চাঁদপুর। বুধবার ২৮ নভেম্বর ২০১৮। ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪৪-সূরা দুখান

৫৯ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

০৫। আমার আদেশক্রমে, আমি তো রাসূল প্রেরণ করিয়া থাকি।

০৬। তোমার প্রতিপালকের অনুগ্রহস্বরূপ; তিনি তো সর্বশ্রোতা সর্বজ্ঞ-

৭। যিনি আকাশম-লী, পৃথিবী ও উহাদের মধ্যবর্তী সমস্ত কিছুর প্রতিপালক, যদি তোমরা নিশ্চিত বিশ^াসী হও।





 

 


সেই আনন্দই যথার্থ আনন্দ যা দুঃখকে অতিক্রম করে আমাদের কাছে আসে।

  -নিক্সন ওয়াটারম্যান।


আল্লাহ যদি তোমাদের অর্থ-সম্পদ দান করেন তবে তাহা নিজের ও পরিবারের পক্ষ হতে বণ্টন শুরু করো।





 


ফটো গ্যালারি
মহাস্থান-এর অনন্যযাত্রা
মুহাম্মদ ফরিদ হাসান
২৮ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


জাতির মেধা, মনন ও চেতনা বিকাশে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ১৯৭৪ সাল থেকে অর্থবহ কর্মকা- পরিচালনা করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী নিজেই একজন মঞ্চের দক্ষ মানুষ, দক্ষ সংগঠক। তিনি নিজেই প্রায় ৬০টি নাটকে অভিনয় করেছেন। তাঁর নির্দেশিত নাটকের সংখ্যাও ৮০টির বেশি। কয়েকদিন আগে তাঁর নির্দেশনায় মহানাটক 'মহাস্থান' মঞ্চায়িত হচ্ছে জেনে তাই যতটা অবাক হয়েছি, তারচেয়ে অনেক বেশি আনন্দিত হয়েছি। মানুষের কিছু কাজ থাকে যে কাজগুলো কেবল ব্যক্তির জন্যেই নয়, জাতির জন্যেও মাইলফলক হয়ে থাকে। প্রত্ননাটক 'মহাস্থান' তেমনি বাংলা নাটকের জন্যে একটি মাইলফলক। দীর্ঘ গবেষণার পর নাটকটি লিখেছেন সেলিম মোজাহার। তাঁকে আমাদের অভিবাদন ও আন্তরিক ধন্যবাদ। 'মহাস্থান' নাটকটি বগুড়ার মহাস্থানগড়ের ভাসু বিহারে গতকাল শুক্রবার মঞ্চস্থ হয়েছে। আজ শনিবারও এটি মঞ্চস্থ হবে।



 



মহানাটক 'মহাস্থান' নানা কারণে অধিকতর গুরুত্বের দাবি রাখে। প্রথম কারণ নাটকের বিষয়বস্তু। এই নাটকটিতে শিকার যুগ থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পর্যন্ত বিধৃত করা হয়েছে। ফলে নাটকটিতে দর্শকের চোখ প্রাচীন যুগ থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে। নাটকে মহাপরাক্রমশালী মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন শাসনসহ বিভিন্ন রাজাদের উপস্থাপন মঞ্চে দেখা যাবে। নাট্যকার 'মহাস্থান'-এ শাসকদের শাসন ও শোষণের দুটি দিকই উন্মোচিত করেছেন। বহুমাত্রিকতার গুণে নাটকে ধর্ম যেমন এসেছে, তেমনি এসেছে বাঙালি সংস্কৃতির ধারাবাহিক বিকাশ। রামায়ণের গীত, কালিদাসের কাব্য, চর্যাপদ, বৈষ্ণব পদাবলি, ব্রাহ্মসঙ্গীত, লোকগানসহ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের যথার্থ প্রতিফলন ধারণ করে আছে নাটকটি। নির্দেশক জানিয়েছেন, নাটকটি 'মহামুনি গৌতম বুদ্ধ থেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পর্যন্ত বিস্তৃত। নাটকে ইতিহাসের মৌলিক উপাদানের সাথে ব্যবহৃত করা হয়েছে লোককথা, লোকশ্রুতি, কল্পনা-কিংবদন্তীসহ নানা সাংস্কৃতিক উপাদান। অসংখ্য চরিত্রের আগমন ঘটেছে এ নাটকে। এর ঘটনাবলীকে আমরা ১২টি আখ্যান ও ২৪টি উপ-আখ্যানে আমরা বিন্যাস করেছি।' সুবিশাল ইতিহাস ও ব্যাপৃত উপস্থাপনের কারণে নিশ্চিত করে বলা যায়, 'মহাস্থান' দেখে নতুন প্রজন্ম সহজেই আমাদের হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য, রাজনীতি ও সংস্কৃতি সম্পর্কে অর্থবহ ধারণা লাভ করতে পারবে।



 



'মহাস্থান' নাটকে শিল্পী ও কলাকুশলীর সংখ্যা কম নয়। নাটকটিতে যুক্ত আছেন ৩শ' ৫০ জন শিল্পী ও কলাকুশলী। তারা 'মহাস্থান' মঞ্চস্থের জন্যে বছরব্যাপী মহড়া করেছেন। বিপুল সংখ্যক শিল্পীর অভিনয়ে এবং মহাস্থানগড়ের বৃহৎ পরিসরে উপস্থাপনের কারণে ইতিহাস-ঐতিহ্যনির্ভর নাটকটি মহাকাব্যিক ব্যাঞ্জনা পেয়েছে। 'মহাস্থান' নাটকের ধারা বর্ণনা করেছেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর_ এটিও আরেকটি আনন্দের বিষয়। মনে করে দেয়া ভালো, বাংলাদেশে প্রত্ননাটক নিয়ে খুব বেশি কাজ হয়নি। 'সোমপুর কথন' আর 'উয়ারী-বটেশ্বর'-এর হাত ধরে মহারণনের অনুভব নিয়ে হাজির হয়েছে 'মহাস্থান'। পূর্বের প্রত্ননাটকগুলো থেকে এ নাটকটির পরিসর যে ব্যাপৃত, তা পূর্বেই বলেছি। পূর্বের নাটকগুলোর তুলনায় সাংস্কৃতিক, সামাজিক, ঐতিহাসিক এবং রাজনৈতিক আবেদনও এর বেশি। সেকারণে নিঃসন্দেহে বলা যায়, 'মহাস্থান' নাটকটি প্রত্ননাটকের ধারায় অর্থবহ একটি পালক যুক্ত করলো।



 



বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি মহানাটক 'মহাস্থান' মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে এ ধারার পূর্বের কাজগুলোকে ছাড়িয়ে গেছে। যথার্থ মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে এটি বাংলা নাটকের ইতিহাসকে আরো সমৃদ্ধ করবে এবং অন্যদেরকেও প্রত্ননাটক রচনা ও মঞ্চায়ন করতে উদ্বুদ্ধ করবে বলে আমাদের বিশ্বাস। আগামীতেও এ প্রতিষ্ঠানটি আমাদের জন্যে এমন সমৃদ্ধ কাজ উপহার দিবে_এই প্রত্যাশা করি।



 



লেখক : গল্পকার ও প্রাবন্ধিক।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৭৭২১৮
পুরোন সংখ্যা