চাঁদপুর, বুধবার ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২ মাঘ ১৪২৬, ১০ জমাদিউস সানি ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • --
বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ ও জননেত্রী শেখ হাসিনা
তছলিম হোসেন হাওলাদার
০৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


শিরোনামের প্রসঙ্গ ধরেই লেখাটা শুরু করা যাক। শিরোনামে বাংলাদেশের আগে বঙ্গবন্ধুর নাম এসেছে। প্রশ্ন উঠাই স্বাভাবিক যে এমনটা কেনো হলো? বঙ্গবন্ধুর আগেই তো বাংলাদেশ ছিলো। জবাবে বলতে হয়, বঙ্গবন্ধুর জন্মের হাজার বছর আগেও বাংলাদেশ ছিলো তবে সে বাংলাদেশ আজকের বাংলাদেশ নয়। আজকের বাংলাদেশের যে আয়তন, সীমা-পরিসীমা তার সবটা মিলে বাংলাদেশ নামক কোনো রাষ্ট্র পৃথিবীতে ছিলো ইতিহাসে তার কোনো প্রমাণ নেই। বাংলাদেশ অংশটি তখন বিচ্ছিন্নভাবে রাঢ়, সমতট, হরিকেল বাঙালা ইত্যকার নামে পরিচিত ছিলো। যার সাথে আজকের বাংলাদেশের মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। সোনারগাঁয়ের ঈশাখাঁকেও আমরা দেখি ক্ষুদ্র কিছু অংশ নিয়ে তিনি বাংলাদেশ শাসন করতেন। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের আগেও পূর্ববঙ্গ, পশ্চিমবঙ্গ মিলিয়ে পুরো বাংলা অঞ্চলকে বাংলাদেশ বলা হতো না। দুই বাংলাকে একত্রে বলা হতো বঙ্গ, বাঙালা বা বাংলা। এখনও ভারতে অবস্থিত বাংলা অংশকে বঙ্গ নামেই অভিহিত করা হয়, যেমন পশ্চিমবঙ্গ। ইংরেজ আমলে ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন থেকেও বঙ্গ শব্দটিই পাওয়া যায়। তারও পূর্বে নবাব সিরাজউদ্দৌলার মুখে আমরা শুনি বাংলাবিহার, উড়িশ্যার নবাব এ শব্দত্রয়। অর্থাৎ যে নামে এবং যতোটুকু অংশ নিয়েই বাংলা মুল্লুক থাকুক তা কেনো এককভাবে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ নামে কোনো দেশ পৃথিবীর মানচিত্রে কখনোই ছিলো না। সঙ্গত কারণেই আজকের একক স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। একটি জাতিরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবেই তাঁকে বলা হয় জাতির পিতা, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি। এ কারণেই তাঁর নাম বাংলাদেশ নামের আগে বসাটাই সমীচীন। আজ বাঙালিরা স্বাধীন সার্বভৌম দেশের নাগরিক হিসেবে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। ক্রিকেটের কল্যাণে বাংলাদেশ সমগ্র পৃথিবীতে এখন অতি পরিচিত এবং সমীহ জাগানো একটি নাম।



হাজার হাজার বছর গেলো তবু আমরা একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ পেলাম না কেনো তা নিয়ে অনেক কথা বলা যেতে পারে। এর মূলকথা হলো, নেতৃত্বদানের সক্ষমতা এবং সাহস। এ সক্ষমতা ও সাহস বঙ্গবন্ধু দেখিয়েছিলেন বলেই বঙ্গবন্ধুর পক্ষে বাংলাদেশকে স্বাধীন করা সম্ভব হয়েছিলো। ইতিহাস বলে, বাংলাদেশে এর আগেও খ-িতভাবে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছিলেন অনেকে। তিতুমীর, ইলামিত্র, মজনু শাহসহ আরো অনেকেই মুক্তির সংগ্রাম পরিচালনা করেছিলেন। পাকিস্তান আমলেও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, এ কে ফজলুল হক, মাওলানা ভাসানীর মতো প্রাজ্ঞ নেতারা আন্দোলন-সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু যাকে বলে মঞ্জিলে পৌঁছানো সেই কাজের কাজটি কেউ করতে সক্ষম হননি। এখানেই আসে বিচক্ষণতার কথা। বঙ্গবন্ধু অত্যন্ত ঠা-া মাথায়, সবদিক বিবেচনায় নিয়ে অগ্রসর হয়েছেন। তিনি সময় নিয়েছেন, ধাপে ধাপে এগিয়েছেন। হঠকারিতার পথে পা বাড়াননি। ১৯৭০ সালের নির্বাচনের সময় আমাদের অনেক বিজ্ঞ রাজনীতিবিদ বলেছিলেন, ভোটের বাক্সে লাথি মার। কিন্তু বঙ্গবন্ধু তাতে কর্ণপাত করেননি। তিনি ভোটযুদ্ধে নেমেছেন এবং তাঁর দল আওয়ামী লীগকে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা এনে দিয়েছিলেন। আর এ কথা কে না স্বীকার করেবে যে,  ’৭০-এর নির্বাচনই ছিলো স্বাধীনতার টার্নিংপয়েন্ট। ’৭০-এর নির্বাচনের মাধ্যমেই বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতিকে একত্রিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। বাকি কাজ বাঙালিরা নিজেরাই করেছেন। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে বিশ্বের বুকে আমরা প্রতিষ্ঠা করি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। যুদ্ধের পুরোটা সময় বঙ্গবন্ধু ছিলেন পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী। অথচ তাঁর নামেই পরিচালিত হয়েছে পুরো মুক্তিযুদ্ধ। আমরা গেয়েছি মুক্তির গান ‘শোনো একটি মুজিবরের কণ্ঠ থেকে লক্ষ মুজিবরের কণ্ঠে ধ্বনী প্রতিধ্বনী আকাশে বাতাসে উঠে রনি..., বাংলাদেশ আমার বাংলাদেশ।’



দুর্ভাগ্য এ জাতির ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধুকে কেনো হত্যা করা হলো, কারা হত্যা করলো? এক কথায় এর উত্তর হলো, ১৯৭১ সালের পরাজিত স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি ও তাদের দোসররা হত্যা করে বঙ্গবন্ধুকে। তারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে ইতিহাসের চাকা পেছনের দিকে নিয়ে যেতে থাকলো একে একে। বাংলাদেশ বেতার রাতারাতি হয়ে গেলো রেডিও বাংলাদেশ। অঘোষিতভাবে বন্ধ হয়ে গেলো সর্বত্র বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণও। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পুরস্কৃত করা হতে থাকলো। শাহ আজিজ, আব্দুল আলিম, মাওলানা মান্নান, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, মতিউর রহমান নিজামী ও মুজাহিদিদের মতো চিহ্নিত রাজাকারদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেলো। তাদের গাড়িতে উড়তে থাকলো ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের দামে কেনা স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা!



সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মূল উদ্দেশ্য ছিলো বঙ্গবন্ধুর রক্তের কেউ যেনো আর কোনোদিন রাষ্ট্রক্ষমতায় বসতে না পারে। কিন্তু ‘আল্লাহর মাইর দুনিয়ার বাহির’। বিদেশে থাকায় নৃশংস এ হত্যাকা- থেকে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ তার নিজস্ব গতিপথে চলতে শুরু করে। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী ও স্বাধীনতাবিরোধীরা যারা স্বপ্নেও কল্পনা করেনি অর্থাৎ কোনোদিন বাংলার মাটিতে তাদের বিচার হবে, তা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর খুনি ও স্বাধীনতাবিরোধী কর্নেল ফারুক ও নিজামীদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। জননেতা থেকে তিনি হয়ে উঠেছেন বিশ্বনেতা।



জয়তু শেখ হাসিনা।

 


হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৩-সূরা মুনাফিকূন


১১ আয়াত, ২ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৬। তুমি উহাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর অথবা না কর, উভয়ই উহাদের জন্য সমান। আল্লাহ উহাদিগকে কখন ও ক্ষমা করিবেন না। আল্লাহ পাপাচারী সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না।


সফলতা কখনো অন্ধ হয় না।


-টমাস হার্ডি।


 


 


বিদ্যালাভ করা প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জন্য অবশ্য কর্তব্য।


ফটো গ্যালারি
করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৪,৬৪,৯৩২ ৬,৩১,৩৫,৯৭৩
সুস্থ ৩,৮০,৭১১ ৪,৩৬,১২,৩৫৩
মৃত্যু ৬,৬৪৪ ১৪,৬৬,২৮৯
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
১৫৯৭৩৯
পুরোন সংখ্যা