চাঁদপুর। শুক্রবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮। ১৩ আশ্বিন ১৪২৫। ১৭ মহররম ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪২-সূরা শূরা


৫৪ আয়াত, ৫ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


০৬। যারা আল্লাহর পরিবর্তে অপরকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করে, আল্লাহ তাদের প্রতি কঠোর দৃষ্টি রাখেন। তুমি তাদের তত্ত্বাবধায়ক নও।


০৭। এভাবে আমি তোমাদের প্রতি কোরআন অবতীর্ণ করেছি আরবি ভাষায়, যাতে তুমি সতর্ক করতে পারো মক্কা এবং ওর চতুর্দিকের জনগণকে এবং সতর্ক করতে পারো হাশর (কিয়ামত) দিবস সম্পর্কে, যাতে কোনো সন্দেহ নেই; (সেদিন) এক দল জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং একদল জাহান্নামে প্রবেশ করবে।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


 


অভাবেও যার স্বভাব ঠিক থাকে, সে-ই যথার্থ চরিত্রবান। -সিনেকা।


 


 


যার দ্বারা মানবতা উপকৃত হয়, তিনিই মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার শুভ জন্মদিন
অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ হাসান খান
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


আজ হাসু নামের একজন সাধারণ মেয়ের অসাধারণ হয়ে উঠার কথা বলছি। হাসু নামটি শুনলেই কবি জসীমউদ্দীনের নায়িকার কথা মনে পড়ে যায়। আর তাঁর জন্মও হয়েছে পল্লীগ্রামে, এক পাড়াগাঁয়ের সাধারণ পরিবেশে। রাজকন্যাদের মত কোনো প্রাসাদপোম অট্টালিকায় তাঁর জন্ম হয়নি। তিনি বেড়েও উঠেছিলেন সাধারণ পরিবেশে। কিন্তু তার ভেতর এক অসাধারণত্ব লুকানো ছিল যা পরবর্তীকালে সময়ের প্রেক্ষাপটে বোঝা গেছে। ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর শরতের একটি ঝরঝরে দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া গ্রামের শেখ বাড়ির সবাই চিন্তিত। একটি শিশু আগমনের প্রতীক্ষা। ভেতরের ঘরে রেণু প্রসব যন্ত্রণায় ছটফট করছেন। সকল প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে জন্ম নিল এক কন্যা সন্তান। তিনি আর কেউ নন, বঙ্গবন্ধুর বড় সন্তান, তাঁর আদরের হাসু। বাংলাদেশের গণতন্ত্রের মানসকন্যা, উজ্জ্বল নক্ষত্র ও এ যাবৎ কালের সবচাইতে সফল রাষ্ট্রনায়ক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমাদের উপমহাদেশের একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি রয়েছে। সেটি হল উত্তরাধিকারের রাজনীতি। শেখ হাসিনা এই সংস্কৃতির বাইরে ছিলেন।



 



এক রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য ও বঙ্গবন্ধুর কন্যা হওয়া সত্ত্বেও তিনি রাজনীতি নিয়ে আগ্রহী ছিলেন না। সবসময় চাইতেন সাধারণভাবে জীবনযাপন করতে। বাংলাদেশের আর দশজন সাধারণ মেয়ে যেমন স্বামী-সন্তান নিয়ে জীবন কাটায় তিনিও ওইরকম জীবন-যাপনে আগ্রহী ছিলেন। কিন্ত নিয়তি তাঁর জন্য অন্য কিছু লিখেছিল। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাঙালি জাতির জীবনের ঘৃণ্যতম কালো অধ্যায়। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হল। দেশ, জাতি ও রাজনীতি অভিভাবক শূন্য হয়ে পড়ল। দিকভ্রষ্ট হল আওয়ামী লীগ। সে সময় দেশ ও জাতির কা-ারী হিসেবে আওয়ামী লীগের দায়িত্ব প্রাপ্ত হন জননেত্রী শেখ হাসিনা। ১৯৮১ সালে তাঁকে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। সেদিন অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছিল কোনোরকম রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাহীন শেখ হাসিনা কি পারবেন দলের নেতৃত্ব দিতে? কিন্তু সবার ভ্রান্ত ধারণা দূর করে শেখ হাসিনা দেশ ও দলকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। দেশকে পেঁৗছে দিয়েছেন উন্নতির শীর্ষ স্থানে।



বাংলাদেশের রাজনীতিতে তিন দশকের উজ্জ্বল নক্ষত্র শেখ হাসিনা। তবে তাঁর এ সফলতা একদিনে আসেনি। '৭৫-এর পর তিনি ও তাঁর দল বারবার রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার হয়েছে। সেনা শাসকদের দ্বারা অত্যাচারিত হয়েছেন। তবুও পিছু হঠেননি। পঁচাত্তরের পর তাঁর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ হারানো গৌরব ফিরে পায়। দীর্ঘ ২১ বছর সংগ্রামের পর তিনি নির্বাচনে জয়ী হয়ে ১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ পুনরায় নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করে। বর্তমানে শেখ হাসিনা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবন দীর্ঘ। তিনি ক্ষমতায় থাকার চেয়ে রাজপথে ছিলেন বেশি। বাংলার মানুষের গনতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনের তিনি ছিলেন শীর্ষে। শেখ হাসিনা রাজনীতি করতে গিয়ে সামরিক শাসক কর্তৃক কারাভোগও করেছেন। তিনি ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গ্রেফতার হন। এর পরের বছর ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে। এ নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন দল আওয়ামী লীগ ২৬০টি আসন লাভ করে। নির্বাচনে বিএনপি পেয়েছিল ৩২ আসন। ২০০৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত টানা দ্বিতীয়বারের মতো আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় রয়েছে। বর্তমানে শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশ যে গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে তা অবিশ্বাস্য। শেখ হাসিনার বড় গুণ তিনি বঙ্গবন্ধুর মতো দেশকে ভালোবাসেন। তিনি দৃঢ় প্রত্যয় রেখে বাংলাদেশের উন্নতি চান এবং দেশের জন্য মৃত্যুকেও পরম প্রাপ্তি বলে মনে করেন। বঙ্গবন্ধুর পর বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল রাজনীতিবিদ নিঃসন্দেহে শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধুর মতই তিনি প্রত্যয়ী, অবিচল ও সাহসী। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে। বারবার তিনি স্বাধীনতাবিরোধী শত্রুদের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছেন। বিদেশী শক্তির কাছে তাঁর মাথা অবনত হয়নি। তাই ২১ আগস্টের মত ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার পরও তিনি দেশসেবার পথ থেকে একবিন্দু পিছু হটেননি। বিশ্বব্যাংক পদ্মাসেতু নির্মাণে দুর্নীতির যে অভিযোগ তুলেছিল, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তা ভিত্তিহীন প্রমাণ করেছেন। পদ্মা সেতু নির্মাণে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ আর বিশ্বব্যাংকের কাছে দ্বারস্থ হয়নি। যেখানে অন্যরা ভেবেছিল বিশ্বব্যাংক ছাড়া পদ্মাসেতু হবে না, সেখানে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু করার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন দেশরত্ন শেখ হাসিনা। বিশ্ব অবাক দৃষ্টিতে বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে রইলো। হেনরি কিসিঞ্জারের মত মানুষ স্বাধীন বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলেছিলেন। আজ পৃথিবীর মানুষের কাছে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল। বাংলাদেশ এক অপার সম্ভাবনাময় দেশের নাম। বাংলাদেশ কেবল পৃথিবী নয়, মহাকাশও জয় করেছে। পৃথিবীর মধ্যে মাত্র ৫৭টি দেশের নিজস্ব স্যাটেলাইট রয়েছে। বাংলাদেশ তার মধ্যে একটি। এটি সম্ভব হয়েছে কেবলমাত্র বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা, বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের আন্তরিকতা ও দক্ষ নেতৃত্বের কারণে। আরো আনন্দের বিষয় হলো, বর্তমানে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২-এর নির্মাণ কাজ চলছে।



 



একসময় বাংলাদেশ জঙ্গী, সন্ত্রাস, মাদকের আখড়া ছিল। ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীন হওয়া এ দেশ দুর্নীতিতে টানা ৫ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। রাজনৈতিক সন্ত্রাস তো ছিল মহামারির মত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় অবস্থানের কারণে দেশ থেকে জঙ্গীবাদ দূর হয়েছে। মাদকাসক্ত মানুষের সংখ্যা বহুগুণে কমে এসেছে। রাজনৈতিক আন্দোলনের নামে কমেছে জ্বালাও-পোড়াও আগুন সন্ত্রাস। কেবল দেশে নয়, বিদেশেও বাংলাদেশের অগ্রগতি রোধ করার জন্য ষড়যন্ত্র কম হয়নি। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সকল প্রতিকূলতা দূরে ঠেলে ঠিকই সোনালি গন্তব্যের দিকে এগিয়ে গেছে। যার কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পেয়েছে। মাথাপিছু আয় ও প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পেয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার আমলে মাথাপিছু আয় ৮৪৩ ডলার থেকে ১৭৫১ ডলার হয়েছে। গত ১০ বছরে বাংলাদেশে স্বাক্ষরতার হার ২৬ দশমিক ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ৫.৫৭ প্রবৃদ্ধি বর্তমানে উন্নীত হয়েছে ৭.৮৬ শতাংশে। শুধু তাই নয় বেড়েছে বিনিয়োগ, আমদানি-রপ্তানি ও রেমিট্যান্স। বিনিয়োগ ২৬.২৫ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে ৩০.২৭ শতাংশ হয়েছে। মানব উন্ন্য়ন সূচকে সারা পৃথিবীতে বাংলাদেশের স্থান ২০১৮ সালে ১৩৬তম। রফতানি বিএনপি শাসনামলে ছিল ১৬.২৩ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে তা ৩৪.৮৫ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। রেমিট্যান্স ১০.৯৯ বিলিয়ন ডলার থেকে ১২.৭৭ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। বেড়েছে রিজার্ভের পরিমাণ। আগে রিজার্ভ ছিল ১০.৭৫ বিলিয়ন ডলার। বর্তমান রিজার্ভ রয়েছে ৩৩.৪১ বিলিয়ন ডলার। এডিপি ২৮৫ বিলিয়ন থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ১০৭ বিলিয়নে এসে দাঁড়িয়েছে। পারমাণবিক শক্তির দিক দিয়েও যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ। ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা খরচ করে রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করছে বাংলাদেশ। প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে বহুগুণে তথ্যপ্রযুক্তিকে সহজলভ্য করে সাধারন জনগনের নাগালের মধ্যে আনা হয়েছে। দেশে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সফটওয়ার টেকনোলজি পার্কের উদ্বোধন করেছেন। যোগাযোগক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। ফস্নাইওভার নির্মাণ, মহাসড়ক ৪ লেন থেকে ৮ লেনে উন্নতিকরণ, সেতু নির্মাণসহ নানা প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। নতুন করে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ শুরুও হয়েছে। রাজধানীতে স্বপ্নের মেট্রোরেল নির্মান কাজ শুরু হয়েছে। দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের সংখ্যা ১২৩ টিতে বৃদ্ধি করেছে সরকার। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা গত সাড়ে ৯ বছরে ৩ হাজার ২০০ মেগাওয়াট থেকে ২০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। সরকার ১৩ হাজার ৬৯০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ৫৫টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করছে। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টার লোডশেডিং থাকার অভিশাপ থেকে মুক্তি পেয়েছে সাধারণ মানুষ। চরাঞ্চলে সোলার মিনি গ্রিড নির্মান করেছে শেখ হাসিনা সরকার। চিকিৎসা সেবার মান বেড়েছে। শেখ হাসিনার নির্দেশে দেশে মেডিক্যাল কলেজের সংখ্যা এখন প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে। ঔষুধ ও জরুরি সেবা যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষজনও পায় সে জন্য কমিউনিটি ক্লিনিক করেছে সরকার। টেলিমেডিসিন সেবা চালু হয়েছে। মাতৃত্বকালীন ছুটি ৬ মাস করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। সমুদ্র জয় করেছে সরকার। কৃষিক্ষেত্রেও যুগান্তকারী উন্নয়ন হয়েছে। সরকার কৃষকদের জন্য ঋণ ব্যবস্থা সহজ করেছে। কৃষক ১০ টাকা দিয়ে ব্যাংক হিসাব খোলার সুব্যবস্থা করেছে। পাটের জীবনরহস্য উন্মোচিত হয়েছে। ইলিশ হয়েছে জিআই পণ্য। পৃথিবীর সবখানে যখন ইলিশ উৎপাদন কমেছে সেখানে অবিশ্বাস্যভাবে বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। ধান উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে চতুর্থ। চা শ্রমিকদের মজুরি ১০২ টাকা নির্ধারন এবং বছরে দুটি উৎসব ভাতা শুরু হয়েছে। খাদ্যে বাংলাদেশ এখন স্বয়ংসম্পূর্ন হয়েছে। একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। যেখানে আগে বাংলাদেশে খাদ্য ঘাটতি থাকতো সেখানে এখন বাংলাদেশ খাদ্য রপ্তানি করছে। এটি দেশবাসীর জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি। এ প্রাপ্তি সম্ভব হয়েছে জননেত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ ভূমিকার কারণে।



 



শিক্ষার মান বৃদ্ধি করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করেছে সরকার। নতুন করে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কলেজকে সরকারিকরণ করা হয়েছে। প্রত্যেকটি স্কুল কলেজে তথ্যপ্রযুক্তিগত উন্নয়নের জন্য ডিজিটাল ক্লাসরুম, কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে, পাশাপাশি শেখ রাসেল কম্পিউটার ল্যাবও দেয়া হয়েছে। অসংখ্য প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় সরকারি করা হয়েছে। এ সরকারের আমলে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে প্রায় ৫শ' পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের আসনসংখ্যা ২৫ হাজার থেকে ১ লাখে উন্নীত করার কাজ চলছে। চারটি সরকারি মহিলা পলিটেকনিক ও ২৩টি বিশ্বমানের নতুন পলিটেকনিক স্থাপনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কাজ করছে। বস্ত্রশিল্পে বিশ্বে রোল মডেল হয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের তৈরিকৃত পোশাক পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। রপ্তানির বড় অংশ জুড়ে রয়েছে পোশাকশিল্পের অবদান। সেই গার্মেন্টস শ্রমিকদের উন্নয়নেও কাজ করেছেন শেখ হাসিনা। তিনি তাদের বেতনভাতা বৃদ্ধির নির্দেশ দিয়েছেন এবং সেটি বাস্তবায়িতও হয়েছে। ঔষধ শিল্পেও বিশ্বে বাংলাদেশ স্থান করে নিয়েছে। দেশের বীর সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের সার্বিক সুযোগসুবিধা বৃদ্ধি করেছে সরকার। তাঁদের ভাতা দ্বিগুণের বেশি অর্থাৎ একজন মুক্তিযোদ্ধার নূন্যতম মাসিক ভাতা ১০ হাজার টাকা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।



জননেত্রী শেখ হাসিনার বড় সফলতা হচ্ছে সেবা মানুষের দৌড়গোড়ায় পেঁৗছে দেয়া। সেবা প্রদান পদ্ধতি সহজ হয়েছে অনেকগুণ। প্রায় সকল প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ সেবা অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে। ভূমি ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রচুর ভোগান্তির শিকার হতো সাধারণ মানুষ। ভূমি সংক্রান্ত সেবার আধুনিকায়ন করার কারণে এ ভোগান্তি এখন নাই বললেই চলে। জমির পর্চা থেকে শুরু করে ভুমি সংক্রান্ত সেবা অনলাইনে দেয়া হচ্ছে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের কারণে আর্থিক লেনদেন সহজ হয়েছে। আবেদন, ফরম, ই-টেন্ডারিং, ই-জিপি, জরুরি সেবা এখন অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে। মানুষের তথ্য প্রাপ্তি অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে কমেছে দুর্নীতি। বাংলাদেশ এখন আর দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয় না। এখন বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে পৃথিবীর বুকে দাঁড়িয়েছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার বাস্তবায়ন করছেন শেখ হাসিনা।



দিন বদলের সাথে সাথে জননেত্রী শেখ হাসিনার নামের সাথে যুক্ত হয়েছে কৃতিত্বের সাক্ষর। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও তিনি এখন আলোচিত ব্যক্তিত্ব। আমেরিকা, যুক্তরাজ্যের মতো দেশের রাজনীতিবিদরা তাঁকে সম্মানের চোখে দেখে। শেখ হাসিনা বিশ্বের অন্যতম মানবিক প্রধানমন্ত্রী। তিনি রোহিঙ্গাদের দুঃসময়ে তাদেরকে বাংলাদেশে স্থান দিয়ে বহির্বিশ্বে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বিশ্ব মিডিয়া এ কারণে শেখ হাসিনাকে 'মাদার অব হিউম্যানিটি' অভিধায় সিক্ত করেছে। কেবল তা-ই নয়, তিনি বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী নারীও। ২০১০ সালে নিউইয়র্ক টাইমসের জরিপে তিনি বিশ্বের ক্ষমতাধর নারীদের মধ্যে ষষ্ঠ স্থানে ছিলেন। ২০১১ সালের জরিপে বিশ্বের প্রভাবশালী নারীদের তালিকায় শেখ হাসিনা ছিলেন সপ্তম। ২০১০ সালে নারী দিবসের শতবর্ষে সিএনএন জরিপ চালিয়ে ৮ এশীয় ক্ষমতাধর নারীর তালিকা প্রকাশ করে। এ তালিকায় শেখ হাসিনার অবস্থান ছিল ষষ্ঠ। বিখ্যাত ম্যাগাজিন ফোর্বস-এর তালিকায় বিশ্বের শীর্ষ ১০০ ক্ষমতাধর নারীর মধ্যে ৫৯তম নম্বরে রয়েছেন শেখ হাসিনা। এখন বিশ্বের প্রভাবশালী নারীদের তালিকায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছেন।



বিশ্বের অনেক সুনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করেছে। এর মধ্যে আমেরিকার বোস্টন ইউনিভার্সিটি, জাপানের ওয়াসেদা ইউনিভার্সিটি, অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, রাশিয়ার পিপলস্ ফ্রেন্ডশীপ ইউনিভার্সিটি, স্কটল্যান্ডের অ্যাবারটে ইউনিভার্সিটি, ভারতের বিশ্বভারতী উল্লেখযোগ্য। শেখ হাসিনা তাঁর কর্মের জন্য পেয়েছেন অসংখ্য সম্মাননা, পুরস্কার। বৈশি্বকভাবে তিনি প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন, এজেন্ট অব চেঞ্জ পুরস্কার, ইউনেসকোর হুপে-বোয়ানি শান্তি পুরস্কার, মাদার তেরেসা পুরস্কার, এম কে গান্ধী পুরস্কার, বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের 'ডেসিকোটাম', খাদ্য ও কৃষি সংস্থার চেরেস পদক, পার্ল এস বাক পুরস্কার, ইন্দিরা গান্ধী পুরস্কার, ইউনেস্কো 'শান্তিবৃক্ষ' পুরস্কার, চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ, সাউথ সাউথ পুরস্কার অর্জন করেন।



 



আজ জননেত্রী, গণমানুষের নেত্রী, জাতির উন্নয়নের কা-ারি, গণতন্ত্রের মানসকন্যা ও দেশরত্ন শেখ হাসিনার ৭২তম জন্মদিন। এ দিনে তাঁর প্রতি আমাদের অকৃত্রিম ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানাই। তাঁর সুখী ও দীর্ঘজীবন কামনা করি। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি সুস্থ থাকুন ও আমৃত্যু প্রধানমন্ত্রী থাকুন। আমরা যেন তাঁর আলোয় আলোকিত হই, বাংলাদেশও যেন তাঁর আলোয় আলোকিত হয়। বাংলাদেশের মানুষ তাঁর পাশে ছিল, পাশে আছে এবং আগামীতেও পাশে থাকবে ইনশাল্লাহ্।



জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।



 



লেখক : অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ হাসান খান; সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, চাঁদপুর জেলা।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৯৯৮৭৫
পুরোন সংখ্যা