চাঁদপুর। শুক্রবার ৯ নভেম্বর ২০১৮। ২৫ কার্তিক ১৪২৫। ২৯ সফর ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪৩-সূরা যূখরুফ


৮৯ আয়াত, ৭ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৫২। 'আমি তো শ্রেষ্ঠ এই ব্যক্তি হইতে, যে হীন এবং স্পষ্ট কথা বলিতেও অক্ষম।


৫৩। 'মূসাকে কেন দেওয়া হইল না স্বর্ণ-বলয় অথবা তাহার সঙ্গে কেন আসিল না ফিরিশ্তাগণ দলবদ্ধভাবে?


৫৪। এইভাবে সে তাহার সম্প্রদায়কে হতবুদ্ধি করিয়া দিল, ফলে উহারা তাহার কথা মানিয়া লইল। উহারা তো ছিল এক সত্যত্যাগী সম্প্রদায়।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


assets/data_files/web

বীরত্বের নির্যাস হলো আত্মবিশ্বাস। -ইমারসন।


 


 


বিদ্যা শিক্ষার্থীগণ বেহেশতের ফেরেশতাগণ কৃর্তক অভিনন্দিত হবেন।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
অবিস্মরণীয় ইতিহাস
মোঃ মাকসুদুল হক বাবলু
০৯ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

শিশুরাই জাতির সম্পদ। শিশুদেরকে শৈশবকাল থেকে গড়ে তুলতে না পারলে জাতির ভবিষ্যৎ অন্ধকার। তাই শিশুদেরকে শারীরিক ও মানসিকভাবে গড়ে তোলা অপরিহার্য। পঞ্চাশোর্ধ সালের দিকে শিশু বান্ধব কয়েকজন ব্যক্তিত্ব এই শিশুদেরকে প্রকৃত অর্থে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন। তাঁদের পুরোধা ছিলেন সাংবাদিক, সাহিত্যিক, শিশু দরদী, রোকনুজ্জামান খান দাদা ভাই। ১৯৫৬ সালের ৫ অক্টোবর, মহীয়সী কবি সুফিয়া কামালের ঢাকার ওয়ারিস্থ তারাবাগের বাসায় গাছপালায় ঘেরা আমবাগানের ছায়ায় ১৫-২০ জন শিশুর উপস্থিতিতে এক সভা হয়। সভায় সভাপতিত্ব কারন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ডক্টর আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক অজিত কুমার গুহ, এম.এ ওয়াদুদ পাটওয়ারী সহ বেশ কয়েকজন জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তি। সভার কাজ চলছে। বেগম সুফিয়া কামাল নিজ হাতে মুড়ি ভেজে নারকেলের নাড়ু অশেষ মমতায় শিশুদেরকে পরিবেশন করেন। সেদিন ছিল শিশুদের মহা খুশির দিন। জন্ম নিল জাতীয় শিশু-কিশোর সংগঠন 'কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা'। শিশু-কিশোরদের মেধা ও মানসিক বিকাশ, চরিত্র গঠন, সাহিত্য, শিল্প সংস্কৃতি চর্চায় প্রেরণা দান, সমাজসেবায় উৎসাহপ্রদান, তাদের খেলাধুলা ও শরীর চর্চার ব্যবস্থাকরণ, বিশেষ করে দেশের ভবিষ্যৎ নাগরিকদের দেশাত্মবোধে উদ্বুদ্ধকরণ-মূলত ছিল এ সংগঠনের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য। বর্তমানে ঢাকার সেগুনবাগিচায় ১০তলা ভিত্তির উপর ৪ তলা ভবনে (মিলনায়তন সহ) কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলার কার্যক্রম চলছে।

কচি-কাঁচার মেলা গঠন করেই এর কর্ণধার দাদাভাই অক্লান্ত পরিশ্রম ও দেশব্যাপী সফরের মাধ্যমে শত শত শাখা স্থাপন করেন। এভাবে সারাদেশে মেলার শাখা গঠনের সাজ সাজ রব পড়ে যায়। আর তারই ধারাবাহিকতায় 'মতলব সূর্যমুখী কচি-কাঁচার মেলা' গঠনের দ্বার উন্মুক্ত হয়।

প্রত্যেক সংগঠনের শুরুরও একটা শুরু থাকে। তেমনি হয়েছিল মতলব মেলা গঠন উপলক্ষে। স্নাতক পর্যায়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় বিভিন্ন মাঠে ময়দানে ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের বিক্ষিপ্ত বিচরণ করতে দেখে মনের মাঝে উঁকি ঝুঁকি মারছিল তাদের জন্যে কিছু একটা করা যায় কিনা। তাদের সঙ্গে আলাপ করে তাদের আগ্রহ দেখে আশান্বিত হলাম। সময়টা ছিল ১৯৬৭ সালের শেষের দিক। এ সময় দাদাভাই সম্পাদিত মাসিক 'কচি ও কাঁচা' পত্রিকাটি হাতের কাছে পেয়ে মুগ্ধ হয়ে পড়তে লাগলাম। শেষের দিকে দেখলাম, বিভিন্ন শাখা মেলার সংবাদ। তখন দৈনিক ইত্তেফাক বন্ধ থাকায় 'কচি ও কাঁচা সাময়িকী'তে মেলার সংবাদ ছাপা হতো। সিদ্ধান্ত নিলাম, মতলবে কচি-কাঁচার মেলার শাখা সংগঠন করবো। কয়েকজন বন্ধু-বান্ধব, সহপাঠীর সঙ্গে আলাপ করলাম। এ বিষয়ে আমাকে জোরালো সমর্থন ও অসম্ভব সহযোগিতা করেছে গোলাম সারওয়ার (মনির), যার বাবা ছিলেন মতলবের কুমিল্লা জেলা পরিষদ পরিচালিত দাতব্য চিকিৎসালয়ের চিকিৎসক ডাঃ আবদুল গনি। যিনি 'গনি ডাক্তার' হিসেবে খুবই পরিচিত ও রোগী বান্ধব হিসেবে প্রশংসিত ছিলেন। পাশাপাশি মতলব ডিগ্রি কলেজের ছাত্র মুনীর হোসেন পাটোয়ারী, আঃ রহিম, খোরশেদ আলম, মাজহারুল করিম চৌধুরী (জেহাদ চৌধুরী) মেলা গঠনে ভূমিকা রাখে। অবশেষে কাগজ কলম নিয়ে বসলাম। কেন্দ্রীয় মেলার পরিচালক দাদাভাইকে চিঠি লিখলাম। তিনি সঙ্গে সঙ্গে চিঠির প্রত্যুত্তর দিলেন এই বলে যে, মেলা করবে ভাল কথা। কিন্তু তার জন্য কঠোর পরিশ্রম, ত্যাগ, তিতিক্ষা থাকতে হবে। একটু দমে গেলাম। বছর খানেক এভাবে কাটলো। এরপর একদিন সাহস করে ঢাকা এলাম। পাটুয়াটুলি সওগাত প্রেসে সন্ধ্যায় দাদাভাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম। পূর্বের চিঠির কথা উল্লেখ না করে নতুন করে দাদাভাই-এর সঙ্গে মেলা গঠন নিয়ে আলাপ শুরু করলাম। দাদাভাইয়ের স্মৃতি এত প্রখর ছিল যে, তিনি প্রথমেই আমাকে বলে বসলেন, এক বছর আগে তুমিই চিঠি লিখেছিলে তাই না। আমি তো অবাক। দাদাভাইয়ের সঙ্গে দীর্ঘ আলাপে তাঁর প্রখর ব্যক্তিত্ব, মধুর ব্যবহার আর গভীর আন্তরিকতায় আমি যারপরনাই মুগ্ধ হলাম। এভাবেই ১৯৬৮ সালের ৫ নভেম্বর 'মতলব সূর্যমুখী কচি-কাঁচার মেলা'র জন্ম হলো। মেলার নামটিও দাদাভাই দিয়েছিলেন। 'সূর্যমুখী'-এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, সূর্যমুখী ফুলের দৃষ্টি আলোর দিকে, তাই অন্ধকার থেকে আলোর দিকে ধাবিত হবার ব্রত নিবে মতলবের শিশু-কিশোররা। আজো বারবার মনে পড়ে এ নামের সার্থকতা। প্রথমে আমি এ মেলার সংগঠক মনোনীত হই। পরে পরিচালক/সভাপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করি।

এরপর আর পিছিয়ে থাকা নয়। মেলার কাজ পূর্ণোদ্যমে চলতে থাকে। প্রথম দিকে আমাদের কোনো জায়গা না থাকাতে ডাক বাংলোর সামনে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে শরীরচর্চার ক্লাস হতো। মতলব থানা প্রাথমিক সমিতির কার্যালয় মেলার অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি পাওয়া গেল। তাদের হল রুমে সাংস্কৃতিক কর্মকা- চলতে থাকে।

এমন সময় আমাদের ডাক পড়লো কুমিল্লায় অনুষ্ঠিত প্রাদেশিক শিক্ষা শিবিরে প্রতিনিধি পাঠাতে। সময় ছিল ১৯৬৯ সালের ডিসেম্বর মাস। আমরা ৪ জনকে পাঠালাম। এ শিবিরে যোগদানের মাধ্যমে মতলব মেলার শিশুদের জন্যে নতুন দ্বার খুলে গেল। শিশুরা এ সময়ে সানি্নধ্যে এলো বেশ ক'জন মহান ব্যক্তির। তাদের মধ্যে দাদাভাইসহ আরো ছিলেন শিল্পাচার্য্য জয়নাল আবেদিন, কবি সুফিয়া কামাল, সওগাত সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন প্রমুখ। দেশ স্বাধীন হলো। দাদাভাই দুঃস্থ শিশুদের মধ্যে জামা-কাপড় বিতরণের সিদ্ধান্ত নেন। আমাদের পরম সৌভাগ্য যে, দাদাভাই প্রথমেই মতলব মেলাকে এ কর্মসূচিতে বেছে নেন। দিনটি ছিল ১৯ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সাল। মেলার নিজস্ব প্রাঙ্গণে শত শত ছেলেমেয়েদের দাদাভাই নিজ হাতে জামা-কাপড় পরিয়ে দেন। পরবর্তীতে বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচিতে আমি দাদাভাইয়ের সফর সঙ্গী হই টাঙ্গাইল, কুমিল্লা, লাকসাম, নোয়াখালী, চাঁদপুর ইত্যাদি স্থানে।

১৯৭৪ সালের ৩০ জানুয়ারি '৭৫ ঢাকার গুলিস্তান শহীদ মতিউর শিশু পার্কে কেন্দ্রীয় মেলা আয়োজিত ১ম জাতীয় শিক্ষা শিবিরে মতলব মেলার বেশ কয়েকজন ভাই-বোন অংশগ্রহণ করে। এ শিবিরের প্রশিক্ষণে অনুপ্রাণিত হয়ে পরবর্তী বছরের ২৩ জানুয়ারি থেকে মতলব মেলার উদ্যোগে শিক্ষা শিবিরের আয়োজন করি।

অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলার পরিচালক রোকনুজ্জমান খান দাদাভাই, উপদেষ্টা কবি সুফিয়া কামাল (কচি-কাঁচাদের প্রিয় খালাম্মা), কেন্দ্রীয় মেলার সংগঠক মোঃ মোস্তফাসহ অন্য নেতৃবৃন্দ যোগদান করেন। মেলার নিজস্ব প্রশিক্ষক ছাড়াও এ শিবিরে কুষ্টিয়ার সিরাজুল চৌধুরী (ওস্তাদ ভাই) লাঠিখেলা প্রশিক্ষণ দেন। এখানে স্মরণীয় যে, তাদেরকে বরণ করে নেয়ার জন্য কর্মীভাই শাহজালাল (বর্তমানে জাপানে বসবাসরত) তো খালাম্মা ও দাদাভাইয়ের আগমনী সঙ্গীত রচনা করে ফেললো এবং তাতে সুরারোপ করলো সাথী ভাই নারায়ণ চক্রবর্তী (সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত)। যার প্রথম লাইন ছিল- 'আয় কচিরা আয় কাঁচারা কচি-কাঁচা ভাই/মোদের খালা এসেছে, দাদা এসেছে খুশীর সীমা নাই/খুশীর শেষ নাই। এভাবে মেলা তার লক্ষ্যপথে এগিয়ে যেতে থাকে। ১৯৯৩ সালে মেলার ২৫ বছর পূর্তি মহাসমারোহে পালিত হয়। এ অনুষ্ঠানে দাদাভাই প্রধান অতিথি ছিলেন। সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা নির্মলকান্তি দাশগুপ্ত, সংগঠক আইনুল হক মুন্না, বৃহত্তর কুমিল্লা জেলা সংগঠক, শিশুদের অতি আপনজন, গোলাম মোস্তফা চৌধুরী (মোস্তফা ভাই), কুমিল্লার ১ম দিকের আবাহনী মেলার প্রাক্তন আহ্বায়ক শাহ আলম, মতলবের ইউএনও নওশের আহমেদ চৌধুরী। আরো উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিল্পপতি গিয়াস উদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মেলার উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মোঃ সালামত উল্লাহ। অনুষ্ঠানের বৈশিষ্ট্য ছিল অতিথিবৃন্দ ছাড়াও অগণিত শ্রোতা ও দর্শকের উপস্থিতি। অসংখ্য শিশুর পদভারে মুখরিত ছিল মেলা প্রাঙ্গণ। মহিলাদের উপস্থিতি ছিল দৃষ্টি কাড়ার মত। অনুষ্ঠানের পরবর্তীতে ঢাকায় এলে দাদাভাই প্রায়ই এই অনুষ্ঠানের কথা তুলতেন এবং বলতেন, আমি তোমাদের অনুষ্ঠানের ছবি অনেককেই দেখিয়েছি এবং বলেছি সুদূর মফস্বলে এই ধরনের সরব অনুষ্ঠান বিরল। দাদাভাইয়ের কথায় আমরা মতলব মেলাকে নিয়ে অত্যন্ত গর্ববোধ করেছি।

আমাদের বড়ই সৌভাগ্য যে, কেন্দ্রীয় মেলা ও দাদাভাইয়ের সঙ্গে দিন দিন আমাদের গভীর ও আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। দাদাভাই আমাকে ও মতলব মেলাকে অনেক ঊধর্ে্ব স্থান দিয়েছিলেন। বিভিন্ন মেলা সফরে গেলে তিনি মতলব মেলার কথা বলতেন। যা পরে সে সব মেলার কর্মকর্তাদের কাছে শুনে খুবই প্রীত হতাম। কেন্দ্রীয় মেলার তিনযুগ পূর্তি অনুষ্ঠানে মেলার কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ যে ৬ জনকে সংবর্ধনা ও পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছিল, তার মধ্যে আমিও ছিলাম। এ কথা আজও মনে পড়লে গর্বে বুক ভরে যায়। দাদাভাই অনেক অনুষ্ঠানে, সম্মেলনে আমাকে সফরসঙ্গী করেছেন। এ প্রসঙ্গে কুষ্টিয়া, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর সফরের কথা আজও মনে পড়ে। মনে পড়ে, কুমিল্লায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় সম্মেলনের প্রস্তুতি সভায় ঢাকা হতে দাদাভাইয়ের সঙ্গে এক সাথে কুমিল্লা যাওয়া, রাত্রিযাপন ও নিবেদিতপ্রাণ, ফরিদা বিদ্যায়তনের প্রধান শিক্ষিকা সেলিনা বানুর (কচি-কাঁচাদের বড় আপা) আতিথেয়তার কথা। আরো মনে পড়ে, কেন্দ্রীয় মেলা কার্যালয়ের সর্ব দক্ষিণে প্রথম দিকের দো-চালা ঘরটি যখন নির্মাণ করা হয়েছিল। তখনও আমি দাদাভাইয়ের পাশে থেকে সারাদিন কাজে অংশ নিয়েছি। বর্তমানে আমি কেন্দ্রীয় মেলার সঙ্গে উপদেষ্টা হিসেবে সম্পৃক্ত আছি এবং ঢাকায় গেলে অন্ততঃ একবার মেলার অফিসে না গেলে কেমন যেন অতৃপ্তি থেকে যায়।

দেখতে দেখতে মতলব মেলা আজ ৫০ বছরে পদার্পণ করেছে। সরকারের বদান্যতায় ও মেলার একান্ত প্রচেষ্টায় মেলার দু'বিঘার উপরে জমি হয়েছে। এ জমিতে পর্যায়ক্রমে মেলার নিজস্ব কার্যালয় 'সূর্যমুখী শিশু পাঠাগার,' 'কচি-কাঁচা প্রাথমিক বিদ্যালয় (বর্তমানে সরকারিকরণকৃত) 'কচি-কাঁচা প্রি-ক্যাডেট স্কুল', 'অভিভাবক শেড', 'নামাজ ঘর' নির্মিত হয়েছে। অচিরেই শিশু মিলনায়তন ও কম্পিউটার ল্যাব প্রকল্পের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। এ সকল কাজ সম্ভব হয়েছে, মেলার এক ঝাঁক কর্মী, সাথী ও উপদেষ্টাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও আন্তরিক সহযোগিতার জন্য। এদের মধ্যে অনেকেই আজ আমাদের মাঝে নেই। এ শুভ মুহূর্তে আমরা তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

দাদাভাইয়ের যোগ্য উত্তরসূরি কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলার বর্তমান পরিচালক খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের ঐকান্তিক আগ্রহ ও প্রচেষ্টায় কেন্দ্রীয় মেলার কার্যক্রম সুদৃঢ় ভিত্তির উপর পরিচালিত হচ্ছে। কেন্দ্রীয় মেলার পরিচালকের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় মেলার কর্মকর্তাবৃন্দসহ একঝাঁক শিশু প্রতিনিধি, মতলব মেলার বার্ষিক ক্যাম্প ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে একাধিকবার আগমন করাতে মেলার ভাই-বোনগণ খুবই অনুপ্রাণিত হয়েছে, আনন্দের বন্যায় ভেসে গেছে। বিভিন্ন সময়ে তাঁর সফরসঙ্গী হয়েছেন মেলার প্রাক্তন যুগ্ম পরিচালক কূটনীতিক মোঃ আমজাদ হোসেন, বর্তমান যুগ্ম পরিচালক কবি রুবি রহমান এমপি, সংগঠিকা আলপনা চৌধুরী (রূপালী), প্রাক্তন সংগঠক কেফায়েত আহমেদ (প্রয়াত), কোষাধ্যক্ষ মোঃ ইয়াহিয়া। কেন্দ্রীয় মেলার উদ্যোগে মতলব মেলায় চিত্র কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে শতাধিক ভাই-বোন অংশগ্রহণ করে। প্রশিক্ষণ প্রদান করেন রুমি ভাই ও তাপস ভাই। অপরদিকে কেন্দ্রীয় মেলার উদ্যোগে বারবার আয়োজিত বিভিন্ন কর্মশালায় মেলার ভাই-বোনেরা সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছে এবং বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

৫ নভেম্বর ২০১৮ সোমবার। মতলব মেলার সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসব। মেলার সদস্যদের মধ্যে সাজ সাজ রব। ব্যাপক কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ উৎসব পালিত হচ্ছে। আজ আমার মনে পড়ছে, ছোট ছোট শিশু যারা বহু অতীতে মেলার কাজে অংশগ্রহণ করেছে, তারা আজ বড় হয়েও এ মেলার মায়া ত্যাগ করতে পারেনি। তারা মধ্যম বয়সে, প্রবীণ বয়সেও তাদের কার্যক্রম অটুট রেখেছে। অনেক নতুন মুখ এসেও মেলাকে উজ্জীবিত করছে। তাই আজ সকলের প্রতি স্নেহ, শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা। সবাই সমবেতভাবে চেষ্টা না করলে মতলব মেলা এতদূর পর্যায়ে আসতে পারতো না। বর্তমান ও প্রয়াত অনেকে মতলব মেলার উৎকর্ষ সাধনে এগিয়ে এসেছেন। তাদের অবদানকে খাটো করে দেখার উপায় নেই। সরকারের মন্ত্রীবর্গ, সংসদ সদস্য, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সর্বাত্মক সহযোগিতা আমরা লাভ করেছি।

আজ আমি ষাটোর্ধ্ব। সত্তরের কাছাকাছি বয়স। মতলব মেলার শুরু থেকে আমি অদ্যাবধি বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে এসেছি। অনেকের কাছে আশ্চর্য ঠেকে এবং বলতে শুনেছি, এভাবে শুরু থেকে এক নাগাড়ে এতদিন ৫০ বছর (১৯৬৮-২০১৮) কোনো সংগঠনে জড়িত থাকা বিস্ময়কর। আপনারা আমার ও পরিবারের জন্য দোয়া করবেন। আমি যেন আমৃত্যু প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এ সংগঠনের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করতে পারি। মতলব মেলা পরবর্তীতে ৭৫ বছর, ১০০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠান করবে, এই কামনা করছি।

মতলব সূর্যমুখী কচি-কাঁচার মেলা দীর্ঘজীবী হোক।

আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৯৫৯৫৪
পুরোন সংখ্যা