চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার ১৯ মার্চ ২০২০, ৫ চৈত্র ১৪২৬, ২৩ রজব ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৬-সূরা তাহ্রীম


১২ আয়াত, ২ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


 


 


 


assets/data_files/web

দুঃখ অনেক ক্ষেত্রে জ্ঞান বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।


-বায়রন।


 


 


 


পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গ।


 


 


 


 


 


 


 


ফটো গ্যালারি
জন্মশতবর্ষে বঙ্গবন্ধু
পীযূষ কান্তি বড়ুয়া
১৯ মার্চ, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


হাজার বছর ধরে বাঙালি জাতি প্রতীক্ষায় ছিলো এক মহানায়কের যাঁর হাত ধরে প্রস্ফুটিত হবে বাঙালির বহু কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতার অরুণ-কুসুম। পদ্মা-মেঘনা-যমুনাসহ শত শত নদী বিধৌত এ জনপদ সংগ্রামের উর্বর ভূমি। আবহমানকাল হতে বাঙালির শোণিত প্রবাহে মিশে আছে সংগ্রামের শতধারা। বাঙালি রুদ্র প্রকৃতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে যেমন একদিকে টিকে আছে এই ভূমিতে, তেমনি সম্পদ আর প্রকৃতির রূপের লোভে আক্রান্ত হয়েছে কত শত জলদস্যু আর বিদেশি বেনিয়াদের দ্বারা তার কোন সঠিক হিসাব নেই। অজস্র বহিরাগতের আক্রমণ আর নির্যাতনে এ ভূমি হারিয়েছে তার ঐশ্বর্য, হারিয়েছে বনেদীয়ানা। তবুও এ প্রিয় ভূমি সকল দেশের সেরা। নিরন্তর সংগ্রামে এ জনপদের সাহসী মানুষগুলো তাড়িয়েছে বর্গী, তাড়িয়েছে মগ, পাঠান, শক, হুন, মোগল সবাইকে। বাণিজ্যের নামে লুণ্ঠনে মেতেছে এখানে ডাচ-ওলন্দাজ জলদস্যু, আরবীয়, ফরাসী আর ইংরেজ গোরা বেনিয়াদের পৌনে দুশো বছরের ঔপনিবেশিক শাসনে বাঙালি যেমন ছিলো পরাধীন, তেমনি সহ্য করেছে প্রতি পদে পদে সীমাহীন অত্যাচার। সাতচলি্লশের দেশবিভাগের বদৌলতে, অদূরদর্শী ধর্মভিত্তিক দ্বিজাতিতত্বের কারণে বাঙালি হারাতে বসেছিল তার আত্মপরিচয়। সেই আত্মপরিচয়ের সঙ্কট হতে বাঙালিকে উদ্ধারের জন্যে আবির্ভূত হলেন সেই জ্যোতির্ময় যাঁর প্রতীক্ষায় পৃথিবী পথ চেয়েছিল হাজার বছর।



 



সহজ-সরল শেকড়ের সংস্কৃতিবান বাঙালির শ্রমে-ঘামে তৈরি যে জনপদ তার প্রতিটি অণুতে মিশে আছে বাঙালি জাতিসত্ত্বার সমৃদ্ধ পরিচয়। আর এ পরিচয় যাঁর সংগ্রামে-সংক্ষোভে পেয়েছে পূর্ণতা, তিনি হয়ে উঠেছেন বাঙালির স্বপ্নের জাগরণী জনক, যিনি ঘুমন্ত বাঙালিকে জাগিয়েছেন বজ্রকণ্ঠ হেনে, যিনি বাঙালিকে স্বপ্ন দেখিয়েছেন মুক্তি ও সার্বভৌমত্বের। ভাষা ও ভূ-খ-ে, সংস্কৃতি ও সংগ্রামে নির্মিত জাতির স্বপ্নের নির্মাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই বিশ্বকে জানিয়েছেন, 'বাংলার মানুষকে দাবায়া রাখতে পারবা না'। যে বজ্রকণ্ঠ তাঁর তর্জনী হেলিয়ে পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠীর ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল, সেই বজ্রকণ্ঠই আজ বিশ্বকে পথ দেখিয়ে চলেছে তাঁর আদর্শ আর সাহসের বিত্ত দিয়ে। সেদিনের টুঙ্গীপাড়া আজ হয়ে উঠেছে বিশ্বগ্রাম যেখানে জাতির জনকের প্রথম ক্রন্দন এখনো ঘুরে বেড়ায় ইথারে। বাংলা ভাষার জন্যে বঙ্গবন্ধুর অবদান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কেননা তিনি যেমন ঊনিশশো আটচলি্লশে রাষ্ট্রভাষার দাবিতে সোচ্চার ছিলেন, তেমনি ঊনিশশো বায়ান্ন সালে ভাষার দাবিতে কারায় অন্তরীণ থেকে টানা তের দিন অনশন করেছেন। তিনিই প্রথম দেশের বাইরে চীনে গিয়ে উনিশশো ছাপ্পান্ন সালে নিজের মাতৃভাষা তথা বাংলায় ভাষণ দিয়েছিলেন। ঊনিশশো চুয়াত্তরের পঁচিশে সেপ্টেম্বর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলায় ভাষণ দিয়ে প্রমাণ করেছেন বাংলার গুরুত্ব। আজ তাঁর জন্মশতবর্ষে দাঁড়িয়ে বাংলা ভাষাই হয়ে উঠেছে বাঙালির আত্মপরিচয়ের এক মহান বর্ম।



 



বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ। দুর্নীতিবাজদের বিপক্ষে তাঁর ক্ষোভ বিভিন্ন সময়ে ঝরে পড়েছে বিভিন্ন বক্তৃতায়। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, দুর্নীতিই বাংলাদেশের সার্বিক মুক্তির বড় অন্তরায়। তাঁর দূরদর্শী প্রজ্ঞায় এটা পরিষ্কার হয়ে ওঠে, দুর্নীতি কৃষকেরা করে না, মজুরেরা করে না। দুর্নীতি করে সাহেবেরা, শিক্ষিতরা। কাজেই ওইসব দুর্নীতিবাজদের যদি চিহ্নিত করা যায় তবে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। আজ দুহাজার কুড়িতে দাঁড়িয়ে এ কথা বলা যায়, বঙ্গবন্ধুর সেই আক্ষেপ বিদূরণের চেষ্টা করা হয়েছে উল্লেখযোগ্য মাত্রায়। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশের প্রাথমিক ভিত্তি। জাতির পিতার জন্মশতবর্ষে বাংলাদেশ আজ প্রত্যয়ী যাতে 'দুর্জয় তারুণ্য' দুর্নীতিকে রুখে দিতে পারে।



 



ঊনিশশো কুড়িতে জন্ম নেওয়া খোকা তাঁর শত সংগ্রাম আর ত্যাগের মধ্য দিয়ে হয়ে উঠেছেন বাঙালির আশা-আকাঙ্ক্ষার মূর্ত প্রতীক। সকলের মিয়া ভাই শেখ মুজিব জনতার শেখ সা'ব হয়ে ওঠার মধ্য দিয়েই উপ্ত হয়েছে ইতিহাসের মহানায়কের স্বপ্নবীজ। সেই স্বপ্নবীজ আজ অঙ্কুরিত হয়ে জন্মশতবর্ষে হয়ে হয়ে উঠেছে মহীরূহ। মুজিব আজ আর কেবল বাঙালির নয়, মুজিব আজ হয়ে উঠেছেন আন্তর্জাতিক এক অনতিক্রম্য ব্যক্তিত্ব। যে মুজিব নির্মমভাবে নিহত হয়ে একুশ বছরেরও দীর্ঘ সময় নির্বাসিত থেকেছেন তাঁর সোনার বাংলা হতে, সে মুজিবই আজ কালের উছলে ওঠা স্রোতে আধুনিক বাংলাদেশের স্বপ্নযাত্রার নির্মাতা। মৃত্যুর পরে যাঁর অন্তিম গোসলে লেগেছে রিলিফের পাঁচশ সত্তর সাবান, আজ সেই মুজিবই তাঁর জন্মশতবর্ষে বিশ্বনেতাদের প্রণম্য।



 



মুজিবকে নতুন করে আবিষ্কারের উপলক্ষ তৈরি হয়েছে তাঁর জন্মশতবর্ষকে কেন্দ্র করে। তাঁর 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' বাংলাভাষায় রচিত এক অসামান্য সাহিত্যকর্ম। নিজের ভাবনা-চিন্তাকে তিনি লিখে রেখে গেছেন 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' এবং 'কারাগারের রোজনামচা'র মধ্যে। নয়া চীন দেখে শেখ মুজিব স্বপ্ন দেখেছিলেন দ্বিতীয় বিপ্লবের। মহান ভাষা আন্দোলনে আজ শেখ মুজিবের ভূমিকা আবিষ্কৃত হয়েছে গুরুত্বপূর্ণরূপে। এতোদিন অনেকেই ভাষা আন্দোলনে মুজিবকে জেলে পাঠিয়ে নিষ্ক্রিয় হিসেবে পরিস্ফুটিত করার চেষ্টা করে গেছেন। কিন্তু ভাষা আন্দোলনে শেখ মুজিবের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ও নেতৃত্ব দেয়া এবং বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে শেখ মুজিবের টানা তের দিন অনশন করে যাওয়ার ঘটনায় আজ তাকে নতুন করে আবিষ্কারের সুযোগ ঘটেছে। ঊনিশশো সাতান্ন সালে গণচীনে গিয়ে তাঁর বাংলায় বক্তৃতা দেয়া এবং ঊনিশশো চুয়াত্তরের পঁচিশে সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলায় বক্তৃতা প্রদানের মাধ্যমে মাতৃভাষা বাংলাকে বিশ্বে মর্যাদার আসনে তুলে ধরার প্রচেষ্টা হতে একথা সুপ্রতিষ্ঠিত যে, বঙ্গবন্ধু একজন সত্যিকারের ভাষাবীর, ভাষাযোদ্ধা।



 



জন্মশতবর্ষে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধুকে আজ আমরা কেবল লেখক হিসেবে নয়, নিবিড় ও মনোযোগী পাঠক হিসেবেও আবিষ্কার করতে পারি। পাঠক হিসেবে মহান দার্শনিক বার্ট্রা- রাসেল ছিলেন তাঁর প্রিয় লেখক। তাই তাঁর নামেই তিনি নামকরণ করেছেন তাঁর কনিষ্ঠ সন্তান শেখ রাসেলের। তিনি হঠাৎ আটক হয়ে কারাগারে গেলে নিজেকে নিজে 'বই যা আছে তাই সম্বল' বলে মানসিকভাবে প্রস্তুত করে নিতেন। তাঁকে কারাগারে বিভিন্ন রকম বই সরবরাহ করতেন বেগম মুজিব। কিন্তু জেল কর্তৃপক্ষ তাঁকে দর্শন, রাজনীতি কিংবা কোন প্রবন্ধের বই পড়তে দিত না। এ ধরনের বইগুলো জেল কর্তৃপক্ষ বাজেয়াপ্ত করে ফেলত। তাঁকে কেবল উপন্যাস, গল্পের আবেগসর্বস্ব বইগুলো দেয়া হতো যাতে তাঁর চিন্তার দিগন্ত, ভাবনার পরিম-ল উন্মুক্ত না হয়। বঙ্গবন্ধু এতে বেশ বিরক্ত হতেন। 'পাকিস্তান' এর ওপরে তিনি দুজনের লেখা দুটি বই পড়েছেন। হবীবুল্লাহ্ বাহার সাহেবের লেখা 'পাকিস্তান' এবং মুজিবুর রহমান খাঁ সাহেবের লেখা 'পাকিস্তান'। বই দুটি তাঁর প্রায় মুখস্থ ছিল এবং এদের নির্যাস তাঁর মনে গেঁথে ছিলো দীর্ঘস্থায়ী দাগ কেটে। ফরিদপুরে কনফারেন্স ডাকার জন্যে সম্মতি চেয়ে তিনি লাহোরে তাঁর গুরু হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সাথে দেখা করতে যান। সে সময় পশ্চিম পাকিস্তানের মানুষ তাঁর কাছে কিছু বাংলা কবিতা শুনতে চেয়েছিল। বঙ্গবন্ধু তাদের নজরুলের 'কে বলে তোমায় ডাকাত বন্ধু', 'নারী', 'সাম্য' আরও কয়েকটা কবিতার কিছু কিছু অংশ শুনিয়েছিলেন। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের কবিতাও দু-একটার কয়েক লাইন শোনানো হয়েছিলো। শহীদ হোসেন সোহরাওয়ার্দী সাহেব তাঁদের ইংরেজি তরজমা করে এই কবিতাগুলোর সারমর্ম বুঝিয়ে দিয়েছিলেন।



 



বঙ্গবন্ধু ছোটবেলা হতেই বাসায় বাবার আনা আনন্দবাজার, বসুমতী, আজাদ, মাসিক মোহাম্মদী ও সওগাত প্রভৃতি আলোচিত পত্রিকায় প্রকাশিত লেখার মাধ্যমে তৎকালীন সাহিত্যিকদের সাহিত্যকর্মের সাথে পরিচিত ছিলেন। আইয়ুববিরোধী আন্দোলনকালে যখন রবীন্দ্রসঙ্গীতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলো তখন শেখ মুজিব প্রতিবাদ করেছিলেন। তিনি রবীন্দ্রনাথের গানকে জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে নির্বাচন করেছেন। উনিশশো সাতান্ন সালে চীন ভ্রমণে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর সাথে রুশ লেখক অ্যাসিমভ এবং তুরস্কের নির্যাতিত কবি নাজিম হিকমতের সাথেও দেখা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু নিজেই একবার পাঞ্জাবে অনুষ্ঠিত সাহিত্য সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন। নিজের ব্যক্তিগত পাঠাগারে পাঠরত বঙ্গবন্ধুর ছবিটি প্রমাণ করে দেয়, তিনি কত নিবিড় একজন পাঠক ছিলেন এবং তাঁর পাঠক্ষুধা কত বিস্তৃত ছিল। আলবেরুনির ভারততত্ব বইটির অনুবাদ ধরে রেখে তাঁর যে ছবিটা আজ কালজয়ী তাতেও পাঠক শেখ মুজিবের উন্মোচন ঘটেছে। জেলজীবনে বঙ্গবন্ধুকে কারাকর্তৃপক্ষ রিডার্স ডাইজেস্ট, নিউজ উইক, রবীন্দ্রনাথের 'রাশিয়ার চিঠি' পড়তে দেয়নি। কেননা তারা জানত, বই পাঠের অভ্যাস এবং বই আর সংবাদপত্রগুলোর নির্যাসই বঙ্গবন্ধুর সাহসী মননের নির্মাতা। না পড়তে দেয়া বইগুলোর জন্যে বঙ্গবন্ধুর সে কী আর্তি!



 



বঙ্গবন্ধুর পাঠাভ্যাস সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হয়ে তাঁকে বই উপহার দিতেন তাঁরই সাথে কারাগারে আটক শামসুল হকের পত্নী, যাঁকে বঙ্গবন্ধু শ্রদ্ধাভরে ভাবী সম্বোধন করতেন। নিজের জীবনে হতাশা এলে বঙ্গবন্ধু কারাগারে বসে প্রিয় লেখকদের লেখা হতেই শক্তি সঞ্চয় করতেন। অপরাজেয় কথাশিল্পী শরৎ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ে 'অাঁধারের রূপ' প্রবন্ধটি পড়েই শেখ মুজিব লাভ করেছিলেন বন্ধ কারায় আলোর ঠিকানা। কারাগারের নির্জনতায় কোন কোনদিন নিজের পিতা-মাতায় কথা মনে পড়তো। দুর্বলতা তখন তাঁকে গ্রাস করতো। সেই দুর্বলতা কাটাতে তিনি রবীন্দ্রনাথকে আউড়ে যেতেন,



'বিপদে মোরে রক্ষা কর এ নহে মোর প্রার্থনা



বিপদে আমি না যেন করি ভয়।'



 



বন্ধু শহীদুল্লাহ্ কায়সারের 'সারেং বউ' উপন্যাসটি পাঠ করে বঙ্গবন্ধু খুশি হয়েছিলেন। তিনি লেখক বন্ধুর প্রশংসা করে বলেছিলেন, ভালোই লিখেছে...। বঙ্গবন্ধুর পাঠ কত বিস্তৃত ছিলো তা বোঝা যায় ফরাসী কথাসাহিত্যিক এমিল জোলার উপন্যাস 'তেরেসা রেকুইন' এর পাঠ প্রতিক্রিয়ার গভীরতায়। বইয়ের মধ্যে ডুবে থেকে তিনঘণ্টার মতো সময় যে কোনদিকে চলে গেলো তা তিনি ঠাহর করতে পারেননি। মার্কিন লেখক হেনরি ডেভিড থরোর লেখা 'সিভিল ডিসওবিডিয়েন্স' গ্রন্থটিও বঙ্গবন্ধুর পাঠক্ষুধার আহারে পরিণত হয়েছিল এবং এই গ্রন্থ থেকে তিনি উদ্ধৃতিও দিতেন মাঝে মধ্যে। পাকিস্তানী কারান্ধকারে বাংলা গ্রন্থের জন্যে তাঁর মন অাঁকুপাঁকু করতো। কিন্তু বাংলায় লিখিত গ্রন্থ পাকিস্তানী কারাগারের গ্রন্থাগারে ছিল না। ঊনিশশো সাতচলি্লশ সালে দ্বিজাতিতত্বের ভিত্তিতে ভারতবর্ষ ভাগ হয়ে ভারত-পাকিস্তানের জন্ম হওয়ার কালে লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন কলকাতাকে নিয়ে। কেননা কলকাতাই তখন ছিল ভারতবর্ষের শ্রেষ্ঠ শহর। এসব কথা বঙ্গবন্ধু জানতে পেরেছিলেন 'মিশন উইথ মাউন্টব্যাটেন' শীর্ষক বই পাঠ করেই। এই বইয়েই লেখা আছে, কোন এক ইংরেজ কর্মকর্তাকে লন্ডন হতে ঢাকায় পাঠানো হলে তিনি আসতে রাজি নন বলে পত্র লিখেছিলেন মাউন্ট ব্যাটেনকে। কেননা ঢাকার গরম আবহাওয়া সুখকর নয়। লর্ড মাউন্ট ব্যাটন জবাবে লিখেছিলেন, দুনিয়ার সবচেয়ে উঁচু সুখকর পাহাড়ি শহরও এই পূর্ববঙ্গেই আছে। মাউন্ট ব্যাটেন শৈল শহর বলতে দার্জিলিংকেই বুঝিয়েছিলেন কেননা তখন পূর্ববঙ্গের সাথে বলতে দার্জিলিংও যুক্ত ছিলো। মাউন্ট ব্যাটেনের লেখা এই বইটি বঙ্গবন্ধু পড়েছিলেন বিধায় ভারত ভাগের সময় তার মানসিকতা সম্পর্কে জানতে পেরেছিলেন।



 



বঙ্গবন্ধু তাঁর জন্মশতবর্ষে এসে জানা-অজানা তথ্যে অবাক করে দিয়েছেন আমাদের। শৈশব হতেই তাঁর ছিলো দুর্বল শরীর। বেরিবেরি রোগে ভুগে যেমন হার্ট হয়েছে দুর্বল, তেমনি দুটো চোখে গ্লুকোমার কারণে দশদিনের ব্যবধানে বাম ও ডান চোখে অপারেশন করাতে হয়। এতে তাঁর ছাত্রজীবনের চার বছর নষ্ট হয় বটে, তবুও এই দুর্বল শরীরেই তিনি পরিণত হয়ে ওঠেন শক্ত মনোবলের বিজয়ী বীররূপে। প্রায়শই তিনি জ্বরে ভুগতেন। আবার দু-একদিনেই ভালো হয়ে যেতেন। ঊনিশশো পঞ্চাশ সালের দিকে তিনি বস্নাড ডিসেন্টেরি বা রক্ত আমাশয়ে ভোগেন। আবার মিছিল-মিটিং করতে গিয়ে পুলিশি হামলায় দৌড়ানোর সময় পা ছুলে গিয়ে রক্তক্ষরণ হয় এবং হাতের কব্জির গিটও একসময় সরে যায়। পায়ের আঘাতে তিনি বড়ই কষ্ট পেয়েছেন। কারাগারে মহিউদ্দিন আহমদসহ টানা অনশন করতে গিয়ে তিনি মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাঁর জীবনের সংশয় দেখা দেয়।



 



লায়ালপুরের মিনাওয়ালি কারাগারে আটক থাকাকালীন তিনি ভুগেছেন তীব্র পেটের ব্যথায়। অনেক সময় রোজা রেখে তিনি সেই ব্যথার হাত হতে নিস্তার পেতে চাইতেন। কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করার পর তাঁর পিত্তথলিতে সংক্রমণ ও অ্যাপেন্ডিসাইটিস রোগ নিরূপিত হয় যা ল-নে শৈল্য চিকিৎসার মাধ্যমে উপশম হয়। এতো রোগে কষ্ট পাওয়ার পরও বঙ্গবন্ধু কখনো দুর্বল হননি মনের দিক থেকে। তিনি সবসময় সর্বজয়ী মনোবলের অধিকারী ছিলেন।



 



আজ এ জন্মশতবর্ষে এসে শেখ মুজিবুর রহমানকে সার্বিকভাবে উন্মোচিত করবার সময় এসেছে। তাঁর জীবনাচরণ, তাঁর মেধা, প্রজ্ঞা এসব কিছুকেই আজ গবেষণার দৃষ্টিভঙ্গিতে অধ্যয়ন করে তাঁকে জানার এবং জানানোর সময় এসেছে এই শতবর্ষের জন্ম উৎসবে।



 



 


করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ১,৭২,১৩৪ ১,২০,১২,১২৫
সুস্থ ৮০,৮৩৮ ৬৫,৬৩,৪৯২
মৃত্যু ২১৯৭ ৫,৪৮,৮৯৬
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৬৪৭০
পুরোন সংখ্যা