চাঁদপুর, বুধবার ১০ জুলাই ২০১৯, ২৬ আষাঢ় ১৪২৬, ৬ জিলকদ ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৩-সূরা নাজম


৬২ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


০৫। তাহাকে শিক্ষা দান করে শক্তিশালী,


০৬। প্রজ্ঞাসম্পন্ন, সে নিজ আকৃতিতে স্থির হইয়াছিল,


০৭। তখন উহা ঊর্ধ্বদিগন্তে,


০৮। অতঃপর সে তাহার নিকটবর্তী হইল, অতি নিকটবর্তী,


 


 


ভয় অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। -ওয়ার্ডসওয়ার্থ।


 


 


নারী পুরুষের যমজ অর্ধাঙ্গিনী।


 


 


ফটো গ্যালারি
কিছু প্রশ্ন ও পরিবর্তনের প্রত্যাশা
আরশাদ খান
১০ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


প্রকৃতির নিয়মে জন্ম ও মৃত্যুর ঘনঘটা একটি অতিসাধারণ বিষয়। জন্মের শুভক্ষণে উচ্ছ্বাস ও উচ্ছলতার অভিনিবেশ আমরা অনাদিকাল হতে অবলোকন করে আসছি। যদিও কোন একযুগে, কোন কোন ধর্মে, বা কোথাও কোথাও কোন এক বিশেষ যেমন মেয়ে শিশুর জন্মকে শুভেচ্ছার চাদরে মোড়ানো হত না। পরিবর্তন অবশ্য এসেছে-মেনে নেয়ার। মানবিক মূল্যবোধগুলোর পরিবর্তন, না-বাচক বা হ্যাঁ-বাচক যাই বলুন না কেন। মনে রাখতে হবে সব পরিবর্তনই কিন্তু গ্রহণযোগ্য নয়। পরিবর্তনের ঘোড়দৌড়ে মানবিকবোধের নিম্নগামিতা প্রবহমান।



আমরা অবশ্য এতে নির্বিকার থাকার পথেই আছি এবং শ্রেয়তর পন্থা হিসেবে আশ্রিত থাকার উদগ্র ইচ্ছাই প্রকাশ করছি। সময়ের হাত ধরে পথচলা, তার অবয়বে নিজেকে মেলানোই এখন মুখ্য। যখন সময়কে জীবনের মাঝে খুঁজতে চাই তখনই তো সমস্যার জন্ম হয়, হয়ত খেয়াল করি না। উল্টো করে যদি বলি, জীবনকে সময়ের মাঝে খুঁজি না কেন? তখনও কী সমস্যা?



তাহলে পরিত্রাণ? নিশ্চয়ই আছে। চলমান সংস্কৃতি কি সবসময় চলমান? নাকি সময়ই তাকে ভেঙ্গেচুরে নতুন করে গড়ে। আমাদের পূর্বপুরুষদের চর্চিত ও চর্বিত আচার-আচরণ, চাল-চলন, পোশাক-আশাক, নাওয়া-খাওয়া ইত্যাদি কি একই ভঙ্গিতে, রূপে ও ঢঙ্গে চলমান ও সঞ্চরণশীল। নিশ্চয়ই নয়। যদি তাই হতো তাহলে পরিবর্তনইবা কি এবং কেন?



আসলে স্বার্থকেন্দ্রিকতার মাত্রার পরিবর্তনই সার্থক হয়ে ওঠছে দিনে দিনে, যেখানে ব্যক্তি-স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে সর্বাংশে। সামষ্টিক কল্যাণকামী স্বার্থ ভঙ্গুর রূপ পরিগ্রহ করছে যদিও সার্থকতার ঐতিহ্যে যা পূর্বতন সমাজব্যবস্থায় কোন এক সময়ে হিমালয় তুল্যমূল্য ছিল। তাহলে কারা তখন নেপথ্যে থেকে মানবিক গুণের চর্চায় নিমজ্জিত ছিল।



অন্যের ব্যথা, অনুভূতি অনুভবে সচেতন ও সক্রিয় ছিল। যতটা জানি কবি, সাহিত্যিক, সমাজ-সংস্কারক, শাসক, সংস্কৃতিবিদ, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ও আরো অনেকে। রক্তমাংসেরই মানুষ তো তারাও ছিল। তখন মানবিক বিপর্যয় ছিল না তা তো নয়। ধর্মে-ধমে, গোষ্ঠীতে-গোষ্ঠীতে, বর্ণে-বর্ণের, জাতিতে-জাতিতে ভেদাভেদের নানামাত্রিক ভিত্তি আর তার উপর যুদ্ধ-বিগ্রহ, হানাহানি প্রধান বৈশিষ্ট্য হয়ে ওঠেছিল তখনকার সমাজ ব্যবস্থায়। কিন্তু কালের পরিক্রমায় পরিবর্তনের সূচনা আধুনিক সমাজব্যবস্থায় দ্রুতগতিতে রচিত হয়।



অণু পরমাণুর বিশ্লেষণ থেকে মানুষের মস্তিষ্কের নিউরনের গঠন কাঠামো তো এখন অজানা নয়। তাহলে বিপর্যয়ের ধ্বনি-প্রতিধ্বনি মূল্যবোধের কর্ণকুহরে আঘাত হানছে কেন। বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে সাথে মানুষের বোঝাপড়ার অনুভূতির প্রখরতার গঠন ও বৃদ্ধির প্রক্রিয়া নিশ্চয়ই থমকে নেই। বৈষম্য, ক্রোধ, ঘৃণা, হতাশা এসব পঙ্গপালের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে কেন। এখানে তো ভালোবাসা, মায়ামমতা, স্নেহ, প্রেম-প্রীতি ইত্যাদির সমুদ্রে প্রতিটি মানবিক চেতনার অবগাহন করার কথা ছিল।



কেন হচ্ছে না। নিশ্চয়ই কোথাও একটি বিশাল শূন্যতা বিরাজ করছে। শিক্ষাব্যবস্থা, আধুনিকতা, উন্নয়ন, পারিবারিক স্নেহ- মমতা-এসব কি মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের হাতিয়ার নাকি সেসব আন্তরিকতাহীন প্রতিশ্রুতি-মাত্র।



বেশ কিছুদিন আগে হলি আর্টিজনের ঘটনা কিসের আলামত? রাজিবের পায়ুপথে পাম্প নজেল দিয়ে বায়ু প্রবেশ করে হত্যা কিসের ইঙ্গিত? বিশ্বজিতের নির্মম হত্যাকা-, সাম্প্রতিক সময়ে ক্যান্টনমেন্টে তনুর ধর্ষিত নিথর দেহ, সিলেটে কলেজ ছাত্রী খাদীজাকে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা চেষ্টা, চাকুরী প্রত্যাশী রূপাকে বাসে ধর্ষণের পর হত্যা, ঠাকুরগাঁয়ে জীবন নামে এক যুবকের দ্বারা নার্স তানজিনা আক্তারের জীবন কেড়ে নেওয়ার ঘটনা এবং অতি সাম্প্রতিক বরগুনায় রিফাত শরীফকে নৃশংসভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা কি শুধুই হত্যা? মানতে পারলাম না।



এটি হচ্ছে রাষ্ট্রযন্ত্র ও সমাজ ব্যবস্থার চরম ক্ষয়িষ্ণু অমানবিক বিবেকের দূরন্ত উপস্থাপনা। আর এতে আগুনে ঘি ঢালছি আমরা সবাই। সে আগুনে কিন্তু আমাদের সবাইকে একদিন পুড়ে মরতে হবে। মানবিক শিক্ষায় প্রজ্বলিত মনন তো কখনও হিংস্রতা, ধৃষ্টতা, ঘৃণা, ক্রোধ নিয়ে বেড়ে ওঠার কথা না। অথবা সামপ্রদায়িক চেতনার অস্থির আগ্রাসন কেনই বা বারে বারে আমাদেরকে অসহায়ত্বের অচলায়তনে আবদ্ধ করে রাখছে।



অসহনশীল আচরণ, পরমতে অসহিষ্ণুতা, পরশ্রীকাতরতা, পরনিন্দা চর্চা_এসব কোন শিক্ষা ব্যবস্থা ও কোন সমাজের ফসল? তাহলে আমরা কি সঠিক বীজ বুনছি না, নাকি আমাদের হৃদয় মাঝারের উর্বরতা ক্রমহ্রাসমান যা সুস্বাস্থ্য মেধার বিকাশে প্রতিবন্ধকতা।



হত্যা, খুন, গুম, ধর্ষণ, বিদ্বেষ ইত্যাদি তো পাশবিক পরিচয়ের বর্তিকা-আধুনিক মানস গঠনের অনুষঙ্গ নয়। তাহলে মানবিক বর্তিকার আলোর ক্ষমতা কি তাতে মিলিয়ে যাচ্ছে। এটি হলে তো আলো থেকে অন্ধকারেই ফেরা হয়। তাহলে অগ্রগতির সংজ্ঞা কি? চোখ দিয়ে তো মনকে দেখা যায় না মনের চোখে তাকাতে পারলে মনের অনুভূতির স্পর্শে আসা যায়। আর পরিবর্তন সেখান থেকেই শুরু হয়।



নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন সমাজের পরিবর্তনকে প্রকৃত অর্থে নির্দেশ করে না যেমনটি একটি দেশের মাথাপিছু আয় প্রত্যেকের আর্থসামাজিক অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তনকে নিশ্চিত করতে পারে না। তাই মানবিক বিবেকের অনুভূতির শুভদয় ও তা বিস্তারের মাধ্যমে ব্যক্তি, সমাজ, সবিশেষে জাতির বিবেকের মানবিক পরিবর্তন আনয়ন করে একটি সাম্য, শোষণহীন, অসামপ্রদায়িক ও ঐক্যের সমাজ গঠনে ভূমিকা এখন সময়ের দাবি।



নৈতিক ও মানবিক অবক্ষয়ের কারণ বিশ্লেষণ ও তা প্রতিকারে পদক্ষেপ নেয়ার এখনই উপযুক্ত সময়। সুস্থ সমাজ গঠনে আসুন আমরা সবাই এগিয়ে আসি।



 



আরশাদ খান : ব্যাংকার ও সংস্কৃতিকর্মী।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৫৯০১১
পুরোন সংখ্যা