চাঁদপুর। বৃহস্পতিবার ০১ নভেম্বর ২০১৮। ১৭ কার্তিক ১৪২৫। ২১ সফর ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪৩-সূরা যূখরুফ

৮৯ আয়াত, ৭ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৩৫। এবং স্বর্ণের নির্মিতও। আর এই সবই তো শুধু পার্থিব জীবনের ভোগ সম্ভার। মুত্তাকীদের জন্যে তোমার প্রতিপালকের নিকট রয়েছে আখেরাত (-(-এর কল্যাণ)।

৩৬। যে ব্যক্তি দয়াময় আল্লাহর স্মরণে বিমুখ হয় আমি তার জন্যে নিয়োজিত করি এক শয়তান, অতঃপর সেই হয় তার সহচর।

৩৭। তারাই (শয়তানরা) মানুষকে সৎপথ হতে বিরত রাখে, অথচ মানুষ মনে করে যে তারা হেদায়েতের উপর পরিচালিত হচ্ছে।    

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন



 


নিচে নামাটা যত সহজ, উপরে ওঠা তত সহজ নয়।                          


-টমাস ফুলার।


ক্ষমতায় মদমত্ত জালেমের জুলুমবাজির প্রতিবাদে সত্য কথা বলা ও মতের প্রচারই সর্বোৎকৃষ্ট জেহাদ।



 


ফটো গ্যালারি
ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর এমপি
কচুয়াবাসীর সেবায় তিন দশক
জাহিদ হাসান
০১ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


প্রায় ৩০ বছর ধরে কচুয়াবাসীর সেবায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর এমপি। দক্ষিণ এশিয়ার খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ, সাবেক চৌকস সচিব, সরকারের পরিকল্পনা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী এই মানুষটি এক অসামান্য জ্ঞানের অধিকারী। নিজের জ্ঞান, প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা আর সেবার মানসিকতার গুণে ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর এমপি আজ শুধুমাত্র একজন ব্যক্তি কিংবা একটি নামই নয়। কচুয়াবাসীর কাছে অনেকক্ষেত্রে তিনি একটি আদর্শ, একটি অবিচল আস্থা, ন্যায় আর উন্নয়নের প্রতীক। যেখানে একটি বর্ণিল কর্মজীবন শেষে তিনি আজ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে কচুয়ার প্রায় ৫ লক্ষ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছেন। কচুয়া নামক একটি অবহেলিত জনপদকে সমৃদ্ধ এবং উন্নতরূপে গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিবেদিত এই মানুষটি দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে কচুয়াকে একটি সমৃদ্ধ এবং উন্নত জনপদে পরিণত করেছেন। কচুয়ার সাধারণ মানুষের সেবা করা, তাদের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করার এই প্রচেষ্টাটি তাঁর প্রায় আড়াই যুগের। তিনি ১৯৮৮ সালে প্রথম উড়োজাহাজে করে কচুয়ার বন্যার্তদের জন্য ত্রাণ সহায়তা নিয়ে এসেছিলেন। সেই থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে সব রকম উন্নয়ন বার্তা কচুয়ার প্রান্তিক পর্যায়ে পেঁৗছে দিচ্ছেন। উন্নয়ন ক্ষেত্রে তাঁর অনবদ্য চেষ্টা আর অবদানের ফলে সারা দেশের ৪শ' ৯১টি উপজেলার মধ্যে কচুয়া উপজেলা পঞ্চম স্থানে রয়েছে। শুধু তাই নয়, উন্নয়নের ক্ষেত্রে কচুয়া যেন সারা দেশের মধ্যে প্রথম স্থানে আসতে পারে সে লক্ষ্যে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। যা কচুয়াবাসীর জন্য অনেক গৌরব এবং আত্মমর্যাদার। কচুয়ার সাধারণ মানুষের সেবা করতে এসে তিনি বার বার প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। বিরোধী রাজনীতি ও অন্যান্য প্রতিপক্ষ তাঁকে উন্নয়নের এই মানসিকতা থেকে ফেরাতে চেয়েছে বহু বার। তাঁকে অন্যায়ভাবে নির্যাতন ও জেল-জুলুম দেয়া হয়েছে। ২০০২ সালে তৎকালীন জোট সরকার তাঁকে গ্রেফতার করে জেলে নিলে সুপ্রিমকোর্ট তা অবৈধ ষোষণা করে। ২০০৭ সালে তিনি আবার সামরিক ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গ্রেফতার হন। পরে সুপ্রিম কোট তাও অবৈধ ঘোষণা করে। এতোসব অত্যাচার, নির্যাতনের পরও তিনি থেমে থাকেননি। ভুলে যাননি কচুয়াকে নিয়ে মনের মধ্যে লালিত স্বপ্নের কথা। তাইতো কচুয়াকে নিয়ে লালিত স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে আজও দিন রাত কাজ করে যাচ্ছেন।



 



চাঁদপুর জেলার প্রথম মুসলমান গ্র্যাজুয়েট কচুয়ার গুলবাহার গ্রামের মরহুম আশেক আলী খানের তৃতীয় ছেলে ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর। মা মরহুম সুলতানা বেগম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করলেও পরে তিনি সরকারের সিভিল সার্ভিসে যোগ দিয়ে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৭৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজনৈতিক ও উন্নয়ন অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ১৯৮০ সালে অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। কৃতিত্বপূর্ণ এবং বর্ণাঢ্য কর্মজীবন শেষে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামীগের রাজনীতিতে পদার্পণ করে সফলভাবে সরকারের পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী (৭ম সংসদ), স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (৯ম সংসদ)'র দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে ১০ম জাতীয় সংসদে সরকারি হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর তাঁর উন্নয়ন চিন্তা শুধুমাত্র কচুয়াতে সীমাবদ্ধ রাখেননি। এ চিন্তা তিনি রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ কল্যাণ পর্যন্ত প্রসারিত করেছেন। ১৯৯৬ সালে রাষ্ট্রীয় গণতন্ত্রের ক্রান্তিকালে তিনি জনতার মঞ্চ গঠন করে দেশকে চরম অনিশ্চয়তার হাত থেকে রক্ষা করতে সচেষ্ট হন। গঙ্গার পানি চুক্তি, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি চুক্তি, মিয়ানমারের সাথে ভূমি সনাক্তকরণ চুক্তি প্রণয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দেশের পঞ্চম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা তাঁরই সুচিন্তিত উন্নয়ন দলিল। তিনি বাংলা এবং ইংরেজি দুটি ভাষাতেই লিখতে পারেন। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় তিনি আর্থসামাজিক বিষয়ে নিয়মিত কলাম লিখে সুধী সমাজের কাছে প্রশংসিত হয়েছেন। তাঁর লেখা বইয়ের সংখ্যা বিশের অধিক। ২০০৩ সালে তাঁর লেখা 'জেলের কথা, মানুষের কথা' পাঠকমহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে ছিলো। ২০০৯ সালে কারাবাসের স্মৃতিতে লেখা 'নোটস্ ফ্রম এ প্রিজন_বাংলাদেশে' বইটি বাংলাদেশ ও আমেরিকায় যৌথভাবে প্রকাশিত হয়। ২০০৩ সালে রাজনীতি ও সমাজসেবার ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ অবদানের জন্য বিশ্ববাংলা সাহিত্য সংস্থা (কলকাতা) তাঁকে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর পুরস্কারে ভূষিত করে।



 



চাঁদপুর জেলার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি অবহেলিত জনপদের নাম ছিল কচুয়া। বোঝার সুবিধার্থে পাঠকদেরকে আজ থেকে ২০ বছর পূর্বের সময়ে নিয়ে যেতে চাই। ২০ বছর পূর্বে কেমন ছিল আজকের দৃশ্যত কচুয়া? কচুয়ার প্রাণকেন্দ্র অবস্থিত ভঙ্গুর ও অব্যস্থাপনার কচুয়াবাজার, বর্ষা মৌসুমে বাজারের গলিতে হাটু পানি, পিছিয়ে পড়া শিক্ষা ব্যবস্থা, উপজেলা সদরের সাথে গ্রামগুলোর অনুন্নত (জলপথের) যোগাযোগ ব্যবস্থা, নামমাত্র স্বাস্থ্য সেবা, সামাজিক অপরাধ, মাদক, সন্ত্রাসী কর্মকা-, উন্নত জীবনবোধের অভাব আর নিম্ন মানের জীবিকা নির্বাহের মধ্যে আবর্তিত ছিল কচুয়ার নাগরিক জীবন। জেলার অন্যসব উপজেলাগুলো যেখানে শিক্ষা-দীক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অন্যান্য দিক দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলো যুগের সাথে পাল্লা দিয়ে, সেখানে কচুয়া যেন পিছিয়ে পড়ছিলো সমান গতিতে।



 



উন্নয়নের ক্ষেত্রে বর্তমান কচুয়া এবং পূর্বের কচুয়ার মধ্যে পার্থক্য অনেক। এ প্রজন্মের অনেকেই আজকের কচুয়ার সাথে পূর্বের অবহেলিত কচুয়ার পার্থক্য বুঝে উঠতে পারবে না। আবার ইতিবাচক পরিবর্তনের এ যাত্রায় উন্নত কচুয়া গঠনের কৃতিত্ব অনেকে নিতে চাইলেও তা সম্ভব নয়। কারণ আজকের আধুনিক কচুয়ার পেছনে একজন মাত্র মানুষের ভূমিকাই মূখ্য। তিনি জননেতা ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর এমপি। উন্নয়নের ক্ষেত্রে পিছিয়েপড়া কচুয়াকে আধুনিক কচুয়া হিসেবে গড়ে তোলার প্রথম স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন তিনিই। কচুয়ার মানুষের মধ্যে উন্নত জীবনবোধ তৈরি করতে ১৯৯৮ সালে তিনিই নাগরিক সুবিধা সম্বলিত কচুয়া পৌরসভা প্রতিষ্ঠা করেন। কচুয়ার উন্নয়নের ক্ষেত্রে তিনি তার দূরদর্শিতা দেখিয়েছেন কচুয়ার অবকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে। তিনি চেয়েছিলেন উপজেলা সদরের সাথে বিচ্ছিন্ন গ্রামগুলোর যাতে যোগাযোগ বৃদ্ধি পায়। সেজন্য তিনি কচুয়ায় নতুন রাস্তা-ঘাট নির্মাণের পাশাপাশি ব্রীজ-কালভার্ট নির্মাণের উপর গুরুত্ব দিয়ে সমগ্র কচুয়াকে একিভূত করেন। সময়ের পরিক্রমায় উন্নয়নের ক্ষেত্র বৃদ্ধি পেতে থাকে। প্রায় ৩০ কি.মি. দূর থেকে কচুয়ায় গ্যাস সংযোগ স্থাপন তাঁরই বদৌলতে সম্ভব হয়েছিল। তাঁর একনিষ্ঠ উন্নয়ন ধারাবাহিকতায় কচুয়ায় আজ প্রায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় এসেছে। রাজধানী ঢাকার সাথে যোগাযোগ বাড়াতে গৌরীপুর-কচুয়া-হাজীগঞ্জ-লক্ষ্মীপুর মহাসড়ক স্থাপনের উদ্যোগ ছিল তার দূরদর্শী উন্নয়নের আরেকটি দৃষ্টান্ত। যার ফলে কচুয়ার ব্যাংক-বীমা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সার্বিক অর্থনৈতিক কর্মকা-ে গতি সঞ্চার হয়। কচুয়ায় অনেকটা পিছিয়েপড়া শিক্ষাক্ষেত্রকে তিনি যেন নিজ হাতে সামনে তুলে এনেছেন। নতুন নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, বিদ্যমান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংস্কার কাজ, নতুন ভবন নির্মাণ, দক্ষ পৃষ্ঠপোষকতা, শিক্ষার্থীদের জন্য নিজ তহবিল ও বিভিন্ন সংস্থার নামে বৃত্তি প্রদান যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য। কচুয়ার শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত যুবকদের জন্য তিনি নিজ উদ্যোগে তৈরি করেছেন নানামুখী কর্মক্ষেত্র। সে লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা করছেন বিভিন্ন সামাজিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানে চাকুরীর সুযোগ পেয়ে উপকৃত হয়েছে কচুয়ার হাজার হাজার বেকার যুবক। উপকৃত হচ্ছে তাদের পরিবার-পরিজনসহ অন্যরা।



 



কচুয়াবাসীর জন্য গর্ব এবং অহঙ্কারের অন্য নাম ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর। উন্নয়ন আর সমৃদ্ধিতে কচুয়াকে তিনি শূন্য থেকে পূর্ণ করেছেন। কচুয়ার সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করার মানসিকতা তাঁর পারিবারিক ঐতিহ্যের অংশ। পিতা মরহুম আশেক আলী খান ও পরিবারের অন্য সদস্যদের ন্যায় তিনিও সমৃদ্ধ কচুয়ার স্বপ্ন দেখেছেন অনেক আগে। তাঁর বড় ভাই মরহুম মিসবাহউদ্দিন খান কচুয়ার জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের সেবা করেছেন। আজ তাঁরই ছোট ভাই ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর বর্তমান আওয়ামী সরকারের টানা দুই মেয়াদে কচুয়ার মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছেন অত্যন্ত সাফল্যের সাথে। আমরা মনে করি, আজ কচুয়ার রাজনৈতিক নেতৃত্ব একজন যোগ্য মানুষের কাছেই আছে। আমরা বিশ্বাস করি, ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষে আবারও বিজয়ী হয়ে তাঁর অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করে কচুয়াবাসীর কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। _ইন্শাল্লাহ।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৫১০২৩৬
পুরোন সংখ্যা