চাঁদপুর। মঙ্গলবার ১ মে ২০১৮। ১৮ বৈশাখ ১৪২৫। ১৪ শাবান ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৭- সূরা সাফ্ফাত

১৮২ আয়াত, ৫ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৯৩। অতঃপর সে প্রবল আঘাতে তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল।

৯৪। তখন লোকজন তার দিকে ছুটে এলো ভীত সন্ত্রস্ত পদে।

৯৫। সে বলল, তোমরা স্বহস্ত নির্মিত পাথরের পূজা কর কেন?

৯৬। অথচ আল্লাহ তোমাদেরকে এবং তোমরা যা নির্মাণ করছ সবাইকে সৃষ্টি করেছেন।  

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


কাহারো স্বভাব-চরিত্র জানতে হলে কোনো ব্যাপারে তার পরামর্শ চাও।        


-প্লেটো।


ধন থাকলেই ধনী হয় না। ওই ব্যক্তিই প্রকৃত ধনী যাহার হৃদয় প্রশস্ত


ফটো গ্যালারি
কোরআন-হাদীসের আলোকে শব-ই-বরাত
মাওঃ মোঃ মোশাররফ হোসাইন
০১ মে, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


পবিত্র শবে বরাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বিশেষ তাৎপর্যময় রজনী। শবে বরাতকে আরবিতে 'লাইলাতুল বারাআত' নামে অভিহিত করা হয়। 'শব' ফারসি শব্দ। এর অর্থ রজনী বা রাত, আরবিতে একে 'লাইলাতুন' বলা হয়। আর 'বারাআত' শব্দের অর্থ মুক্তি, নাজাত, নিষ্কৃতি প্রভৃতি। 'লাইলাতুল বারাআত' মানে মুক্তির রজনী বা নিষ্কৃতির রজনী। এ রাতে আল্লাহর খাঁটি বান্দারা মহান সৃষ্টিকর্তার কাছ থেকে মার্জনা লাভ করে থাকেন। তাই এ রাতকে 'লাইলাতুল বারাআত' বা শবে বরাত বলা হয়। নবী করিম (সাঃ) এ রাতকে 'লাইলাতুন নিস্ফ মিন শাবান' অর্থাৎ অর্ধ শাবানের রাত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মুসলমানদের কাছে শাবান মাসের ১৪ তারিখের দিবাগত রজনী অত্যন্ত বরকতময় ও মহিমান্বিত বলে বিবেচিত। আল্লাহ পাক মানবজাতির জন্যে তাঁর অসীম রহমতের দরজা এ রাতে খুলে দেন। পরম করুণাময়ের দরবারে নিজের সারা জীবনের দোষ-ত্রুটি, পাপকাজ ও অন্যায়ের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনার রাত। এ রাতে সর্বশক্তিমান আল্লাহ পরবর্তী বছরের জন্য বান্দার রিজিক নির্ধারণ করে সবার ভাগ্যলিপি লেখেন এবং বান্দার সব গুনাহ মাফ করে দেন। এ রাতের গুরুত্ব সম্পর্কে হাদীস শরিফে বলা হয়েছে, পরবর্তী বছরের যাবতীয় ফয়সালা হায়াত, মউত, রিজিক, দৌলত, আমল ইত্যাদির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত আদেশ-নিষেধসমূহ ওই রাতে লওহে মাহফুজ থেকে উদ্ধৃত করে কার্যনির্বাহক ফেরেশতাদের কাছে সোপর্দ করা হয়। লাইলাতুল বরাতে মু'মিন বান্দাদের প্রতি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ বর্ষিত হয়। মানুষের ভালো-মন্দ কর্মের হিসাব বা আমলগুলো আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়।



শবে বরাতের ব্যপারে সঠিক ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান হল, এ রাতের ফযিলত সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। সম্মিলিত কোন রূপ না দিয়ে এবং এই রাত উদযাপনের বিশেষ কোন পন্থা উদ্ভাবন না করে বেশি ইবাদত করাও নিভর্রযোগ্য রেওয়াত দ্বারা প্রমাণিত। এই রাতকে অন্য সব সাধারণ রাতের মতো মনে করা এবং এই রাতের ফযীলতের ব্যাপারে যত হাদীস এসেছে, তার সবগুলোকে মওযু বা যয়ীফ মনে করা যেমন ভুল, অনুরূপ এ রাতকে শবে কদরের মত বা তার চেয়েও বেশি ফযিলতপূর্ণ মনে করাও ভিত্তিহীন ধারণা। মুসলিম উম্মাহের মাঝে রাতটির এহেন চর্চা না আজকে-এই মাত্র জন্ম নিয়েছে, না বছর কয়েক আগে, না একটি মাত্র যুগের তফাতে এর আগমন ঘটেছে। বরং ইসলামের শুরু লগ্ন থেকে যুগের পর যুগ, বছরের পর বছর ধরেই এর চর্চা চলে আসছে। আবার এমনও নয় যে, কারো ভিন্ন প্রক্রিয়ার স্পন্দনে রাতটির গুরুত্ব মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে। বরং এ রাতের ফজীলত ও গুরুত্ব সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে যেমনি অপ্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত রয়েছে তেমনি বেশ কিছু হাদীছের স্পষ্ট বক্তব্যের মাধ্যমে এ রাতের মাহাত্ম-গুরুত্ব ও আমলসমূহ স্বীকৃত-প্রমাণিত।



 



এ সকল কারণে যুগ যুগ ধরে সকল ওলী বুজুর্গ, আহলে হক্ব নবীর সাচ্চা উম্মত শবেবারাতের মর্যাদা দিয়ে এসেছেন। ওলামা-মুহাদ্দিছীন, আওলিয়া-বুযুর্গানেদ্বীন, ফুকাহা-আইম্মায়ে মুজতাহেদীনের কাছে এ রাতের গুরুত্ব-মাহাত্ম ও ফজীলত স্বতঃস্বীকৃত। তারা সুস্পষ্ট করে বলে গেছেন শবেবরাতে যে কোন ইবাদত একটি মুস্তাহাব ও ঐচ্ছিক আমল-এটাকে অস্বীকার করা বা গুরুত্বহীন বলা যেমনিভাবে কুরআন-হাদীসকে অস্বীকার করার নামান্তর ঠিক তেমনিভাবে একে পুঁজি করে নিজের পক্ষ থেকে বিদআতে সায়্যিআহ যুক্ত করা বা এটাকে পার্থিব কোন আনন্দ উৎসবের ন্যায় মনে করা সাংঘাতিক ধরণের গুনাহের কাজ। ইসলামে শবে বরাত বলতে কিছু নেই- এ ধারণাটির উৎপত্তি খুব বেশি দিন আগের নয়, যারা এ কথা বলে থাকেন, তারা সবাই মিথ্যুক এবং ফিতনা সৃষ্টিই তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য। টিভি, রেডিও ও তথ্যপ্রযুক্তির পূর্ণ সদ্ব্যবহার করে তারা ইসলামের নামে মুসলমানদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টির করার এবং নবীর সুন্নাত থেকে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। আর অবস্থাটা এমন দাড়িয়েছে যে, তাদের সামনে দলিল প্রমাণ উপস্থাপন করলেও তারা তা মানতে নারাজ। হুজুরে পাক (সাঃ) বলেছেন, আমার পরবর্তী উম্মতেরা পূর্ববর্তীদের নিচু চোখে দেখবে। তারা তাদের ভৎসর্না করবে এবং বলবে যে তারা ভুল করেছে এবং ভুল বুঝেছে। এই কথার সত্যতা আজ আমরা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। আমরা এখন দেখতে পাই, কিছু তথাকথিত উলামা পূর্ববর্তী জগত বিখ্যাত বুজুর্গদের সমালোচনায় দিনরাত মগ্ন থাকেন। এমনকি তাদের সাহাবাদের সমালোচনা করতেও দেখা যায় !! আল্লাহপাক আমাদের জিহবাকে হেফাজত করুন।



 



পবিত্র কোরআনের আলোকে শবে বরাত :



পবিত্র কোরআনের ২৫তম পারা ও ৪৪ নং সূরা দুখানের শুরুতে যে পাঁচটি আয়াত রয়েছে সে আয়াতগুলোই মূলত শবে বরাত ও পবিত্র কোরআন-এ বিষয়ক আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু। তাফসীরে কবীর , তাফসীরে রুহুল মাআনী, তাফসীরে রুহুল বায়ান, তাফসীরে কুরতুবী, তাফসীরে তবরী, তাফসীরে বগবী, তাফসীরে খাযেন, তাফসীরে ইবনে কাসির ইত্যাদি।



পবিত্র কোরআনের এ সমস্ত বড় বড় তাফসীর গ্রন্থগুলোর মাঝে বিচার বিশ্লেষন করার পর অভিজ্ঞ আলেমদের নিকট এ কথা সুস্পষ্ট যে, উক্ত আয়াতের " লাইলাতুম মুবারাকাহ " (বরকতময় রাত) শব্দের সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য তাফসীর হলো শবে ক্বদর; শবে বরাত নয়। তবে সাথে সাথে জমহুর উলামায়ে কেরামের সিদ্ধান্ত এও যে, প্রথম মত অগ্রাধিকার পেলেও (অর্থাৎ শবে ক্বদর) দ্বিতীয় মতকে (শবে বরাত) উপেক্ষা করার কোন অবকাশ নেই।



 



পবিত্র হাদীসের আলোকে শবে বরাত :



 



শবে বরাত ও তার ফাযায়েল সম্পর্কিত অনেক হাদীসই হাদীসের কিতাবে দেখতে পাওয়া যায়। তার মধ্যে কিছু হাদীস সহীহ, কিছু হাদীস হাসান, কিছু জঈফ (তবে অতি দুর্বল নয়)। তদুপরি এ জঈফ হাদীসগুলো বহু সহীহ ও হাসান হাদীছের সমর্থন ও সহযোগিতায় আমলের যোগ্য হিসেবে মর্যাদা লাভ করেছে। যা উসূলে হাদীসের সর্বসম্মত নীতিমালা। ইসলামী শরীয়তের দ্বিতীয় দলীল হলো হাদীস। আর হাদীস দ্বারা শবে বরাতের ফযিলত সুস্পষ্টভাবেই প্রমাণিত। তাই কুরআনে শবে বরাতের কথা নেই বলে এর অস্তিত্ব অস্বীকার করার মানেই হলো মহানবী (সাঃ) এর হাদীস অস্বীকার করা। এটা কুরআনের দোহাই দিয়ে হাদীস অস্বীকার করারই একটি চক্রান্ত। শবে বরাত ও সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ)।



শবে বরাতের সাথে সংশ্লিষ্ট হাদীসসমূহের বর্ণনাকারীদের মধ্যে অনেক বড় বড় (এক ডজনের মতো ) সাহাবাও রয়েছেন। যাদের কয়েকজনের পবিত্র নাম নিম্নে প্রদত্ত হলোঃ হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ), হযরত আলী (রাঃ), হযরত আয়শা (রাঃ), হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ), হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ), হযরত আবু মুসা আশআরী (রাঃ), হযরত আউফ ইবনু মালিক (রাঃ), হযরত মুআয ইবনু জাবাল (রাঃ), হযরত আবু ছালাবাহ আল খুসানী (রাঃ), কাছীর ইবনে মুররা আল হাজরমী (রাঃ) শবে বরাত ও তাবেয়ী শামের বিশিষ্ট তাবেয়ী যেমন : হযরত খালেদ ইবনে মা'দান (রহঃ), ইমাম মাকহূল (রহঃ), লোকমান ইবনে আমের (রহঃ) প্রমুখ উচ্চমর্যাদাশীল তাবেয়ীগণ শা'বানের পনেরতম রজনীকে অত্যন্ত মর্যাদার দৃষ্টিতে দেখতেন এবং এতে খুব বেশী বেশী ইবাদত ও বান্দেগীতে মগ্ন থাকতেন বলে গ্রহণযোগ্য মত পাওয়া যায়।



 



শবে বরাত ও সিহাহ সিত্তাহ :



 



অনেকেই আছেন আমাদের মধ্যে যারা কথায় কথায় সিহাহ সিত্তার দলীল দেখাতে বলেন এবং সিহাহ সিত্তাহ ছাড়াও যে হাদীসের আরও বিশাল ভান্ডার আছে, কিতাব আছে যেখানে শত শত সহীহ হাদীস বিদ্যমান, সেগুলোকে অস্বীকার করার চেষ্টা করে থাকেন। তাদের জ্ঞাতার্থেই বলছি, সিহাহ সিত্তারই দুটি কিতাব - তিরমিযী শরীফ ও সুনানে ইবনে মাজাহতে শুধু যে শবে বরাত এর ফজীলত সম্পর্কিত হাদীস বর্ণিত আছে তা নয়, বরং ইমাম তিরমিযী (রহঃ) তাঁর তিরমিযী শরীফে এবং ইমাম নাসাঈ (রহঃ) তাঁর সুনানে পনের শাবানের ফজীলত নিয়ে আলাদা বাব বা অধ্যায়ই লিখেছেন। এর মাধ্যমেই আমরা ইমামদ্বয়ের কাছে শাবানের পনের তারিখের কি পরিমাণ গুরুত্ব ছিল, তা কিছুটা আঁচ করতে পারি।



 



শবে বরাত ও অন্যান্য হাদীসগ্রন্থ :



 



সিহাহ সিত্তার বাইরেও অনেক ইমামগণ তাদের জগতবিখ্যাত বড় বড় হাদীসগ্রন্থে শবে বরাত ও তার ফজীলত নিয়ে হাদীস বর্ণনা করেছেন। যেমন : ইমাম তাবরানী রচিত 'আল কাবীর' এবং 'আল আওসাত', ইমাম ইবনে হিব্বান রচিত 'সহীহ ইবনে হিব্বান', ইমাম বায়হাকী রচিত "শুআবুল ঈমান", হাফেয আবু নুআইম রচিত 'হিলয়া', হাফেয হায়ছামী রচিত 'মাজমাউয যাওয়ায়েদ' , ইমাম বাযযার তাঁর 'মুসনাদ', হাফিয যকী উদ্দীন আল মুনযিরী রচিত 'আততারগীব ওয়াত-তারহীব', ইমাম আহমদ তাঁর 'মুসনাদ', মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাফেয আব্দুর রাজ্জাক এর 'মুসান্নাফ' আমরা শবে বরাতের ফযিলত সম্পর্কিত বহু হাদীস দেখতে পাই।



 



শবে বরাত ও মুফাসসিরে কেরাম :



 



পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, সূরা দুখানের তাফসীরে অধিকাংশ যুগবিখ্যাত মুফাসসিরে কেরামের সিদ্ধান্ত এই যে, "লাইলাতুম মোবারকাহ" বলতে "শবে ক্বদর"ই উদ্দেশ্য, শবে বরাত নয়; যদিও অনেক মুফাসসিরে কেরামই আবার শবে বরাতকেই বুঝিয়েছেন। কিন্তু এখানে গভীরভাবে লক্ষ্যণীয় যে, যারা এ "লাইলাতুম মুবারাকাহ" শব্দের ব্যাখ্যায় শবে ক্বদরকে প্রাধান্য দিয়েছেন, তারা কেউই কিন্তু শবে বরাত নামক মধ্য-শাবানের রাতের গুরুত্বের ব্যাপারে যে সব হাদীস বর্ণিত আছে সেগুলোকে ভিত্তিহীন বলে মত প্রকাশ করেননি। বরং তারা শুধুমাত্র উক্ত আয়াতে "লাইলাতুম মুবারাকাহ" এর ব্যাখ্যা যে শবে বরাত নয় শুধু এ কথাটিই ব্যক্ত করেছেন। ঠিক তেমনিভাবে যে সব তাফসীরবিশারদ উক্ত আয়াতে লাইলাতুম মুবারাকাহ এর ব্যাখ্যায় শবেবরাত বলে সাব্যস্ত করেছেন, তারাও কখনও কুরআন অবতরণের রাত্রি, মহা পবিত্র রজনী ু শবে ক্বদর কে গুরুত্বহীন বলে মত পোষণ করেন নি। বরং তা অধিক গুরুত্বপূর্ণ রাত বলেই সাব্যস্ত করেছেন। আরও অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ইসলামী শরীয়তে সত্যিকার অর্থেই যদি শবে বরাত ও এর ফজীলতের কোন অস্তিত্বই না থাকত, শবে বরাতের ফজীলত সম্পর্কিত হাদীসগুলো সবই খুব দুর্বল ও বানোয়াট হত, তাহলে এসব বড় বড় মুফাসসিরে কেরাম সূরা দুখানের তাফসীরগ্রন্থে এ কথাটি অবশ্যই উল্লেখ করতেন যে, শবে বরাত বলতে তো কিছু নেই, তাই লাইলাতুম মোবারকার অর্থ শবে বরাত কখনোই হতে পারে না; এটা ভ্রান্ত আক্বীদা বা বিদয়াত। কিন্তু তারা কেউই তা উল্লেখ করেননি, শুধুমাত্র বলেছেন লাইলাতুম মোবারকা বলতে এখানে শবে ক্বদরকে বুঝানো হয়েছে, শবে বরাতকে নয়। মোট কথা প্রায় সকল তাফসীরবিশারদ শবে ক্বদরতো মানতেনই, তার সাথে সাথে শবে বরাতকেও অস্বীকার করতেন না। অধিকাংশ মুফাসসির প্রথম মতকে (শবে ক্বদর) জোরালোভাবে উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি দ্বিতীয় মত তথা শবেবরাতকেও উপেক্ষা করেন নি। বরং তাদের মধ্য থেকে আবার প্রায় সকল মুফাসসির দ্বিতীয় মতের পক্ষেও দলীল প্রমাণ পেশ করেছেন।



 



শবে বরাত ও মুহাদ্দিসীনে কেরাম :



 



শবে বরাতের ফজীলত সম্পর্কিত হাদীসগুলোকে মুহাদ্দিসীনে কেরামেরা বরাবরই সনদসহ বিস্তারিত বিশ্লেষন করেছেন এবং তার মধ্যে কিছু হাদীসকে সহীহ, কিছুকে হাসান (সহীহের অন্তর্ভুক্ত), আর কিছুকে দুর্বল (কম মাত্রাসম্পন্ন) বলে রায় দিয়েছেন। মুহাদ্দিছগণ যদিও কোন কোন হাদীছের দোষ ত্রুটি আলোকপাত করেছেন কিন্তু কেউ সেগুলোকে ভিত্তিহীন জাল হাদীস বা অগ্রহণযোগ্য হাদীস বলেন নি, এমনকি তারা কোন হাদীসের মতনকেও যঈফ বলেননি। উপরন্তু তারা উসূলে হাদীসের নীতি অনুযায়ী শবে বরাতের ফজীলত আছে বলে মত প্রদান করেছেন এবং এ রাতে সাহাবারা, সলফে সালেহীনরা ইবাদতে মগ্ন থাকতেন বলে তাদের কিতাবে উল্লেখ করেছেন। এসব মুহাদ্দিসীনদের মধ্যে অন্যতম হলেনঃ হাফিয নুরুদ্দীন আলী ইবনে আবু বকর আল হাইসামী (রহঃ), হাফিয ইবনে রজব আল হাম্বলী (রহঃ), ইবনু হিব্বান (রহঃ), আদনান আবদুর রহমান (রহঃ), ইমাম বায়হাকী (রহঃ), হাফিয যকী উদ্দীন আল মুনযিরী (রহঃ), ইমাম বাযযার (রহঃ), ইমাম উকায়লী (রহঃ), ইমাম তিরমিযী (রহঃ), হামযা আহমাদ আয যায়্যান (রহঃ), ইমাম যুরকানী (রহঃ), আল্লামা ইরাকী (রহঃ) প্রমুখ।



 



শবে বরাত ও অন্যান্য বুজুর্গানে দ্বীন :



 



উপরে উল্লেখিত সাহাবা, তাবেয়ীন, মুফাসসিরে কেরাম, মুহাদ্দিসীনরা ছাড়াও অনেক বড় বড় বুজুর্গানে দ্বীনও শবে বরাতের ফজীলত স্বীকার করেছেন এবং এ দিনে অনেক নফল ইবাদত করেছেন। যেমনঃ ১। উমর বিন আবদুল আযীয (রহঃ) ২। ইমাম আল শাফী (রহঃ) ৩। ইমাম আল আওযায়ী (রহঃ) ৪। আতা ইবনে ইয়াসার (রহঃ) ৫। হাফিয যয়নুদ্দীন আল ইরাক্বী (রহঃ) ৬। আল্লামা ইবনুল হাজ্ব আল মক্কী (রহঃ) ৭। ইমাম সুয়ুতী (রহঃ) ৮। ফিক্বহে হানাফীর ইমাম মুহাম্মদ ইবনু আলী আল হাসফাকী (রহঃ) ৯। ইমাম নববী (রহঃ) ১০। হাম্বলী মাযহাবের সুপ্রসিদ্ধ ফক্বীহ আল্লামা শায়খ মানসূর ইবনু ইউনুস (রহঃ) ১১। আল্লামা ইসহাক ইবনুল মুফলিহ (রহঃ) ১২। আল্লামা ইবনু নুজাইম হানাফী (রহঃ) ১৩। আল্লামা হাসান ইবনু আম্মার ইবনু আলী আশ-শারাম্বলালী আল হানাফী (রহঃ) ১৪। আল্লামা আব্দুল হাই লখনভী (রহঃ) ১৫। আল্লামা আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযী (রহঃ) ১৬। শায়খ আলা উদ্দীন আবুল হাসান আল হাম্বলী (রহঃ) ১৭। মোল্লা আলী কারী (রহঃ) ১৮। ইমাম গাযালী (রহঃ) ১৯। হযরত বড়পীর আব্দুল ক্বাদের জ্বীলানী (রহঃ) ২০। ইমাম মুহাম্মদ আল জাযারী (রহঃ) ২১। মাওঃ ইসলামুল হক্ব মুযাহেরী (রহঃ) ২২। শায়খুল আদব হযরত আল্লামা এযায আলী (রহঃ) ২৩। ইমাম আহমাদ (রহঃ) ২৪। আব্দুল হক্ব মুহাদ্দিসে দেহলভী (রহঃ) ২৫। মাওলানা কারামত আলী জৌনপুরী (রহঃ) ২৬। হাফিয মুহাম্মদ আব্দুর রহমান ইবনু আব্দির রহিম আল মুবারকপূরী (রহঃ) ২৭। মুহাদ্দিছুল আসর আল্লামা আনওয়ার শাহ কাশ্মীরী (রহঃ) ২৮। হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহঃ) ২৯। হযরত মাওলানা মুফতী আজীজুর রহমান সাহেব (রহঃ) ৩০। মুফতী আজম মুফতী মোহাম্মদ শফী (রহঃ) ৩১। তাঁরই (মুফতী আজম মুফতী মোহাম্মদ শফী (রহঃ)-এর সুযোগ্য সন্তান আল্লামা মুফতী মুহাম্মদ তাকী উছমানী (দাঃবাঃ)।



 



শবে বরাত ও কিতাব :



 



মুসলিম বিশ্বের মহামনীষীগণ কুরআন কারীমের নির্ভরযোগ্য তাফসীরগ্রন্থ, হাদীছের ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং প্রায় বড় বড় আলেম নিজেদের রচিত কিতাবাদীতে কেউ সংক্ষেপিত আকারে কেউ বা সবিস্তারে শবেবরাতের ফযিলত ও গুরুত্ব সম্পর্কে লিপিবদ্ধ করে গেছেন। তাঁরা যেমন শবেবরাতে করণীয় ও বর্জনীয় দিকসমূহ আপন আপন গ্রন্থে লেখেছেন তেমনি বাস্তব জীবনে রাতটিকে কিভাবে চর্চায় আনা হবে তার নমুনা দেখিয়ে গেছেন। যেমনঃ ক) পাঁচশত হিজরীর ইমাম গাযালী (রহঃ) রচিত এহইয়াউ উলুমিদ্দীন খ) ৬০০ হিজরীর প্রারম্ভে হযরত বড়পীর আব্দুল ক্বাদের জ্বীলানী (রহঃ)-এর গুনিয়াতুত তালেবীন গ) ৭০০ হিজরীর ইমাম মুহাম্মদ আল জাযারী (রহঃ)-এর আদদোয়াউ ওয়াস সালাত ফী যওইল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ ঘ) ৭০০ হিজরীর ইমাম আবু জাকারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে শারফুদ্দীন নববী (রহঃ)-এর রিয়াজুস সালেহীন ঙ) এগারশত হিজরীর শায়েখ আব্দুল হক্ব মুহাদ্দিসে দেহলভী (রহঃ)-এর মা ছাবাতা বিস সিন্নাহ চ) তেরশত হিজরীর মাওলানা কারামত আলী জৌনপুরী (রহঃ) রচিত মিফতাহুল জান্নাহ ছ) চৌদ্দশত হিজরীর হযরত আশরাফ আলী থানভী (রহঃ)-এর ওয়াজ ও তাবলীগ জ) মুফতী আজম মুফতী মোহাম্মদ শফী (রহঃ)-এর হাকীকতে শবেবরাত ঝ) তাঁরই ( মুফতী আজম মুফতী মোহাম্মদ শফী (রহঃ) ) এর সুযোগ্য সন্তান আল্লামা মুফতী মুহাম্মদ তাকী উছমানীর (দাঃবাঃ) শবে বরাত ঞ) মুফতী মীযানুর রহমান সাঈদ এর কুরআন-হাদীছের আলোকে শবেবরাত। আল্লাহ সকল পাঠক বৃন্দকে সহীহ আকিদায় আমল করার তাওফিক দান করুক। আমিন।



 



লেখক : খতিব, কালেক্টরেট জামে মসজিদ, প্রভাষক (আরবি),



মান্দারী আলিম মাদ্রাসা, চাঁদপুর।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১৪৩৮৬৫০
পুরোন সংখ্যা