চাঁদপুর। শুক্রবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮। ১৩ আশ্বিন ১৪২৫। ১৭ মহররম ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪২-সূরা শূরা


৫৪ আয়াত, ৫ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


০৬। যারা আল্লাহর পরিবর্তে অপরকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করে, আল্লাহ তাদের প্রতি কঠোর দৃষ্টি রাখেন। তুমি তাদের তত্ত্বাবধায়ক নও।


০৭। এভাবে আমি তোমাদের প্রতি কোরআন অবতীর্ণ করেছি আরবি ভাষায়, যাতে তুমি সতর্ক করতে পারো মক্কা এবং ওর চতুর্দিকের জনগণকে এবং সতর্ক করতে পারো হাশর (কিয়ামত) দিবস সম্পর্কে, যাতে কোনো সন্দেহ নেই; (সেদিন) এক দল জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং একদল জাহান্নামে প্রবেশ করবে।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


 


অভাবেও যার স্বভাব ঠিক থাকে, সে-ই যথার্থ চরিত্রবান। -সিনেকা।


 


 


যার দ্বারা মানবতা উপকৃত হয়, তিনিই মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অর্জনসমূহ
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশকে উন্নতির দিকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে গেছে। যারা বাংলাদেশকে পূর্বে তলাবিহীন ঝুড়ি বলতো, তারাও এখন বাংলাদেশকে সম্মান করে এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি বিস্ময়ের চোখে দেখে। সমগ্র পৃথিবী এ দেশকে দেখে উন্নয়নের রোলমডেল হিসেবে। আপনি মানবতাবাদী মানুষের আদর্শ। রোহিঙ্গা সঙ্কটে আপনার উদারতা এবং মহানুভবতা কেবল আমাদের নয়, সারা বিশ্ববাসীর দৃষ্টি কেড়েছে। সেজন্যেই বিশ্ব গণমাধ্যম আপনাকে 'মাদার অব হিউম্যানিটি' উপাধি দিয়েছে। আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হয়েছে। আজ আমরা নিজেদের অর্থে পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজ পরিচালনা করছি। এটি বাংলাদেশের জন্যে অনেক বিশাল একটি প্রাপ্তি। যা আপনার নেতৃত্বে অর্জন করেছি। বাংলাদেশের মানুষ এখন খাদ্য সঙ্কটে ভোগে না। কেননা, বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। এটাও আমাদের বিশাল একটি প্রাপ্তি।



মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এই বাংলাদেশই টিআইবি-এর জরিপে ২০০১ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলো। বর্তমানে দেশে দুর্নীতি ব্যাপকভাবে প্রতিরোধ করা হয়েছে। যার কারণে প্রতিবছরই দুর্নীতি কমেছে। যে সূচকে বাংলাদেশ একদিন শীর্ষ ছিলো, সেখানে এবছর বাংলাদেশ ২৮ স্কোর পেয়েছে। আন্তর্জাতিক সূচকে প্রতিবছরই দুই-এক ধাপ করে বাংলাদেশে দুর্নীতির সূচক কমেছে। আপনি আমাদেরকে দুর্নীতিগস্ত দেশের কলঙ্ক থেকে মুক্তি দিয়েছেন। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক অভিযোগ করেছিল, পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতি হয়েছে। আপনার নেতৃত্বে আমরা চ্যালেঞ্জ করে বলেছিলাম, বাংলাদেশ দুর্নীতি করেনি। তারা তদন্ত করে অবশেষে দেখেছে, পদ্মাসেতু নিয়ে বাংলাদেশ কোনো দুর্নীতি করেনি। বাংলাদেশ খারাপ কাজের জন্যে এখন আর বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয় না। আমরা ভালো কাজের জন্য বৈশি্বক স্বীকৃতি অর্জন করেছি। সারা বিশ্ব দেখেছে আমাদের প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ বিষয়ক সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক পুরস্কার 'চ্যাম্পিয়ন অব আর্থ' নির্বাচিত হয়েছেন। বাংলাদেশ এখন আপনার নেতৃত্বে ভালো কাজে বিশ্ব নন্দিত হয়। এই যে পরিবর্তন, এই পরিবর্তনের কারিগর হিসেবে চাঁদপুরবাসীর পক্ষ থেকে আপনাকে অভিবাদন জানাই।



মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি পরপর তিনবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। এ এক বিরল সম্মান। এই সম্মানেই প্রমাণিত হয় বাংলার মানুষ আপনার নেতৃত্বের ওপর কতটা আস্থাশীল। আপনার নেতৃত্বে কেবল দেশ এগিয়ে যায়নি, পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে অনেক কিছু অর্জন করেছে। এসব অর্জনের মধ্যে ১৯৯৬ সালের 'গঙ্গা পানি চুক্তি', ১৯৯৭ সালের 'পার্বত্য শান্তি চুক্তি', ১৯৯৯ সালের বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস'-এর স্বীকৃতি, ২০১২ ও ২০১৪ সালে মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্র সীমার বিরোধ নিষ্পত্তি, ইন্দিরা-মুজিব স্থল সীমানা চুক্তি বাস্তবায়ন, বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচারের রায় ও রাজাকার-খুনীদের ফাঁসি কার্যকর, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ কাজ শুরু, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকে ইউনেস্কোর ডকুমেন্টারি হেরিটেজ ঘোষণা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এসব অর্জন কেবল বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বব্যাপী আলোচিত হয়েছে। বর্তমানে দেশে বাল্য বিবাহ, ইভটিজিং, দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ-এর মতো ভয়াবহ সমস্যা কমেছে। বেড়েছে কৃষি উৎপাদন, বিদ্যুৎ সরবরাহ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা। শিক্ষার হারও বেড়েছে। তথ্য প্রযুক্তিতে বাংলাদেশ প্রতিনিয়ত সমৃদ্ধ হচ্ছে। প্রতিনিয়ত দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও হচ্ছে। বাংলার মানুষ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হয়েছে। মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উন্নীত হয়েছে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে।



আপনার সুবিশাল কর্মকা- ও উদার দৃষ্টি ভঙ্গির স্বীকৃতিস্বরূপ আপনিও অসংখ্য আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন। ২০১৬ সালে 'এজেন্ট অব চেঞ্জ পুরস্কার', 'প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন', ২০১৫ সালে ডবিস্নউআইপি (ওম্যান ইন র্পালামন্টে) গ্লোবাল অ্যাওর্য়াড, ২০১৪ সালে ইউনেস্কো 'শান্তিবৃক্ষ পদক', ২০১৩ 'মান্থন অ্যাওয়ার্ড' ও 'ডিপ্লোমা অ্যাওয়ার্ড', ২০১২ সালে 'কালচারাল ডাইভারসিটি', ২০১১ সালের 'গ্লোবাল ডাইভারসিটি অ্যাওয়ার্ড', 'সাউথ সাউথ অ্যাওয়ার্ড-২০১১: ডিজিটাল ডেভেলপমেন্টে হেলথ', ২০১০ সালে মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্টে গোল অ্যাওয়ার্ড', 'এসটি. পিটার্সবার্গ ইউনিভার্সিটি সম্মানসূচক ডক্টরটে প্রদান', 'ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পদক-২০০৯', ২০০৫ সালে পিপলস ফ্রেন্ডশিপ ইউনিভার্সিটি অব রাশিয়ার সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি, ২০০০ সালে 'পার্ল এস বাক পদক', 'ডক্টরর্স অব হিউম্যান লেটার্স', ১৯৯৯ সালে 'সেরেস পদক', ১৯৯৮ সালে 'এম কে গান্ধী', 'মাদার তেরেসা পদক', 'ফেলিঙ হুফে বইনি', 'দেশিকোত্তম' উপাধিসহ আরো অসংখ্য পুরস্কার, সম্মাননা ও পদকে ভূষিত হয়েছেন আপনি। শুধু তাই নয়, বিশ্বখ্যাত 'ফোবর্স' ম্যাগাজিনের তালিকায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি বিশ্বের প্রভাবশালী একশ' নারীর মধ্যে ৩৬তম হয়েছেন।



অন্যদিকে নিউইয়র্ক টাইমসের জরিপে আপনি বিশ্বের প্রভাবশালী নারী নেতাদের তালিকায় সপ্তম স্থানে আছেন। বিশ্ববিখ্যাত সংবাদ সংস্থা সিএনএন ২০১০ সালে এশিয়ার ক্ষমতাধর ১০ নারীর তালিকা প্রকাশ করে। এ তালিকায় ৬ষ্ঠ অবস্থানে আছেন, আপনি দেশ ও মানুষের নেত্রী শেখ হাসিনা। আপনার মতো এশিয়া মহাদেশের আর কোনো রাষ্ট্রনেতা এতগুলো আন্তর্জাতিক পুরস্কার পায়নি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি ২০১৮ এ হয়েছেন বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা নারী প্রধানমন্ত্রী। এসব অর্জন কেবল আপনার একার অর্জন নয়। এটি বাংলাদেশীদের জন্যও একটি বড় অর্জন, আমরা গর্বিত। আমরাই কেবল আপনাকে নিয়ে গর্ব করি না, বিশ্ববাসীও আপনাকে নিয়ে গর্ব করে। আপনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে, আপনার নেতৃত্বগুণে বিশ্বনেতায় পরিণত হয়েছেন, আর আমরা বাংলার জনগণ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে আছি। সহস্র বছরের বাঙালীর মহানায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তাঁর কন্যা হিসেবে আপনি তাঁর আদর্শ নিয়ে বর্তমানে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। সোনার বাংলা গঠনে আপনি নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধুর যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে পিতার মতোই আপনি বাঙালির মুখে হাসি ফোটাতে কাজ করছেন।



শ্রদ্ধেয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি আপনার পিতার মতো জাতিসংঘে বাংলাদেশকে যথার্থভাবে উপস্থাপন করেছেন। রোহিঙ্গাদের নিয়ে কথা বলেছেন। আমেরিকা থেকে রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় আপনাকে সম্প্রতি দুটি পুরস্কারে ভূষিত করা হবে। মানবিক কারণে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে 'নজির স্থাপন করায়' প্রেস সার্ভিস নিউজ এজেন্সি আপনি 'ইন্টারন্যাশনাল এচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড'-এ ভূষিত হবেন। রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধানে 'দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে' দাতব্য সংগঠন 'গ্লোবাল হোপ কোয়ালিশন'-এর পরিচালনা পর্ষদ আপনাকে 'স্পেশাল রিকগনিশন ফর আউটস্ট্যান্ডিং লিডারশিপ' অ্যাওয়ার্ড দেবে। এ প্রাপ্তি আমাদের জন্যে আনন্দের ও গর্বের। আপনি আপনার কর্মগুণে বিশ্বনেতাদের একজন হয়ে ওঠেছেন। আপনাকে আমাদের অভিবাদন।



জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।



 



(মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার গত ১ এপ্রিল চাঁদপুরে আগমন উপলক্ষে অধ্যক্ষ ড. মোঃ হাসান খানের এ লেখাটি প্রকাশিত হয়।)



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৫৭১৭৭
পুরোন সংখ্যা