চাঁদপুর। বুধবার ২৮ নভেম্বর ২০১৮। ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪৪-সূরা দুখান

৫৯ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

০৫। আমার আদেশক্রমে, আমি তো রাসূল প্রেরণ করিয়া থাকি।

০৬। তোমার প্রতিপালকের অনুগ্রহস্বরূপ; তিনি তো সর্বশ্রোতা সর্বজ্ঞ-

৭। যিনি আকাশম-লী, পৃথিবী ও উহাদের মধ্যবর্তী সমস্ত কিছুর প্রতিপালক, যদি তোমরা নিশ্চিত বিশ^াসী হও।





 

 


সেই আনন্দই যথার্থ আনন্দ যা দুঃখকে অতিক্রম করে আমাদের কাছে আসে।

  -নিক্সন ওয়াটারম্যান।


আল্লাহ যদি তোমাদের অর্থ-সম্পদ দান করেন তবে তাহা নিজের ও পরিবারের পক্ষ হতে বণ্টন শুরু করো।





 


ফটো গ্যালারি
নারী অধিকার নিয়ে কিছু কথা
মুক্তা পীযূষ
২৮ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


জগতের সৃষ্টিলগ্ন থেকে নারী পুরষের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাচ্ছে তবুও এখনও সমতা সমতা বলে বলে চিৎকার করি আমরা! কতো কষ্ট, কতোটা লজ্জা!



নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া কিংবা জননী-সাহসিকা জাহানারা ইমাম, কবি সুফিয়া কামাল এবং নারীনেত্রীরা কেনো বারবার নারীকে জাগতে বলেছেন তা আমরা কেউ কেউ বুঝতে পারি না বা না বোঝার ভান করি। আমাদের সমাজের নব্বই ভাগ নারীই এখনও জানে না কি তার ক্ষমতা! কবি নজরুল বলেছেন, 'ধূধূ জ্বলে ওঠো ধুমায়িত অগি্ন, জাগো মাতা কন্যা বধূ জায়া ভগ্নী'। নারীর দক্ষতা ও ক্ষমতার যথাযথ প্রয়োগের প্রভাবে উন্নত প্রজন্ম নির্মাণে তার কি ভূমিকা, তা সে নিজেই জানে না এখনও! আর এ সকল অবচেতন নারীর চেতনাকে জাগ্রত করতেই এখনো নারী দিবস পালিত হয়; পালিত হয় নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস। সমাজের অগ্রদূত নারীরা এখনো নিজেকে বেগুনি, কমলা রংয়ে সাজিয়ে নিজেদের যথার্থ মূল্যায়নের দাবি তোলে।



 



'প্রভাব' মানুষের জীবনধারণে খুব কার্যকর একটি শব্দ। হতে পারে তা ভালো বা মন্দ; কিন্তু এ শব্দটির ব্যাপকতা মানবজীবনে প্রবল। যেভাবেই হোক, ইবলিস শয়তান হাওয়াকে প্রভাবিত করে আদমকে গন্ধম খাওয়াতে সফল হয়েছিলো। তারই ধারাবাহিকতা এখন পর্যন্ত চলমান।



নারীর সুপ্রভাব তথা পুরুষের সব ভালো কাজে একাত্ম হওয়ার কারণে জগতের পুরুষেরা সফল আজকে; তা সে মা-বোন-প্রেমিকা-বন্ধু-স্ত্রী যে রূপেই প্রভাব বিস্তার করুক না কেনো পুরুষের মননে। তেমনি মায়মুনা কুটনি, চিনচা, মন্থরা-কৈকেয়ী, ঘষেটি বেগমদের কুপ্রভাবে জন্ম নেয় জগতের যতো অমঙ্গল ঘটনা।



একজন কম বেতন পাওয়া পুরুষের ঘুষ খাওয়ার পেছনে যতোটা না তার লোভ কাজ করে, তারচেয়ে বেশি কাজ করে বৌয়ের উচ্চভিলাষী চাহিদার ঘ্যান-ঘ্যানের প্রভাব। নারীর কাজ শুধুমাত্র অন্যের দোষ ধরা, পরশ্রীকাতরতা, কারো স্তুতি-কীর্তন করা বা ফুসলিয়ে নিজের পাওনা আদায় নয়। নারীর সত্যিকার ভালোবাসার প্রভাবে গোটা পৃথিবীর আমূল পরিবর্তন সম্ভব!



আমরা যারা নারী তারা নিজেরাই নিজেদের সমাজের বোঝা ও ধ্বংসের প্রধান কারণ বলে আমি মনে করি। কোনো এক ব্রিটিশ বিচারপতি বিচার কাজ শুরু করে প্রশ্ন করতেন কোথায় সে নারী যে এ কাজের জন্যে দোষী! এবং সকল শুনানির শেষে দেখা যেতো কোনো না কোনোভাবে একজন নারী ঘটনার সাথে জড়িত।



নারী-পুরুষের সমতা মানে নিজের লিঙ্গান্তর নয়! সমতা মানে নারীও পুরুষের ন্যায় সমান দক্ষতা ও ক্ষমতা ধারণ করে; এ বোধের উপলব্ধি। নারী-পুরুষ কখনোই একে অপরের প্রতিপক্ষ নয়; বরং একে অপরের সহযোগী, পরিপূরক। পুরুষকে প্রতিনিয়ত প্রতিপক্ষ মনে করার ফলেই এখন এতো নারী নির্যাতনের শিকার হচ্ছে পরিবার-সমাজ-রাষ্ট্র ও সারাবিশ্বে।



যতোদিন পর্যন্ত অবচেতন নারীরা অধিকার, সমতা, মূল্যায়ন শব্দগুলোর সঠিক প্রয়োগ জানবে না; ততোদিন অগ্রদূত নারীরা নিজেদের বেগুনি, কমলা রংয়ে সাজাবেন, কবিতার কথামালায়, ভাষণে নানাবিধ কর্মে নিজের প্রভাব বিস্তারে সচেষ্ট থাকবেন, যাতে করে নারী নিজেকে শুধুই নারী না ভেবে মানুষ ভাবতে শিখে।



 



বর্তমান সমাজব্যবস্থায় আপাত দৃষ্টিতে সবাই প্রগতিশীল মনে হলেও সমাজে নারীরা আজও শোষিত-বঞ্চিত-লাঞ্ছিত-অবহেলিত এবং ভোগপণ্য! তাইতো আমরা নারী দিবস, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবসের কথা বলি! আশু বন্ধ হবে কি এসব দিবস? যেদিন এতো ঘটা করে এই দিবস পালিত হবে না অধিকার আর সমতার কথা বলে বলে! যদি তাই হয় তবে আসলে সেদিনই জগতের সব নারী মানুষ হতে পারবে।



আমরা প্রায়ই দেখতে পাই কোনো প্রতিষ্ঠানপ্রধান নারী হয়েও তিনি একই পদে থাকা তার নারী কর্মীকে পুরুষের তুলনায় কম বেতন দিয়ে বৈষম্য সৃষ্টি করেন, আর মুখে মুখে নারী অধিকারের কথা বলেন!



এখনও কোনো নারী মেয়ে সন্তান জন্ম দেবেন জানতে-বুঝতে পারলে পরিবার থেকেই নির্যাতন শুরু হয়; মেয়েই তো হবে কি লাভ এতো এতো টাকা ওর খাওয়া-দাওয়া আর যত্নের পেছনে খরচ করে, এমনসব অহেতুক কথা বলে।



আমরা অনেকেই ঘরের কালো মেয়েটিকে ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী উপহার দিয়ে বিধাতা প্রদত্ত তার স্বাভাবিকতাকে অপমান করি বুঝে হোক কিংবা না বুঝে!



যখনই একজন শাশুড়ি নিজেকে মা মনে করবেন, যখন ছেলের বৌ তার মা আর শাশুড়ির পার্থক্য করবে না, নারী নিজেই অন্য নারীকে অধিকারবঞ্চিত করবে না যখন, নারী যখন নিজেকে কেবল নারী হিসেবে না ভেবে মানুষ ভাবা শুরু করবে তখনই পুরুষও নারীকে মূল্যায়ন করবেন। এবং তখন আর এসব দিবস পালন করতে হবে না সমতা দাও সমতা দাও বলে।



কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ নারীদের সম্পর্কে যথার্থ বলেছেন_



'আমি চিত্রাঙ্গদা, আমি রাজেন্দ্রনন্দিনী।



নহি দেবী, নহি সামান্যা নারী।



পূজা করি মোরে রাখিবে ঊধর্ে্ব



সে নহি নহি,



হেলা করি মোরে রাখিবে পিছে



সে নহি নহি।



যদি পাশ্র্বে রাখ মোরে



সংকটে সম্পদে,



সম্মতি দাও যদি কঠিন ব্রতে



সহায় হতে,



পাবে তবে তুমি চিনিতে মোরে।



আজ শুধু করি নিবেদন_



আমি চিত্রাঙ্গদা রাজেন্দ্রনন্দিনী'।



 



লেখক : আইপিপি, ইনার হুইল ক্লাব অব চাঁদপুর সেন্ট্রাল, ডিস্ট্রিক্ট-৩২৮, বাংলাদেশ।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৪২২৩৭৪
পুরোন সংখ্যা