চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার ২৯ আগস্ট ২০১৯, ১৪ ভাদ্র ১৪২৬, ২৭ জিলহজ ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৫-সূরা রাহ্মান


৭৮ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


১৬। সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করিবে?


১৭। তিনিই দুই উদয়াচল ও দুই অস্তাচলের নিয়ন্তা।


১৮। সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করিবে?


 


মানুষকে প্রশ্ন করার জন্য নহে, ভক্তি করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।


-ইয়ং।


 


 


স্বদেশ প্রেম ঈমানের অঙ্গ।


 


ফটো গ্যালারি
বঙ্গবন্ধু ও মুজিব কোট
২৯ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


হাসান হামিদশুরু করছি একটি ঘটনা দিয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের এক ছাত্র একবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে দেখতে গিয়েছিলেন। তিনি বঙ্গবন্ধুকে অনেক কাছ থেকে দেখলেন, কথাও বললেন দীর্ঘক্ষণ। কথা শেষে উঠে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু যখন তার কালো কোটটি গায়ে জড়াচ্ছিলেন, তখন ওই ছাত্র লক্ষ্য করলেন কোটে ছয়টি বোতাম। তিনি বঙ্গবন্ধুর কাছে জানতে চাইলেন, আপনার কোটের বোতাম ছয়টি কেন? বঙ্গবন্ধু তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে বললেন, 'এমন প্রশ্ন এর আগে আমাকে কেউ করেনি। তুই প্রথম। এই ছয়টি বোতাম আমার ঘোষিত ছয় দফার প্রতীক।'



বঙ্গবন্ধু ঠিক কত সাল থেকে হাতাবিহীন এই কালো কোট পরা শুরু করেছিলেন সে সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মওলানা ভাসানী এবং শামসুল হক যখন আওয়ামী মুসলীম লীগের নেতা, তখন বঙ্গবন্ধু সংগঠনটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন। তখন থেকেই বঙ্গবন্ধুকে এই কোট পরতে দেখা গেছে বেশি। তবে এ কোটের প্রচলন 'নেহেরু কোট' থেকে। ভারত উপমহাদেশ স্বাধীন হওয়ার সময় জওহরলাল নেহেরুর (স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী) ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে নেহেরু কোটের প্রচলন শুরু হয়। পরে বঙ্গবন্ধু এমন কোট পরতেন বলে এর নাম দেয়া হয় 'মুজিব কোট'। বঙ্গবন্ধু স্বভাবতই তার পছন্দের সাদা পায়জামা-পাঞ্জাবির মতোই কোটটি ব্যবহার করতেন।



ইতিহাস থেকে জানা যায়, আগরতলা মামলার পর জেল থেকে যখন দেশে আসেন বঙ্গবন্ধু, তারপর থেকে নিয়মিত এই কালো কোট পরতে থাকেন তিনি। পরবর্তী সময়ে তার অনুসারী ও সহযোদ্ধারাও এ কোট পরতে শুরু করেন। এভাবে এক জনপ্রিয় দেশীয় রাজনৈতিক ফ্যাশন আমাদের সংস্কৃতিতে যুক্ত হয়। তবে মুজিব কোট শুধু ফ্যাশন হিসেবে নয়, রাজনৈতিক আনুগত্যের প্রতীক হিসেবেও জনপ্রিয়তা লাভ করে। বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের মাঝেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই 'মুজিব কোট'।



রাজনৈতিক মতাদর্শের মিল না থাকলেও বিশ্বে যেসব রাজনৈতিক নেতার ব্যক্তিত্ব ও পোশাক-পরিচ্ছদ আজও আমাদের মনে গেঁথে আছে, তাঁদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু অন্যতম। সাদা পায়জামা-পাঞ্জাবির সঙ্গে কালো কোট, মোটা ফ্রেমের চশমা, হাতে বা ঠোঁটে পাইপ_ এমন ব্যক্তিত্ব বিশ্ব রাজনীতিতে বিরল। যেমন জওহরলাল নেহেরুর ক্যাপ, লম্বা কোট ও বুক পকেটে গোলাপফুল; মহাত্মা গান্ধীর খাদি কাপড়ের ধুতি ও চাদর; চে গুয়েভারার মিলিটারি কোট ও ক্যাপের স্টাইল আজও 'ফ্যাশন আইকন' হিসেবে আমাদের মনের মধ্যে রয়ে গেছে।



৫০০ বছরেও মোগল, পাঠান, ইংরেজদের পোশাকের প্রভাব এ ভূখ-ে স্থায়ী হতে পারেনি। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর পোশাক অর্থাৎ মুজিব কোট পেয়েছে স্থায়িত্ব। গায়ে খাদি জড়িয়ে গান্ধী যেমন একটি রাজনৈতিক আন্দোলন দাঁড় করিয়েছিলেন ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে, তেমনি বঙ্গবন্ধু মুজিব কোট পরে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে নতুন এক বাংলাদেশের জন্ম দিয়েছেন। এই পোশাক পরেই বঙ্গবন্ধু ভাষণ দিয়েছেন, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন, সর্বোপরি নিজেকে বাঙালির ফ্যাশন আইকন হিসেবে বিশ্বের দরবারে হাজির করেছেন।



লেখক : গবেষক ও কবি।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১৮৩৪৮১
পুরোন সংখ্যা