রস্ত দেখবে তাদের কৃতকর্মের জন্যে; আর এটাই আপতিত হবে তাদের উপর। যারা ঈমান আনে ও আমল করে তারা থাকবে জান্নাতের বাগানসমূহে। তারা যা কিছু চাইবে তাদের প্রতিপালকের নিকট তাই পাবে। এটাই তো মহা অনুগ্রহ।

২৩। এই সুসংবাদই আল্লাহ দেন তাঁর সেই বান্দাদেরকে যারা ঈমান আনে ও সৎ আমল (সুন্নাত অনুযায়ী আমল) করে।  বল : আমি এর বিনিময়ে তোমাদের নিকট হতে আত্ময়ীতার ভালোবাসা ব্যতীত অন্য কোনো বিনিময় চাই না। যে উত্তম কাজ করে আমি তার জন্যে এতে কল্যাণ বর্ধিত করি। আল্লাহ ক্ষমাশীল, গুণগ্রাহী।  

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


সবার সঙ্গে তাল মিলিয়ে যে কথা বলে সে ব্যক্তিত্বহীন।                


-মার্ক টোয়েন।


যে ব্যক্তি জ্ঞানীদের সম্মুখীন হওয়ার জন্য কিংবা মূর্খদের সঙ্গে তর্ক করার জন্য অথবা লোকের দৃষ্টি আকর্ষণের আশায় শিক্ষালাভ করতে চায়, আল্লাহ তাকে দোযখের আগুনে নিক্ষেপ করবেন।



 


ফটো গ্যালারি
একজন মহৎ ব্যবসায়ীর কথা
সাইফুল ইসলাম সুমন
০৭ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

একজন সৎ, মহৎ ও নিষ্ঠাবান ব্যবসায়ী জনাব আবিদ আলী পাটওয়ারী। তিনি ১৯১৮ সালে চাঁদপুর জেলাধীন কচুয়া উপজেলার মেঘদাইর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলায় তাঁর বাবা মারা যান, তাই তিনি তাঁর দাদা মরহুম জিয়া গাজী পাটওয়ারীর তত্ত্বাবধানে লালিত-পালিত হন। মরহুম জিয়া গাজী পাটওয়ারী একজন জমিদার ছিলেন। তাঁর দানকৃত ভূমিতে ঐতিহ্যবাহী মেঘদাইর তাহেরীয়া ফাযিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত। বাবা মারা যাওয়ায় তিনি পড়াশোনা করতে পারেননি। তাই ছোটবেলা থেকেই ব্যবসা করা শুরু করেন। প্রথমে বাজারে বাজারে বা গ্রামে গ্রামে ঘুরে ঘুরে তেল বিক্রি করতেন। তেল ব্যবসা করার সময় তাঁর হাঁটুতে একটি বড় ধরনের পাথরের টুকরা পড়ে প্রচ- ব্যাথা পান, সে সময়কার ব্যথা মরণ পর্যন্ত ছিলো। মেঘদাইর মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করার জন্যে ১৯৩৫ সালে মদিনা শরীফ থেকে বাবে জিব্রাঈলের খাদেম শাহসুফী সৈয়দ তাহের আল-মাদানী (রহঃ) আগমন করেন। তিনি মদিনা শরীফ থেকে আনা মোমবাতি জ্বালিয়ে মেঘদাইর মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করার জন্যে তিনি ক'দিন এখানে অবস্থান করেন। একদিন আবিদ আলীর প্রচ- মাথা ব্যথা করছিলোা তাই তিনি মাঠের এক কোণে মন খারাপ করে বসে আছেন। সৈয়দ সাহেব তাকে দেখে বললেন কি আবিদ আলী মন খারাপ করে বসে আছো কেনো? তখন তিনি বললেন, হুজুর আমার মাথাটা খুব ব্যথা করে। এ কথা শুনে সৈয়দ সাহেব বললেন, তুমি আমাকে এতোদিন বলনি কেনো? আচ্ছা তোমার মাথার দু পাশে দু হাত দিয়ে চাপ দিয়ে ধরো। চাপ দিয়ে ধরার পর হুজুর কি যেনো পড়ে ফুঁ দিয়ে বললেন এখন ব্যথা আছে? তিনি বললেন, একটু একটু আছে। সৈয়দ সাহেব বললেন, আবার ধরো, এরপর ফুঁ দিয়ে বললেন, এখন ব্যথা আছে? তিনি বললেন না। তখন সৈয়দ সাহেব বললেন, যাহ্ তোর এই মাথা ব্যথা জীবনে আর কখনো হবে না। সত্যি মরণের আগপর্যন্ত আর মাথা ব্যথা হয়নি। তেল ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে মেঘদাইর মাদ্রাসার সামনে একটি চা স্টল দিয়ে নতুন ব্যবসা শুরু করেন। সুন্দর ও পরিপাটিভাবে ব্যবসা করছিলেন। তিনি শাজুলিয়া দরবার শরীফের মরহুম পীর সাহেব শাহ মুহাম্মদ ফায়েজ উল্লাহ শাজুলি (রহঃ) ও এনায়েতপুর দরবার শরীফের মরহুম পীর সাহেব শাহ মুহাম্মদ আব্দুল গফুর (রহঃ)-এর মুরীদ ছিলেন। একদিন শাজুলি পীর সাহেব আবিদ আলী পাটওয়ারীকে বললেন, 'হক হালালীভাবে ব্যবসা করিয়েন, ওজনে কম দিয়েন না, খাদ্যে ভেজাল দিয়েন না।' তিনি ব্যবসাজীবনে পীর সাহেবের এ কথা পালন করছিলেন। মৃত্যু হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি আল্লাহর দরবারে বলতেন, 'আল্লাহ তুমি আমাকে মাফ করে দিও। শাজুলি হুজুর বলছিলেন_ওজনে কম দিয়ে ব্যবসা করিয়েন না তাই আমি ওজনে কম দিয়ে ব্যবসা করিনি। কেউ যদি এক সটাক তেল নিতে আসতো তখন আমি তাকে একটু তেল বাড়িয়ে দিতাম। আল্লাহ তুমি আমাকে মাফ করে দিও।' প্রত্যেকটা ব্যবসায়ী চায় তার ব্যবসা একটু বেশি হোক কিন্তু তিনি ছিলেন সবার থেকে আলাদা। ব্যবসা করার সময় কেউ যদি একটা চা বা অন্য কোনো কিছু একবার চাওয়ার পর আবার চাইতো তখন তিনি তাঁর ব্যবহৃত লাঠি বের করে ধমক দিয়ে বলতেন দিনে কত টাকা রুজি করছ? চা (অন্য কিছু) একটার পর আরেকটা খাইতে আইচোছ। কোনো বাচ্চা ছেলে-মেয়ে যদি ৫০-১শ'-৫শ' টাকার নোট নিয়ে এসে কোনো কিছু খেতে চাইতো তখন তিনি বাচ্চাদের খেতে দিয়ে টাকা রেখে বলতেন তোমার বাবা-মাকে বলিও আমার কাছে আসতো। যখন বাচ্চাদের বাবা-মা আসতো তখন তিনি তাদের বুঝিয়ে-সুঝিয়ে টাকা ফেরত দিয়ে দিতেন। মাদ্রাসার সামনে দোকান থাকা সত্যেও মাদ্রাসার কোনো শিক্ষক বিনাপ্রয়োজনে দোকানে বসে থাকতে পারতো না। ন্যায়নীতি ও নিষ্ঠার সাথে তিনি তাঁর ব্যবসাজীবন পরিচালনা করেছেন। মৃত্যু আগ পর্যন্ত তিনি একা একা হাঁটাহাটি করতেন। পুকুরে নেমে একা একা গোসল করতেন। শরীরে সাবান ব্যবহার করতেন না, তবুও তাঁর শরীর অনেক পরিষ্কার ও সুন্দর থাকতো। শেষ বয়সে তিনি ব্যবসা-বাণিজ্য ছেড়ে দিয়ে ইবাদত বন্দেগীতে মনোনিবেশ করেন।

২০১৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর সকাল ৯:২২ মিনিটে বার্ধক্যজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পরিবারের সকল সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনদেরকে শোকসাগরে ভাসিয়ে ১শ' বছর বয়সে দুনিয়ার মোহ ত্যাগ করে আল্লাহর সানি্নধ্যে চলে যান (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতের সুউচ্চ মাক্বাম দান করুক (আমিন)।

লেখক : শিক্ষার্থী, মেঘদাইর তাঃ ফাযিল মাদ্রাসা, কচুয়া।

আজকের পাঠকসংখ্যা
৮৭০২৮০
পুরোন সংখ্যা