চাঁদপুর। বুধবার ২৮ নভেম্বর ২০১৮। ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪৪-সূরা দুখান

৫৯ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

০৫। আমার আদেশক্রমে, আমি তো রাসূল প্রেরণ করিয়া থাকি।

০৬। তোমার প্রতিপালকের অনুগ্রহস্বরূপ; তিনি তো সর্বশ্রোতা সর্বজ্ঞ-

৭। যিনি আকাশম-লী, পৃথিবী ও উহাদের মধ্যবর্তী সমস্ত কিছুর প্রতিপালক, যদি তোমরা নিশ্চিত বিশ^াসী হও।





 

 


সেই আনন্দই যথার্থ আনন্দ যা দুঃখকে অতিক্রম করে আমাদের কাছে আসে।

  -নিক্সন ওয়াটারম্যান।


আল্লাহ যদি তোমাদের অর্থ-সম্পদ দান করেন তবে তাহা নিজের ও পরিবারের পক্ষ হতে বণ্টন শুরু করো।





 


ফটো গ্যালারি
সভা-সেমিনার : নাগরিক অধিকার
আহমদ আবদুল্লাহ
২৮ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


সমাবেশ স্বাধীনতা মানুষের নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারগুলোর মধ্যে সমধিক গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৪৮ সালের সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক মানবাধিকার দলিলে এবং জাতীয় সংবিধানে এই স্বাধীনতা স্থান পেয়েছে। মুক্তভাবে কথা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতাও এই মৌলিক মানবাধিকার সহিত নিবিড়ভাবে জড়িত। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় বিভিন্ন বিষয়ে জনমত গঠনে সভা-সেমিনার তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। মানুষের আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনে সভা-সেমিনারের প্রভাব অনস্বীকার্য। ইউরোপীয় মানবাধিকার ব্যবস্থায় সমাবেশের স্বাধীনতাকে গণতান্ত্রিক সমাজের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে।



গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে সভা-সমাবেশ স্বাধীনতা নাগরিকের অন্যতম মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত। সংবিধানের ৩৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জনশৃঙ্খলা বা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বিধিনিষেধ সাপেক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে ও নিরস্ত্র অবস্থায় সমাবেত হওয়ার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের রয়েছে। এখানে সুস্পষ্ট লক্ষ্যণীয় যে, এ অধিকারটি শুধুমাত্র বাংলাদেশের নাগরিকদের চর্চার বিষয়; বাংলাদেশে বসবাসরত বা কর্মরত বিদেশিদের জন্য নয়। তবে সমাবেশের স্বাধীনতা নিরঙ্কুশ প্রকৃতির নয়। রাষ্ট্র প্রয়োজনবোধে এর উপর বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে। অর্থাৎ সমাবেশের স্বাধীনতা কতগুলো শতের্র অধীনে হতে হবে। (১) সমাবেশটি হবে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে। (২) এতে যোগদানকারী কোনো সদস্য অস্ত্র বহন করতে পারবে না। এবং (৩) জনশৃঙ্খলা বা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে এর উপর যুক্তিসঙ্গত বিধিনিষেধ আরোপ করা যাবে।



 



মাবেশের অধিকারকে সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি প্রদানের পাশাপাশি তা নিয়ন্ত্রণের জন্যও আইন রয়েছে। একটি সমাবেশ কখন কোথায় বা কোন পরিস্থিতিতে অবৈধ হবে, কিভাবে ছত্রভঙ্গ করতে হবে ইত্যাদি বিষয় দ-বিধি, ফৌজদারি কার্যপদ্ধতি ও অন্যান্য পুলিশি আইনে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা হয়েছে। তবে সমাবেশের স্বাধীনতার উপর বিধিনিষেধ আরোপের কারণ হিসেবে জনশৃঙ্খলা ও জনস্বাস্থ্যের কথা বলা হলেও এ দুটো শব্দকে সংবিধানে কিংবা অন্যকোনো আইনে সংজ্ঞায়িত হয়নি। ফলে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট বা নির্বাহী কর্তৃপক্ষকে স্বীয় বিচারবুদ্ধি, বিবেক ও সুবিবেচনা ভিত্তিতে বিধিনিষেধ আরোপ করতে হবে। সমাবেশের স্বাধীনতাকে খর্ব না করে সরকারি কর্তৃপক্ষ যৌক্তিকভাবে ও কোনোরূপ ভেদাভেদ সৃষ্টি না করে সভা-সেমিনারের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট কোনো স্থান বা রাস্তা ব্যবহারের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি নেয়ার বিধান প্রবর্তন করতে পারে। তবে ব্যাপক জনসাধারণের সার্বিক আরাম-আয়েশ বা শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট হওয়ার যৌক্তিক আশংকা বিদ্যমান থাকলে সভা-সেমিনারের অনুমতি দেয়া উচিৎ নয়। গণতান্ত্রিক দেশে যেকোনো দলের বা জনগোষ্ঠীর সভা-সমাবেশ করার অধিকার আছে। কিন্তু এই অধিকার প্রয়োগ যদি অন্যের অধিকার কেড়ে নেওয়ার মতো ঘটনা সৃষ্টি করে, তা অবশ্যই নিন্দনীয়। এ জন্য সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোকে গণতান্ত্রিক আচরণ করতে হবে। সরকারকেও ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। অন্যের গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতি রাজনৈতিক দলগুলোকে শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।



নব্বইয়ের গণ-আন্দোলনের পর দেশে সংসদীয় গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা চালু হলেও রাজনীতিতে গুণগত মানের পরিবর্তন হয়নি। পরমতসহিষ্ণুতা না থাকায় বিষোদ্গারই রাজনীতিতে প্রাধান্য পাচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সহমর্মিতার অভাব ও আস্থার সংকট কাটিয়ে ওঠা গেলে দেশের গণতন্ত্র অর্থবহ হবে।



সমাবেশের স্বাধীনতা বিভিন্ন মানবাধিকার দলিল ও জাতীয় সংবিধানে মানুষের অন্যতম মৌলিক স্বাধীনতা হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও তা নিরঙ্কুশ প্রকৃতির নয়। এক বা একাধিক উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র এর উপভোগের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে। তবে যে উদ্দেশ্যেই এর উপর হস্তক্ষেপ করা হোক না কেনো, উদ্দেশ্যটি হবে সুনির্দিষ্টভাবে সঙ্গায়িত। অন্যদিকে বিধিনিষেধটি হতে হবে যুক্তিসঙ্গত। এ ছাড়া সভা-সেমিনার যেহেতু রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি বিশেষ দিক, কাজেই এরুপ বিধিনিষেধ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, আদর্শ ও মূল্যবোধের লালন, চর্চা ও উন্নয়নে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে কিনা তাও দেখা দরকার সরকারের।



লেখক : শিক্ষক।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৬২৬৪০
পুরোন সংখ্যা