চাঁদপুর, বুধবার ২২ জানুয়ারি ২০২০, ৮ মাঘ ১৪২৬, ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • জমে উঠেছে চাঁদপুরের আঞ্চলিক এসএমই পণ্য মেলা
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬২-সূরা জুমু 'আ


১১ আয়াত, ২ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


১। আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যাহা কিছু আছে সমস্তই পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে আল্লাহর, যিনি অধিপতি, মহাপবিত্র, পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।


 


 


মনে প্রশান্তি থাকলেই বিশ্রাম সুখময় হয়। -রবার্ট ডাব্লিউ সারভিস।


 


 


রসূলুল্লাহ (দঃ) বলেছেন, নামাজ আমার নয়নের মণি।


 


ফটো গ্যালারি
আমাদের মানসিকতা বদলাতে হবে
মীর আব্দুল আলীম
২২ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


দেশে ধর্ষণ, যৌন নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে। শিশুধর্ষণ, গণধর্ষণ ও ধর্ষণশেষে হত্যার ঘটনা ক্রমশ গ্রাস করছে আমাদের সভ্যতাকে। নিত্যই ব্যভিচার ও ধর্ষণকামিতার ঘটনা ঘটছে। রোধ হচ্ছে না। দেশে ধর্ষণের একটা ঘটনাও কিন্তু ঘটা উচিত নয়। কিন্তু দেশে ধর্ষণসহ নির্যাতনের ঘটনা ক্রমাগত বাড়ছে কি না, সে প্রশ্নটা ঠা-া মাথায় ভাবতে হবে। তা না হলে খোদ রাজধানী ঢাকায় শত নিরাপত্তার পরও একের পর এক নারী ধর্ষিত হচ্ছে কেনো? সর্বশেষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় উত্তাল হয় ঢাকা। বোঝা যাচ্ছে না, ধর্ষণের প্রতিরোধ করতে সরকারের যে ব্যর্থতা, তা কি সকল ক্ষমতাশীন দলের ব্যর্থতার ধারাবাহিকতা কি না? তাই যদি না হয় দেশে ধর্ষণ কমছে না কেনো? কোন্ ক্ষমতা মেয়েদের বিপদ বাড়াচ্ছে? কথা না বলার চাপ মেয়েদের উপর। ধর্ষিত হলে শ্লীলতাহানির শিকার হলে পরিবার থেকে বলা হয় চুপ থাকতে হবে, নইলে মান যাবে। আবার মেয়েদেরও পুলিশের উপর আস্থা থাকে না। তাই বিচারহীন সংস্কৃতি নারীর প্রতি সহিংসতা বাড়িয়ে দিয়েছে।



 



ধর্ষণের অনেক তথ্য-উপাত্ত প্রকাশিত আছে। কিন্তু সঠিক কোনো পরিসংখ্যান বা তথ্য আমাদের নেই। বাংলাদেশে কোথাও না কোথাও প্রতি ২১ মিনিটে একটি করে ধর্ষণ-কা- ঘটে। প্রকৃত সংখ্যাটা সম্ভবত এর চাইতে বহু গুণ, কেননা ৯০ শতাংশ ধর্ষণই লোকলজ্জায় কিংবা পরিবারের অমতে গোচরে আনা হয় না। এ বিপুল পরিমাণ ধর্ষণের যারা শিকার, তাদের ১৮ শতাংশই নাবালিকা, অনেকেই চার-ছয় বছরের শিশু। সর্বোপরি নথিভুক্ত ধর্ষণ-কা-গুলোর ৯৮ শতাংশ ক্ষেত্রেই ধর্ষকরা ধর্ষিতাদের আত্মীয়স্বজন, নিকট প্রতিবেশী বা পূর্বপরিচিত। আর এখানেই সামাজিক ভরসা ও বিশ্বাসের সনাতন, সযত্নলালিত ধারণাগুলো ভেঙ্গে পড়ার প্রসঙ্গটি উঠে পড়ে। দেহরক্ষীর হাতে নিহত হওয়ার মধ্যে যেমন বিশ্বাসহানি রয়েছে, তেমনই বিশ্বাস ভঙ্গের ব্যাপার আছে আত্মজনের হাতে যৌন নিগ্রহের ঘটনায়ও। যাকে রক্ষা করার কাজে নিযুক্ত তাকেই হত্যা করা যেমন বিশ্বাস ঘাতকতা, আত্মীয়তা কিংবা পূর্বপরিচয়ের সূত্রে অর্জিত বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে ধর্ষণ করাও সমান নারকীয়তা। শারীরিক, মানসিক, পারিবারিক ও সামাজিক বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে ধর্ষণের পরিণতিই এক ও অভিন্ন হলেও এ ধরনের ধর্ষণকে ইদানীং 'পারিবারিক হিংসা'র পর্যায়ভুক্ত করা হয়। পরিবারের ভেতরে পুরুষ আত্মীয় ও গুরুজনদের দ্বারা বা পরিবারের বাইরে নিকট প্রতিবেশীদের দ্বারা যৌন নিগ্রহের শিকার হওয়া মহিলারা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের দুর্গতির কথা মুখ ফুটে বলতে পারেন না। পুলিশের কাছে অভিযোগ করা তো দূরের কথা। কারণ পরিবারই সেই নিগ্রহ-লাঞ্ছনার কথা চেপে যায়, লাঞ্ছিতাকে পরিবারের সামাজিক মর্যাদাহানির ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে রাখে, প্রায়শ তাদের দূরে কোথাও পাঠিয়ে দেয়। তাতে পরিবারের 'মর্যাদা' অক্ষত থাকে, ধর্ষক পুরুষ আত্মীয়ও নিষ্কলঙ্ক থেকে যায়। আর এখানেই ভেতরে ভেতরে চলতে থাকে পিতৃতন্ত্রের লীলা, নারীর প্রতি বৈষম্যের অনুশীলন। পরিবারের গ-ির মধ্যে শুরু হওয়া এ অনুশীলন বৃহত্তর সমাজেও ছড়িয়ে পড়ে।



 



ধর্ষিতাকে নিয়ে আজেবাজে কথাও রটনা করা হয়। ধর্ষকদের পক্ষ নেয়া ক্ষমতাধরগণ ধর্ষিতা নারীর পোশাক-আশাক, স্বভাব-চরিত্র, একাকী, অসময়ে পথে চলার দুঃসাহস নিয়ে কটাক্ষ করে কার্যত ধর্ষকের অপরাধ লঘু করতে সচেষ্ট হন। তাতে ধর্ষিতা নারীর মর্যাদা ও সম্মান ভুলুণ্ঠিতই হয় বটে! পুলিশ যখন ধর্ষণকারী দুর্বৃত্তের সাথে ধর্ষিতা মহিলার 'আগে হতেই সম্পর্ক থাকা'র অজুহাত দেয়, তখনও দুষ্কৃতি-দমন অপেক্ষা তার শিকারদের দোষ ধরার কদর্য চেষ্টা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এটা ধর্ষকদের প্রশ্রয় দেয়ার সামিল। এ কারণেই ধর্ষণ বাড়ছে।



 



২০১৯ সালে ধর্ষণ বেড়েছে দ্বিগুণ। সে বছর ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১ হাজার ৪শ' ১৩ জন নারী। ২০১৮ সালে এ সংখ্যা ছিলো ৭শ' ৩২ জন। অর্থাৎ ২০১৮ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে দ্বিগুণ যা ভয়াবহ। এটা সরকারি হিসাব। বেসরকারি হিসাব এর চাইতে বহুগুণ বেশি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ধর্ষণ তো বেড়েছেই। বেড়েছে নারীর প্রতি সহিংসতা ও নিষ্ঠুরতাও। কঠোর আইন, প্রচার ও উচ্চ আদালতের নানা নির্দেশনার পরও নারীর প্রতি সহিংসতা ও নিষ্ঠুরতা কমানো যাচ্ছে না। ধর্ষণের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে কম। যাদের আইনের আওতায় আনা হয় তাদের (ধর্ষণকারী) দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয় না। তাই কিছুতেই ঠেকানো যাচ্ছে না ধর্ষণ। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা নারীর প্রতি সহিংসতা বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে বিচারহীনতাকেই দায়ী করেন।



 



যৌন নির্যাতন করছে কলেজ শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, ডাক্তার, কর্মচারী, পুলিশ, আত্মীয়, চাচা-মামা-খালু, দুলাভাই, আমলা। কেউ বাদ যাচ্ছে না। ধর্ষিত হচ্ছে ছাত্রী, শিশু, যুবতী, আয়া, বুয়া, গৃহবধূ। রাস্তাঘাটে, চলন্ত বাসে, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে, গৃহে ঘটছে এ পৈচাশিক ঘটনা। নারীরা যেনো কোথাও নিরাপদ নয়। ধর্ষণের পর খুন হচ্ছে। এক্ষেত্রে থাকছে না বয়স, স্থান, কাল, পাত্রের ভেদ। দেশব্যাপী শুরু হয়েছে ব্যভিচারের চূড়ান্ত_প্রকাশ্য ধর্ষণকামিতা। রাত-বিরাতে নয় শুধু, দিনদুপুরে প্রকাশ্য ধর্ষেণর ঘটনাও ঘটছে। শুধু ধর্ষণই নয়, রীতিমতো গণধর্ষণ হচ্ছে। অপসংস্কৃতি আর ভিনদেশী সংস্কৃতির আগ্রাসন আমাদের সমাজকে কতটা ক্ষত-বিক্ষত করছে তা হাল আমলের ধর্ষণের চিত্র দেখলেই বেশ টের পাওয়া যায়। বাসের ভেতরে ধর্ষিত হচ্ছে মেয়েরা, শিক্ষাঙ্গনে যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে শিক্ষার্থীরা, এমপির কথিত এপিএসর দ্বারাও এদেশে ধর্ষিত হচ্ছে যুবতী। এ হলো বাস্তবতা। তবে এটি নতুন কোনো বিষয় তা নয়; বলা যায় আমাদের সমাজ বাস্তবতার এক করুণ চিত্র। কিছু মানুষরূপী নরপশু সভ্যতার ভাবধারাকে পাল্টে দিতে হায়েনার নখ মেলে বসেছে। অপরাধীর সাজা না হলে এ জাতীয় অপরাধ বাড়বেই।



 



যৌন হয়রানি শুধু নারীর বিরুদ্ধে নয়, মানবতার বিরুদ্ধে চরম অপরাধ। এশিয়া মহাদেশের মধ্যে ভারত ও বাংলাদেশে ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ বেশি হয়ে থাকে। খুন, ধর্ষণ আজকাল এ আধুনিক পৃথিবীর নিত্যনৈমেত্তিক ঘটনা হলেও আমাদের দেশে এর মাত্রা যেনো সব বিচিত্রতার সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞকদের মতে, ধর্ষণের এ ব্যাপকতার পেছনের অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে, ধর্মীয় মূলবোধ মেনে না চলা এবং অপরাধীর শাস্তি না পাওয়া। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্লিপ্ততা ও তৎপরতাও দায়ী। নারী নির্যাতন প্রতিরোধে যথেষ্ট শক্তিশালী আইন থাকা সত্ত্বেও নির্যাতনকারীরা বিভিন্ন উপায়ে পার পেয়ে যায়।



 



বাংলাদেশের আইন ভারতের চেয়েও শক্তিশালী। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো পুরুষ কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করে তবে সে যাবজ্জীবন কারাদ-ে দ-িত হবে। একই আইনের ৯ (২) ধারায় আছে, 'ধর্ষণ বা ধর্ষণ পরবর্তী কার্যকলাপের ফলে ধর্ষিত নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটলে ধর্ষকের মৃত্যুদ- বা যাবজ্জীবন কারাদ- হবে।' একই সঙ্গে জরিমানার কথাও আছে। সর্বনিম্ন জরিমানা ১ লাখ টাকা। ৯(৩) ধারায় আছে, 'যদি একাধিক ব্যক্তি দলবদ্ধভাবে কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করে এবং উক্ত ধর্ষণের ফলে কোনো নারী বা শিশু মারা যায় তাহলে প্রত্যেকের যাবজ্জীবন কারাদ- বা মৃত্যুদ-, কমপক্ষে ১ লাখ টাকা জরিমানা হবে'। ভারতে এক্ষেত্রে শুধু যাবজ্জীবনের কথা বলা আছে।



মহিলা আইনজীবী সমিতির এক জরিপে জানা যায়, নানা কারণে ধর্ষণ মামলার ৯০ শতাংশ আসামী খালাস পেয়ে থাকে। অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, 'প্রশাসনে দলীয় লোক থাকার কারণে এসব ঘটনার অপরাধীরা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় পার পেয়ে যাওয়ার আরেক কারণ। এছাড়া ফৌজদারি আইনের দুর্বলতার কারণে অপরাধীর উপযুক্ত শাস্তি হয় না। এ বিষয়ে জনগণের প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই এরা শাস্তি পাবে। শুধুমাত্র আইন প্রয়োগের অভাবে এখানে ধর্ষণ মহামারী ব্যাপক রূপ নিয়েছে।



 



ধর্ষণ হলো এমন প্রকার যৌন লাঞ্ছনা যার সাথে শারীরিক সম্পর্ক জড়িত। যা এক বা একাধিক ব্যক্তির অপর পক্ষের সম্মতি ব্যতিরেকে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের ক্রিয়া। এটি বড় ধরনের একটি অপরাধ। এই কাজে বেশিরভাগ সময় শারীরিক শক্তি, বাধ্যতা, ক্ষমতার অপব্যবহার ইত্যাদি নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। যৌন হয়রানির চরম ক্ষতিকর প্রভাব এবং এর ফলশ্রুতিতে অন্যন্য সমস্যা হয়রানির শিকার হওয়া নারীর সাথে সাথে পরিবার এবং সমাজেও বিরূপ পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। ধর্ষণ বলেন কিংবা ইভটিজিংয়ের কথাই বলেন; একজন নারীর জন্যে তা কল্পনাতীতভাবে অস্বস্তিকর। পুরুষ ভাইদের কাছে হাতজোড় মিনতি জানাই এ গর্হিত কাজ থেকে বিরত থাকুন। অন্যকে উত্ত্যক্ত করে আপনি ক্ষণিকের জন্যে মজা পাবেন। আপনার সামান্য মজার বিপরীতে বোনটির কি অবস্থা হচ্ছে তা কি একটু ভাববেন? নারীকে সম্মান করার মানেই হলো মায়ের জাতকে সম্মান করা। মা জাতিকে সম্মান করা মানে হলো আপনার জন্মকে সম্মান দেখানো।



 



আমাদের প্রচলিত ব্যবস্থায় অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শান্তি প্রদান বেশ কঠিন। তাতে কিছু মানুষ এ ধরনের অপরাধ করার সাহস পাচ্ছে। যৌন নির্যাতনের সঙ্গে ক্ষমতার সম্পর্ক আছে। নারীর ওপর বলপ্রয়োগের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেও যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটতে পারে। কখনও দেখা যায়, সামাজিকভাবে কোণঠাঁসা কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তির সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক গড়ার আশায় অলীক কল্পনা করতে থাকে। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সমাধান না পেয়ে, বলপ্রয়োগের পথ বেছে নেয়। ঘরে-বাইরে নারীর উপর আগ্রাসী যৌন আচরণ, যৌন হয়রানি, যৌন নিপীড়ন, ধর্ষণ সবই পুরুষতান্ত্রিক ক্ষমতা কাঠামোতে নারীর অধনস্ততাই প্রকাশ করে নানা রূপে। তাই ধর্ষণ, যৌন হয়রানি বা নিপীড়ন, নারীর সম্মতি ব্যতিরেকে তার উপর যে কোনো ধরনের আগ্রাসী যৌন আচরণ ক্ষমতা প্রদর্শনের, দমন-পীড়নের, কর্তৃত্ব করার কুৎসিত বহিঃপ্রকাশ ছাড়া আর কিছু নয়। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে যার জন্ম, সচেতন চেষ্টা ছাড়া নারীবান্ধব, নারীবাদী, সে কোনোভাবেই হয়ে উঠতে পারে না। দৃষ্টিভঙ্গিটা পুরুষতান্ত্রিক বলেই নারীকে তারা গণ্য করে অধস্তন লৈঙ্গিক পরিচয়ের বস্তু হিসেবে যা পীড়নযোগ্য। এটা খুবই আশঙ্কার কথা যে, একজন মেয়ের জন্যে সমাজের কেউ নিরাপদ নয়।



 



যারা উচ্চবিত্ত, সমাজের ওপর তলার মানুষ, এই জাতীয় বিপদ তাদের ছুঁতে পারে কম। এদেশে ধর্ষণের শিকার হচ্ছে নিম্নবিত্ত আর মধ্যবিত্তরাই বেশি। যারা নিম্নবর্গের বাসিন্দা, তারা সম্ভবত এখনও ধর্ষণকে স্বাভাবিক জ্ঞান করেন। ভয়ে চুপ থাকেন। ইজ্জত হারিয়েও মুখ খোলেন না। তারা জানেন আইন-আদালত করলে তাদের ভাগ্যে উল্টো বিপত্তি ঘটবে। অন্যায় করে অপরাধীরা এভাবে পার পেয়ে যাচ্ছে বলেই দেশে ধর্ষণ বেড়ে গেছে। বর্তমানে আমরা ঈমানী শক্তি হারিয়েছি। দেশপ্রেম, সততা, নৈতিক মূল্যবোধ, যৌনকামনা ইত্যাদি নেতিবাচক প্রেরণা আমাদের অন্ধ করে ফেলেছে। তাই সমাজ থেকে সুখ, শান্তি বা আনন্দ হারিয়ে যাচ্ছে। নিঃশর্ত ভালোবাসা বা ভক্তি কমে যাওয়ার কারণে আমাদের গঠনমূলক মনোভাব বা সৃষ্টিশীলতা নষ্ট হচ্ছে। এ কারণে বিপরীত লিঙ্গের প্রটি শ্রদ্ধার পরিবর্তে আমাদের ভোগের মনোভাব সৃষ্টি হচ্ছে। অনিয়ন্ত্রিত যৌন কামনার প্রভাবে আমাদের মধ্যে ধর্ষণ, জেনা, পরকীয়া প্রেম ইত্যাদির প্রবণতা বাড়ছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ধর্ষণের ঘটনা ঘটলে হৈচৈ পরে যায়। এ ব্যাপারে আমাদের দেশের জনগণ তুলনামূলক নীরব। রয়েছে সচেতনতার অভাব। প্রতিবাদ হলেও খুবই সামান্য।



 



অন্যায়কারী এমন জঘন্য অন্যায় করার পরও প্রশাসন নীবর থাকে সরকারের কোনো মাথা ব্যথা নেই। ধর্ষণ বৃদ্ধি হওয়ার জন্যে সরকার ও তার প্রশাসনের ব্যর্থতাই এজন্যে দায়ী। কারণ যারা এর শিকার হন তারা সবাই দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে তাই আইনও এদের পাত্তা দেয় না। তবে এর শিকার যদি ক্ষমতাসীন বা প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তার মেয়ে, বোন হতো তাহলে আপরাধীরা শাস্তি পেতো। তারা উচ্চ বর্গীয় তাই তাদের সন্তান, বোন আর স্ত্রীরা ধর্ষিত হওয়ার সুযোগ কম। তবে মেয়েদের প্রতি পদেই বিপদের মোকাবিলা করতে হয় আজকের সমাজে। উচ্চবর্গীয়রা নিরাপত্তার ঘেরাটোপে বাস করেন বলে তাদের বিপদ কম হতে পারে। তবে পার্টিতে অপরিচিত বা স্বল্পপরিচিতের হাতে আর ঘরে নিকটাত্মীয় বা পরিচিতজনদের হাতে লাঞ্ছনা জোটার সম্ভাবনাটাও উড়িয়ে দেয়া যায় না। আসল সমস্যাটা হলো পূরুষদের কুরুচিপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিতে। সেটা কোনো শ্রেণীভাগ মানে বলে মনে হয় না। এমনকি শিক্ষাগত যোগ্যতাও এ মানসিকতা বদলাতে পারে না। তা না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো স্থানে শিক্ষকের হাতে ছাত্রী, ডাক্তারের হাতে রোগী কিংবা ডাক্তারনী ধর্ষিত হয় কি করে? যৌন-ব্যভিচার সর্বযুগে, সর্বধর্মমতে নিন্দনীয় নিকৃষ্ট পাপাচার। ধর্ষণ এবং ধর্ষণের পর হত্যার চূড়ান্ত শাস্তিবিধান মৃত্যুদ-। অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা হলে এবং সাক্ষ্য-প্রমাণে নিশ্চিত হলে হত্যাকারীর শাস্তিও মৃত্যুদ-। কিন্তু আমাদের দেশে এ যাবৎ যতোগুলো ধর্ষণ ও ধর্ষণজনিত হত্যাকা- সংঘটিত হয়েছে, তার যথাযথ বিচার সম্পন্ন হয়েছে এ রূপ নজির কমই আছে। হয় চূড়ান্ত রিপোর্টে ঘাপলা নয়তো সাক্ষ্যপ্রমাণে প্রভাবিত করে অপরাধী পার পেয়ে যাওয়া। উপরন্তু এর বিচার চাইতে গিয়ে বিচারপ্রার্থীরা নির্বিচারে পাল্টা হত্যার হুমকি কখনো কখনো হত্যার শিকার ও হয়রানির শিকার হন। এ অবস্থা থেকে আমাদের অবশ্যই বেরিয়ে আসতে হবে। ১৯৯৫ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ বিশেষ বিধান আইন করা হয়। পর্যায়ক্রমে ২০০০ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন করা হয়। ২০০৩ সালে এ আইন আবার সংশোধন করা হয়। ধর্ষণের শাস্তি কত ভয়ানক, তা অনেকেই জানেন না। নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ৯ ধারায় ধর্ষণের বিচার হয়। এ আইনে ধর্ষণের সর্বনিম্ন শাস্তি পাঁচ বছরের কারাদ- এবং সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ- করা হয়েছে। আইনের ৯(১) ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো পুরুষ কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করে, তাহলে সে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ-ে দ-িত হবে। এছাড়া অর্থদ-ে দ-িত হবে। ৯(২) উপধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি কর্তৃক ধর্ষণ বা ওই ধর্ষণ-পরবর্তী তার অন্যবিধ কার্যকলাপের ফলে ধর্ষিত নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে, তাহলে ওই ব্যক্তি মৃত্যুদ-ে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ-ে দ-িত হবে। অতিরিক্ত এক লাখ টাকা অর্থদ-েও দ-ীয় হবে। উপধারা ৯(৩)-এ বলা হয়েছে, যদি একাধিক ব্যক্তি দলবদ্ধভাবে কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করে এবং ধর্ষণের ফলে ওই নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে বা তিনি আহত হন, তাহলে ওই দলের প্রত্যেক ব্যক্তি মৃত্যু দ-ে দ-িত হবে, যদি কোনো ব্যক্তি কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করে মৃত্যু ঘটানোর বা আহত করার চেষ্টা করে, তাহলে ওই ব্যক্তি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ-ে দ-িত হবে ও এর অতিরিক্ত অর্থদ- হবে। ধর্ষণের চেষ্টা করলে ওই ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর ও সর্বনিম্ন পাঁচ বছর সশ্রম কারাদ-ে দ-িত হবে। এছাড়া অতিরিক্ত অর্থদ-ে দ-িত হবে। এদেশে ধর্ষণের পাকাপোক্ত আইন আছে ঠিকই কিন্তু আইনকে কাজে লাগানো যাচ্ছে না। আইনের যারা প্রয়োগ করবেন তারা ওই আইনের পথে হাঁটেন না। কখনো অর্থের লোভ কখনো বা হুমকি-ধমকিতে শুরুতেই গলদ দেখা দেয়। মামলার চার্জশীট গঠনের সময় ফাঁক-ফোঁকর থেকে যায়। তাই শেষে রায়ে ধর্ষিত কিংবা নির্যাতনের শিকার লোকজন সঠিক বিচার থেকে বঞ্চিত হন। ধর্ষণ যেহেতু মস্ত অপরাধ এসব মামলাগুলোর ক্ষেত্রে চার্জশীট গঠনের সময় কোনো ম্যাজিস্ট্র্রেট অথবা পুলিশের কোনো পদস্থ কর্মকর্তার নজরদারিতে করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে চূড়ান্ত রিপোর্টের সময় ভিক্টিমের স্বাক্ষাৎ গ্রহণ করা যেতে পারে। তাতে করে গোপনে চার্জশীট দাখিলের ফলে যে জটিলতা তৈরি হয় তা কমে আসবে।



 



কি আছে ধর্ষণ আইনে? ধর্ষণ আইনে ধর্ষণের সংজ্ঞা নিয়ে অনেকেই, বিশেষ করে নারী সংস্থাগুলো আদৌ সন্তুষ্ট নয়। এ আইনে পুরুষাঙ্গ স্ত্রী-যৌনাঙ্গের ভেতরে প্রবেশ না করলে সেটি ধর্ষণ বলে গণ্য করা হবে না। অথচ বহুভাবেই পুরুষ নারীর ওপর যৌন-অত্যাচার করতে পরে। দুর্ভাগ্যবশত ধর্ষণ আইনের আওতায় সেগুলো পড়বে না। ধর্ষণ আইনে একজন পুরুষ তখনই একটি নারীকে ধর্ষণ করেছে বলে ধরা হবে, যখন দুজনের যৌন-সংঘর্ষ ঘটছে : (১) সেই নারীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে (২) সেই নারীর সম্মতি ছাড়া (৩) সেই নারীর সম্মতি নিয়ে, কিন্তু সেই সম্মতি আদায় করা হয়েছে তাকে বা তার প্রিয়জনকে হত্যা বা আঘাত করা হবে বলে ভয় দেখিয়ে (৪) নারীটি সম্মতি দিয়েছে এ বিশ্বাসে যে পুরুষটি তার স্বামী, যদিও পুরুষটি জানে যে সে তার স্বামী নয়, (৫) নারীটি যখন সম্মতি দিয়েছে তখন সে প্রকৃতিস্থ ছিলো না, অথবা পুরুষটি বা অন্য কারো দেয়া হতবুদ্ধিকর বা বাজে কোনো বস্তু খেয়ে নেশাগ্রস্থ অবস্থায় ছিলো, যার ফলে এ সম্মতিদানের পরিণাম বুঝার ক্ষমতা তার ছিলো না (৬) নারীটির সম্মতি থাকুক বা না থাকুক তার বয়স ১৬ বছরের কম। এ ব্যাপারে দুটি ব্যতিক্রম আছে : (ক) স্বামী ও স্ত্রীর যৌন-মিলনকে কোনো ক্ষেত্রেই ধর্ষণ বলে ধরা হবে না, যদি না স্ত্রীর বয়স ১৫ বছরের কম হয়, অথবা আদালতের নির্দেশে স্বামী-স্ত্রী আলাদাভাবে থাকে। (খ) নারীর উপর অশালীন আক্রমণ ধর্ষণের চেষ্টা বলে ধরা হবে না, যদি না আদালত মনে করে যে অভিযুক্ত পুরুষটি সব রকম বাধা পাওয়া সত্ত্বেও সর্বক্ষণই নিজের কাম-চরিতার্থ করার জন্যে সচেষ্ট ছিলো। আইন যাই থাকুক না কেনো আমাদের সমাজের অতি-রক্ষণশীলতা এবং পারিবারিক সমস্যাকে গোপন রাখার চেষ্টা ধর্ষণকারীদের শাস্তি দেবার ক্ষেত্রে বিরাট অন্তরায়। যৌন নির্যাতন তথা ব্যভিচার সর্বযুগে সর্বধর্মমতে নিকৃষ্টতম পাপাচার। তন্মধ্যে মুসলিম ধর্মগ্রন্থ আল-কুরআনের বিভিন্ন সূরার বিভিন্ন আয়াতে মহান আলাহ তায়ালা ব্যভিচার সম্পর্কিত পাপের ভয়াবহতা ও এর কঠিন পরিণতি সম্পর্কে সুষ্পষ্টভাবে মানবজাতিকে সাবধান হতে বলেছেন। মহান আলাহ তায়ালা বলেছেন, 'তোমরা ব্যভিচারের ধারে-কাছেও যেও না, কারণ এটা একটা অশ্লীল এবং জঘন্য পন্থা।' এ অপরাধ কোনো দেশে কোনো যুগেই বন্ধ ছিলো না। এখনো নেই। কোনো অপরাধ কখনই নিঃশেষ করা যায় না কিন্তু নিয়ন্ত্রণ করা যায়। যে কোনো মূল্যে তা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।



 



ধর্ষণ রোধের উপায় কি? দেশে এতো ধর্ষণ হচ্ছে কেনো? এ প্রশ্নের উত্তরে অনেকেই বলেন, ভালো মেয়েরা ধর্ষণের শিকার হয় না, পোশাকের সমস্যার কারণে মেয়েরা ধর্ষিত হয়। অনেকে আবার বলেন, বেহায়াপনা করে স্বল্প কাপড়ে রাস্তায় ঘুরে বেড়ালে ধর্ষণ হবে না তো কি হবে? আর কোনো আলেম বলেন, 'পর্দা প্রথায় ফিরে আসলে ধর্ষণ আর হবে না।' আবার অনেকে বলেন, 'কঠোর শাস্তি দিলে ধর্ষণ কমবে।' আমি এসব কোনোটার পক্ষেই নই। সেই মক্কা-মদিনার আরব দেশে পর্দা মানা হয় সেখানেও তো ভুরি ভুরি ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। তাদের শাস্তি প্রকাশ্য শিরচ্ছেদ। সেখানেও তো ধর্ষণ বন্ধ হচ্ছে না। আমাদের দেশ থেকে যেসব অসহায় নারী আরবদেশে যান তাদের আনেকেইতো দেশে ফিরে আসতে পারেন না। তারা কোনো না কোনোভাবে নারী নির্যাতনের শিকার হনই। আমাদের দেশের নারী শ্রমিকরা আরব দেশে গিয়ে পর্দায় থেকেও কেনো যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন? যৌন নির্যাতন বন্ধে আগে মানসিকতা বদলাতে হবে। নারী দেখলেই কেনো ধর্ষণ করতে হবে? সব দোষ নারীর? সব দোষ পোশাকের? এমন মানসিকতা কেনো আমাদের। ধর্মে নারীকে পর্দা করতে বললেও পুরুষদেরও চোখ অবনত রাখতে বলা বয়েছে। তবে শুধু নারীর দোষ কেনো? নারীর রূপ যৌবন পুরুষকে মোহিত করবে সেটাই স্বাভাবিক। তাই বলে তার উপর পশুর মতো ঝাঁপিয়ে হতে হবে কেনো? ধর্ষণ কমাতে হলে আগে পুরুষের মাঝে মানবিক গুণাবলি জাগ্রত করতে হবে। ধর্ষণ রোধে আমাদের সচেতন হতে হবে। অবাধ মেশামেশার সুযোগ, লোভ-লালসা-নেশা, উচ্চাভিলাস, পর্নো সংস্কৃতির নামে অশ্লীল নাচ-গান, যৌন সুড়সুড়িমূলক বই-ম্যাগাজিন, অশ্লীল নাটক-সিনেমা ইত্যাদি কামোত্তেজনা মানুষকে প্রবলভাবে ব্যভিচারে প্ররোচিত করে তা বর্জন করতে হবে। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সময় মতো বিয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। ধর্মীয় শিক্ষা ও যৌন শিক্ষার গ্রহণ করতে হবে। বাজে সঙ্গ ও নেশা বর্জন করতে হবে। পাশাপাশি নারীকেও শালিন হতে হবে। যৌন উত্তেজক পোশাক বর্জন করতে হবে। প্রবল কামোত্তেজনা মানুষকে পশুতুল্য করে ফেলে। ব্যাপকভাবে কামোত্তেজনা সষ্টিকারী উপকরণগুলোর কাছাকাছি চলে গেলে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের আর কোনো উপায়ই থাকে না।



 



ধর্ষণের ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে হলে কেবল আইনের কঠোর প্রয়োগেও কোনো কাজ হবে না। এর জন্যে প্রয়োজন জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে যার যার পারিবারিক বলয়ে ধর্মানুশীলনে একনিষ্ঠতা, পোশাকের শালিনতা, অশ্লীল সংস্কৃতি চর্চার পরিবর্তে শিক্ষণীয় বিনোদনমূলক ও শালীন সংস্কৃতি চর্চার প্রচলন নিশ্চিতকরণ। আর এটা করতে হলে কেবল রাজনৈতিক বক্তৃতা, আইনের শাসন প্রয়োগ বা ফতোয়া দিলেই চলবে না, সমাজের সর্বস্তরের মানুষ যার যার অবস্থানে থেকে স্কুল-কলেজ, মাদ্রাাসা-মক্তব-মসজিদ-মন্দির-গির্জা-প্যাগোডার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা সমাজের অন্য বুদ্ধিজীবী ও পেশাজীবীদের সমন্বয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। সর্বোপরি কঠোর শাস্তির বিধান ও প্রয়োগ নিশ্চত করতে হবে। নারীকে মর্যাদার আসনে বসাতে হবে। পর নারীকে কখনো মা, কখনো বোন, কখনো বা মেয়ে ভাবতে হবে। তাদের উপর লুলুপ দৃষ্টি নয়; মায়া-মমতার দৃষ্টি দিতে হবে। তবেই ধর্ষণ কমে আসবে বলে আমাদের বিশ্বাস।



(প্রবন্ধে উল্লেখিত মতামত লেখকের নিজস্ব)।



 



লেখক : কলামিস্ট।



মোবাইল ফোন : ০১৭৩৩৩৬১১১১।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৬৩৮২৩
পুরোন সংখ্যা