চাঁদপুর, বুধবার ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২ মাঘ ১৪২৬, ১০ জমাদিউস সানি ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৩-সূরা মুনাফিকূন


১১ আয়াত, ২ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৬। তুমি উহাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর অথবা না কর, উভয়ই উহাদের জন্য সমান। আল্লাহ উহাদিগকে কখন ও ক্ষমা করিবেন না। আল্লাহ পাপাচারী সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না।


সফলতা কখনো অন্ধ হয় না।


-টমাস হার্ডি।


 


 


বিদ্যালাভ করা প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জন্য অবশ্য কর্তব্য।


ফটো গ্যালারি
গীতিকার মুখলেসুর রহমান মুকুলের কথা
মোখলেছুর রহমান ভূঁইয়া ও পলাশ কুমার দে
০৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


শিল্প, সাহিত্য, সাংস্কৃতিক সংগঠক, কবি, লেখক ও গীতিকার মুখলেসুর রহমান মুকুল চাঁদপুরের প্রথিতযশা ব্যক্তিত্ব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া শেষ করে প্রাণের মাতৃভূমি চাঁদপুরের মাটি-মানুষ-প্রকৃতি ত্রিনদীর ¯স্রোতের সাথে সংগ্রাম ও মিতালী করে চাঁদপুরের সংস্কৃতি অঙ্গনে নিজেকে সুদৃঢ় করেন। মেধার মূল্যায়নে সরকারি চাকুরি ও বিদেশে অর্থ উপার্জনের অনেক মোক্ষম সুযোগ থাকা সত্ত্বেও নিজে জীবনের প্রয়োজনে স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করে ভালোবেসে চাঁদপুরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে আকড়ে ধরেন। ছাত্র অবস্থায় তিনি কবিতা, গান লিখে নিজের মেধা মননকে জাগিয়ে তুলেন। তাঁর লেখা কবিতা-গান দেশ ও বিদেশে খ্যাতনামা পত্রিকা ও সাহিত্য প্রকাশনায় প্রকাশিত হয়। মনজুড়ানো হৃদয় ছোঁয়া দেশত্মবোধক গান টেলিভিশনে প্রাচারিত হয়। যা সাহিত্য বিশারদগণ মননে আজও স্থায়ী হয়ে আছে। তাঁর সাহিত্য-সংস্কৃতি সাধনায় বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ এবং লোকজ সংস্কৃতি ছিলো অগ্রগণ্য। জীবনের সোনালি সময় যৌবন ছিলো দেশপ্রেমে আত্মমগ্নতায়। চাঁদপুরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের উন্নয়নে তিনি ছিলেন নিঃস্বার্থভাবে নিবেদিত। জীবন ও কর্মময় যৌবনের উত্তাল সময়ে অভিজাত ব্যক্তিত্ব মুখলেসুর রহমান মুকুল নিজের পকেটের টাকা খরচ করেছেন লোকচক্ষুর অন্তরালে। প্রচারবিমুখ এ মানুষটি অনেক জনহিতৈষী কর্মকা- করেছেন নীরবে-নিভৃতে। প্রতিভাবান হওয়ায় তাঁর একান্ত আপনজনেরা এবং ঢাকায় সংস্কৃতি অঙ্গনের গুণীজন ব্যক্তিত্বরা কাজের সুযোগ করে দিলেও সেই অপারগতা প্রকাশ করে চাঁদপুরের সংস্কৃতি অঙ্গনকে নিজের মন থেকে আকড়ে থাকেন। কারণ তার অভিপ্রায়-সবাই চাঁদপুর থেকে চলে গেলে চাঁদপুরের পরবর্তী প্রজন্ম শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনে কাদের উৎসাহ অনুপ্রেরণায় এ পদ্মা-মেঘনার মিলন¯স্র্রোতের ধারাবাহিকতা কে বা কারা অবলোকন করবে? বলার অপেক্ষা রাখে না একজন মুখলেসুর রহমান মুকুলের উদ্দীপনায়, জ্ঞানের প্রখারতায় রুদ্ধ হয়ে আজকে অনেক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব পরিচিতি লাভ করেন। প্রচারে নিজেকে বিলিয়ে না দিয়ে, অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছেন কুসংস্কার প্রথাকে পদধূলিত করে সুষ্ঠু, সুস্থ আবহমান বাংলার সংস্কৃতি বিকাশে জ্ঞানের মশাল দিয়ে চাঁদপুরকে আলোকিত করেছেন। জীবন, যৌবন ও কর্মউদ্দীপনাময় সেই মানুষটি আজ শয্যাসায়ী। দীর্ঘদিন রোগাক্রান্ত মানুষটি আজ বলতে গেলে আর্থিক খাতার যোগফল শূন্য। সেই শূন্যতার-পূর্ণতায় হাতছানি দিয়েছেন আমাদের সকলের পরম শ্রদ্ধেয় মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপি। চাঁদপুর শিল্পকলা একাডেমি পদক-২০১৮ তাঁর চাঁদপুর স্টেডিয়াম সংলগ্ন বাসভবনে গিয়ে উত্তরীয় পরিয়ে ও পদক তুলে দেন। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী মুখলেসুর রহমান মুকুলের সাহিত্য-সংস্কৃতির সম্পাদিত কর্মগুলো জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবগত করবেন এবং তাঁর উন্নত চিকিৎসার বিহিত ব্যবস্থা করবেন বলে আশ্বস্থ করেন। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর কাছে মুখলেসুর রহমান মুকুলের সৃষ্টিশীলতার তথ্যের কথোপকথন তুলে ধরার আশ্বাসে চাঁদপুরের সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গনে বেদনার মাঝেও আনন্দ মিশেল আবহ বিরাজ করছে। যোগ্যদের সম্মান করাই রাষ্ট্রের কর্তব্য। এ কথা শিক্ষামন্ত্রীর ভাবার্থে ফুটে উঠে। আর বিশেষ করে চাঁদপুরকে জীবনের ন্যায় ভালোবেসে মুখলেসুর রহমান মুকুল যে অবদান রেখে গেছেন তা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অবগত হওয়ার অর্থ আমাদের শিক্ষামন্ত্রী ও চাঁদপুরবাসীর গৌরব। সাহিত্যসাধনায় যতো বেশি সময় ব্যয় হয়; তার ব্যাপ্তিও প্রসারিত হয়। দুরারোগ্য ব্যাধি সাহিত্যসাধনার বিপরীত। রোগের সময়কাল দীর্ঘ হলে জীবনপ্রদীপ ক্ষীণ হয়ে আসে। আর্থিক সঙ্কটে চিকিৎসাবিহীন মুখলেসুর রহমান মুকুলের জীবনপ্রদীপ সায়াহ্নে পৌঁছে না যায় সেজন্যে সবার সার্বিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা একান্ত কাম্য।



তাঁর রচিত বিভিন্ন গানের অংশবিশেষ তুলে ধরা হলো : জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গান : ‘আমার পোষা ময়নাটা/আর তো কিছু বলে না/বলে শুধু বাংলাদেশ, আমার ঠিকানা রে, আমার ঠিকানা।’ একুশের গান : ‘আর কোথা হয় মৌনমিছিল এমন প্রভাতফেরি/এলে একুশে ফেব্রুয়ারি/ এলে একুশে ফেব্রুয়ারি/বুকের তাজা রক্ত ডালে মায়ের ভাষার তরে/এমন ছেলে আছে শুধু বাংলা মায়ের ঘরে/স্বর্ণগর্ভা এমন মায়ের নেই তো কোথাও জুড়ি’। দেশাত্মবোধক নিরপেক্ষতা গান ‘ঈদ-পূজা-পার্বণ করি/প্রাণে মিলনসেতু গড়ি/মসজিদে মন্দিরে করি/একই প্রার্থনা/প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশের/নাই যে তুলনা’ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গান ‘স্বপ্নীল আনন্দে পথচলা/প্রাণের উৎসবে প্রাণের মেলা/সোনার কামনায় গড়বো মোরা/এই দেশ এই ক্ষেত খামার/দেশ আমার আর জনক আমার’। আধুনিক গান ‘কোথায় গেলো বাসর আমার/কোথায় গেলো বাঁশি/কোথায় গেলো এই জীবনের/এতো হাসিখুশি’। শিক্ষামন্ত্রীকে নিয়ে গান ‘চাঁদপুরের সন্তান তুমি জাতির অহঙ্কার/তোমার মতো কৃতীসন্তান দেশের অলঙ্কার/তোমায় পেয়ে ধন্য এই দেশ ধন্য দেশের মাটি/তোমার এমন মহান কীর্তি হয় না তুল না/গর্বে এখন বুক ভরে যায় দীপু মনি অনন্যা’ প্রভৃতি গান রচনা করেছেন।



১৯৭৪ সালে অনুষ্ঠিত বার্লিনে আন্তর্জাতিক শিশু উৎসবে তাঁর লেখা ‘এই বাংলায় এসেছিলো দুর্জয় শপথের দিন/ সবুজের গালিচা কালো রাজপথ/হয়ে ছিলো রক্তে রঙ্গিন’ গানটি ব্যাপক প্রশংসিত হয়। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু ঘাতকের বুলেটে নিহত হলে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি অঙ্গনে হ-য-ব-র-ল অবস্থা এবং স্বাধীনতার চেতনার বিপরীতমুখী সংস্কৃতিচর্চার জোয়ার উঠে। পদ্মা-মেঘনার খর¯স্রোতা বৈরী শ্রোতের ন্যায় আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে চাঁদপুরে সংস্কৃতি অঙ্গনে ’৮০/’৯০ দশকে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে আগলে রাখেন বিভিন্ন বৈরী রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে। ১৯৭৬ সালে মার্শালোর মধ্য দিয়ে চাঁদপুর তথা দেশে প্রথম বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গান রচনা করেন মুখলেসুর রহমান মুকুল। গানটি হলো : ‘মৃত্যুঞ্জয়ী জ্যোতির্ময় চির অম্লান, চির ভাস্বর কোটি প্রাণে প্রেরণা তুমি শেখ মুজিবুর’। ৮০/৯০ দশকের রাজনৈতিক বৈরীতাকে আলিঙ্গন করে বিরতিহীন পথচলায় তাঁর গানের কথামালা দিয়ে স্বাধীনতার সপক্ষকে দুর্জয় সাহস ও শক্তি যুগিয়েছেন। তাঁর লেখা গান বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হলে বঙ্গবন্ধু ও দেশপ্রেম পুলকিত করত। আনন্দে বিমোহিত হয়ে সাহিত্য-সংস্কৃতি বোদ্ধারা উচ্ছসিত প্রশংসা করতেন।



মুখলেসুর রহমান মুকুল সংস্কৃতিঅঙ্গনে অবদানস্বরূপ বিভিন্ন সংবর্ধনা ও পুরস্কারপ্রাপ্তি তুলে ধরা হলো : বর্ণালি সংস্কৃতি গোষ্ঠী চাঁদপুরের পক্ষ থেকে ১৯৮৬ সালে প্রথম সংবর্ধনা। মিঠুন ফ্রেন্ডস্ অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ২০০১ সালে গুণীজন সংবর্ধনা। গীতি আলেখ্য গ্রন্থনায় গ্রন্থনা হিসেবে চাঁদপুর শিল্পকলা একাডেমির পক্ষ থেকে পুরস্কার লাভ করেন। বঙ্গবন্ধু শিশু-কিশোর মেলা কেন্দ্রীয় কমিটির ২২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সম্মাননা পদক লাভ করেন। প্রবীণ ছড়াকার হিসেবে ইনার হুইল ক্লাব অব চাঁদপুর সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট-৩২৮২ পদক লাভ করেন। চাঁদপুর ইলিশ উৎসব পদক-২০১০ লাভ করেন। বাংলাদেশ শিশু একাডেমি চাঁদপুর শিশু আনন্দমেলা পদক লাভ করেন। চাঁদপুর শিল্পকলা একাডেমি ২০১৮ পদক লাভ করেন।



মুখলেসুর রহমান মুকুল দীর্ঘ সময় বঙ্গবন্ধু শিশু ও কিশোরমেলা চাঁদপুর জেলা শাখায় প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্ব ছিলেন তখন প্রধানমন্ত্রী কেন্দ্রীয় কমিটির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁর লেখা গান শুনেছেন।

সংস্কৃতিমনা ব্যক্তিত্ব মুখলেসুর রহমান মুকুলকে চাঁদপুর শিল্পকলা একাডেমি পদক-২০১৮ প্রাপ্তির দিন শিক্ষামন্ত্রীর সাথে চাঁদপুর শিল্পকলা একাডেমি ও সাহিত্য একাডেমি, চাঁদপুর-এর সংশ্লিষ্টরা এবং সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।



চাঁদপুরের শিল্প-সংস্কৃতির স্থানীয় অভিভাবক হিসেবে শিল্পকলা ও সাহিত্য একাডেমি চাঁদপুরের দায়িত্বপ্রাপ্তরা শিক্ষামন্ত্রীর সাথে প্রশাসনিক যোগাযোগ রেখে মুখলেসুর রহমান মুকুলের অবস্থান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কান পর্যন্ত পৌঁছানো মানবিক দায়িত্ব বলে সুধীজন মনে করেন। যৌথভাবে অগ্রগামী হয়ে সুযোগের সদ্ব্যবহার করলে দুটি প্রতিষ্ঠান তথা চাঁদপুরের শিল্প-সংস্কৃতি-সাহিত্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে কলবর বৃদ্ধি পাবে। শয্যশায়ী মুখলেসুর রহমান মুকুলের আকুতি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে তাঁর লেখা গানের কথামালা আমাদের প্রাণপ্রিয় শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপির মাধ্যমে তুলে ধরা হলো : ‘জাতির তুমি সুখের আশা/ভালোবাসার নিশানা/মায়ের বুকে শিশু যেমন/খোঁজে সুখের ঠিকানা/তুমি মায়ের ¯স্নেহের আঁচল/হয় না তোমার তুলনা/ধন্য ধন্য ধন্য তুমি জননেত্রী দেশরন্ত শেখ হাসিনা’।

 


আজকের পাঠকসংখ্যা
২৬৫৮৯৮
পুরোন সংখ্যা