চাঁদপুর, বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭, ২১ জিলহজ ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • ২৮ সেপ্টেম্বর সোমবার সকাল ১০টায় চাঁদপুর মহাস্মশানে অন্তেস্টিক্রিয়া সম্পন্ন হবে || চাঁদপুর অযাচক আশ্রমের অধ্যক্ষ সুখরঞ্জন ব্রহ্মচারী আজ বিকেল সাড়ে ৫টায় ঢাকার বারডেমে লাইফ সপোর্টে থাকা অবস্থায় পরলোক গমন করেছেন
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৭৩-সূরা মুয্যাম্মিল


২০ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


 


১৭। অতএব যদি তোমরা কুফরী কর তবে কী করিয়া আত্মরক্ষা করিবে সেই দিন যেই দিনটি কিশোরকে পরিণত করিবে বৃদ্ধে,


 


 


 


শিক্ষা অলঙ্কারের মতো নয়। এর হারিয়ে যাবার সম্ভাবনা নেই।


-বার্নাস।


 


সাবধান ধর্ম সম্বন্ধে বাড়াবাড়ি কোরো না। (ধর্মের) বাড়াবাড়ির জন্য তোমাদের পূর্ববর্তী বহু জাতি ধ্বংস হয়ে গেছে।


 


 


ফটো গ্যালারি
বিজ্ঞান শিক্ষায় আগ্রহী হতে হবে
নজরুল ইসলাম
১২ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


আমাদের দেশে ক্রমান্বয়ে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী কমছে। চারপাশে তাকালে এ পরিবর্তনটা সহজেই চোখে পড়ে। ব্যানবেইসের পরিসংখ্যান অনুসারে ১৯৯০ সালে মাধ্যমিকে মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে বিজ্ঞানের পরীক্ষার্থী ছিল ৪২.৮১ শতাংশ আর উচ্চমাধ্যমিকে ২৮.১৩ শতাংশ। ১৯৯৬ সালে উচ্চমাধ্যমিকে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী ছিল মাত্র ১৫.৩৩ শতাংশ। এরপর ২০০২ সালে তা বেড়ে হয় ২৫.৮৪ শতাংশ। তারপর আবার পতনের শুরু এবং ২০১৩ সালে তা নেমে আসে শতকরা ১৭.০১ শতাংশে। ২০১৪ সালে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, 'মাধ্যমিক পর্যায়ে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী কমে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান শিক্ষায় আগ্রহ দেখাচ্ছে না। আমরা এ বিষয়ে কিছুটা উদ্বিগ্ন।'



 



শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান পড়ার আগ্রহ হারাচ্ছে, কিন্তু কেন? মাধ্যমিকে বিজ্ঞান পড়া শিক্ষার্থীদের সাধারণ একটা চিন্তাধারা হচ্ছে, বিজ্ঞান পড়া মানেই হচ্ছে ভবিষ্যতে ডাক্তার বা প্রকৌশলী হওয়া এবং তাদের মতে, যেটির ক্ষেত্র খুব সীমিত। তবে অন্য একটা কারণও খুব স্পষ্ট-বিজ্ঞান এবং বিজ্ঞানীদের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি। বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠান 'গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড' যখন ভ্যাকসিন আবিষ্কারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলো তখন আমাদের অনেকের অনাগ্রহ, ক্ষেত্র বিশেষে তাচ্ছিল্য ছিলো অবাক করার মতো! বরাবরের মতো সব থেকে এগিয়ে ছিলেন নেটিজেনরা এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানে অল্প জ্ঞান আছে কিন্তু পেশায় বা নেশায় চিকিৎসক নন-এই দলটি।



 



এর আগে যখন বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. তারেক আলম অ্যান্টিপ্রোটোজোয়াল মেডিসিন ইভারমেকটিনের সিঙ্গল ডোজের সঙ্গে অ্যান্টিবায়োটিক ডঙ্সিাইক্লিন প্রয়োগে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে সাফল্য পাবার কথাটি ঘোষণা এবং এই বিষয়ে আরও পরীক্ষা হওয়া প্রয়োজন বলে অভিমত ব্যক্ত করেছিলেন, তখনও এই দলটি একই রকম অনাগ্রহ এবং তাচ্ছিল্য দেখিয়েছিল। পরবর্তীতে অবশ্য এ দুটি ঔষধের ব্যবহারের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে আইসিডিডিআরবি ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করেছে। আমি নিজে যখন সাসপেকটেড পেশেন্ট হিসেবে দেশের একটি বেসরকারি হাসপাতালের রেসপিরেটরি মেডিসিন কনসালটেন্টের শরণাপন্ন হই, তখন আমাকেও ইভারমেকটিন প্রেসক্রাইব করা হয়েছিল।



 



যারা গ্লোব বায়োটেকের ভ্যাকসিন নিয়ে তাচ্ছিল্য ও ট্রল করেছেন, তারা হয়তো প্রতিষ্ঠানটির রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্টের প্রধান, মাইক্রোবায়োলজিস্ট ড. আসিফ মাহমুদের চোখ ছলছল করে উঠাটা দেখেছেন, কিন্তু তাঁর শেষের দিকে উচ্চারণ করা কথাটি শুনেনি-'ওরা যদি পারে, আমরাও পারবো।' অথচ এই নেটিজেনরাই দফায় দফায় ট্রায়াল দিয়ে ব্যর্থ হওয়া বিভিন্ন উন্নত দেশের ভ্যাকসিন আবিষ্কারে খবর শেয়ার দিতে দিতে টাইমলাইন ভরে ফেলেছেন। অনেকেই আবার ভ্যাকসিন নিয়ে সন্দেহ করছেন। সমালোচনাকারীদের ভাবা উচিৎ যে ভ্যাকসিনটা যদি শেষ পর্যন্ত সফল নাও হয়, তাতেও আমাদের অনেক কিছু অর্জন করার সুযোগ থাকবে।



 



ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেছেন, 'যে দেশে গুণের সমাদর নেই, সে দেশে গুণী জন্মাতে পারে না।' তাই সমাজে তথা রাষ্ট্রে যেসব গুণী ব্যক্তি আমাদের কল্যাণে কাজ করেন তাঁদের প্রাপ্য সম্মানটুকু দেয়া আমাদের কর্তব্য। আমরা যদি প্রচেষ্টার শুরুতেই তাদের নিরাশ করি, তাহলে আমরা সফলতার মুখ দেখবো কীভাবে? আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে সমালোচনা করার আগে আমরা ভুলে গেলাম, যারা আমাদের জন্য কিছু আবিষ্কার করার চেষ্টা করছেন তারা সবাই ডাক্তার, বিজ্ঞানী বা গবেষক; কমার্স পড়ুয়া এঙ্িিকউটিভ বা বিসিএস করা অফিসার নন! যারা পেশেন্টদের ইভারমেকটিন প্রেসক্রাইব করছেন তারা সবাই রেজিস্টার্ড ফিজিশিয়ান।



 



কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কোনো কিছু আবিষ্কার করে ফেললেই আমরা তা ব্যবহার করি না। গণস্বাস্থ্য-আরএনএ বায়োটেক লিমিটেডের গবেষকরা 'জি র‌্যাপিড ডট বস্নট' নামে যে কিট আবিষ্কার করেছিলেন, তা কিন্তু আমরা এখনো ব্যবহার করতে পারছি না। কাজেই গ্লোব বায়োটেক ভ্যাকসিন আবিষ্কার করে ফেললেও আমরা সাথে সাথে তা ব্যবহার করব না। দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে সেটা ব্যবহার হবে। এখন ভ্যাকসিনটি দ্বিতীয় ধাপে অ্যানিমেল মডেলে ট্রায়াল করা হবে। এরপর এটি মানবদেহে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে যাবে। মানবদেহে ট্রায়ালে যেতে হলেও বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদের (বিএমআরসি) অনুমতি লাগবে।



 



আমাদের ক্রিকেট দল বা কাবাডি দল যদি কোনো টুর্নামেন্টে জয় পায়, তখন আমরা তাদের লালগালিচা সংবর্ধনা দেই। তাহলে বিজ্ঞানী, গবেষক, চিকিৎসকদের বেলায় আমাদের এই দীনতা কেনো? আমরা যদি করোনাভাইরাসকে পরাজিত করতে চাই, তাহলে আমাদের চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও গবেষকদের উপরেই আস্থা রাখতে হবে; আইনজীবী কিংবা ব্যাংকাররা করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কার করবে না। সেজন্যই আমাদের সন্তানদের বিজ্ঞান পড়তে উৎসাহ দিতে হবে। ড. আসিফ মাহমুদ এবং ড. বিজন কুমার শীলদের মতো বিজ্ঞানীদের ধন্যবাদ যে তাঁরা সরকারি চাকুরে হননি; হলে হয়তো আমরা এই প্রচেষ্টাগুলো দেখতে পেতাম না।



 



আমি শিক্ষকতা পেশা ছেড়েছি আজ দেড় বছর। যদি আজও আমি শিক্ষক থাকতাম, তাহলে আমার শিক্ষার্থীদের সংবাদ সম্মেলনে ড. আসিফ মাহমুদের উপস্থাপনার ভিডিওটি দেখাতাম। তাঁর উপস্থাপন, জ্ঞান, আত্মবিশ্বাস দেখাতাম; দেশের জন্যে ভালোবাসা দেখাতাম। আমার শিক্ষার্থীদের ইন্সপিয়ার করতাম বড় হয়ে বিজ্ঞানী হতে, বিজ্ঞান পড়তে। বিগত বেশকিছু বছরে আমরা অনেক সিভিল সার্ভিস অফিসার পেয়েছি। আমাদের দেশ এখন কমার্সপড়ুয়া বেসরকারি এঙ্িিকউটিভ আর বিসিএস উত্তীর্ণ সরকারি অফিসারে পরিপূর্ণ; সেই তুলনায় বিজ্ঞানী বা গবেষক তৈরি হয়নি। চাকুরে হওয়ার জন্যে লেখাপড়া না করে আমাদের বিজ্ঞানী বা গবেষক হওয়ার জন্যে লেখাপড়া করা উচিত।



 



আমেরিকান যুক্তিবিদ ও দার্শনিক নোয়াম চমস্কি বলেছেন, 'উই উইল ওভারকাম করোনাভাইরাস, বাট উই হ্যাভ মোর সিরিয়াস ক্রাইসিস আহেড অফ আস'। এখন আমরা যদি ভবিষ্যতের সেই ক্রাইসিসগুলো মোকাবেলা করতে চাই, তাহলে আমাদের দরকার বিজ্ঞান শিক্ষা এবং বিজ্ঞান জানা মানুষ। কাজেই আমাদের শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান পড়ার আগ্রহ ফেরাতে হবে। এখানে রাষ্ট্রের দায়িত্ব ব্যাপক। আমাদেরও দায়িত্ব আছে, বিজ্ঞান, বিজ্ঞানী ও চিকিৎসকদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাবোধ বাড়াতে হবে, তাঁদের প্রাপ্য সম্মানটুকু তাঁদের দিতে হবে। নভেল করোনাভাইরাস মোকাবিলায় দেশের প্রত্যেক চিকিৎসক, চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও গবেষকদের প্রচেষ্টাগুলো সফলতায় পরিণত হোক-এই প্রত্যাশা করছি।



 



লেখক : উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাধ্যক্ষ।



 



 



 


করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৩,৩৯,৩৩২ ২,৯২,০১,৬৮৫
সুস্থ ২,৪৩,১৫৫ ২,১০,৩৫,৯২৬
মৃত্যু ৪,৭৫৯ ৯,২৮,৬৮৬
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৬২৮১৬৭
পুরোন সংখ্যা