চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার ৯ মে ২০১৯, ২৬ বৈশাখ ১৪২৬, ৩ রমজান ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫০-সূরা কাফ্

৪৫ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৩১। আর জান্নাতকে নিকটস্থ করা হইবে মুক্তাকীদের-কোন দূরত্ব থাকিবে না।

৩২। ইহারই প্রতিশ্রুতি তোমাদিগকে দেওয়া হইয়াছিল-প্রত্যেক আল্লাহ-অভিমুখী, হিফাযতকারীর জন্য।

৩৩। যাহারা না দেখিয়া দয়াময় আল্লাহকে ভয় করে এবং বিনীত চিত্তে উপস্থিত হয়।


assets/data_files/web

প্রতিভাবান ব্যক্তিরাই ধৈর্য ধারণ করতে পারে। -ই. সি. স্টেডম্যান।


যে শিক্ষিত ব্যক্তিকে সম্মান করে, সে আমাকে সম্মান করে।


ইভিএম অভিজ্ঞতা এবং ইসির করণীয়
মাহবুব মিয়াজী
০৯ মে, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


সকল স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এখন থেকে ইভিএম ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছেন বর্তমান ইসি। এ নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে কোনোপ্রকার প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হয়নি। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিএনপি বা সমমনা দলগুলো ইসিকে 'অবৈধ' ঘোষণা দিয়েই তাদের দায়িত্ব শেষ করেছে। সরকারের সমর্থনও মৌনতার মধ্যে সীমাবদ্ধ। আসলে এ ঘোষণাকে এখনই স্বাগত জানানোর সুযোগ নেই। দেশের সচেতন জনগোষ্ঠী ইতোপূর্বে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরীক্ষামূলক ছয়টি আসন থেকে ইভিএমের যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, সেই নিরিখে ইসির এই ঘোষণাকে মোটেও সময়োপযোগী বলে মত দিতে পারছে না।



গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে দেশের ছয়টি পূর্ব নির্ধারিত আসনে ইভিএম ব্যবহার করা হয়েছিলো। এখানে ইসিকে ধন্যবাদ দিবো এজন্যে যে, তারা নতুন এ পদ্ধতি ব্যবহারে ব্যাপক প্রচারণা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাগ্রহণ করেছিলো। জনগণের আগ্রহেরও ঘাটতি দেখা যায়নি তখন। কিন্তু, ভোটের দিন দেখা গেলো ভিন্ন এবং অনাকাঙ্ক্ষিত চিত্র। ঢাকা-৬ আসনের দুটি কেন্দ্রের কথা উল্লেখ করছি। একটি টিকাটুলিস্থ শেরে বাংলা মহিলা মহাবিদ্যালয় এবং অপরটি গেন্ডারিয়া উচ্চ বিদ্যালয়। ভোটের দিন মধ্য দুপুরে আমি প্রথমে যাই গেন্ডারিয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে। ভোট কেমন হচ্ছে জানতে চাইলে, ভোটারদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করলাম। ভোটারদের অনেকের সাথে কথা বলে মনে হলো, তারা ইভিএম সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ। ইভিএমে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন কি না_এমন প্রশ্নের জবাবে 'নিয়েছিলেন' বলেও তারা জানিয়েছেন। এখানে খুব সহজেই যা অনুমিত হচ্ছে তা হলো, এরা ইভিএম প্রশিক্ষণ নিলেও তা ছিলো অসম্পূর্ণ এবং ত্রুটিযুক্ত।



শেরে বাংলা মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রে এসেও প্রায় একই সমস্যার কথাই শুনেছি। তাদের জবাবগুলো ছিলো ওইসব শিক্ষার্থীর মতো, যারা বলে_বাসায় পড়ে এসেছি, পরীক্ষার হলে সব ভুলে গেলাম। এমন হবে কেনো? এই প্রযুক্তির ব্যবহারে আমাদের অশিক্ষিতশ্রেণি তো বটেই; অর্ধ-শিক্ষিত এমনকি বহু শিক্ষিত নাগরিকও এখনো অন্ধকারে। গণসচেতনতার বিকল্প কিছু যে নেই, তা ইসিকে বোধে নিতে হবে। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ছাড়া নির্বাচনে ইভিএম নিয়ে গেলে ইসি গণঅসন্তোষের শিকার বা আস্থা হারানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যা কারোই কাম্য নয় ।



এতোক্ষণ তো জনগণের দুর্বলতার দিক বর্ণনা করলাম। এবার অন্যপিঠও দেখুন। ইভিএম ভোটে মেশিন পরিচালনার জন্যে আবার পৃথকভাবে টেকনিশিয়ান থাকে। তিনি ভোটারের গাইড বটে। তার কাজ হলো, ভোটারকে সঠিকভাবে ভোটদানে সহযোগিতা দেয়া। ফরম ফিলআপ, ফিঙ্গার প্রিন্ট সংগ্রহ এবং সবশেষে আসল কাজ অর্থাৎ পছন্দের প্রার্থীকে ভোট প্রদান পর্ব। যিনি গাইড তার সততার গ্যারান্টি কী? তিনি অনেক সমস্যা নিজেও তৈরি করতে পারেন, যার জন্যে ভোটার কোনোভাবেই দায়ী নন। তিনি যদি চান, তাহলে ভোটে কারসাজি হবে, দোষ মেশিনের নয়, মেশিন যে চালাবে তার। এক্ষেত্রে এজেন্ট, পোলিং অফিসার, ভোটার সবারই সচেতনতা এবং কড়া নজরদারি প্রয়োজন। ভোটারকে এটুকুও জানতে হবে, একবার ভোট দেয়া হয়ে গেলে দ্বিতীয়বার আর ফিঙ্গার কাজ করবে না।



ইভিএম মোটেও কঠিন কোনো যান্ত্রিক প্রক্রিয়া নয়। কিন্তু, এর ব্যবহার সম্পর্কে সম্যক ধারণা না থাকলেই ঘটে যতো বিপত্তি। ইসির নৈতিক দায়িত্ব হচ্ছে, দেশের প্রতিটি নাগরিককে এ প্রক্রিয়ায় সচেতন করা। শিক্ষিত শ্রেণি থেকে শুরু করলেই কাজটা অধিকতর সহজ হয়। প্রয়োজনে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আগে ইভিএম পাঠান। এই স্তরে শতভাগ সাফল্য নিশ্চিত হলে পরে অর্ধশিক্ষিত বা অশিক্ষিতদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দিন। সকল স্তরে প্রশিক্ষণ নিশ্চিত হয়েই পরে আপনারা ঘোষণা দিবেন সর্বস্তরে ইভিএম; তার আগে নয়।



ভোট মানে জনমত। বিভিন্নভাবেই জনমত গ্রহণের উপায় আছে। সরব, নিরব, প্রত্যক্ষ, পরোক্ষ এবং হালের ইভিএম সবই বিজ্ঞানসম্মত এবং গ্রহণযোগ্য ভোটিং ব্যবস্থা। ইসির মূল কাজ হচ্ছে জনমত প্রতিষ্ঠা করা বা গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। তাঁর গ্রহণযোগ্যতার স্বার্থে তিনি যে কোনো পদ্ধতিই ব্যবহার করতে পারেন। কথা হচ্ছে ইভিএম নিয়ে। ইভিএম নিঃসন্দেহে একটি যুগোপযোগী ভোটিং ব্যবস্থা। শুধু স্থানীয় সরকারে কেনো, সকল নির্বাচনেই ইভিএম সমপ্রসারণ করুন। তবে, তার আগে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। এখানে প্রশিক্ষণের বিকল্প আর কিছুই নেই। প্রশিক্ষণে ঘাটতি থাকলে জনমতের পরিবর্তে যেটা আসবে সেটা হলো গণঅসন্তোষ। ইসি নিশ্চয়ই জনগণের টাকা খরচ করে জনগণকে অসন্তুষ্ট করবেন না, এটা আমরা মনে প্রাণে বিশ্বাস করতে চাই।



 



মাহবুব মিয়াজী : স্কলারস কোচিং, কদমতলী, ঢাকা।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৮৮৫১৯
পুরোন সংখ্যা