চাঁদপুর, বুধবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩ আশ্বিন ১৪২৬, ১৮ মহররম ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • অনিবার্য কারণে শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনির আজকের চাঁদপুর সফর স্থগিত করা হয়েছে
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৫-সূরা রাহ্মান


৭৮ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৬৬। উভয় উদ্যানে আছে উচ্ছলিত দুই প্রস্রবণ।


৬৭। সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করিবে?


৬৮। সেথায় রহিয়াছে ফলমূল -খর্জুর ও আনার।


 


 


 


বাণিজ্যই হলো বিভিন্ন জাতির সাম্য সংস্থাপক। -গ্লাডস্টোন।


 


 


যখন কোনো দলের ইমামতি কর, তখন তাদের নামাজকে সহজ কর।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
আমার কি কোনো দায় নেই?
নবীন হোসেন
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


ব্যক্তি মালিকানাধীন গাছ কাটতে হলেও সরকারের অনুমতি লাগবে বলে আইন জারি করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। মানুষ তা মানছেও। সিঙ্গাপুরের রাস্তায় থুথু কিংবা সিগারেটের উচ্ছিষ্ট ফেলতে মাইলের পর মাইল হাঁটতে হয় নির্দিষ্ট স্থানের জন্যে। জনগণ তা-ই করছে। থাইল্যান্ডের ফুটপাথে সিগারেটের পাছা ফেললে জরিমানা ২ হাজার বাথ। কেউ ফেলছে না।



 



উন্মুক্ত স্থানে ধূমপান করলে ৫০ টাকা জরিমান্_এমন একটি আইন দশক ধরেই বলবৎ রয়েছে আমাদের দেশে। কিন্তু তার প্রয়োগ কতটুকু আছে, তা সবারই জানা। স্মোকিং জোন নয়, চুরুট ফুঁকতে জনবহুল আর উন্মুক্ত স্থানই যেনো আরামদায়ক! আইন আছে, সেটা প্রয়োগে দুর্বলতাও আছে, কিন্তু দেশের সচেতন নাগরিক হিসেবে আমার কি কোনো দায় নেই?



 



ঢাকার নিউমার্কেটের প্রধান গেটের সামনে একটা আধা ইট পড়ে আছে। অসাবধানতভাবে চলন্ত একটি রিকশার এক চাকা উঠে গেলো সেই আধা ইটের ওপর। রিকশার যাত্রী এক মহিলা আর তার ছোট্ট শিশু উপুড় হয়ে পড়ে গেলো রাস্তায়। শিশুটি কাঁদছে। উপস্থিতরা হালকা আহতদের স্বাভাবিক হতে সাহায্য করলো সত্যি, কিন্তু কেউই ইটের টুকরোটি হাতে নিয়ে নিরাপদে সরিয়ে রাখলো না। উল্টো সিটি করপোরেশন আর সরকারকে একগাদা গালাগাল করতে করতে চলে গেলো।



 



এ দেশে ডেঙ্গু রোগের বাহক এডিস মশার বেড়াতে আসা এবারই যে প্রথম তা নয়। প্রায় দুই দশক আগেই তারা চিনে গেছে আমাদের অলিগলি। প্রথমে এটি 'ঢাকা ফিভার' নামে পরিচিতি পায়। তারপর ডেঙ্গু নামে জনপ্রিয়তা (!) অর্জন করে। এতো বছরেও আমরা সচেতন হতে পারিনি। এবার যখন পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করলো, তখন 'নন্দ ঘোষ' হিসেবে সরকার আর সংশ্লিষ্টদের একতরফা দোষ দিয়ে আমরা বেশ ভাবসাব নিচ্ছি। ডেঙ্গুর বাসাবাড়ি ভাঙতে আমার ঘরদোর, উঠোন আর ছাদে কি সরকারি লোকজন কামলা খাটবেন? আমার নিজের কি কোনো দায়িত্ব নেই?



 



ও হ্যাঁ, দায়িত্ব আছে তো। ফেসবুকে নেতানেত্রীদের নিয়ে ব্যাঙ্গাত্মক ভাষায় কিছু পোস্ট দিয়ে নিজের সৃষ্টিশীলতার প্রমাণ দিচ্ছি তো! নিজে কিছু করতে পারি আর না পারি শিকারী সমালোচকের পরিচয় দেয়ার জন্যে ফেসবুকে ওৎ পেতে বসে থাকছি, এটাই বা কম কি!



 



এসব বিষয়ে সরকারের যে একেবারেই কোনো দায় নেই, সেটা বলাও ঠিক হবে না। ডেঙ্গু মহামারি আকার ধারণ করার আগে থেকে নয়, বরং পরে তা নিধনে উঠেপড়ে লাগা, মশক নিধনের কার্যকর ওষুধের অপর্যাপ্ততা, সড়ক থেকে শুরু করে ডোবা-নালা আবজর্নায় ভরপুর। এসব দায় সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলকেই নিতে হবে।



 



তবে নিজেকে আর নিজের পরিবারকে সুরক্ষিত রাখার বেশিরভাগ দায়ই কিন্তু আমার নিজের। আমাকে সচেতন হতে হবে সবার আগে, তারপর আমার পরিবারকে সচেতন করতে হবে, এরপর সেটা ছড়িয়ে দিতে হবে পাড়া মহল্লায়। এভাবে সচেতনতার স্রোত একদিন বয়ে যাবে সারা দেশে।



কেবল ডেঙ্গু নিয়ে নয়, সব বিষয়েই আমরা যেনো একটু বেশিই গাছাড়া!



ক'জন আমরা নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা কিংবা চুরুটের শেষাংশ ফেলি। নিজেরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ট্রাফিক সিগন্যাল তো মানিই না, উল্টো ড্রাইভারকেও উৎসাহিত করি কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করতে। রাস্তায় দাঁড়িয়ে মূত্র বিসর্জন করা যেনো ফ্যাশন! যেখানে নো-পার্কিং সেখানেই গাড়ি রাখা হয় বেশি। হাইড্রলিক হর্নের ক্রমাগত শব্দ আমাদের কাছে যেনো অতি প্রিয় কোনো গান! ড্রাইভারদের ভাবসাব এমন, পাবলিকের বারোটা-একটা যাই বাজুক, আমার তো ভালো লাগছে।



 



যারা বিদেশ ভ্রমণ করেন, তারা নিশ্চয়ই জানেন, ইউরোপ তো বটেই, আমাদের আশপাশের বেশিরভাগ দেশেই গাড়ির হর্ন শুনতে পাওয়া মানে বুঝতে হবে নিরূপায় হয়েই ড্রাইভার সঙ্কেত দিয়েছেন। অন্যথায় মনে হয়, ওসব দেশের গাড়িতে হর্নই নেই। দেয়ালে পানের পিক আর 'চিকা মারা'র কালচার থেকে বের হতে কি সরকারের হস্তক্ষেপ লাগে? উল্টোপথে গাড়ি চালিয়ে নিজেকে ভিআইপি ভাবার আত্মতৃপ্তি সাধারণ মানুষের যে ক্ষতির কারণ হতে পারে, এটা বোঝার জন্যে নিজের বিবেকই তো যথেষ্ট।



 



এখনো দেখা যায়, রাস্তায় ছোট-বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে আহতের সাহায্য করার বদলে একদল ব্যস্ত থাকেন সেলফি আর ভিডিও ধারণ নিয়ে। মানবিকতা কি দিন দিন প্রযুক্তির কাছে আত্মসমর্পণ করছে?



 



হালে একদল বলছে, ডেঙ্গুর প্রকোপ ভয়াবহ হচ্ছে। অন্যদল হাঁক ছাড়ছে_না, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কমছে।



 



নিজেদের ব্যক্তিগত ভাবনা আর বিচার বিশ্লেষণকে শিকেয় তুলে আমরা যা করছি তা হলো, একবার 'হায় হায়' রব তুলছি। আরেকবার_তাই নাকি? ধুৎ, খামোখা ভয় পাচ্ছি কেনো, বলেই দুই পক্ষের গুষ্টি উদ্ধার করছি।



 



কয়েকদিন আগে কল্যাণপুর বাস স্ট্যান্ডের কাছাকাছি একটা জটলা দেখে একটু দূরেই দাঁড়িয়ে গেলাম। যেটা বুঝলাম তা হলো_বেশ কয়েকজন মিলে একজনকে মারছে। এক যুবককে দেখলাম এসেই এক লাত্থি আর ঘুষি বসিয়ে দিলো। এরপর ঠেলাঠেলিতে সে আর চান্স পায়নি। যুবক যখন আমার কাছাকাছি আসলো, তখন জানতে চাইলাম, কী হয়েছে, ভাই? যুবক আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বললো, কোথায়? ও আচ্ছা ওখানে? এরপর ভাবলেশহীন ভাবে বললো, আমি জানি না। পাল্টা প্রশ্ন করলাম, আপনাকেও তো দেখলাম লাত্থি মারলেন? ঘুষি মারলেন? এবার সে লজ্জাবনত হয়ে বললো, 'আসলে সবাই মারছে দেখে আমিও মারলাম।' বলেই চলে গেলো।



এই অতি আবেগই কি আমাদের বিবেক জেগে না ওঠার কারণ?



 



কয়েক লাইনের আরেকটি গল্প বলি। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি গানের রেকর্ড রেডি হয়েছে বাজারে ছাড়ার জন্যে। গুরুজি রেকর্ড বাজারে যাবার আগে একবার শুনতে চাইলেন। রেকর্ড ছাড়া হলো। রবী ঠাকুর মাথা নেড়ে নেড়ে গান শুনছেন। পাশে কণ্ঠশিল্পীও বসা। একটি গানের এক জায়গায় আসার পর কণ্ঠশিল্পী হঠাৎ করেই বেশ জোর দিয়ে কাশতে শুরু করলেন। কারণ, গানের ওই জায়গাটি তিনি একটু বেসুরো গেয়েছেন। গান শোনার পর গায়ক রবী ঠাকুরের কাছে জানতে চাইলেন গান কেমন হয়েছে গুরুজি? রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বললেন, 'খুবই ভালো হয়েছে। তবে আরেকবার রেকর্ড করতে হবে। কারণ, তুমি তো আর বাড়ি বাড়ি গিয়ে কেশে আসতে পারবে না।'



 



গোটা দেশ আর তার নাগরিকের সব দায়-দায়িত্ব সত্যিকার অর্থে সরকারের ওপরই বর্তায়। এটা বিনা বাক্য ব্যয়ে সবাই মানতে রাজি আছি। তারপরও বলতে হয়, সব সময় সরকার আর সরকারি লোকজন কিন্তু বাসায় বাসায় গিয়ে আপনাকে সচেতন করবে না_ডেঙ্গু আসছে, ফণী আসছে, বন্যা আসছে ইত্যাদি ইত্যাদি। যতো দোষ নন্দ ঘোষকে না দিয়ে নিজেকে একটু দুষছি না কেনো আমরা? একটু সচেতন হলেই কিন্তু আমাদের নিজেদের আর চারপাশের পরিবেশ অনেক সুন্দর হতে পারে।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৮৬১০৩৯
পুরোন সংখ্যা