চাঁদপুর, বুধবার ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২ মাঘ ১৪২৬, ১০ জমাদিউস সানি ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৩-সূরা মুনাফিকূন


১১ আয়াত, ২ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৬। তুমি উহাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর অথবা না কর, উভয়ই উহাদের জন্য সমান। আল্লাহ উহাদিগকে কখন ও ক্ষমা করিবেন না। আল্লাহ পাপাচারী সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না।


সফলতা কখনো অন্ধ হয় না।


-টমাস হার্ডি।


 


 


বিদ্যালাভ করা প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জন্য অবশ্য কর্তব্য।


প্রাণের মেলা বইমেলা
প্রীতি রাহা
০৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


বছর ঘুরে আবার এলো অমর একুশে গ্রন্থমেলা। পাঠক, লেখক ও প্রকাশকদের এক মহামিলন মেলায় রূপ নেয় সবার প্রিয় এ গ্রন্থমেলা। এ শুধু গ্রন্থমেলা নয়, এ এক প্রাণের মেলা। আত্মার সঙ্গে আত্মার যেমন সম্পর্ক, তেমনি বইয়ের সঙ্গে পাঠকের সম্পর্ক। ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের কারণে অমর একুশে গ্রন্থমেলা এবার শুরু হচ্ছে আজ ২ ফেব্রুয়ারি থেকে। চলবে ভাষার মাসজুড়ে।



 



অমর একুশে গ্রন্থমেলার শুরুটা হয়েছিলো অনেক আগে। বাংলা একাডেমি চত্বরে বইমেলা শুরু হয়েছিলো চিত্তরঞ্জন সাহার হাত ধরে। দিনটি ছিলো ১৯৭২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ। বর্তমান বাংলা একাডেমি তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বর্ধমান হাউস প্রাঙ্গণের বটতলায় বই নিয়ে এসেছিলেন প্রকাশনা জগতের এক চিরস্মরণীয় ব্যক্তি, চিত্তরঞ্জন সাহা।



এখনকার মতো এমন স্টল আর সাজানো-গোছানো পরিবেশ তখন ছিলো না। টেবিল-চেয়ারের আয়োজনও ছিলো না। চিত্তরঞ্জন সাহা বই সাজিয়েছিলেন চটের ওপর। ১৯৭১ সালের মে মাসে তিনি আশ্রয় নিয়েছিলেন ভারতের কলকাতায়। কলকাতায় তখন বাংলাদেশের বহু লেখক, সাহিত্যিক, শিল্পী, বুদ্ধিজীবী আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেখানেই তিনি বই প্রকাশের উদ্যোগ নেন এবং মুক্তিযুদ্ধের ওপর ৩২টি বই প্রকাশ করেন। সেসব বই নিয়েই আয়োজন করা হয়েছিল বাংলাদেশের প্রথম বইমেলার।



 



সে বছর বাংলা একাডেমিও একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে হ্রাসকৃত মূল্যে বই বিক্রি করেছিলো। তবে চিত্তরঞ্জন সাহার স্বাধীন বাংলা সাহিত্য পরিষদ (পরে মুক্তধারা প্রকাশনী) ছিলো একমাত্র বেসরকারি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান।



 



১৯৭২ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত চিত্তরঞ্জন সাহা নিজে চালিয়ে যান এ বইমেলা। চিত্তরঞ্জন সাহার আগ্রহ এবং মানুষের ভালোবাসার কারণে ১৯৭৮ সালে বাংলা একাডেমি এই উদ্যোগকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। ১৯৭৯ সালে মেলার সঙ্গে যুক্ত হয় বাংলাদেশ পুস্তক বিক্রেতা ও প্রকাশক সমিতি। এ সংস্থাটিও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন চিত্তরঞ্জন সাহা। ১৯৮৪ সালে এসে গ্রন্থমেলার জন্য বিধিবদ্ধ নীতিমালা প্রণীত হয় এবং গ্রন্থমেলার নাম হয় 'অমর একুশে গ্রন্থমেলা'। সেই থেকে এ গ্রন্থমেলা প্রতি বছর প্রায় একই আঙ্গিকে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।



 



এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলাজুড়ে উদ্ভাসিত হবেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আমাদের চেতনা, স্বপ্ন ও আগামীদিনের কার্যক্রম প্রতিভাত করতে এবারের গ্রন্থমেলা উৎসর্গ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। জানা গেছে, এবারের মেলায় বঙ্গবন্ধুর ওপর রচিত ২৫টি গ্রন্থ নিয়ে মাসজুড়ে আলোচনা করা হবে।



 



পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যমতে, এবার গ্রন্থমেলায় সৃজনশীল প্রকাশনা সংস্থাগুলো থাকবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে। সেখানে ৪৩৪টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে ৬৯৮টি ইউনিট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বাংলা একাডেমি অংশে ১৭৯টি ইউনিট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১২৬টি প্রতিষ্ঠানকে। সবমিলিয়ে ৫৬০টি প্রতিষ্ঠানকে ৮৭৩টি ইউনিট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাংলা একাডেমিসহ ৩৩টি প্রকাশনা সংস্থাকে ৩৪টি প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।



 



এবার প্রথমবারের মতো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে থাকছে লিটলম্যাগ চত্বর। একই স্থানে শিশু চত্বর তৈরি করা হয়েছে। গ্রন্থমেলা চলাকালীন শিশুপ্রহর ঘোষণা করা হবে। মেলায় বাংলা একাডেমিসহ অংশগ্রহণকারী সব প্রতিষ্ঠান ২৫ শতাংশ কমিশনে বই তুলে দেবে পাঠকদের হাতে। মেলায় প্রবেশের জন্য বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে থাকবে তিনটি পথ, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্যে থাকবে ছয়টি পথ। সেই সঙ্গে থাকবে 'লেখক বলছি' ও গ্রন্থ উন্মোচনের আয়োজন।



 



অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০২০ সার্থক হোক। লেখক ও পাঠকের মধ্যকার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হোক।



 



প্রীতি রাহা : প্রাবন্ধিক।



 



 


করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ২,২৩,৪৫৩ ১,৬২,২০,৯০০
সুস্থ ১,২৩,৮৮২ ৯৯,২৩,৬৪৩
মৃত্যু ২,৯২৮ ৬,৪৮,৭৫৪
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৮১৮৭৭১
পুরোন সংখ্যা