চাঁদপুর, বুধবার ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৩ রবিউস সানি ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুর বন্দর কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাককে দায়িত্ব অবহেলার দায়ে বরখাস্ত এবং স্ট্যান্ড রিলিজ। নতুন কর্মকর্তা আবুল বাসার মজুমদার
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৯-সূরা হাশ্‌র


২৪ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


 


৫। তোমরা যে খর্জুর বৃক্ষগুলি কর্তন করিয়াছ এবং যেগুলি কা-ের উপর স্থির রাখিয়া দিয়াছ, তাহা তো আল্লাহরই অনুমতিক্রমে; এবং এইজন্য যে, আল্লাহ পাপাচারীদিগকে লাঞ্ছিত করিবেন।


 


 


আকৃতি ভিন্ন ধরনের হলেও গৃহ গৃহই। -এন্ড্রি উল্যাং।


 


 


স্বদেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ।


 


 


ফটো গ্যালারি
সাক্ষাৎকার : পারভেজ করিম বাবু
রাজনীতিতে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা থাকা ভালো
১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


পারভেজ করিম বাবু। বর্তমানে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ চাঁদপুুুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি 'সুচিন্তা' বিভাগের মুখোমুখি হন তিনি। সাক্ষাৎকারটি আজ প্রকাশিত হলো।



 



শুরুতেই জানতে চাই রাজনীতিতে কীভাবে এলেন?



পারভেজ করিম বাবু : পারিবারিকভাবে আমার রাজনীতিতে আসা। বিশেষ করে আমার বড় মামা দীর্ঘদিন আওয়ামী রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। তাঁকে দেখেই আমি রাজনীতিতে আসার অনুপ্রেরণা পাই। আবার আমার বাবাও রাজনীতিমনস্ক ছিলেন। যদিও সরকারি চাকুরিজীবী হওয়ায় তিনি সক্রিয় রাজনীতি করতে পারেননি। আমার মা আমাকে রাজনীতি করতে উৎসাহ দেন।



 



সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হলেন কবে থেকে?



পারভেজ করিম বাবু : জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূঁইয়া ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল কাকার সাথে আমি রাজনীতি শুরু করি। ২০০৩ সালে আমি একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হলাম। তখন থেকেই কলেজ ছাত্রলীগের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছি। তখন কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন জাহাঙ্গীর হোসেন বেপারী ও সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান পাটওয়ারী ভাই। আমরা আতাউর রহমান ভাইয়ের সাথে ছাত্রলীগের একজন কর্মী হিসেবে রাজনীতি শুরু করি। বিএনপি সরকার তখন ক্ষমতায়। আমরা অল্প কজন বিশেষ করে বর্তমানে ইউপি সচিব সালামত উল্লাহ শাহিন ভাই, মোশারফ পাটওয়ারী বিভিন্ন মিছিল-মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করেছি। তখন ছাত্রলীগের রাজনীতি ওইভাবে ছিলো না।



 



রাজনীতিতে যারা নতুন আসে তারা নানা প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়? আপনার ক্ষেত্রেও কি এমন হয়েছিলো?



পারভেজ করিম বাবু : প্রতিবন্ধকতা তো থাকবেই। বর্তমানের রাজনীতি হলো প্রতিযোগিতামূলক রাজনীতি। রাজনীতিতে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা থাকা ভালো।



 



আপনি প্রায় এক দশক হলো রাজনীতি করছেন?



পারভেজ করিম বাবু : হ্যাঁ, আমি প্রায় এক দশক রাজনীতি করছি। কিন্তু দুঃখজনক হলো আমি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার আগে আমাদের অনেক বড় ভাই তেমন কোনো পরিচিতি পাননি। কারণ হচ্ছে গ্রুপিং। কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি। সবসময় নিজেকে রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত রাখার চেষ্টা করেছি। ফলে আমি আজ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছি।



 



এক দশকের ছাত্র-রাজনীতিতে সাধারণ মানুষের জন্যে বিশেষ কিছু করেছেন কি?



পারভেজ করিম বাবু : লোক দেখানোর জন্যে কোনো কিছু করতে হবে এমন চিন্তা-ভাবনা আমার ভেতরে কখনো আসেনি। মানুষের উপকার করার চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কিছু হতে পারে না। মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা সবসময় করি। তবে যখন আমি অন্যের উপকারে আসি, তখন তা আমার ভেতরেই সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা করি।



 



সাধারণ ছাত্রদের সাথে আপনাদের যোগাযোগ কেমন?



পারভেজ করিম বাবু : আমরা সবসময় সাধারণ ছাত্রদের নিয়ে ছাত্ররাজনীতি করার চেষ্টা করি। কিন্তু অনেকসময় দেখা যায় যে, অনেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতিটা ভালোবাসে, কিন্তু তারা পড়াশোনা করে না। আমরা তাদের পড়াশোনা করে রাজনীতি করতে বলি। তাদের বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত করার চেষ্টা করি। ছাত্রলীগের রাজনীতি করতে হলে নিজেদের পরিবার ও সমাজের মানুষের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে_সে শিক্ষা আমরা তাদের দিই। কারো প্ররোচনায় যেনো কোনো ছাত্র খারাপ পথে না যায় সে সম্পর্কে আমরা তাদের সতর্ক করি।



 



এক দশক আগের রাজনীতি এবং বর্তমান রাজনীতিতে আপনি কেমন তফাৎ দেখছেন?



পারভেজ করিম বাবু : তফাৎ হচ্ছে আগে ছাত্ররাজনীতি ব্যক্তিকেন্দ্রিক ছিলো। আর পরিবর্তনটা হচ্ছে যারা একসময় বঞ্চিত ছিলো তারাই বর্তমানে রাজনীতি করতে পারছে।



 



এক দশকে সামগ্রিক রাজনীতি কী পরিবর্তন হয়েছে?



পারভেজ করিম বাবু : বিএনপি সরকারের সময় ছাত্রদলের তা-ব আমরা দেখেছি। টেন্ডারবাজি থেকে শুরু করে নানা অপরাধে ছাত্রদল জড়িত থাকতো। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে আস্তে আস্তে ছাত্রদলের তা-ব বন্ধ হলো। চাঁদপুর সরকারি কলেজে আমরা যখন ছাত্রলীগের মিছিল নিয়ে বের হতাম তখন ছাত্রদল আমাদের উপর হামলা করতো। বর্তমানে কিন্তু তা নেই।



 



নতুন যারা ছাত্র রাজনীতিতে আসতে চায় তাদের কী ধরনের প্রস্তুতি নেয়া দরকার?



পারভেজ করিম বাবু : প্রথমত তাকে অবশ্যই বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারী হতে হবে। দেশপ্রেমিক হতে হবে। তার পরিবারের কেউ বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকলে সে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হতে পারবে না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সংগ্রামে যাঁরা অবদান রেখেছেন এবং আওয়ামী পরিবারের সন্তানরা ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হতে পারবে। নতুন যারা ছাত্রলীগের রাজনীতি করতে আসে আমরা তাদের অনুপ্রাণিত করি।



 



সামাজিক সমস্যা মোকাবেলায় ছাত্রলীগ কী কী কাজ করছে? অনেকে মনে করেন সামাজিক কাজে ছাত্রলীগের আরো মনোযোগী হওয়া উচিত। আপনার কী মনে হয়?



পারভেজ করিম বাবু : সামাজিক সমস্যা মোকাবেলায় ছাত্রলীগ কাজ করবে, এটা আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ। দেশে যখন ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রকোপ দেখা দিয়েছিলো তখন আমরা চাঁদপুর জেলা ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেছি। জনসচেতনতা তৈরির জন্যে আমরা লিফলেট বিতরণ করেছি। সাধারণ মানুষের পাশে থেকে তাদের সেবা-সাহায্য করতে আমি ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের বলে থাকি। দিন যত যাবে ততই এ ধরনের কার্যক্রম বাড়বে।



 



চাঁদপুরকে নিয়ে আপনি কী স্বপ্ন দেখেন?



পারভেজ করিম বাবু : স্বপ্ন দেখি চাঁদপুর একটি যানজটমুক্ত শহর হবে। যানজটমুক্ত করতে হলে প্রথমে করণীয় ঠিক করতে হবে। সকালে কিছু তেলের ভাউচার বের হয়। এটা বন্ধ করতে হবে। আর সিএনজিচালিত স্কুটারগুলো যেনো শহরে না ঢোকে সে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সেক্ষেত্রে সিএনজির জন্যে ওয়্যারলেস এলাকায় স্ট্র্যান্ড করা যেতে পারে। মূল শহরে চলাচলের জন্যে অটোরিকশা থাকতে পারে। অটোরিকশাকেও রূটকেন্দ্রিক নির্দিষ্ট করে দিতে হবে। যাতে এক রূটের অটোরিকশা অন্য রূটে চলাচল করতে না পারে। তাহলেই আমি মনে করি চাঁদপুরের যানজট কিছুটা হলেও নিরসন হবে। চাঁদপুরের সরু রাস্তাগুলো প্রশস্ত করতে হবে। যদি রাস্তা দখল করে কেউ নিজস্ব স্থাপনা নির্মাণ করে সেগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দখলমুক্ত করতে হবে।



 



শহরের প্রধান বিনোদনকেন্দ্র বড়স্টেশন মোলহেড আরো সুসজ্জিত করা প্রয়োজন। এতে চাঁদপুরের সুনাম আরো বৃদ্ধি পাবে। চাঁদপুরে মেডিকেল কলেজ হয়েছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে। বর্তমানে চাঁদপুরে কোনো কিছুর অভাব নেই বললেই চলে। একটি পরিপূর্ণ জেলায় যেসব সুবিধা থাকা দরকার আমি মনে করি বর্তমান চাঁদপুরে তা রয়েছে।



 



রাজনীতিতে আপনার আনন্দের ঘটনা বলুন।



পারভেজ করিম বাবু : বর্তমান কমিটিতে নেতৃত্ব দেয়া হচ্ছে আমার আনন্দের ঘটনা। সাবেক কমিটিতে যখন কোনো পদে রাখা হলো না তবু হাল ছাড়িনি। লেগে ছিলাম।



 



বেদনার বিষয় আছে?



পারভেজ করিম বাবু : বেদনার তো অনেক স্মৃতিই আছে। বেদনার বিষয়টা নাই বলি।



 



যখন নেতৃত্বে থাকবেন না তখন কী করবেন?



পারভেজ করিম বাবু : সারাজীবন রাজনীতি করবো। এখন যা করছি ভবিষ্যতেও তাই করবো। হয়তো অবস্থার পরিবর্তন হবে।



 



নিজেকে নিয়ে কী স্বপ্ন দেখেন?



পারভেজ করিম বাবু : আমি নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ মনে করি। চাঁদপুরের প্রতিটা মানুষের মুখে যেনো হাসি ফোটাতে পারি। সেটা যেভাবে হোক।



 



আমাদের সময় দেয়ার জন্যে আপনাকে ধন্যবাদ।



পারভেজ করিম বাবু : চাঁদপুুুর কণ্ঠকেও অশেষ ধন্যবাদ।



 



শ্রুতলিখন : আল-আমিন হোসাইন।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৩১১০৪৪
পুরোন সংখ্যা